শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

সিজারিয়ান অপারেশনের পর পেটে গজ, ৫১ দিন পর প্রসূতির মৃত্যু


আনোয়ার মুরাদ
আনোয়ার মুরাদ প্রকাশক
| ফটো কার্ড

সিজারিয়ান অপারেশনের পর পেটে গজ, ৫১ দিন পর প্রসূতির মৃত্যু

সিজারিয়ান অপারেশনের পর প্রসূতির পেটের ভেতরে সার্জিক্যাল গজ-ব্যান্ডেজ রেখে সেলাই করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসকের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণেই তাঁর এমন পরিণতি হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিচার দাবি করেছেন।

নিহত কণিকা মণ্ডল (২৯) রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামের অশান্ত মণ্ডলের স্ত্রী।

নিহতের স্বামী অশান্ত মণ্ডল জানান, গত ২৯ জুন অসুস্থ হয়ে কণিকাকে ফরিদপুর শহরের ঝিলটুনি সমরিতা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসক লক্ষ্মী রানী দত্তের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলছিল। ওই দিন সন্ধ্যায় সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে কণিকা একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন।

অশান্ত মণ্ডলের ভাষ্য, অপারেশনের পরদিনই কণিকার পেট ফুলে যায় এবং তীব্র ব্যথা শুরু হয়। বিষয়টি চিকিৎসককে জানানো হলেও তিনি তা গুরুত্ব দিয়ে দেখেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে অবস্থার অবনতি হলে কণিকাকে ঢাকার কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা কণিকার পেটের ভেতরে সার্জিক্যাল গজ-ব্যান্ডেজ থাকার বিষয়টি শনাক্ত করেন। পরে অস্ত্রোপচার করে তাঁর পেট থেকে ওই গজ বের করা হয়।

এরপরও কণিকার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১৯ আগস্ট দিবাগত রাত ২টার দিকে তিনি মারা যান। পরিবারের দাবি, সিজারিয়ান অপারেশনের প্রায় ৫১ দিন পর তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, অপারেশনের সময় পেটের ভেতরে গজ রেখে সেলাই করে দেওয়ার কারণেই পরবর্তী সময়ে গুরুতর জটিলতা তৈরি হয়। তারা চিকিৎসক লক্ষ্মী রানী দত্তের বিরুদ্ধে অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগ এনে তদন্ত এবং বিচার দাবি করেছেন। পরিবারের দাবি, চিকিৎসক তাঁদের কাছে ভুল স্বীকারও করেছেন।

এ বিষয়ে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, তাঁর জেলার একজন নারীর মৃত্যুর বিষয়ে এমন একটি সংবাদ তাঁর নজরে এসেছে। তিনি নিহত কণিকার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বলে জানান।

তবে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা যায়নি। অভিযোগের সত্যতা এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬


সিজারিয়ান অপারেশনের পর পেটে গজ, ৫১ দিন পর প্রসূতির মৃত্যু

প্রকাশের তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

সিজারিয়ান অপারেশনের পর প্রসূতির পেটের ভেতরে সার্জিক্যাল গজ-ব্যান্ডেজ রেখে সেলাই করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসকের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণেই তাঁর এমন পরিণতি হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিচার দাবি করেছেন।

নিহত কণিকা মণ্ডল (২৯) রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামের অশান্ত মণ্ডলের স্ত্রী।

নিহতের স্বামী অশান্ত মণ্ডল জানান, গত ২৯ জুন অসুস্থ হয়ে কণিকাকে ফরিদপুর শহরের ঝিলটুনি সমরিতা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসক লক্ষ্মী রানী দত্তের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলছিল। ওই দিন সন্ধ্যায় সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে কণিকা একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন।

অশান্ত মণ্ডলের ভাষ্য, অপারেশনের পরদিনই কণিকার পেট ফুলে যায় এবং তীব্র ব্যথা শুরু হয়। বিষয়টি চিকিৎসককে জানানো হলেও তিনি তা গুরুত্ব দিয়ে দেখেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে অবস্থার অবনতি হলে কণিকাকে ঢাকার কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা কণিকার পেটের ভেতরে সার্জিক্যাল গজ-ব্যান্ডেজ থাকার বিষয়টি শনাক্ত করেন। পরে অস্ত্রোপচার করে তাঁর পেট থেকে ওই গজ বের করা হয়।

এরপরও কণিকার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১৯ আগস্ট দিবাগত রাত ২টার দিকে তিনি মারা যান। পরিবারের দাবি, সিজারিয়ান অপারেশনের প্রায় ৫১ দিন পর তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, অপারেশনের সময় পেটের ভেতরে গজ রেখে সেলাই করে দেওয়ার কারণেই পরবর্তী সময়ে গুরুতর জটিলতা তৈরি হয়। তারা চিকিৎসক লক্ষ্মী রানী দত্তের বিরুদ্ধে অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগ এনে তদন্ত এবং বিচার দাবি করেছেন। পরিবারের দাবি, চিকিৎসক তাঁদের কাছে ভুল স্বীকারও করেছেন।

এ বিষয়ে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, তাঁর জেলার একজন নারীর মৃত্যুর বিষয়ে এমন একটি সংবাদ তাঁর নজরে এসেছে। তিনি নিহত কণিকার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বলে জানান।

তবে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা যায়নি। অভিযোগের সত্যতা এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream