শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

জার্মান নাগরিকত্বে বড় পরিবর্তন: ৩ বছরের ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ বাতিল, ৫ বছর পর নাগরিকত্বের সুযোগ


আনোয়ার মুরাদ
আনোয়ার মুরাদ প্রকাশক
| ফটো কার্ড

জার্মান নাগরিকত্বে বড় পরিবর্তন: ৩ বছরের ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ বাতিল, ৫ বছর পর নাগরিকত্বের সুযোগ

জার্মান নাগরিকত্ব পাওয়ার নিয়মে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। বিশেষভাবে দ্রুত নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য চালু থাকা ৩ বছরের ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ বা দ্রুত নাগরিকত্বের পথ বাতিল করা হয়েছে। ফলে ২০২৬ সালে জার্মান নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে আগ্রহীদের মধ্যে আগের নিয়ম নিয়ে যে বিভ্রান্তি রয়েছে, তা দূর করতে বর্তমান বিধানগুলো পরিষ্কারভাবে জানা জরুরি।

জার্মান ফেডারেল সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে নাগরিকত্ব আইনের সংস্কারের মাধ্যমে সাধারণ নাগরিকত্বের জন্য প্রয়োজনীয় বৈধ বসবাসের সময় আট বছর থেকে কমিয়ে পাঁচ বছর করা হয়েছিল। একই আইনে বিশেষভাবে ভালোভাবে একীভূত হওয়া ব্যক্তিদের জন্য মাত্র তিন বছর বসবাসের পর নাগরিকত্বের আবেদন করার একটি বিশেষ সুযোগ রাখা হয়। (Bundesregierung)

তবে পরবর্তী সময়ে জার্মান সরকার এই তিন বছরের বিশেষ ব্যবস্থাটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। ২০২৫ সালের ২৮ মে ফেডারেল সরকার জানায়, নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে তিন বছরের ‘অ্যাডভান্সড ন্যাচারালাইজেশন’ বা দ্রুত পথ আর থাকবে না। তবে পাঁচ বছর বৈধভাবে জার্মানিতে বসবাসের পর নাগরিকত্বের সুযোগ বহাল থাকবে, যদি আবেদনকারী অন্যান্য প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করেন। (Bundesregierung)

তাহলে এখন নাগরিকত্ব পেতে কত বছর লাগবে?

২০২৬ সালের নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণভাবে কোনো বিদেশি নাগরিককে জার্মানিতে কমপক্ষে পাঁচ বছর বৈধভাবে বসবাস করতে হবে। সরকারি ‘Make it in Germany’ পোর্টালেও নাগরিকত্বের অন্যতম মৌলিক শর্ত হিসেবে পাঁচ বছরের বেশি সময় বৈধ বসবাসের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। (Make It In Germany)

তবে শুধু পাঁচ বছর জার্মানিতে থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাওয়া যাবে না। আবেদনকারীর বসবাসের অধিকার, আর্থিক সক্ষমতা, ভাষাজ্ঞান, জার্মান সমাজ ও আইন সম্পর্কে জ্ঞান এবং অন্যান্য আইনি শর্তও পূরণ করতে হয়।

অর্থাৎ, পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়া নাগরিকত্ব পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়; বরং যোগ্য হলে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা।

৩ বছরের নিয়মটি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ ছিল?

২০২৪ সালের সংস্কারের সময় জার্মান সরকার নাগরিকত্ব প্রক্রিয়াকে আধুনিক করার অংশ হিসেবে সাধারণ বসবাসের সময় কমিয়ে পাঁচ বছর করে। পাশাপাশি যারা অসাধারণভাবে জার্মান সমাজে একীভূত হয়েছেন, তাদের জন্য তিন বছরের দ্রুত পথ রাখা হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে ভাষাজ্ঞান ও বিশেষ ধরনের একীভূত হওয়ার প্রমাণসহ অতিরিক্ত যোগ্যতা প্রয়োজন ছিল। (Bundesregierung)

এই কারণে গত কয়েক বছরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও অভিবাসন-সংক্রান্ত আলোচনায় ‘তিন বছরে জার্মান নাগরিকত্ব’ বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। কিন্তু পরবর্তীতে আইন পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের কারণে সেই তথ্য এখন আর ২০২৬ সালের জন্য প্রযোজ্য নয়।

পাঁচ বছর পর আবেদন করতে কী কী লাগতে পারে?

জার্মান সরকারের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, নাগরিকত্বের জন্য আবেদনকারীর বৈধভাবে জার্মানিতে বসবাসের পাশাপাশি উপযুক্ত স্থায়ী বসবাসের অধিকার বা ভবিষ্যতে স্থায়ী বসবাসের অধিকার পাওয়ার উপযোগী রেসিডেন্স স্ট্যাটাস থাকতে হয়। শুধু পড়াশোনার জন্য ব্যবহৃত কিছু ধরনের রেসিডেন্স পারমিট নাগরিকত্বের এই শর্ত পূরণের জন্য যথেষ্ট নয়। (Make It In Germany)

এ ছাড়া আবেদনকারীর নিজের এবং নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের জীবনযাত্রার ব্যয় বহনের সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ। জার্মান ভাষার প্রয়োজনীয় দক্ষতা এবং দেশটির আইন, সমাজ ও জীবনযাত্রা সম্পর্কে জ্ঞানও নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ার অংশ।

সুতরাং কেউ যদি জার্মানিতে পাঁচ বছর বসবাস করেন, কিন্তু প্রয়োজনীয় ভাষাগত, আর্থিক বা অন্যান্য শর্ত পূরণ না করেন, তাহলে শুধু পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার কারণে নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার তৈরি হবে না।

নাগরিকত্ব ও স্থায়ী বসবাস কি একই বিষয়?

এখানেই অনেকের মধ্যে আরেকটি বড় ধরনের বিভ্রান্তি রয়েছে। জার্মান নাগরিকত্ব এবং ‘সেটেলমেন্ট পারমিট’ বা স্থায়ী বসবাসের অনুমতি এক জিনিস নয়।

কিছু দক্ষ কর্মী নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে নাগরিকত্বের পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই জার্মানিতে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন। সরকারি ‘Make it in Germany’ তথ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শ্রেণির বিদেশি দক্ষ কর্মীরা তিন বছর পর সেটেলমেন্ট পারমিটের যোগ্য হতে পারেন। জার্মানিতে ডিগ্রি বা পেশাগত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা কিছু দক্ষ কর্মীর ক্ষেত্রে এই সময় আরও কম হতে পারে। (Make It In Germany)

আবার EU Blue Cardধারীদের জন্যও নির্দিষ্ট শর্তে দ্রুত সেটেলমেন্ট পারমিটের সুযোগ রয়েছে। B1 স্তরের জার্মান ভাষাজ্ঞান থাকলে কিছু ক্ষেত্রে ২১ মাস পর এবং A1 থাকলে ২৭ মাস পর সেটেলমেন্ট পারমিট পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। (Make It In Germany)

তাই ‘তিন বছরে সেটেলমেন্ট পারমিট’ এবং ‘তিন বছরে নাগরিকত্ব’—এই দুটি বিষয়কে এক করে দেখা ঠিক নয়।

২০২৬ সালে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আপডেট কী?

বর্তমান নিয়মকে সহজভাবে বললে, জার্মান নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে আগের ৩ বছরের বিশেষ ফাস্ট ট্র্যাক বাতিল, কিন্তু ৫ বছরের সাধারণ পথ বহাল রয়েছে। অর্থাৎ, যোগ্যতা পূরণকারী বিদেশিরা পাঁচ বছর বৈধভাবে জার্মানিতে বসবাসের পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। (Bundesregierung)

তবে আবেদন করার আগে নিজের রেসিডেন্স স্ট্যাটাস, জার্মান ভাষার যোগ্যতা, আর্থিক অবস্থা, নাগরিকত্ব পরীক্ষাসহ অন্যান্য শর্ত স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ব্যক্তির পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শর্ত ভিন্ন হতে পারে।
যারা আগে থেকেই জার্মানিতে আছেন!!

যারা ইতোমধ্যে জার্মানিতে বসবাস করছেন, তাদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজেদের বসবাসের সময় এবং রেসিডেন্স পারমিটের ধরন সঠিকভাবে হিসাব করা। একই সঙ্গে নাগরিকত্বের পাঁচ বছরের শর্ত পূরণ হলেও অন্যান্য যোগ্যতা পূরণ হয়েছে কি না, সেটিও দেখতে হবে।

এ কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচলিত ‘৩ বছরেই নাগরিকত্ব’ অথবা ‘সবাইকে ৫ বছর পর নাগরিকত্ব দেওয়া হবে’—এ ধরনের সরলীকৃত তথ্যের ওপর নির্ভর না করে জার্মান সরকারের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত।

সারকথা: ২০২৬ সালে জার্মান নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে তিন বছরের বিশেষ ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ আর নেই। বর্তমানে সাধারণভাবে পাঁচ বছর বৈধ বসবাসের পর, অন্যান্য সব আইনি ও যোগ্যতার শর্ত পূরণ সাপেক্ষে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা যায়। একই সঙ্গে তিন বছরের কিছু সেটেলমেন্ট পারমিটের নিয়ম এখনো আলাদাভাবে রয়েছে—যা নাগরিকত্বের নিয়মের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়। (Bundesregierung)

রেফারেন্স: জার্মান ফেডারেল সরকার এবং সরকারের অফিসিয়াল ‘Make it in Germany’ পোর্টালের নাগরিকত্ব ও বসবাস-সংক্রান্ত তথ্য। German Federal Government — New rules for naturalisation Make it in Germany — Naturalisation Make it in Germany — Skilled Immigration Act

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬


জার্মান নাগরিকত্বে বড় পরিবর্তন: ৩ বছরের ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ বাতিল, ৫ বছর পর নাগরিকত্বের সুযোগ

প্রকাশের তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

জার্মান নাগরিকত্ব পাওয়ার নিয়মে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। বিশেষভাবে দ্রুত নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য চালু থাকা ৩ বছরের ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ বা দ্রুত নাগরিকত্বের পথ বাতিল করা হয়েছে। ফলে ২০২৬ সালে জার্মান নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে আগ্রহীদের মধ্যে আগের নিয়ম নিয়ে যে বিভ্রান্তি রয়েছে, তা দূর করতে বর্তমান বিধানগুলো পরিষ্কারভাবে জানা জরুরি।

জার্মান ফেডারেল সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে নাগরিকত্ব আইনের সংস্কারের মাধ্যমে সাধারণ নাগরিকত্বের জন্য প্রয়োজনীয় বৈধ বসবাসের সময় আট বছর থেকে কমিয়ে পাঁচ বছর করা হয়েছিল। একই আইনে বিশেষভাবে ভালোভাবে একীভূত হওয়া ব্যক্তিদের জন্য মাত্র তিন বছর বসবাসের পর নাগরিকত্বের আবেদন করার একটি বিশেষ সুযোগ রাখা হয়। (Bundesregierung)

তবে পরবর্তী সময়ে জার্মান সরকার এই তিন বছরের বিশেষ ব্যবস্থাটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। ২০২৫ সালের ২৮ মে ফেডারেল সরকার জানায়, নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে তিন বছরের ‘অ্যাডভান্সড ন্যাচারালাইজেশন’ বা দ্রুত পথ আর থাকবে না। তবে পাঁচ বছর বৈধভাবে জার্মানিতে বসবাসের পর নাগরিকত্বের সুযোগ বহাল থাকবে, যদি আবেদনকারী অন্যান্য প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করেন। (Bundesregierung)

তাহলে এখন নাগরিকত্ব পেতে কত বছর লাগবে?

২০২৬ সালের নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণভাবে কোনো বিদেশি নাগরিককে জার্মানিতে কমপক্ষে পাঁচ বছর বৈধভাবে বসবাস করতে হবে। সরকারি ‘Make it in Germany’ পোর্টালেও নাগরিকত্বের অন্যতম মৌলিক শর্ত হিসেবে পাঁচ বছরের বেশি সময় বৈধ বসবাসের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। (Make It In Germany)

তবে শুধু পাঁচ বছর জার্মানিতে থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাওয়া যাবে না। আবেদনকারীর বসবাসের অধিকার, আর্থিক সক্ষমতা, ভাষাজ্ঞান, জার্মান সমাজ ও আইন সম্পর্কে জ্ঞান এবং অন্যান্য আইনি শর্তও পূরণ করতে হয়।

অর্থাৎ, পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়া নাগরিকত্ব পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়; বরং যোগ্য হলে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা।

৩ বছরের নিয়মটি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ ছিল?

২০২৪ সালের সংস্কারের সময় জার্মান সরকার নাগরিকত্ব প্রক্রিয়াকে আধুনিক করার অংশ হিসেবে সাধারণ বসবাসের সময় কমিয়ে পাঁচ বছর করে। পাশাপাশি যারা অসাধারণভাবে জার্মান সমাজে একীভূত হয়েছেন, তাদের জন্য তিন বছরের দ্রুত পথ রাখা হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে ভাষাজ্ঞান ও বিশেষ ধরনের একীভূত হওয়ার প্রমাণসহ অতিরিক্ত যোগ্যতা প্রয়োজন ছিল। (Bundesregierung)

এই কারণে গত কয়েক বছরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও অভিবাসন-সংক্রান্ত আলোচনায় ‘তিন বছরে জার্মান নাগরিকত্ব’ বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। কিন্তু পরবর্তীতে আইন পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের কারণে সেই তথ্য এখন আর ২০২৬ সালের জন্য প্রযোজ্য নয়।

পাঁচ বছর পর আবেদন করতে কী কী লাগতে পারে?

জার্মান সরকারের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, নাগরিকত্বের জন্য আবেদনকারীর বৈধভাবে জার্মানিতে বসবাসের পাশাপাশি উপযুক্ত স্থায়ী বসবাসের অধিকার বা ভবিষ্যতে স্থায়ী বসবাসের অধিকার পাওয়ার উপযোগী রেসিডেন্স স্ট্যাটাস থাকতে হয়। শুধু পড়াশোনার জন্য ব্যবহৃত কিছু ধরনের রেসিডেন্স পারমিট নাগরিকত্বের এই শর্ত পূরণের জন্য যথেষ্ট নয়। (Make It In Germany)

এ ছাড়া আবেদনকারীর নিজের এবং নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের জীবনযাত্রার ব্যয় বহনের সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ। জার্মান ভাষার প্রয়োজনীয় দক্ষতা এবং দেশটির আইন, সমাজ ও জীবনযাত্রা সম্পর্কে জ্ঞানও নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ার অংশ।

সুতরাং কেউ যদি জার্মানিতে পাঁচ বছর বসবাস করেন, কিন্তু প্রয়োজনীয় ভাষাগত, আর্থিক বা অন্যান্য শর্ত পূরণ না করেন, তাহলে শুধু পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার কারণে নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার তৈরি হবে না।

নাগরিকত্ব ও স্থায়ী বসবাস কি একই বিষয়?

এখানেই অনেকের মধ্যে আরেকটি বড় ধরনের বিভ্রান্তি রয়েছে। জার্মান নাগরিকত্ব এবং ‘সেটেলমেন্ট পারমিট’ বা স্থায়ী বসবাসের অনুমতি এক জিনিস নয়।

কিছু দক্ষ কর্মী নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে নাগরিকত্বের পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই জার্মানিতে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন। সরকারি ‘Make it in Germany’ তথ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শ্রেণির বিদেশি দক্ষ কর্মীরা তিন বছর পর সেটেলমেন্ট পারমিটের যোগ্য হতে পারেন। জার্মানিতে ডিগ্রি বা পেশাগত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা কিছু দক্ষ কর্মীর ক্ষেত্রে এই সময় আরও কম হতে পারে। (Make It In Germany)

আবার EU Blue Cardধারীদের জন্যও নির্দিষ্ট শর্তে দ্রুত সেটেলমেন্ট পারমিটের সুযোগ রয়েছে। B1 স্তরের জার্মান ভাষাজ্ঞান থাকলে কিছু ক্ষেত্রে ২১ মাস পর এবং A1 থাকলে ২৭ মাস পর সেটেলমেন্ট পারমিট পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। (Make It In Germany)

তাই ‘তিন বছরে সেটেলমেন্ট পারমিট’ এবং ‘তিন বছরে নাগরিকত্ব’—এই দুটি বিষয়কে এক করে দেখা ঠিক নয়।

২০২৬ সালে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আপডেট কী?

বর্তমান নিয়মকে সহজভাবে বললে, জার্মান নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে আগের ৩ বছরের বিশেষ ফাস্ট ট্র্যাক বাতিল, কিন্তু ৫ বছরের সাধারণ পথ বহাল রয়েছে। অর্থাৎ, যোগ্যতা পূরণকারী বিদেশিরা পাঁচ বছর বৈধভাবে জার্মানিতে বসবাসের পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। (Bundesregierung)

তবে আবেদন করার আগে নিজের রেসিডেন্স স্ট্যাটাস, জার্মান ভাষার যোগ্যতা, আর্থিক অবস্থা, নাগরিকত্ব পরীক্ষাসহ অন্যান্য শর্ত স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ব্যক্তির পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শর্ত ভিন্ন হতে পারে।
যারা আগে থেকেই জার্মানিতে আছেন!!

যারা ইতোমধ্যে জার্মানিতে বসবাস করছেন, তাদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজেদের বসবাসের সময় এবং রেসিডেন্স পারমিটের ধরন সঠিকভাবে হিসাব করা। একই সঙ্গে নাগরিকত্বের পাঁচ বছরের শর্ত পূরণ হলেও অন্যান্য যোগ্যতা পূরণ হয়েছে কি না, সেটিও দেখতে হবে।

এ কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচলিত ‘৩ বছরেই নাগরিকত্ব’ অথবা ‘সবাইকে ৫ বছর পর নাগরিকত্ব দেওয়া হবে’—এ ধরনের সরলীকৃত তথ্যের ওপর নির্ভর না করে জার্মান সরকারের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত।

সারকথা: ২০২৬ সালে জার্মান নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে তিন বছরের বিশেষ ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ আর নেই। বর্তমানে সাধারণভাবে পাঁচ বছর বৈধ বসবাসের পর, অন্যান্য সব আইনি ও যোগ্যতার শর্ত পূরণ সাপেক্ষে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা যায়। একই সঙ্গে তিন বছরের কিছু সেটেলমেন্ট পারমিটের নিয়ম এখনো আলাদাভাবে রয়েছে—যা নাগরিকত্বের নিয়মের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়। (Bundesregierung)

রেফারেন্স: জার্মান ফেডারেল সরকার এবং সরকারের অফিসিয়াল ‘Make it in Germany’ পোর্টালের নাগরিকত্ব ও বসবাস-সংক্রান্ত তথ্য। German Federal Government — New rules for naturalisation Make it in Germany — Naturalisation Make it in Germany — Skilled Immigration Act


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream