ফরিদপুরের সদরপুর ইউনিয়ন পরিষদকে দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতিমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সদরপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ৭নং সদরপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী কে.এম আবু সাঈদ।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় নিজের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সদরপুর ইউনিয়নবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি এসব প্রতিশ্রুতি দেন।
সংবাদ সম্মেলনে কে.এম আবু সাঈদ বলেন, “আমি চেয়ারম্যান নয়, জনগণের সেবক হতে চাই। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে সদরপুর ইউনিয়ন পরিষদকে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলব।”
তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদে ঘুষ ও হয়রানি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিষদের আয়-ব্যয়ের হিসাব জনগণের সামনে প্রকাশ করা হবে এবং নাগরিক সেবা প্রদানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।
দ্রুত নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে জন্মনিবন্ধন, মৃত্যু নিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদসহ প্রয়োজনীয় সেবা সহজ ও দ্রুত দেওয়ার পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদে ‘হেল্প ডেস্ক’ চালুর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
উন্নয়ন পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি বলেন, ভাঙা ও কাঁচা রাস্তা পর্যায়ক্রমে সংস্কার, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পাকা করার উদ্যোগ, কালভার্ট, সেতু ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। পাশাপাশি জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল-নালা পরিষ্কার ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা এবং নদীভাঙনপ্রবণ এলাকায় স্থায়ী প্রতিরোধের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
কৃষকদের সরকারি প্রণোদনা ও কৃষি সেবা পেতে সহযোগিতা, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের উদ্যোগ এবং কৃষি বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার কথাও জানান চেয়ারম্যান প্রার্থী কে.এম আবু সাঈদ।
যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে তিনি বলেন, কারিগরি ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, ফ্রিল্যান্সিং ও অনলাইন আয়ের প্রশিক্ষণ এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সরকারি ঋণ ও প্রশিক্ষণ পেতে সহযোগিতা করা হবে। একই সঙ্গে খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শিক্ষার মানোন্নয়নে ঝরে পড়া শিক্ষার্থী রোধ, দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। মাদক ও ইভটিজিং থেকে শিক্ষার্থীদের রক্ষায় সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার কথাও জানান।
স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়, দরিদ্র রোগীদের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা পেতে সহযোগিতা এবং জরুরি রক্তদাতা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।
নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারী নির্যাতন ও যৌতুকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন এবং নারীদের প্রশিক্ষণ ও আত্মকর্মসংস্থানে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতিও দেন কে.এম আবু সাঈদ।
তিনি আরও বলেন, সদরপুর ইউনিয়নকে মাদকমুক্ত করতে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। তরুণদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধীদের প্রকৃত উপকারভোগী হিসেবে ভাতা নিশ্চিত করতে সহযোগিতা এবং অসহায় মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সহজ করার কথাও জানান তিনি।
পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব ইউনিয়ন গঠনে বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, ডাস্টবিন স্থাপন, বৃক্ষরোপণ এবং নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
গ্রাম আদালত ও ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ যাতে সহজে বিচারিক সহায়তা পান, বিশেষ করে দরিদ্র মানুষের ন্যায়বিচারের পথ সহজ করা হবে বলেও জানান তিনি।
এছাড়া ‘প্রতি ওয়ার্ডে উন্নয়ন পরিকল্পনা’ গ্রহণের ঘোষণা দিয়ে কে.এম আবু সাঈদ বলেন, ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের সমস্যা আলাদাভাবে চিহ্নিত করে ওয়ার্ডভিত্তিক উন্নয়ন তালিকা তৈরি করা হবে। অগ্রাধিকার অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা হবে।
জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “চেয়ারম্যানের দরজা সবার জন্য খোলা থাকবে।” নির্দিষ্ট দিনে গণশুনানি, মাসে অন্তত একবার ওয়ার্ডভিত্তিক জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় এবং অভিযোগ গ্রহণ ও সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি সদরপুর ইউনিয়নবাসীর সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন।
মতামত