জয়পুরহাট সরকারি কলেজে জুলাই-আগস্ট স্মৃতি আন্তঃজেলা ফুটবল টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর ও শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে। এ সময় এক শিক্ষার্থীকে মারধর এবং এক সাংবাদিককে হুমকি দিয়ে তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে জয়পুরহাট সরকারি কলেজ মাঠে ফুটবল টুর্নামেন্টের খেলা চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খেলা চলাকালে কয়েকজন শিক্ষার্থী কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলতে তার কক্ষে যান। এ সময় তাদের সঙ্গে কলেজের শিক্ষকদের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, পরে কয়েকজন শিক্ষার্থী কলেজের অফিস কক্ষে প্রবেশ করে চেয়ার-টেবিল, জানালার কাচ, ফুলের টবসহ বিভিন্ন আসবাব ও সামগ্রী ভাঙচুর করেন। এ সময় শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও লাঞ্ছিত করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
জয়পুরহাট সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম শফিকুল ইসলাম বলেন, কয়েকজন শিক্ষার্থী এসে তার সঙ্গে কথা বলতে চান। তিনি শিক্ষকদের সরিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলার উদ্যোগ নেন। এর মধ্যেই কয়েকজন শিক্ষার্থী ঝাড়ু হাতে তার কক্ষে প্রবেশ করেন। অন্য শিক্ষকরা তাদের বাধা দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম শফিকুল ইসলাম আরও বলেন,“আমি বাইরে বের হয়ে গেলে তারা চেয়ার-টেবিল, অফিস কক্ষের কাচ ও ফুলের টবসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। এ সময় শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও লাঞ্ছিত করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়।”
এদিকে, ঘটনার সময় এক শিক্ষার্থীকে মারধর এবং ঘটনাটি ধারণ করতে গেলে এক সাংবাদিককে হুমকি দিয়ে তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে জয়পুরহাট সদর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
জয়পুরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর আলম সিদ্দিকী বলেন, খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে কলেজে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শিক্ষকদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পর কলেজ ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এখন পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
মতামত