দেশের সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা জোরদার এবং জনসেবার গুণগত মান নিশ্চিত করতে ৬৯ কর্মকর্তাকে পরিদর্শনকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এর অংশ হিসেবে মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোর তদারকির দায়িত্ব পেয়েছেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মিজ তামান্না তাসনীম।
গত ১৬ আগস্ট স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের প্রশাসন-১ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হয়। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব খন্দকার রবিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত আদেশে দেশের বিভিন্ন জেলার হাসপাতাল ও বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্রের জন্য অতিরিক্ত সচিব,যুগ্মসচিব,উপসচিব ও সিনিয়র সহকারী সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অফিস আদেশ অনুযায়ী,সিলেট বিভাগের সার্বিক তদারকির দায়িত্ব পেয়েছেন যুগ্মসচিব মো. হেলাল উদ্দিন। সিলেট জেলার হাসপাতালগুলোর জন্য দায়িত্ব পেয়েছেন সিনিয়র সহকারী সচিব মো. বিপুল ওয়ারেছ আনসারী। সুনামগঞ্জ জেলার হাসপাতালগুলোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে উপসচিব স্বপন কুমার মণ্ডলকে। আর সিনিয়র সহকারী সচিব মিজ তামান্না তাসনীমকে সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার সকল হাসপাতালের তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তামান্না তাসনীমের দায়িত্ব পাওয়ায় মৌলভীবাজার জেলার সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম এখন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নিয়মিত তদারকির আওতায় এসেছে। জেলার হাসপাতালগুলোর জনবল,চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি,পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, চিকিৎসা সরঞ্জাম,অবকাঠামো,নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করবেন তিনি।
হাসপাতাল প্রধানদের সঙ্গে সমন্বয় করে সেবার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি কোনো সমস্যা বা ঘাটতি চিহ্নিত হলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় প্রত্যেক পরিদর্শনকারী কর্মকর্তাকে প্রতি মাসে বাধ্যতামূলকভাবে অন্তত একটি পরিদর্শন সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে। পরিদর্শনে পাওয়া সমস্যা,পর্যবেক্ষণ ও বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশ উল্লেখ করে প্রতি মাসের ৭ তারিখের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শাখায় প্রতিবেদন দিতে হবে।
তদারকির আওতায় শুধু হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা নয়,চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ডিজিটাল হাজিরাও রয়েছে। একই সঙ্গে টিকাদান কর্মসূচি, অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম,মাতৃ ও শিশুমৃত্যু কমানো,প্রবীণ স্বাস্থ্যসেবা এবং পুষ্টি কার্যক্রমের অগ্রগতিও পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
জেলা প্রশাসক,সিভিল সার্জন,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ জেলার হাসপাতাল তদারকির দায়িত্ব পাওয়া মিজ তামান্না তাসনীম ৩৫তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা। সচিবালয়ে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-২ শাখায় যোগদানের আগে তিনি মাঠ প্রশাসনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে মাঠ প্রশাসনের দায়িত্ব শেষ করে তিনি স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে যোগ দেন।
মাঠ প্রশাসনে কাজের অভিজ্ঞতা থাকায় স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি সেবা,প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ও জনসেবার বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে। এবার সেই অভিজ্ঞতাই কাজে লাগবে মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জের সরকারি হাসপাতালগুলোর স্বাস্থ্যসেবা তদারকিতে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আদেশে সিলেট বিভাগের হাসপাতালগুলোর জন্য একাধিক পর্যায়ের কর্মকর্তা দায়িত্ব পেয়েছেন। যুগ্মসচিব মো. হেলাল উদ্দিনকে দেওয়া হয়েছে বিভাগের সার্বিক দায়িত্ব। সিলেট জেলার হাসপাতালগুলোর জন্য দায়িত্ব পেয়েছেন সিনিয়র সহকারী সচিব মো. বিপুল ওয়ারেছ আনসারী। সুনামগঞ্জ জেলার দায়িত্বে রয়েছেন উপসচিব স্বপন কুমার মণ্ডল। আর মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ জেলার সকল হাসপাতালের তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সিনিয়র সহকারী সচিব তামান্না তাসনীমকে।
ফলে সিলেট বিভাগের সরকারি হাসপাতালগুলোতে মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নজরদারি আরও জোরদার হচ্ছে।
মন্ত্রণালয়ের এ উদ্যোগে হাসপাতালগুলোর দৈনন্দিন কার্যক্রমের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের জনবল সংকট,চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি, অবকাঠামোগত সমস্যা,পরিচ্ছন্নতা ও চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতির মতো বিষয় নিয়মিতভাবে পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পরিদর্শন ও মাসিক প্রতিবেদনের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের সমস্যা সরাসরি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখায় পৌঁছাবে। এতে সমস্যা চিহ্নিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এ অফিস আদেশের অনুলিপি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভাগীয় পরিচালক,জেলা সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
মতামত