বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

স্বাস্থ্য

চলতি বছর হামে সিলেটে ১৭৩ জনের মৃত্যু

চলতি বছর হামে সিলেটে ১৭৩ জনের মৃত্যু

সিলেট বিভাগে হাম ও হাম সন্দেহে মৃত্যুর ঘটনা থামছে না। সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর বিভাগে হাম ও হাম সন্দেহে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭৩ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১০ জন।বুধবার (৭ অক্টোবর) সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী,বুধবার সকাল ৮টার আগের ২৪ ঘণ্টায় সিলেটের জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম সন্দেহে পাঁচ বছর বয়সী আয়শা মনি নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মো. আশিক মিয়ার মেয়ে।চলতি বছর হাম ও হাম সন্দেহে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে সিলেট জেলায়। এ জেলায় মারা গেছেন ৭৪ জন। এরপর সুনামগঞ্জে ৬৬ জন,হবিগঞ্জে ২৮ জন এবং মৌলভীবাজারে ১৫ জন মারা গেছেন।এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে নতুন করে ১৪ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর বিভাগে হাম আক্রান্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৫ জন। এর মধ্যে সিলেটে ৪২২ জন,সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জন,হবিগঞ্জে ১৫৮ জন এবং মৌলভীবাজারে ১৫৮ জন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন।একই সময়ে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও হাম সন্দেহে আরও ১৩৬ জন ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৭০ জন, এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪৬ জন,জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২ জন,কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন এবং মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে ১৬ জন ভর্তি হয়েছেন।বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও হাম সন্দেহে মোট ৫৪১ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান বলছে,মৃত্যুর পাশাপাশি হাম আক্রান্ত ও সন্দেহভাজন রোগীর চাপও অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে মৌলভীবাজারে চলতি বছর ১৫ জনের মৃত্যু এবং ১৫৮ জন হাম রোগী শনাক্ত হওয়ার তথ্য জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতির উদ্বেগের দিকটি সামনে আনছে।

বান্দরবানে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের বৈঠক

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মিজ মাম্যাচিং এর আমন্ত্রণে বান্দরবানে এসেছেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ম্রাসাথোয়াই মারমা।আজ ৭ অক্টোবর ২০২৬ ইং তারিখে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের কার্যালয়ে তাদের আন্তরিক সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। এসময় ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিন জেলার চেয়ারম্যানবৃন্দ।সাক্ষাৎকালে তিন পার্বত্য জেলার সামগ্রিক উন্নয়ন, পাহাড়ি জনপদের মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা, কৃষি, পর্যটন এবং স্থানীয় অর্থনীতির সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।বৈঠকে পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের মৌলিক সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সহজলভ্য করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে পাহাড়ের কৃষি ও স্থানীয় উৎপাদনকে কাজে লাগিয়ে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার বিষয়েও আলোচনা হয়।তিন চেয়ারম্যান মনে করেন, পার্বত্য অঞ্চলের টেকসই উন্নয়নের জন্য স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। পাহাড়ের ভৌগোলিক বৈচিত্র্য ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পর্যটন খাতের আরও বিকাশ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।এ সময় তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সমন্বয় আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি পাহাড়ের মানুষের কল্যাণে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।সাক্ষাৎকালে পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ধারাকে আরও এগিয়ে নিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার বিষয়েও মতবিনিময় করেন তিন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান।

বান্দরবানে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের বৈঠক

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও নয়জনের মৃত্যু

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সারা দেশে নতুন করে এক হাজার ৯০২ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।সোমবার (৫ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে সর্বোচ্চ ৪০১ জন ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৭২ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২২৩ জন, বরিশাল বিভাগে ২১৬ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২০৬ জন, খুলনা বিভাগে ২০৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ১০৫ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৯৮ জন, রংপুর বিভাগে ৬৬ জন এবং সিলেট বিভাগে ৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হন। অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন এক হাজার ৯৮৮ জন।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরের ৫ অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে মোট ৮৮ হাজার ৩৬০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৮৩ হাজার ৩৩৫ জন। এ বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭১ জনে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হন এবং ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়। এর আগের বছর ২০২৪ সালে মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং মারা যান ৫৭৫ জন।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও নয়জনের মৃত্যু

শ্রীবরদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৫ বছর পর চিকিৎসাসেবায় পরিবর্তন, ফিরেছে স্বচ্ছতা

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিনের নানা সংকটের মধ্যেও গত এক বছরে চিকিৎসাসেবা ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। আল্ট্রাসনোগ্রাম, ডেন্টাল ইউনিট, কেবিন, প্রাথমিক চক্ষু পরীক্ষা, আধুনিক প্যাথলজি সেবা চালুসহ জরুরি বিভাগ সংস্কার ও রোগী ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এসেছে। একই সঙ্গে অভিযোগ থাকা সার্টিফিকেট বাণিজ্য বন্ধ এবং স্টোর ব্যবস্থাপনায় অটোমেশন চালুর ফলে স্বচ্ছতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬৮ সালে ৩১ শয্যা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ২০০৮ সালে হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও সে অনুযায়ী জনবল বাড়েনি। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী, উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ১টি পৌরসভার প্রায় তিন লাখ মানুষের বসবাস। বিপুলসংখ্যক মানুষের চিকিৎসার চাহিদার বিপরীতে জনবল সংকট এখনো হাসপাতালটির অন্যতম বড় সমস্যা। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকায় চিকিৎসাসেবা পরিচালনায় বাড়তি চাপ রয়েছে। শূন্য পদ পূরণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে ডা. এ এস এম মফিদুল ইসলাম যোগদানের পর হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়। সীমিত জনবল দিয়ে রোগীকেন্দ্রিক সেবা নিশ্চিত করতে বিভাগগুলোকে আরও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।হাসপাতালে আগে নিয়মিত আল্ট্রাসনোগ্রাম সেবা পাওয়া যেত না। বর্তমানে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩৩টি পর্যন্ত এবং মাসে ৪০০টির বেশি আল্ট্রাসনোগ্রাম করা হচ্ছে বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে। এতে স্থানীয় রোগীদের বাইরে গিয়ে পরীক্ষা করানোর ভোগান্তি কমেছে।প্যাথলজি বিভাগেও যুক্ত হয়েছে সেল কাউন্টার মেশিন। এতে রক্ত পরীক্ষার গতি ও নির্ভুলতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিভাগের রাজস্ব আয় আগের তুলনায় প্রায় চার গুণ বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। হাসপাতালের সামগ্রিক রাজস্ব আয়ও আগের তুলনায় তিন থেকে চার গুণ বেড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।জরুরি বিভাগে সংস্কার ও সম্প্রসারণের পাশাপাশি রোগীদের জন্য কেবিন চালু করা হয়েছে। প্রাথমিক চক্ষু পরীক্ষা কেন্দ্র চালু হওয়ায় দৃষ্টি সমস্যার রোগীদেরও স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক সেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ডেন্টাল ইউনিটের কার্যক্রমও আরও সক্রিয় করা হয়েছে।হাসপাতাল সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলা কথিত ‘সার্টিফিকেট বাণিজ্য’ বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্টোর ব্যবস্থাপনায় অটোমেশন চালু করায় ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনার চেষ্টা চলছে।হাসপাতাল প্রাঙ্গণে মাদক ও অসামাজিক আড্ডা বন্ধের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমেও জোর দেওয়া হয়েছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংকট থাকলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নেতৃত্বে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কর্মীদের দায়িত্ববোধ ও মনোবল বাড়াতে দলগতভাবে কাজের পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।তবে হাসপাতালটির বড় সীমাবদ্ধতা এখনো জনবল সংকট। ৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও দীর্ঘদিন ধরে ৩১ শয্যার কাঠামোর জনবল দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। ফলে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে পর্যাপ্ত জনবল নিশ্চিত করা গেলে সেবার পরিধি আরও বাড়ানো সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এসব উদ্যোগে স্থানীয় রোগীদের ভোগান্তি কিছুটা কমেছে। তবে নতুন সেবাগুলো কতটা স্থায়ী ও কার্যকরভাবে চালু রাখা যায়, তা অনেকটাই নির্ভর করবে প্রয়োজনীয় জনবল, যন্ত্রপাতি ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত হওয়ার ওপর।  এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ এ এস এম মফিদুল ইসলাম বলেন জনবল সংকটের বিষয়টি উপর মহলে অবহিত করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন  চিকিৎসা পেশার মাধ্যমে জনগনের সেবার মাধ্যমটি তাকে বিবেক তারিত করে। 

শ্রীবরদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৫ বছর পর চিকিৎসাসেবায় পরিবর্তন, ফিরেছে স্বচ্ছতা

বান্দরবানে সেনাবাহিনীর বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা ক্যাম্প শুরু

পাহাড়ের প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকার অসহায় মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে বান্দরবানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা সহায়তা কার্যক্রম।সোমবার সকালে বান্দরবান রাজার মাঠে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। সকাল থেকে সেখানে ভিড় জমান পাহাড়ের বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা নারী, পুরুষ ও শিশুরা।ক্যাম্পে নাক-কান-গলা, চক্ষু, চর্ম ও যৌনরোগ, মেডিসিন, শিশু ও গাইনী বিভাগের অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করছেন। চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীদের মাঝে বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ঔষধও বিতরণ করা হচ্ছে।সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পার্বত্য এলাকায় অনেকেই অর্থাভাবে ও যাতায়াত সমস্যার কারণে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে যেতে পারেন না। সেই কথা চিন্তা করেই এই মানবিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের সেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।চিকিৎসা নিতে আসা রুমা ও থানচি থেকে আসা রোগীরা বলেন, "পাহাড় থেকে শহরে এসে ডাক্তার দেখানো আমাদের জন্য অনেক কষ্টের ও খরচের। সেনাবাহিনী আমাদের জন্য এখানে ফ্রি ডাক্তার ও ওষুধের ব্যবস্থা করায় আমরা অনেক উপকৃত হচ্ছি।"দুই দিনব্যাপী এই ক্যাম্প আগামীকাল পর্যন্ত চলবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

 বান্দরবানে সেনাবাহিনীর বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা ক্যাম্প শুরু

মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ওএসডি,অতিরিক্ত দায়িত্বে জাকির হোসেন

মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমানকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মহাখালী,ঢাকায় বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে মৌলভীবাজারের নতুন সিভিল সার্জন হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. জাকির হোসেনকে।স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের ২৮ সেপ্টেম্বর জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলি ও পদায়নের তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের যুগ্মসচিব সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষর করেন।প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী,ডা. মো. মামুনুর রহমানকে মৌলভীবাজারের ইনসিটু সিভিল সার্জন পদ থেকে বদলি করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর,মহাখালী,ঢাকায় ওএসডি করা হয়েছে। অন্যদিকে,ডা. মো. জাকির হোসেনকে সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা পদে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন (অতিরিক্ত দায়িত্ব) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।প্রজ্ঞাপনে বদলি ও পদায়ন করা কর্মকর্তাদের আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান না করলে ১ অক্টোবর থেকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) হিসেবে গণ্য হবেন তারা। জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।এর আগে ২৬ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মৌলভীবাজারের আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সমন্বয় সভায় সিভিল সার্জনের বিভিন্ন সরকারি গুরুত্বপূর্ণ সভায় অনুপস্থিতি নিয়ে অভিযোগ তোলেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন। তিনি দাবি করেন,প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সভায় সংশ্লিষ্ট সিভিল সার্জন অনুপস্থিত থাকেন।সভায় দেওয়া বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক পর্যায়ে আলোচনা হয় বলে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জানা গেছে। তবে সিভিল সার্জনকে ওএসডি করার সরকারি প্রজ্ঞাপনে এ অভিযোগ বা এর সঙ্গে বদলির কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।২৮ সেপ্টেম্বর জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী,নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তর ও নতুন পদে যোগদানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ওএসডি,অতিরিক্ত দায়িত্বে জাকির হোসেন

২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে (গত ১০ এপ্রিল থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) কেবল হামের উপসর্গ নিয়েই মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩ জনে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে এ হালনাগাদ তথ্য জানানো হয়েছে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ১ হাজার ২৫৫ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে।১০ এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৯০ হাজার ৫১০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৩৯২ জনে (গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন শনাক্ত ৮৪ জন)।চলতি বছরের ১০ এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ১০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৩ জন মারা গেছেন উপসর্গের কারণে এবং নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১০১ জন।নতুন মারা যাওয়া পাঁচজনের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ৩ জন, চট্টগ্রামে ১ জন এবং সিলেটে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপাত্ত অনুযায়ী, ১০ এপ্রিলের পর থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। বিভাগওয়ারী চিত্র নিচে দেওয়া হলো:

২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু

বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত ওয়েবিনারে বক্তারা

 "বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী অকাল মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ উচ্চ রক্তচাপজনিত হৃদরোগ। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগ ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে, যা উদ্বেগজনক। তবে এ খাতে বাজেট বরাদ্দ খুবই কম। এই পরিস্থিতিতে বর্ধিত স্বাস্থ্য বাজেটের উল্লেখযোগ্য অংশ উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ব্যয় করা হলে হৃদরোগজনিত অকালমৃত্যু কমিয়ে আনা সম্ভব।" বিশ্ব হার্ট দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই) এর সহায়তায় গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) আয়োজিত “তরুণদের উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগ ঝুঁকি মোকাবেলায় স্বাস্থ্য বাজেট: বাংলাদেশ প্রেক্ষিত” শীর্ষক এক ওয়েবিনারে বক্তারা এ মতামত তুলে ধরেন। ওয়েবিনারে অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে স্বাস্থ্য খাতের বাজেট ব্যবস্থাপনা নিয়ে বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক, ‘৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের সংগঠক, বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, জাতীয় কৃষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, ইংরেজি দৈনিক দ্য ফিনান্সিয়াল পোস্ট ও সাপ্তাহিক নতুন কথার বিশেষ প্রতিনিধি, আরপি নিউজের সম্পাদক ও কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান।তিনি বলেন, চলতি বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ ৫ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে ৭ দশমিক ৪ শতাংশে উন্নীত হলেও এর বড় একটি অংশ অবকাঠামো নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় হয়। টেস্ট ইকুইপমেন্ট, চাহিদা অনুযায়ী ওষুধ সরবরাহ এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বরাদ্দ পর্যাপ্ত হারে বাড়ছে না।সৈয়দ আমিরুজ্জামান বলেন, স্বাস্থ্য খাতে সরাসরি মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোকে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি রোগ নির্ণয়ের সরঞ্জাম, ওষুধ এবং সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়েও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। স্বাস্থ্য খাতের খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।ওয়েবিনারের আলোচ্য বিষয়কে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।আগামীকাল ২৯ সেপ্টেম্বর “হার্ট ডিজিজ ক্যান হাইড ইন প্লেইন সাইট: ডোন্ট মিস এ বিট” প্রতিপাদ্য নিয়ে দিবসটি উদযাপিত হবে।ওয়েবিনারে জানানো হয়, বিশ্বে প্রতি বছর হৃদরোগের কারণে প্রায় ৬৫ লক্ষ মানুষ অকালমৃত্যুবরণ করেন, যার অন্যতম প্রধান কারণ উচ্চ রক্তচাপ। বাংলাদেশেও হৃদরোগজনিত মৃত্যু উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে; দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৩৪ শতাংশই হৃদরোগের কারণে ঘটে। ২০২৪ সালে দেশে হৃদরোগজনিত অসুস্থতায় প্রায় ২ লাখ ৮৩ হাজার ৮০০ মানুষ মৃত্যুবরণ করেছেন, যার ৫২ শতাংশের জন্য দায়ী উচ্চ রক্তচাপ। উদ্বেগের বিষয় হলো, এই মৃত্যুর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ অকাল মৃত্যু। ‘বাংলাদেশ এনসিডি স্টেপস সার্ভে, ২০১৮’ এর তথ্য অনুযায়ী ১৮-৩৯ বছর বয়সী জনগোষ্ঠীর প্রায় ১২ শতাংশ উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত।ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ইপিডেমিওলজি অ্যান্ড রিসার্চ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, “চলতি বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ ৫.৩ শতাংশ থেকে ৭.৪ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বর্ধিত এই বরাদ্দের একটি উল্লেখ্যযোগ্য অংশ উচ্চ রক্তচাপের ওষুধে ব্যয় করা হলে তা দেশে উচ্চ রক্তচাপজনিত হৃদরোগ ঝুঁকি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।”বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ এন্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো: মারুফ হক খান বলেন, “উচ্চ রক্তচাপজনিত হৃদরোগ ঝুঁকি কমাতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও জীবনাচরণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে।”দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ডেপুটি এডিটর সাজ্জাদুর রহমান, “তরুণদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপজনিত হৃদরোগ ঝুঁকি বিষয়ে সচেতনতা তৈরির জন্য গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে।”গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর এর বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মদ রূহুল কুদ্দুস বলেন “দেশে মোট মৃত্যুর ৭১ শতাংশ ঘটে অসংক্রামক রোগে, কিন্তু এ খাতে বরাদ্দ স্বাস্থ্য বাজেটের মাত্র ৪.২ শতাংশ। উচ্চ রক্তচাপসহ অন্যান্য অসক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে বরাদ্দ বাড়াতে হবে।”ওয়েবিনারে আলোচক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) -এর ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন ও ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিস-এর কনসালটেন্ট আমিনুল ইসলাম সুজন। প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের এর সভাপতিত্বে ওয়েবিনারটি সঞ্চালনা করেন প্রজ্ঞার প্রোগ্রাম অফিসার সামিহা বিনতে কামাল। তরুণদের সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল স্টুডেন্টস’ সোসাইটি, প্ল্যাটফরম ডক্টরস ফাউন্ডেশনসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নানা শ্রেণি পেশার মানুষ এই ওয়েবিনারে অংশ নেন।

বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত ওয়েবিনারে বক্তারা

কুষ্টিয়ায় অ্যানথ্রাক্সের বিস্তার, দুই মাসে শনাক্ত ৫৪ রোগী

কুষ্টিয়ার সীমান্তবর্তী দৌলতপুর উপজেলায় আবারও বাড়ছে অ্যানথ্রাক্সের সংক্রমণ। গবাদিপশুর পাশাপাশি আক্রান্ত হচ্ছেন মানুষও। গত দুই মাসে উপজেলায় ৫৪ জন অ্যানথ্রাক্স রোগী শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ, কুষ্টিয়া। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়ায় ২০১০ সাল থেকে অ্যানথ্রাক্সের সংক্রমণ দেখা যায়। মাঝে প্রকোপ কিছুটা কম থাকলেও সম্প্রতি দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আবারও এ রোগের বিস্তার দেখা দিয়েছে। উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে গবাদিপশুর মধ্যে অ্যানথ্রাক্সের সংক্রমণের খবর পাওয়া যাচ্ছে।দৌলতপুরের হোসেনাবাদ মাঠপাড়া এলাকার নাজমুল ইসলামের ১৮ মাস বয়সী শিশু নুসাইবাও অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রথমে শিশুটির শরীরে ছোট ছোট ফোসকা দেখা দেয়। পরে সেগুলো কালচে হয়ে বড় ক্ষতে পরিণত হয়। বর্তমানে ব্যথায় কষ্ট পাচ্ছে শিশুটি।স্থানীয়রা জানান, অনেক ক্ষেত্রে গরু-ছাগল হঠাৎ জ্বর ও অন্যান্য উপসর্গ নিয়ে মারা যাচ্ছে। আক্রান্ত বা মৃত গবাদিপশুর সংস্পর্শে এসে মানুষও অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হচ্ছেন।জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, সারা বছরই অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসা নেন। তবে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে দৌলতপুরে নতুন করে ৫৪ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন।দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা তৌহিদুল হাসান তুহিন বলেন, অ্যানথ্রাক্স নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকতে হবে। শরীরে অস্বাভাবিক ফোসকা বা ক্ষত দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, অসুস্থ বা মৃত গবাদিপশুর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে। আক্রান্ত পশুর মাংস কোনোভাবেই খাওয়া উচিত নয়। রোগের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।এদিকে গবাদিপশুর মধ্যে অ্যানথ্রাক্সের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কার্যক্রম চালাচ্ছে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা বলছেন, গবাদিপশুকে নিয়মিত টিকা দেওয়া এবং অসুস্থ পশু সম্পর্কে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর মাধ্যমে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করা সম্ভব।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অ্যানথ্রাক্স নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। অসুস্থ বা মৃত গবাদিপশু জবাই না করা, মাংস না খাওয়া, আক্রান্ত পশুর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা এবং শরীরে ফোসকা বা ক্ষত দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

কুষ্টিয়ায় অ্যানথ্রাক্সের বিস্তার, দুই মাসে শনাক্ত ৫৪ রোগী

খাদিমপাড়া হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরিচালকের পরিদর্শন

সিলেট নগরীর খাদিমপাড়া ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে সেবার সার্বিক পরিস্থিতি দেখতে পরিদর্শন করেছেন সিলেট বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. মাহবুবুল আলম।রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে হাসপাতালটিতে গিয়ে তিনি চিকিৎসাসেবার বিভিন্ন কার্যক্রম সরেজমিনে দেখেন। এ সময় বহির্বিভাগ, অন্তর্বিভাগ ও জরুরি বিভাগসহ হাসপাতালের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখার পাশাপাশি রোগীদের জন্য সরবরাহ করা পথ্যের মানও যাচাই করেন।পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা,রোগী ব্যবস্থাপনা এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবার পরিবেশ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন বিভাগীয় পরিচালক। সেবার মান আরও উন্নত করতে প্রয়োজনীয় বিষয়ে তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দিকনির্দেশনা দেন।ডা. মাহবুবুল আলম বলেন,“সরকারি হাসপাতালের সেবার মূল লক্ষ্য হচ্ছে রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করা। এজন্য চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি রোগীদের খাবার,পরিচ্ছন্নতা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনার প্রতিটি বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।”এ সময় সিলেট জেলার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জন্মেজয় দত্ত,খাদিমপাড়া ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. তারিকুল ইসলামসহ হাসপাতালের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সিলেট সদর উপজেলার বিভিন্ন ইপিআই কেন্দ্রেও যান বিভাগীয় পরিচালক। সেখানে বর্তমানে চলমান MR (হাম-রুবেলা) ভ্যাকসিনেশন ক্যাচ-আপ ক্যাম্পেইন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।টিকাদান কার্যক্রমের মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা,শিশুদের টিকার আওতায় আসার পরিস্থিতি এবং কর্মসূচির অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে তথ্য নেন বিভাগীয় পরিচালক। এ সময় সহকারী পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. মোহাম্মদ নূরে আলম শামীম এবং সিলেট সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শারমিন আরা উপস্থিত ছিলেন।ডা. শারমিন আরা বলেন,“ক্যাচ-আপ ক্যাম্পেইনের উদ্দেশ্য হচ্ছে নিয়মিত কর্মসূচির বাইরে থেকে যাওয়া শিশুদেরও টিকাদানের আওতায় নিয়ে আসা। মাঠপর্যায়ে আমরা শিশুদের শনাক্তকরণ ও টিকা দেওয়ার পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি।”স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান,হাম ও রুবেলার মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগের ঝুঁকি কমাতে টিকাদান কার্যক্রমের আওতা বাড়ানো এবং কোনো শিশু যাতে টিকা থেকে বাদ না পড়ে,সে বিষয়ে মাঠপর্যায়ে নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

খাদিমপাড়া হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরিচালকের পরিদর্শন

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৩ জনের মৃত্যু

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে। সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি বছরে (১ জানুয়ারি থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) মশাবাহিত এই রোগে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১৪ জনে।একই সময়ে নতুন করে আরও ১ হাজার ৪৩২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত একদিনে ঢাকা বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ডেঙ্গুতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মারা গেছেন একজন।চলতি বছর এ পর্যন্ত দেশে মোট যে ২১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, তার মধ্যে এককভাবে ঢাকা বিভাগেই (দুই সিটি কর্পোরেশনসহ) ১০৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন।ঢাকা বিভাগ (সিটি কর্পোরেশনসহ): ১০৫ জনখুলনা বিভাগ: ৩৭ জনচট্টগ্রাম বিভাগ: ২১ জনময়মনসিংহ বিভাগ: ২০ জনবরিশাল বিভাগ: ১৬ জনরাজশাহী বিভাগ: ১০ জনরংপুর বিভাগ: ৪ জনসিলেট বিভাগ: ১ জনগত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) সর্বাধিক ২৮০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অন্যান্য বিভাগ ও সিটি কর্পোরেশন এলাকার চিত্র নিচে দেওয়া হলো:ঢাকা বিভাগ (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে): ২৮০ জনখুলনা বিভাগ: ২৪১ জনচট্টগ্রাম বিভাগ: ২০৯ জনবরিশাল বিভাগ: ২০৪ জনঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন: ১৭০ জনময়মনসিংহ বিভাগ: ১১২ জনঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন: ১০৬ জনরাজশাহী বিভাগ: ৫৭ জনরংপুর বিভাগ: ৫৩ জনচিকিৎসকেরা এডিস মশার বংশবৃদ্ধি রোধে বাসা-বাড়ি ও চারপাশে জমা পানি পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি জ্বর হলে দ্রুত ডেঙ্গু পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার তাগিদ দিচ্ছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৩ জনের মৃত্যু

শ্রীমঙ্গলে নারী প্রশিক্ষকদের সনদ দিল গিভ বাংলাদেশ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে চা-বাগান জনগোষ্ঠীর মধ্যে মাসিক স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা এবং এ-সংক্রান্ত সামাজিক কুসংস্কার ও সংকোচ কমাতে পরিচালিত ‘উঠান পেরিয়ে দুই পা ২.০’ ক্যাম্পেইনের সমাপনী ও সনদ বিতরণী অনুষ্ঠান হয়েছে।শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) শ্রীমঙ্গল পৌর অডিটোরিয়ামে গিভ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের (GBF) আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ক্যাম্পেইনের মাঠপর্যায়ে নেতৃত্ব দেওয়া স্থানীয় নারী কমিউনিটি প্রশিক্ষকদের সম্মাননা ও সনদ দেওয়া হয়।গিভ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের ‘উঠান পেরিয়ে দুই পা ২.০’ ক্যাম্পেইনটি পুষ্পা ফান্ড (Pushpa Fund) ও শেয়ারট্রিপের (ShareTrip) পৃষ্ঠপোষকতায় এবং আলোর দিশারী সামাজিক সংগঠনের সহযোগিতায় পরিচালিত হয়। এর আওতায় চা-বাগান এলাকার স্থানীয় নারী ও তরুণীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে কমিউনিটি প্রশিক্ষক হিসেবে গড়ে তোলা হয়। পরে তাঁরা নিজ নিজ এলাকায় উঠান বৈঠকের মাধ্যমে মাসিক স্বাস্থ্য,ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা এবং মাসিক নিয়ে প্রচলিত সামাজিক কুসংস্কার ও ভুল ধারণা নিয়ে আলোচনা করেন।আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১০৫টি উঠান বৈঠকের মাধ্যমে ১ হাজার ৫৮০ জন নারী ও কিশোরীর কাছে সচেতনতা কার্যক্রম পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ১৭ জন পুরুষ কমিউনিটি সদস্য এবং কালীঘাট চা-বাগান উচ্চবিদ্যালয়ের ৫৮ জন ছাত্রীকে সচেতনতা ও সেবার আওতায় আনা হয়। সব মিলিয়ে ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে শ্রীমঙ্গলের ১ হাজার ৬৫৫ জন সদস্য সরাসরি সহায়তা পেয়েছেন।ক্যাম্পেইনের শুরুতে পরিচালিত বেইজলাইন জরিপে অংশ নেওয়া নারী চা-শ্রমিকদের ৯৩ শতাংশ মাসিকের সময় অস্বাস্থ্যকর ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি অনুসরণ করতেন বলে উঠে আসে। মাসিকজনিত বিভিন্ন সমস্যার কারণে তাঁদের কর্মদিবস হারানোর পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়তে হতো।ক্যাম্পেইনের আওতায় মাসিক স্বাস্থ্য শিক্ষা,পুনর্ব্যবহারযোগ্য স্যানিটারি সামগ্রী বিতরণ,স্কুলভিত্তিক শিক্ষার্থী ওয়ার্কশপ এবং পুরুষ সদস্যদের নিয়ে সচেতনতামূলক সেশন পরিচালনা করা হয়। স্থানীয় নারীদের নেতৃত্বে সচেতনতা তৈরির মাধ্যমে মাসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক বার্তা কমিউনিটির ভেতরে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকার কথা ছিল মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক ভিপি মিজানুর রহমান মিজান। গেস্ট অব অনার হিসেবে থাকার কথা ছিল মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরীর। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করার কথা ছিল শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমানের। তাঁদের অনুপস্থিতিতে এবং তাঁদের অনুমতি সাপেক্ষে গিভ বাংলাদেশ-এর ‘উঠান পেরিয়ে দুই পা ২.০’ ক্যাম্পেইনের সাফল্য উদযাপন ও সনদ বিতরণী অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়।অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন; শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসমিন এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামসুন্নাহার পারভীন। তাঁরা ক্যাম্পেইন সম্পন্ন করা স্থানীয় কমিউনিটি প্রশিক্ষকদের হাতে সনদ তুলে দেন।গিভ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম ম্যানেজার বর্ষা আহমেদ বলেন,‘কালীঘাট চা-বাগানের নারীদের নিয়ে আমাদের এ উদ্যোগ বাংলাদেশের প্রান্তিক নারীদের মাসিক স্বাস্থ্য ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে চলমান কার্যক্রমের একটি অংশ। গিভ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের সকল নারীর জন্য মাসিক সমতা নিশ্চিত করতে চায়।’ডা. সিনথিয়া তাসমিন বলেন, ‘তারুণ্যনির্ভর গিভ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের কাজটি সমগ্র বাংলাদেশে ছড়িয়ে দিতে পারলে একটি সুস্থ সুনাগরিক নারী জনগোষ্ঠী জন্ম নেবে।’ ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগে সরকারি পর্যায়ের স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামসুন্নাহার পারভীন বলেন, মাসিকসংক্রান্ত সমস্যার কারণে নারী চা-শ্রমিকরা আর্থিকভাবে বঞ্চিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হন। বিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীরাও অনেক সময় এ কারণে ঝরে পড়ে। তাই গিভ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের এ মানবিক উদ্যোগ দেশের সব বিদ্যালয় ও চা-বাগানে ছড়িয়ে দেওয়া জরুরি।অনুষ্ঠানে ‘উঠান পেরিয়ে দুই পা’ কার্যক্রমের বিভিন্ন পর্যায়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে ভিডিও প্রদর্শন,উন্মুক্ত আলোচনা ও ছবি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এতে সরকারি কর্মকর্তা ছাড়াও চা-বাগানের স্থানীয় প্রতিনিধিরা অংশ নেন।অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে অংশগ্রহণকারীরা যৌথ অঙ্গীকারে অংশ নেন। নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ও WASH (পানি, স্যানিটেশন ও পরিচ্ছন্নতা) সুবিধা নিয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তাঁরা।গিভ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন একটি তারুণ্যনির্ভর,স্বেচ্ছাসেবী ও অলাভজনক উন্নয়ন সংস্থা। দেশ-বিদেশে থাকা সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন অংশীদারের দেওয়া অনুদানের মাধ্যমে পরিচালিত সংগঠনটি বাংলাদেশের প্রান্তিক ও উপেক্ষিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে।

শ্রীমঙ্গলে নারী প্রশিক্ষকদের সনদ দিল গিভ বাংলাদেশ

পুষ্টিগুণে ভরপুর জাম্বুরা: জেনে নিন স্বাস্থ্য উপকারিতা

শরতের এ সময়ে বাজারে সহজেই চোখে পড়ে পুষ্টিগুণে ভরপুর টক-মিষ্টি দেশীয় ফল জাম্বুরা (বাতাবি লেবু)। অত্যন্ত সুস্বাদু ও রসালো এই ফলটি কেবল মুখের রুচিই বাড়ায় না, বরং এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি, পটাশিয়াম, ফাইবার ও নানা ধরনের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।   পুষ্টিবিদ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দৈনিক খাদ্যতালিকায় জাম্বুরা রাখলে শরীরে নানা ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসে।১. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: জাম্বুরা ভিটামিন-সি’র চমৎকার একটি উৎস। নিয়মিত জাম্বুরা খেলে শরীরের ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে, যা সর্দি-কাশি, জ্বর ও অন্যান্য সংক্রামক ব্যাধি থেকে রক্ষা করে।২. হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: জাম্বুরায় থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ফাইবার রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের (LDL) মাত্রা কমিয়ে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়।৩. ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক: কম ক্যালরি এবং প্রচুর ফাইবার ও পানি থাকায় জাম্বুরা খেলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে। ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে, যা ওজন কমানোর প্রক্রিয়ায় বেশ সাহায্য করে।৪. হজমশক্তি বৃদ্ধি ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর: জাম্বুরায় পর্যাপ্ত পরিমাণে ডায়েটরি ফাইবার বা আঁশ থাকে, যা হজমপ্রক্রিয়া উন্নত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।৫. ত্বকের উজ্জ্বলতা ও বয়সের ছাপ প্রতিরোধ: এতে উপস্থিত ভিটামিন-সি কোলাজেন উৎপাদনে সাহায্য করে, যা ত্বককে টানটান ও সতেজ রাখে। একই সাথে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ত্বকে বার্ধক্যের ছাপ পড়তে দেয় না।৬. ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়: জাম্বুরায় ফ্ল্যাভোনয়েড নামক শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে, যা শরীরের মুক্ত মৌল বা ফ্রি-র্যাডিক্যাল ধ্বংস করে কোষকে সুরক্ষিত রাখে এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখে। চিকিৎসকদের পরামর্শমৌসুমি ফল হিসেবে দিনে পরিমিত পরিমাণে জাম্বুরা বা এর জুস খাওয়া অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর। তবে যাঁদের কিডনির জটিলতা রয়েছে বা পটাশিয়াম নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ওষুধ সেবন করছেন, তাঁদের চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে জাম্বুরা খাওয়া উচিত।

পুষ্টিগুণে ভরপুর জাম্বুরা: জেনে নিন স্বাস্থ্য উপকারিতা

দিনাজপুরে একই পরিবারের ৩ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত, সবাই এখন সুস্থ

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে একই পরিবারের তিন সদস্যের শরীরে কিউটেনিয়াস অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়েছে। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরীক্ষায় তাদের নমুনায় অ্যানথ্রাক্সের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তবে চিকিৎসা শেষে বর্তমানে আক্রান্ত তিনজনই সুস্থ ও স্থিতিশীল রয়েছেন।আক্রান্তরা হলেন রংপুরের পীরগাছা উপজেলার পাওটানাহাটের আদমপাড়া এলাকার আব্দুল মান্নান ও স্বপ্না বেগমের ছেলে মো. সুমন মিয়া (২৯) এবং তার বাবা-মা। সুমন মিয়া পার্বতীপুরের খোলাহাটি ক্যান্টনমেন্টে সৈনিক হিসেবে কর্মরত।আজ শুক্রবার দুপুরে দিনাজপুরের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মো. গোলাম রসুল রাখি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে জানা যায়, গত ২ সেপ্টেম্বর হাত ও আঙুলে ক্ষত নিয়ে একই পরিবারের তিন সদস্য পার্বতীপুর উপজেলার খোলাহাটি ক্যান্টনমেন্টের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি হন। পরদিন দায়িত্বপ্রাপ্ত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ তাদের শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করে কিউটেনিয়াস অ্যানথ্রাক্সের সম্ভাবনা শনাক্ত করেন।পরে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পার্বতীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে জানানো হয়। একই সঙ্গে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ, ঊর্ধ্বতন স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়। ঘটনাটি জানানো হয় আইইডিসিআরকেও।এরপর গত ৫ সেপ্টেম্বর আইইডিসিআরের ছয় সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ আউটব্রেক ইনভেস্টিগেশন টিম ঘটনাস্থলে যায়। দলটি আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠায়।স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, প্রায় ১৬ দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর আক্রান্ত তিনজনের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে তারা সুস্থ ও স্থিতিশীল রয়েছেন। আইইডিসিআরের পরীক্ষার ফলাফলে তিনজনের নমুনাতেই অ্যানথ্রাক্সের উপস্থিতি পাওয়া যায়।ঘটনার পর আক্রান্তদের চিকিৎসা ও নিয়মিত ফলোআপ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংক্রমণের সম্ভাব্য উৎস অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। একই পরিবারের অন্যান্য সদস্য এবং সম্ভাব্য ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম নেওয়া হচ্ছে।ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মো. গোলাম রসুল রাখি বলেন, আক্রান্ত তিনজন বর্তমানে সুস্থ ও স্থিতিশীল রয়েছেন। তাদের চিকিৎসা ও ফলোআপ অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি অ্যানথ্রাক্স সংক্রমণের প্রকৃত উৎস ও সম্ভাব্য কারণ শনাক্ত করতে আইইডিসিআরের উদ্যোগে আউটব্রেক ইনভেস্টিগেশন চলছে।তিনি বলেন, জনস্বাস্থ্য ও ওয়ান হেলথের দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। আক্রান্তদের ক্ষতস্থানের অবস্থা ও শারীরিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি পরিবারের অন্য সদস্যদের স্বাস্থ্যগত অবস্থাও নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

দিনাজপুরে একই পরিবারের ৩ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত, সবাই এখন সুস্থ

হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ১ হাজার ২৮০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ১০১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ৯৮০ জন।সব মিলিয়ে চলতি বছরে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮১ জনে।এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া নতুন রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ২৮০ জন।

হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু

ডা. সিনথিয়ার নেতৃত্বে বদলে গেল শ্রীমঙ্গলের স্বাস্থ্যসেবা

৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও জনবল কাঠামো এখনো ৩১ শয্যার। অনুমোদিত চিকিৎসক পদের বড় একটি অংশ শূন্য। প্রয়োজনের তুলনায় নেই গাইনি ও ইএনটি বিশেষজ্ঞসহ কয়েকজন চিকিৎসক ও কারিগরি জনবল। এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাফি সেবাতেও রয়েছে সীমাবদ্ধতা। এত সংকটের মধ্যেও থেমে নেই চিকিৎসাসেবা। বিশেষ করে প্রসূতি সেবায় ধারাবাহিক অগ্রগতি দেখিয়ে চলেছে সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে,উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (UH&FPO) ডা. সিনথিয়া তাসমিন ২০২৫ সালের ১৯ জানুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রসূতি সেবার মানোন্নয়ন,নিয়মিত তদারকি এবং চিকিৎসক,নার্স ও মিডওয়াইফদের সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর দায়িত্বকালে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ১৫ মাসে হাসপাতালে ২ হাজার ৭২৬টি স্বাভাবিক প্রসব সম্পন্ন হয়েছে। একই সময়ে জটিল প্রসূতিদের প্রয়োজন অনুযায়ী ১১৩টি সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়।সংশ্লিষ্টরা জানান,২০২৫ সালের আগস্টে এক মাসে ২২০টি স্বাভাবিক প্রসব হয়, যা হাসপাতালটির ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ। চলতি ২০২৬ সালের আগস্টেও ২১৫টি স্বাভাবিক প্রসবের বিপরীতে ৮টি সিজারিয়ান অপারেশন হয়েছে।হাসপাতালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী,২০২২ সালে স্বাভাবিক প্রসবের সংখ্যা ছিল ৪১০টি। ২০২৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৮১টিতে। এ ছাড়া ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ৩২৮টি প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব সম্পন্ন হয়েছে।চিকিৎসকদের মতে,গর্ভবতী নারীদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ,প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং স্বাভাবিক প্রসবকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি চিকিৎসক,নার্স ও মিডওয়াইফদের সমন্বিত কাজের কারণে প্রসূতি সেবায় মানুষের আগ্রহ বাড়ছে।মাতৃসেবা নিতে আসা শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৬ নম্বর আশীদ্রোন ইউনিয়নের কাকিয়ার পুল এলাকার সুমাইয়া আক্তার বলেন, “হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে চিকিৎসকদের ব্যবহার ও সেবায় আমি সন্তুষ্ট।”হরিণছড়া চা-বাগানের কৃষ্ণা রাণী বলেন, চা-বাগান এলাকার নারীরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সরকার নির্ধারিত মূল্যে মাতৃসেবা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ পাচ্ছেন।হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (RMO) ডা. আকাশ নুনিয়া বলেন,প্রসূতি সেবায় চিকিৎসক,নার্স,মিডওয়াইফসহ সংশ্লিষ্ট সব স্বাস্থ্যকর্মীর সমন্বিত দায়িত্ব পালন গুরুত্বপূর্ণ। সীমিত জনবল দিয়েও রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী সেবা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।জুনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু) ও নবজাতক, শিশু ও কিশোর রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. বিশ্বজিৎ দেব জানান,প্রসবের পর নবজাতকের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ এবং কোনো জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থাপনা প্রসূতি সেবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। হাসপাতালের প্রসূতি সেবায় এ বিষয়টিতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনি অ্যান্ড অবস.) ফারজানা হক পর্ণা বলেন,গর্ভবতী নারীর নিয়মিত পর্যবেক্ষণ,ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় সপ্তাহে একদিন শ্রীমঙ্গল হাসপাতালে ডা. সিনথিয়া তাসমিনের পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতায় স্বাভাবিক প্রসবের পাশাপাশি জটিল রোগীদেরও সময়মতো চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স হাছিনা আক্তার বলেন,ডা. সিনথিয়া তাসমিনের দিকনির্দেশনায় প্রসূতি ও নবজাতকের সেবায় নার্স ও মিডওয়াইফরা দায়িত্ব পালন করছেন। প্রসবের আগে,প্রসবের সময় এবং প্রসবের পর মা ও শিশুর পর্যবেক্ষণেও নিয়মিত নজর দেওয়া হচ্ছে।প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে চা-শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকা এবং সিন্দুরখান ও ভূনবীর ইউনিয়নের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর নারীদের জন্য নিয়মিত ‘মা সমাবেশ’ ও ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প করা হচ্ছে। এসব কর্মসূচিতে গর্ভবতী নারীদের প্রসবপূর্ব ও প্রসবোত্তর স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে পরামর্শ, জরায়ুমুখ ক্যান্সার স্ক্রিনিং এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হচ্ছে।প্রসূতি সেবার পাশাপাশি জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং কার্যক্রমেও অগ্রগতি হয়েছে। জনসংখ্যাভিত্তিক VIA পরীক্ষা এবং ইলেকট্রনিক ডাটা ট্র্যাকিং কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।হাসপাতাল সূত্র জানায়,এসব কার্যক্রমের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের মে মাসের অর্জনের পর আগস্টে সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয় ও মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জনের পক্ষ থেকে ডা. সিনথিয়া তাসমিন ও তাঁর টিমকে সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়।সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি শ্রীমঙ্গলের বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমেও নজরদারি করা হচ্ছে। সম্প্রতি উপজেলার একাধিক বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আকস্মিক পরিদর্শন করেন ডা. সিনথিয়া তাসমিন। এ সময় প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স,ল্যাবরেটরির কার্যক্রম,রিএজেন্ট সংরক্ষণ ও চিকিৎসাবর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা হয়।তবে এসব অগ্রগতির পাশাপাশি হাসপাতালটির বড় চ্যালেঞ্জ জনবল ও অবকাঠামোগত সংকট। কাগজে-কলমে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও হাসপাতালটি এখনো ৩১ শয্যার জনবল কাঠামোর ওপর নির্ভরশীল। হাসপাতাল সূত্রের তথ্য অনুযায়ী,অনুমোদিত ২৩টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ১০ জন। গাইনি ও ইএনটি বিশেষজ্ঞসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদ শূন্য রয়েছে। এক্স-রে টেকনোলজিস্ট ও সনোলজিস্ট না থাকায় অ্যানালগ এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাফি সেবাও ব্যাহত হচ্ছে।আবাসিক চিকিৎসক (RMO) ডা. আকাশ নুনিয়া বলেন,"জনবল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও নিয়মিত রোগীর চাপ সামলে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যেতে হচ্ছে। সীমিত জনবল নিয়ে হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবায় অগ্রগতি হয়েছে।"মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান বলেন,ডা. সিনথিয়া তাসমিন যোগদানের পর থেকে নানা সংকটের মধ্যেও হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবায় অগ্রগতি হয়েছে। জনবল ঘাটতি এবং প্রয়োজনীয় পদ পূরণের বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পদক্ষেপ নিচ্ছে।উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসমিন বলেন, “চিকিৎসক,নার্স ও মিডওয়াইফদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা প্রসূতি সেবায় এই অগ্রগতি অর্জন করতে পেরেছি। তবে হাসপাতালের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিরও ঘাটতি আছে।”তিনি জানান,শূন্য পদগুলোতে দ্রুত জনবল নিয়োগ এবং আধুনিক ডিজিটাল এক্স-রে মেশিনসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।সংশ্লিষ্ট ও শ্রীমঙ্গলের সচেতন নাগরিকদের মতে,জনবল ও অবকাঠামোগত সংকট দূর করা গেলে প্রসূতি সেবার পাশাপাশি হাসপাতালটির অন্যান্য চিকিৎসাসেবার পরিধিও আরও বাড়ানো সম্ভব। সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বর্তমান কার্যক্রম তাই একদিকে সংকটের চিত্র তুলে ধরছে, অন্যদিকে সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় ধারাবাহিক উন্নতির সম্ভাবনাও দেখাচ্ছে।

ডা. সিনথিয়ার নেতৃত্বে বদলে গেল শ্রীমঙ্গলের স্বাস্থ্যসেবা
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream