রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

স্বাস্থ্য

হাম আতঙ্কে মৌলভীবাজার-হবিগঞ্জ,হাসপাতালে রোগীর চাপ

হাম আতঙ্কে মৌলভীবাজার-হবিগঞ্জ,হাসপাতালে রোগীর চাপ

সিলেট বিভাগে হাম পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। আক্রান্ত ও হাম সন্দেহে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে চিকিৎসার চাপ। অনেক হাসপাতালেই দেখা দিয়েছে শয্যা সংকট। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম সন্দেহে ভর্তি রয়েছেন ৪১৫ জন রোগী।স্বাস্থ্য বিভাগের ২ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১২১ জন হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৬২ জন এবং সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪১ জন ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩ জন,মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১৪ জন এবং সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১ জন ভর্তি হয়েছেন।বর্তমানে সবচেয়ে বেশি রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে। সেখানে ভর্তি আছেন ১৭৩ জন। এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৩০ জন। অর্থাৎ সিলেটের প্রধান দুটি সরকারি হাসপাতালেই হাম সন্দেহে ভর্তি রয়েছেন মোট ৩০৩ জন রোগী।এছাড়া রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৪ জন,নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ৪ জন,পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩২ জন এবং গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৩ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে বর্তমানে হাম সন্দেহে ভর্তি রয়েছেন ২১ জন রোগী। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১৪ জন। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলায় নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১৫৮ জন।স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে,এ সময়ে মৌলভীবাজারে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হাম রোগে মোট ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিভাগজুড়ে রোগীর চাপ অব্যাহত থাকায় মৌলভীবাজারেও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।সিলেট বিভাগের অন্য জেলাগুলোর মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১৮ জন,হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৭ জন এবং বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন হাম সন্দেহে ভর্তি রয়েছেন।স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী,চলতি বছরের শুরু থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩১ জনে। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ৩৬৩ জন, সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জন, মৌলভীবাজারে ১৫৮ জন এবং হবিগঞ্জে ১৫৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন। হবিগঞ্জে আক্রান্তদের মধ্যে রুবেলার দুজন রোগীও রয়েছেন।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোনো নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়নি এবং হাম সন্দেহে কোনো মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেনি। তবে চলতি বছরের শুরু থেকে বিভাগে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হাম রোগে মোট ১৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সন্দেহজনক হাম রোগে ১৪৪ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।জেলাভিত্তিক হিসাবে সিলেটে সবচেয়ে বেশি ৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৫৭ জন সন্দেহজনক এবং ৪ জন নিশ্চিত হাম রোগী। সুনামগঞ্জে ৫৯ জন,হবিগঞ্জে ২১ জন এবং মৌলভীবাজারে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী,এক দিনে ১২১ জন নতুন রোগীর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনা পরিস্থিতির তীব্রতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে সিলেটের প্রধান সরকারি হাসপাতাল দুটিতে বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসাধীন থাকায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।বিপুলসংখ্যক সন্দেহজনক রোগী হাসপাতালে ভর্তি থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না। রোগীর চাপ আরও বাড়লে শয্যা ও চিকিৎসাসেবার সক্ষমতার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ, আক্রান্তদের সময়মতো চিকিৎসা এবং হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টদের মত।

শ্রীমঙ্গলে দেড় শতাধিক মায়ের অংশগ্রহণে 'মা সমাবেশ'

নিরাপদ মাতৃত্ব ও মা-শিশুর স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের জাগছড়া চা বাগানে ‘মা সমাবেশ’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘সুস্থ মা,সুস্থ শিশু,সুন্দর ভবিষ্যৎ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ সমাবেশে গর্ভবতী ও প্রসূতি মিলিয়ে ১৬৭ জন মা অংশ নেন।মঙ্গলবার (০১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় উপজেলার ৮ নম্বর কালিঘাট ইউনিয়নের জাগছড়া চা বাগানের মিশন টিলায় শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়োজনে এবং কম্প্যাশন ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সহযোগিতায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসমিনের দিকনির্দেশনায় এবং স্বাস্থ্য সহকারী বাঁধন আচার্য্যের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডা. সিনথিয়া তাসমিন।অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৬৩ জন গর্ভবতী এবং ১০৪ জন প্রসূতি মা ছিলেন। তাঁদের গর্ভকালীন নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা,সুষম পুষ্টি,প্রসবকালীন ঝুঁকি মোকাবিলা, নিরাপদ ও স্বাভাবিক প্রসব,নবজাতকের পরিচর্যা এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়।ডা. সিনথিয়া তাসমিন বলেন,মা ও শিশুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে গর্ভাবস্থার শুরু থেকেই নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ জরুরি। বিশেষ করে প্রত্যন্ত ও চা বাগান এলাকার মায়েদের কুসংস্কারে বিভ্রান্ত না হয়ে স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করতে হবে।তিনি আরও বলেন,নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের বিকল্প নেই। কোনপ্রকার কুসংস্কারাচ্ছন্ন না হয়ে,বিভিন্ন বেসরকারি চিকিৎসাসেবা কেন্দ্রের দালালের কথায় বিভ্রান্ত না হয়ে সরাসরি উপজেলা সরকারি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।স্বাস্থ্য পরিদর্শক মো. মাহবুবুর রহমান বলেন,গর্ভাবস্থার শুরু থেকেই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলে সম্ভাব্য জটিলতা আগেভাগে শনাক্ত করা সম্ভব।সিনিয়র স্টাফ নার্স হাছিনা আক্তার বলেন, গর্ভকাল থেকে প্রসব-পরবর্তী সময় পর্যন্ত মায়ের যথাযথ পরিচর্যার পাশাপাশি নবজাতককে সময়মতো বুকের দুধ খাওয়ানো,প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে পরিবারের সদস্যদেরও সচেতন হতে হবে।কম্প্যাশন ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের প্রকল্প প্রতিনিধি রিবিকা মহাপাত্র বলেন,চা বাগান ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মা ও শিশুদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।এ সময় শিশুদের নিয়মিত টিকাদান,হাম প্রতিরোধ,জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধে এইচপিভি টিকা,নারীদের ভিআইএ পরীক্ষা,পরিবার পরিকল্পনা,পুষ্টি এবং প্রসূতি ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে আলোচনা করা হয়।অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া মায়েরা তাঁদের বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা ও উদ্বেগের কথা কর্মকর্তাদের সামনে তুলে ধরলে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।স্বাস্থ্য সহকারী বাঁধন আচার্য্য বলেন,চা জনগোষ্ঠীর মধ্যে মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। এ লক্ষ্যেই বিভিন্ন চা বাগানের গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের নিয়ে এ আয়োজন করা হয়েছে।উক্ত অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য পরিদর্শক মো. মাহবুবুর রহমান,স্যানিটারি ইন্সপেক্টর বিনয় সিং রাউতিয়া,সিনিয়র স্টাফ নার্স হাছিনা আক্তার,সিএইচসিপি রাজিব সিং,স্বাস্থ্য সহকারী দুলন চন্দ্র দেব,পরিবার কল্যাণ সহকারী শিমুল কর্মকার,কম্প্যাশন ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের প্রতিনিধি রিবিকা মহাপাত্র (প্রকল্প),সাংবাদিক সত্যজিৎ দাস,সংবাদকর্মী ছায়েদ আলী প্রচারকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।আয়োজকরা জানান,চা বাগানসহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ নিয়মিতভাবে এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

শ্রীমঙ্গলে দেড় শতাধিক মায়ের অংশগ্রহণে 'মা সমাবেশ'

চুয়াডাঙ্গায় বাড়ছে নিউমোনিয়া রোগির সংখ্যা

চুয়াডাঙ্গায় আবহাওয়া জনিত কারণে নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে৷ প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৫৫ শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি  হচ্ছে সদর হাসপাতালে।  হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে  শয্যার তুলনায় বেড়েছে কয়েকগুণ রোগীর চাপ।গত সাত দিনে নিউমোনিয়া আক্রান্তে চিকিৎসা নিয়েছে ৩৫০ শিশু।  অতিরিক্ত রোগীর চাপে শয্যা সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে অনেক শিশুকে মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। সরেজমিনে সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে,  শিশু ওয়ার্ডে ২২টি শয্যার বিপরীতে রোগি ভর্তি আছে সোমবার(৩১ আগস্ট) রাত ৯টা পর্যন্ত ৪৫ জন।  নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যাই অতিরিক্ত বেশি হওয়ার কারণে শয্যা সংকট তীব্র আকার ধারণ করায় অনেক শিশুকে মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি যেমন বাড়ছে, তেমনি সীমিত জনবল দিয়ে অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও নার্সদের। অতিরিক্ত রোগী ও স্বজনের উপস্থিতিতে ওয়ার্ডজুড়ে তৈরি হয়েছে ভিড় ও অস্বস্তিকর পরিবেশ। শিশুদের চিকিৎসার পাশাপাশি তাদের সঙ্গে থাকা অভিভাবকদেরও দীর্ঘ সময় ওয়ার্ডে অবস্থান করতে হচ্ছে।নিউমোনিয়া আক্রান্ত  শিশু জুবায়ের হোসেনের মা সোনিয়া খাতুন বলেন, 'আবহাওয়া জনিত কারণে নিউমোনিয়া ছড়াচ্ছে বেশি। গরম বেশি পড়ছে দিনের বেলাতে। এ জন্য নিউমোনিয়ার প্রকোপ বাড়ছে। হাসপাতালে তিন দিন ধরে আছি। আগের থেকে একটু ভালো আছে বাচ্চা। তবে রোগীর চাপে বেড পাইনি।'  আরেক রোগীর বাবা হাসানুজ্জামান বলেন, 'ছেলের এক সপ্তাহ ধরে ঠান্ডা ও জ্বর ছিল। প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেওয়া হয়েছিল। সেখানে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। ভালো চিকিৎসার কারণে এখন মোটামুটি ভালো আছে। তবে অনেক রোগীর চাপ।'চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাঃ ফারহানা ওয়াহিদ তানি বলেন, 'অতিরিক্ত গরমের কারণে শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া, ঠান্ডাসহ বিভিন্ন রোগের প্রকোপ দেখা যাচ্ছে। শিশুরা বেশি ঘামছে এবং আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে নানা ধরনের অসুস্থতায় আক্রান্ত হচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরে এ কারণে শিশু ওয়ার্ডে রোগীর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। রোগীর চাপ সামলাতে চিকিৎসক ও নার্সদেরও অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হচ্ছে। 'চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মাহবুবুর রহমান মিলন বলেন, 'মাঝেমধ্যে বৃষ্টি আবার গরম। এই আবহাওয়া পরিবর্তনের শিশুরা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। এতে আতঙ্ক হওয়ার কিছু নেই। দরকার সচেতন। তাই শিশুদের প্রতি অভিভাবকদের বাড়তি যত্নশীল হতে হবে। 'তিনি আরও বলেন, 'নবজাতক ও ছোট শিশুকে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো অব্যাহত রাখতে হবে। ছয় মাস বয়সের পর বয়স উপযোগী পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত তরল দিতে হবে। শিশুর অসুস্থতার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক বা অন্য কোনো ওষুধ ব্যবহার না করার বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।'

চুয়াডাঙ্গায় বাড়ছে নিউমোনিয়া রোগির সংখ্যা

রাজনগরে বাড়ি বাড়ি খোঁজ নিয়ে হাম-রুবেলা ও এইচপিভি টিকাদান

মৌলভীবাজারের রাজনগরে হাম-রুবেলা (এমআর) ও জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধী এইচপিভি টিকার আওতা থেকে বাদ পড়া শিশু-কিশোরীদের খুঁজে বের করে টিকা প্রদানের লক্ষ্যে বিশেষ টিকাদান ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।রোববার (৩০ আগস্ট) রাজনগর চা বাগান হাসপাতালে এ বিশেষ ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। টিকার আওতা থেকে বাদ পড়া শিশু-কিশোরীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে অনুসন্ধানের মাধ্যমে চিহ্নিত করে তাদের টিকাদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়।বিশেষ টিকাদান ক্যাম্প পরিদর্শন করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বর্ণালী দাশ। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীদের শতভাগ লক্ষ্যভিত্তিক শিশু-কিশোরীকে টিকার আওতায় আনতে আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশনা দেন।ডা. বর্ণালী দাশ বলেন,হাম-রুবেলা ও জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে এইচপিভি টিকা শিশু-কিশোরীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো শিশু বা কিশোরী যেন টিকাদান কর্মসূচি থেকে বাদ না পড়ে, সে লক্ষ্যেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে অনুসন্ধান ও বিশেষ ক্যাম্পের মাধ্যমে টিকা প্রদান করা হচ্ছে। শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।তিনি বিশেষ টিকাদান ক্যাম্প সফলভাবে আয়োজন ও বাস্তবায়নে সহযোগিতার জন্য সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য সহকারী,সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক,স্বাস্থ্য পরিদর্শক,স্যানিটারি ইন্সপেক্টর,রাজনগর চা বাগান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ,সীমান্তিকের প্রতিনিধি, হীড বাংলাদেশের প্রতিনিধি এবং বাগানের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।সংশ্লিষ্টরা জানান,নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থেকে যাওয়া শিশু-কিশোরীদের চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে তাদের টিকার আওতায় আনতে এ ধরনের বিশেষ উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

রাজনগরে বাড়ি বাড়ি খোঁজ নিয়ে হাম-রুবেলা ও এইচপিভি টিকাদান

সদরপুর হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন, ৩ নার্সকে বদলির নির্দেশ

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে তিনি হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন।পরিদর্শনকালে মন্ত্রী হাসপাতালের কাউন্টারে সেবা নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন। পরে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, নার্সিং ডিউটি রুম, টয়লেট, রান্নাঘর, ওষুধের স্টোরসহ বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন।এ সময় তিনি ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীদের সঙ্গেও কথা বলেন। মন্ত্রীকে কাছে পেয়ে রোগীরা চিকিৎসাসেবার বিভিন্ন সমস্যা ও দুর্ভোগের কথা সরাসরি তুলে ধরেন। রোগীদের অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শোনার পাশাপাশি তিনি সমস্যাগুলো সমাধানের আশ্বাস দেন।রোগী ও সেবা গ্রহীতাদের অভিযোগের মধ্যে চিকিৎসক সংকট, জনবল ঘাটতি, হাসপাতালের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। অভিযোগের ভিত্তিতে তিনজন সিনিয়র সেবিকা—রিনা রানী বিশ্বাস, সুস্মিতা কীর্তনীয়া ও শামীমা আক্তারকে অন্যত্র বদলির নির্দেশনা দেন মন্ত্রী।এ ছাড়া সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি কঠোর নির্দেশনা দেন তিনি।হাসপাতালে ওষুধের সংকটের বিষয়টি জানতে পেরে মন্ত্রী ইডিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে ফোন করেন এবং দ্রুত ওষুধের ঘাটতি পূরণের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেন।স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের অবহেলা ও অনিয়ম সহ্য করা হবে না।”তিনি আরও বলেন, “জনবল ঘাটতি পূরণে আমরা ইতোমধ্যে নতুন জনবল নিয়োগের ব্যবস্থা করছি। অচিরেই সারাদেশে স্বাস্থ্য খাতের জনবল সংকট পূরণ করে জনগণকে গ্রামাঞ্চলেই উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে।”উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে কিডনি ডায়ালাইসিসের সুবিধা সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। আগামীতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ১০টি করে কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপনের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান মন্ত্রী।স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত ও সমাধানের লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলো পরিদর্শন করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য সারাদেশে জনগণের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। সে লক্ষ্যেই বিভিন্ন পর্যায়ের হাসপাতাল পরিদর্শন করে স্বাস্থ্য খাতের নানাবিধ সমস্যা উদঘাটন ও সমাধানের চেষ্টা করছি।”পরিদর্শনকালে তিনি স্বাস্থ্য খাতে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের জেলা সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান, সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোমিনুর রহমান সরকার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ শাওন, সদরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবদুল্লাহ আল মামুন শাহ, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কাজী বদরুতজ্জামান বদু, সদস্যসচিব তরিকুল ইসলাম কবির মোল্যাসহ হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

সদরপুর হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন, ৩ নার্সকে বদলির নির্দেশ

হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন

হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। পরিদর্শনকালে দায়িত্বে অনুপস্থিত থাকায় রিগান হোসেন নামে এক ফার্মাসিস্টকে তাৎক্ষণিক বদলির নির্দেশ দেন তিনি। একই সঙ্গে হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অবস্থা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্টদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে হাসপাতালে গিয়ে মন্ত্রী সার্জারি বিভাগ,বহির্বিভাগসহ বিভিন্ন ইউনিট ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি রোগীদের চিকিৎসাসেবা,চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি এবং হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।পরিদর্শনকালে হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অবস্থা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন,দেশের অন্যান্য জেলার হাসপাতালের তুলনায় হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতার অবস্থা ভালো নয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আরও দায়িত্বশীল হয়ে কাজ করার নির্দেশ দেন তিনি।হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে রোগীরাও বিভিন্ন অব্যবস্থা ও চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে অভিযোগ করেন। মন্ত্রী তাদের অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।এ সময় হাম প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রম নিয়েও কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান,আগামী তিন সপ্তাহ পর সারাদেশে আবারও হাম প্রতিরোধে টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হবে।হাম প্রতিরোধে শিশুদের যথাযথভাবে টিকার আওতায় আনার পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন,মায়েদের এ বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে। শিশুদের শালদুধ খাওয়ানো নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্ধারিত সময় অনুযায়ী টিকা দেওয়ার বিষয়েও অভিভাবকদের সচেতন থাকতে হবে।পরিদর্শনকালে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জিএম সরফরাজ,হবিগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক আহমেদ আলী মুকিব, জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আমিনুল হক সরকারসহ জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন

হামে মৃত্যুর মিছিল, সিলেট মোট মৃত্যু ১৪৬ শিশু

সিলেটে থামছে না হামের প্রকোপ। প্রতিদিনই হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে বিপুলসংখ্যক শিশু। বাড়ছে মৃত্যুও। গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত ১২৬ জন ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে জৈন্তাপুরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর বিভাগে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হামে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪৬ জনে।শিশু মৃত্যুর এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মধ্যেও হাম নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যক্রম অনেকটা টিকা দেওয়া ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিশুদের খুঁজে বের করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ বলে অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে সংক্রমণ ও মৃত্যু অব্যাহত থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ না থাকায় স্বাস্থ্য বিভাগকে অনেকটা ‘ঘণ্টাকর্ণের’ ভূমিকায় দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।বুধবার (২৬ আগস্ট) সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত ৩২০ জন চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৩০ জন এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১৮ জন ভর্তি রয়েছেন। হাসপাতাল দুটিতে নির্ধারিত শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এক শয্যায় একাধিক শিশুকে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।গত ২৪ ঘণ্টায় শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৪৯ জন, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬১ জন, নর্থ ইস্ট মেডিকেল হাসপাতালে দুজন, বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চারজন, জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন এবং মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নয়জন সন্দেহজনক হাম রোগী ভর্তি হয়েছে।বর্তমানে রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৩, নর্থ ইস্ট মেডিকেল হাসপাতালে পাঁচ, বিয়ানীবাজারে চার, জকিগঞ্জে একজন, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ২০, জামালগঞ্জে দুই, হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে আট এবং মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ১৯ জন সন্দেহজনক হাম রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামে মারা যাওয়া শিশুটির বাড়ি সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায়। সে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল।স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাবে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ২৫ জন। এর মধ্যে সিলেটে ৩৫৭, হবিগঞ্জে ১৫৩, মৌলভীবাজারে ১৫৮ এবং সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জন আক্রান্ত হয়েছে।মৃত্যুর চিত্রও ভয়াবহ। এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে সিলেটে ৫৩, হবিগঞ্জে ১৫, মৌলভীবাজারে ১২ এবং সুনামগঞ্জে ৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মারা গেছে সিলেটে চার, হবিগঞ্জে চার, মৌলভীবাজারে একজন এবং সুনামগঞ্জে একজন। সব মিলিয়ে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হামে মৃত্যুর সংখ্যা ১৪৬ জন।এর আগের দিন মঙ্গলবার (২৫ আগষ্ট) পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১৪৫। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।চলতি বছরের মার্চে সিলেটে হামের প্রকোপ দেখা দেয়। মে মাস থেকে সংক্রমণ বাড়তে থাকে এবং জুনে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এরপর থেকে প্রায় প্রতিদিনই হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে শিশু হাসপাতালে ভর্তি এবং মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। অথচ ব্যাপক টিকা ক্যাম্পেইনের পরও সংক্রমণ কমেনি।হাম মোকাবিলায় সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের ১০০ শয্যা এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩৮ শয্যার ৩২ নম্বর ওয়ার্ড ডেডিকেটেড করা হয়েছে। কিন্তু রোগীর চাপ নির্ধারিত সক্ষমতা ছাড়িয়ে যাওয়ায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।হামের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে গত ২০ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত টিকা ক্যাম্পেইন পরিচালনা করে স্বাস্থ্য বিভাগ। তখন প্রায় শতভাগ শিশুকে টিকার আওতায় আনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে প্রত্যন্ত এলাকায় স্বাস্থ্যকর্মীদের বাড়ি বাড়ি পরিদর্শনে বেরিয়ে আসে ভিন্ন চিত্র। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী,প্রত্যন্ত অঞ্চলের ২০ থেকে ২৫ শতাংশ শিশু এখনও টিকার আওতার বাইরে রয়েছে।সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দিন বলেন,দেশের অন্যান্য এলাকায় হামের প্রকোপ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও সিলেটে এখনো সংক্রমণ চলছে। প্রতিদিনই শিশু মারা যাচ্ছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিশুদের টিকা দেওয়ার পাশাপাশি টিকার বাইরে থাকা শিশুদের শনাক্ত করছেন।তিনি জানান,প্রত্যন্ত এলাকায় গিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রতি ২০ জন শিশুর মধ্যে চার থেকে পাঁচজনকে টিকার আওতার বাইরে পাচ্ছেন। শিশুদের নয় ও ১৫ মাস বয়সে হামের টিকা দেওয়া হয়। কিন্তু নয় মাস বয়সের আগেই অনেক শিশু আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে।সিভিল সার্জন বলেন,নয় মাসের আগে শিশুদের মায়ের কাছ থেকে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা পাওয়ার কথা। কিন্তু তারা কেন সেই রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা পাচ্ছে না,তা নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে নতুন করে ভাবা প্রয়োজন।সংশ্লিষ্টদের মতে,দীর্ঘদিন ধরে সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও শুধু টিকা ক্যাম্পেইন এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকা দেওয়ার মধ্যে কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হবে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিটি শিশুকে টিকার আওতায় আনা,নিয়মিত নজরদারি জোরদার,দ্রুত আক্রান্তদের শনাক্ত ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি মায়েদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।তাদের আশঙ্কা, পরিস্থিতিকে অবহেলা করে স্বাস্থ্য বিভাগ যদি ‘ঘণ্টাকর্ণের’ মতো বসে থাকে,তাহলে সিলেটে হাম আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

হামে মৃত্যুর মিছিল, সিলেট মোট মৃত্যু ১৪৬ শিশু

রাজনগরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাদপড়া শিশুদের টিকা নিশ্চিত

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম পরিদর্শনের পাশাপাশি টিকা থেকে বাদপড়া শিশুদের খুঁজে বের করে টিকাদান নিশ্চিত করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বর্ণালী দাশের নির্দেশনায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. মো. মামুন মিয়ার নেতৃত্বে একটি পরিদর্শন দল টেংরা ইউনিয়নের তিনটি নিয়মিত ইপিআই টিকাদান কেন্দ্র ও দুটি বাগান স্কুল পরিদর্শন করে।পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যকর্মীরা সংশ্লিষ্ট এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকা থেকে বাদপড়া শিশুদের অনুসন্ধান করেন। এ সময় শনাক্ত হওয়া বাদপড়া শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করা হয়। শিশুদের নিয়মিত টিকাদানের আওতায় আনতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।রাজনগর চা বাগানের বাসিন্দা মুন্নী পাশি বলেন,“আমার ছেলে রুদ্র পাশির বয়স পাঁচ বছর। স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়িতে এসে শিশুর টিকার বিষয়ে খোঁজ নেওয়ায় আমরা উপকৃত হয়েছি। শিশুদের সময়মতো সব টিকা দেওয়া খুবই জরুরি। স্বাস্থ্য বিভাগের এ উদ্যোগে অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা আরও বাড়বে।”রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বর্ণালী দাশ বলেন,“কোনো শিশু যেন টিকা থেকে বাদ না পড়ে,সে বিষয়ে আমরা গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। নিয়মিত টিকাদান কেন্দ্র পরিদর্শনের পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাদপড়া শিশু শনাক্ত ও তাদের টিকাদান নিশ্চিত করা হচ্ছে। শিশুদের সুরক্ষায় অভিভাবকদেরও সময়মতো টিকা দেওয়ার বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।”পরিদর্শন দলের নেতৃত্বদানকারী মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. মো. মামুন মিয়া বলেন,“টেংরা ইউনিয়নের টিকাদান কেন্দ্র ও বাগান স্কুল পরিদর্শনের পাশাপাশি আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিশুদের টিকার অবস্থা যাচাই করেছি। যেসব শিশু কোনো টিকা থেকে বাদ পড়েছে,তাদের শনাক্ত করে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হবে।”স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, শিশুদের বিভিন্ন সংক্রামক রোগ থেকে সুরক্ষা দিতে সময়মতো টিকা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই কোনো শিশু যাতে টিকাদান কর্মসূচির বাইরে না থাকে,সে জন্য অভিভাবকদের নিজ নিজ শিশুর টিকা গ্রহণের তথ্য ও সময়সূচির প্রতি নজর রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

রাজনগরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাদপড়া শিশুদের টিকা নিশ্চিত

সিজারিয়ান অপারেশনের পর পেটে গজ, ৫১ দিন পর প্রসূতির মৃত্যু

সিজারিয়ান অপারেশনের পর প্রসূতির পেটের ভেতরে সার্জিক্যাল গজ-ব্যান্ডেজ রেখে সেলাই করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসকের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণেই তাঁর এমন পরিণতি হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিচার দাবি করেছেন।নিহত কণিকা মণ্ডল (২৯) রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামের অশান্ত মণ্ডলের স্ত্রী।নিহতের স্বামী অশান্ত মণ্ডল জানান, গত ২৯ জুন অসুস্থ হয়ে কণিকাকে ফরিদপুর শহরের ঝিলটুনি সমরিতা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসক লক্ষ্মী রানী দত্তের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলছিল। ওই দিন সন্ধ্যায় সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে কণিকা একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন।অশান্ত মণ্ডলের ভাষ্য, অপারেশনের পরদিনই কণিকার পেট ফুলে যায় এবং তীব্র ব্যথা শুরু হয়। বিষয়টি চিকিৎসককে জানানো হলেও তিনি তা গুরুত্ব দিয়ে দেখেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে অবস্থার অবনতি হলে কণিকাকে ঢাকার কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হয়।পরিবারের সদস্যদের দাবি, সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা কণিকার পেটের ভেতরে সার্জিক্যাল গজ-ব্যান্ডেজ থাকার বিষয়টি শনাক্ত করেন। পরে অস্ত্রোপচার করে তাঁর পেট থেকে ওই গজ বের করা হয়।এরপরও কণিকার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১৯ আগস্ট দিবাগত রাত ২টার দিকে তিনি মারা যান। পরিবারের দাবি, সিজারিয়ান অপারেশনের প্রায় ৫১ দিন পর তাঁর মৃত্যু হয়েছে।নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, অপারেশনের সময় পেটের ভেতরে গজ রেখে সেলাই করে দেওয়ার কারণেই পরবর্তী সময়ে গুরুতর জটিলতা তৈরি হয়। তারা চিকিৎসক লক্ষ্মী রানী দত্তের বিরুদ্ধে অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগ এনে তদন্ত এবং বিচার দাবি করেছেন। পরিবারের দাবি, চিকিৎসক তাঁদের কাছে ভুল স্বীকারও করেছেন।এ বিষয়ে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, তাঁর জেলার একজন নারীর মৃত্যুর বিষয়ে এমন একটি সংবাদ তাঁর নজরে এসেছে। তিনি নিহত কণিকার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বলে জানান।তবে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা যায়নি। অভিযোগের সত্যতা এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন।

সিজারিয়ান অপারেশনের পর পেটে গজ, ৫১ দিন পর প্রসূতির মৃত্যু

অসামান্য সেবায় বিভাগীয় সম্মাননা পেল শ্রীমঙ্গল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

স্বাস্থ্যসেবায় কর্মদক্ষতা,নিষ্ঠা ও ধারাবাহিক সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ‘Appreciation for Outstanding Performance’ সম্মাননা পেয়েছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হলরুমে আয়োজিত মাসিক সমন্বয় সভায় সিলেট বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. মাহবুবুল আলম সম্মাননা ক্রেস্টটি শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসমিনের হাতে তুলে দেন।এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট বিভাগের সহকারী পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. নূর এ আলম শামীম,মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মামুনুর রহমান,শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আকাশ নুনিয়া,জুনিয়র কনসালট্যান্ট (সার্জারি) ডা. অশোক ঘোষ,চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ হাসপাতালের সংশ্লিষ্টরা।মাসিক সমন্বয় সভায় হাসপাতালের সাম্প্রতিক সেবার অগ্রগতি,মাতৃস্বাস্থ্যসেবা, অপারেশন কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। সভা শেষে হাসপাতালের অসামান্য সেবার স্বীকৃতি হিসেবে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মাতৃস্বাস্থ্যসেবায় ধারাবাহিক সাফল্যের পাশাপাশি স্বাভাবিক প্রসবকে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ১৫ মাসে এখানে ২ হাজার ৭২৬টি নরমাল ডেলিভারি সম্পন্ন হয়। একই সময়ে জটিল পরিস্থিতিতে শতাধিক সিজারিয়ান অপারেশনও করা হয়েছে। সর্বশেষ জুলাই ২০২৬ মাসে ১৬৩টি নরমাল ডেলিভারি ও ৮টি সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হয়।এর আগে ২০২৫ সালের আগস্টে এক মাসে সর্বোচ্চ ২২০টি নরমাল ডেলিভারি সম্পন্ন করে হাসপাতালটি। একই বছরের এপ্রিল ও মে মাসে যথাক্রমে ১৪৪ ও ১২৪টি নরমাল ডেলিভারি হয়।হাসপাতালে স্থায়ী গাইনি বিশেষজ্ঞ না থাকলেও ডা. সিনথিয়া তাসমিনের উদ্যোগে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের এনে জরুরি মাতৃস্বাস্থ্যসেবা চালু রাখা হয়েছে। প্রথম সন্তান সিজারের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া মায়েদের পরবর্তী সন্তান স্বাভাবিক প্রসবের ক্ষেত্রেও বিশেষ পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. মাহবুবুল আলম বলেন,মাঠপর্যায়ে জনগণকে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম প্রশংসনীয়। ধারাবাহিক কর্মদক্ষতা ও সেবার মানোন্নয়নের স্বীকৃতি হিসেবেই এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। এ সাফল্য ধরে রেখে ভবিষ্যতে আরও উন্নত সেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।সিভিল সার্জন ডা. মামুনুর রহমান বলেন, সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় শ্রীমঙ্গল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভালো করছে। এ অর্জন সংশ্লিষ্টদের আরও দায়িত্বশীল ও জনবান্ধব সেবা প্রদানে উৎসাহিত করবে।ডা. সিনথিয়া তাসমিন বলেন,এ সম্মাননা কোনো একক ব্যক্তির অর্জন নয়; হাসপাতালের প্রতিটি চিকিৎসক,নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। জনগণের আস্থা ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে সেবার মান আরও উন্নত করার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।আরএমও ডা. আকাশ নুনিয়া বলেন,এ স্বীকৃতি হাসপাতালের পুরো টিমের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। রোগীদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সেবার মানোন্নয়নে সবাইকে আরও আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।জুনিয়র কনসালট্যান্ট (সার্জারি) ডা. অশোক ঘোষ বলেন,হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার কার্যক্রম সচল রাখা এবং জটিল সাধারণ সার্জারি সফলভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। এ সম্মাননা ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল সেবা প্রদানে উৎসাহ জোগাবে।হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা জানান, মাতৃস্বাস্থ্যসেবায় ধারাবাহিক সাফল্য, স্বাভাবিক প্রসবের হার বৃদ্ধি এবং সার্বিক চিকিৎসাসেবার উন্নয়নের ফলে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ইতোমধ্যে দেশের উল্লেখযোগ্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। বিভাগীয় পর্যায়ের এ সম্মাননা সেই ধারাবাহিক সাফল্যেরই স্বীকৃতি।

অসামান্য সেবায় বিভাগীয় সম্মাননা পেল শ্রীমঙ্গল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

মৌলভীবাজারের হাসপাতাল তদারকিতে তামান্না তাসনীম

দেশের সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা জোরদার এবং জনসেবার গুণগত মান নিশ্চিত করতে ৬৯ কর্মকর্তাকে পরিদর্শনকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এর অংশ হিসেবে মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোর তদারকির দায়িত্ব পেয়েছেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মিজ তামান্না তাসনীম।গত ১৬ আগস্ট স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের প্রশাসন-১ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হয়। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব খন্দকার রবিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত আদেশে দেশের বিভিন্ন জেলার হাসপাতাল ও বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্রের জন্য অতিরিক্ত সচিব,যুগ্মসচিব,উপসচিব ও সিনিয়র সহকারী সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।অফিস আদেশ অনুযায়ী,সিলেট বিভাগের সার্বিক তদারকির দায়িত্ব পেয়েছেন যুগ্মসচিব মো. হেলাল উদ্দিন। সিলেট জেলার হাসপাতালগুলোর জন্য দায়িত্ব পেয়েছেন সিনিয়র সহকারী সচিব মো. বিপুল ওয়ারেছ আনসারী। সুনামগঞ্জ জেলার হাসপাতালগুলোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে উপসচিব স্বপন কুমার মণ্ডলকে। আর সিনিয়র সহকারী সচিব মিজ তামান্না তাসনীমকে সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার সকল হাসপাতালের তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।তামান্না তাসনীমের দায়িত্ব পাওয়ায় মৌলভীবাজার জেলার সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম এখন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নিয়মিত তদারকির আওতায় এসেছে। জেলার হাসপাতালগুলোর জনবল,চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি,পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, চিকিৎসা সরঞ্জাম,অবকাঠামো,নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করবেন তিনি।হাসপাতাল প্রধানদের সঙ্গে সমন্বয় করে সেবার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি কোনো সমস্যা বা ঘাটতি চিহ্নিত হলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় প্রত্যেক পরিদর্শনকারী কর্মকর্তাকে প্রতি মাসে বাধ্যতামূলকভাবে অন্তত একটি পরিদর্শন সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে। পরিদর্শনে পাওয়া সমস্যা,পর্যবেক্ষণ ও বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশ উল্লেখ করে প্রতি মাসের ৭ তারিখের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শাখায় প্রতিবেদন দিতে হবে।তদারকির আওতায় শুধু হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা নয়,চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ডিজিটাল হাজিরাও রয়েছে। একই সঙ্গে টিকাদান কর্মসূচি, অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম,মাতৃ ও শিশুমৃত্যু কমানো,প্রবীণ স্বাস্থ্যসেবা এবং পুষ্টি কার্যক্রমের অগ্রগতিও পর্যবেক্ষণ করতে হবে।জেলা প্রশাসক,সিভিল সার্জন,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ জেলার হাসপাতাল তদারকির দায়িত্ব পাওয়া মিজ তামান্না তাসনীম ৩৫তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা। সচিবালয়ে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-২ শাখায় যোগদানের আগে তিনি মাঠ প্রশাসনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে মাঠ প্রশাসনের দায়িত্ব শেষ করে তিনি স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে যোগ দেন।মাঠ প্রশাসনে কাজের অভিজ্ঞতা থাকায় স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি সেবা,প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ও জনসেবার বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে। এবার সেই অভিজ্ঞতাই কাজে লাগবে মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জের সরকারি হাসপাতালগুলোর স্বাস্থ্যসেবা তদারকিতে।স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আদেশে সিলেট বিভাগের হাসপাতালগুলোর জন্য একাধিক পর্যায়ের কর্মকর্তা দায়িত্ব পেয়েছেন। যুগ্মসচিব মো. হেলাল উদ্দিনকে দেওয়া হয়েছে বিভাগের সার্বিক দায়িত্ব। সিলেট জেলার হাসপাতালগুলোর জন্য দায়িত্ব পেয়েছেন সিনিয়র সহকারী সচিব মো. বিপুল ওয়ারেছ আনসারী। সুনামগঞ্জ জেলার দায়িত্বে রয়েছেন উপসচিব স্বপন কুমার মণ্ডল। আর মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ জেলার সকল হাসপাতালের তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সিনিয়র সহকারী সচিব তামান্না তাসনীমকে।ফলে সিলেট বিভাগের সরকারি হাসপাতালগুলোতে মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নজরদারি আরও জোরদার হচ্ছে।মন্ত্রণালয়ের এ উদ্যোগে হাসপাতালগুলোর দৈনন্দিন কার্যক্রমের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের জনবল সংকট,চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি, অবকাঠামোগত সমস্যা,পরিচ্ছন্নতা ও চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতির মতো বিষয় নিয়মিতভাবে পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পরিদর্শন ও মাসিক প্রতিবেদনের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের সমস্যা সরাসরি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখায় পৌঁছাবে। এতে সমস্যা চিহ্নিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এ অফিস আদেশের অনুলিপি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভাগীয় পরিচালক,জেলা সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

মৌলভীবাজারের হাসপাতাল তদারকিতে তামান্না তাসনীম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream