বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

রিলসের আসক্তি কাটিয়ে মনোযোগ ফেরানোর নতুন উপায়


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

রিলসের আসক্তি কাটিয়ে মনোযোগ ফেরানোর নতুন উপায়
রিলসের আসক্তি কাটিয়ে মনোযোগ ফেরানোর নতুন উপায়

সময় দেখার জন্য হাতে ফোন নেওয়ার পর টিকটক, ইনস্টাগ্রাম বা ফেসবুকের রিলসের চক্রে পড়ে কখন যে মূল্যবান ৪০-৪৫০ মিনিট পার হয়ে যায়, তা অনেক সময় টেরই পাওয়া যায় না। দক্ষিণ কোরিয়ার অচেনা ব্যক্তির খাবার খাওয়ার ভিডিও, নতুন কোনো গানের নাচ কিংবা এআই দিয়ে তৈরি কাল্পনিক প্রেমের গল্প—আমাদের মস্তিষ্ককে খুব সহজেই আটকে রাখে এই অন্তহীন স্ক্রলিংয়ের ফাঁদে। মজার ব্যাপার হলো, অতিরিক্ত রিলস দেখার কুফল নিয়ে সচেতনতামূলক ভিডিও যারা দেখেন, তারাও এই চক্র থেকে বের হতে পারেন না।

এই স্ক্রিন আসক্তি থেকে মুক্তি পেতে এবং সোশ্যাল মিডিয়া থেকে কিছুটা দূরে থাকতে বর্তমানে বিশ্বজুড়ে দারুণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে নতুন একটি কৌশল। এর নাম ‘ব্রেন স্ট্যাকিং’ (Brain Stacking)।

ব্রেন স্ট্যাকিং হলো এমন কিছু বাস্তব ও আনন্দদায়ক কাজের একটি ছোট্ট তালিকা বা সংগ্রহ তৈরি করা, যেখানে কোনো ধরনের স্মার্টফোন, গ্যাজেট বা ইন্টারনেটের প্রয়োজন হয় না।

কী থাকে এই তালিকায়? উপন্যাস পড়া, সুডোকু বা ক্রসবোর্ড মেলানো, ডায়েরি বা নোট লেখা, স্কেচ বা ছবি আঁকা কিংবা পত্রিকার কোনো ধাঁধার সমাধান করা।

পদ্ধতিটি কীভাবে কাজ করে? এই জিনিসগুলো বা বই-খাতা একসঙ্গে নিজের হাতের কাছে (যেমন পড়ার টেবিলে বা খাটের পাশে) গুছিয়ে রাখতে হয়। যখনই আপনার মনে হবে একটু ফোন হাতে নিয়ে ইনস্টাগ্রাম বা ফেসবুকে ঢুঁ মারি, ঠিক তখনই ফোনের বদলে চোখের সামনে থাকা সেই অফলাইন কাজগুলোর মধ্য থেকে যেকোনো একটি বেছে নিতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ট্রেন্ডটি জনপ্রিয় করে তুলতে বড় ভূমিকা রেখেছেন কনটেন্ট নির্মাতা ম্যান্ডি রুলজ। অনেকে একটানা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত এই অফলাইন কার্যক্রমে সময় কাটালেও এর জন্য কোনো নির্দিষ্ট বা কঠোর সময়সীমা নেই; আপনি আপনার সুবিধামতো ১০ মিনিট দিয়েও শুরু করতে পারেন।

সুডোকু বা লজিক পাজল খেলার মাধ্যমে স্মৃতিশক্তি এবং যুক্তি দিয়ে জটিল বিষয় চিন্তা করার ক্ষমতা বাড়ে।

বই পড়া বা ডায়েরি লেখার মতো অভ্যাসের ফলে মানুষের মনোযোগ দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং গভীর মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা ফিরে আসে।

রিলসের জগত থেকে বের হয়ে বাস্তব ও মননশীল কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকায় মানসিক ক্লান্তি ও অস্থিরতা কমে, ফলে গভীর মানসিক তৃপ্তি লাভ করা সম্ভব হয়।

এর জন্য নতুন করে কোনো ব্যয়বহুল সরঞ্জাম বা বই কেনার প্রয়োজন নেই। বাড়িতে পড়ে থাকা পুরোনো কোনো উপন্যাস, অসমাপ্ত বই, কোনো পুরোনো খাতা কিংবা খবরের কাগজের ধাঁধার পাতা দিয়েই এটি শুরু করা যেতে পারে।

কফি বা চা খাওয়ার পরের সময়টিতে কিংবা রাতে ঘুমাতে যাওয়ার ঠিক আগে মাত্র ১০ মিনিট ফোন দূরে রেখে এই অভ্যাসটি চর্চা করতে পারেন।

মনে রাখবেন, প্রথম দিন থেকেই রাতারাতি রিলসের নেশা কেটে যাবে না। কোনো কোনো দিন হয়তো আবারও রিলস দেখার তীব্র ইচ্ছা জাগতে পারে, যা খুব স্বাভাবিক। তবে নিয়মিত চর্চা করলে ফোনের ওপর অযাচিত নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি শৈশবের বা তারুণ্যের হারিয়ে যাওয়া সুন্দর শখগুলোও নতুন করে নিজের জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬


রিলসের আসক্তি কাটিয়ে মনোযোগ ফেরানোর নতুন উপায়

প্রকাশের তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

সময় দেখার জন্য হাতে ফোন নেওয়ার পর টিকটক, ইনস্টাগ্রাম বা ফেসবুকের রিলসের চক্রে পড়ে কখন যে মূল্যবান ৪০-৪৫০ মিনিট পার হয়ে যায়, তা অনেক সময় টেরই পাওয়া যায় না। দক্ষিণ কোরিয়ার অচেনা ব্যক্তির খাবার খাওয়ার ভিডিও, নতুন কোনো গানের নাচ কিংবা এআই দিয়ে তৈরি কাল্পনিক প্রেমের গল্প—আমাদের মস্তিষ্ককে খুব সহজেই আটকে রাখে এই অন্তহীন স্ক্রলিংয়ের ফাঁদে। মজার ব্যাপার হলো, অতিরিক্ত রিলস দেখার কুফল নিয়ে সচেতনতামূলক ভিডিও যারা দেখেন, তারাও এই চক্র থেকে বের হতে পারেন না।

এই স্ক্রিন আসক্তি থেকে মুক্তি পেতে এবং সোশ্যাল মিডিয়া থেকে কিছুটা দূরে থাকতে বর্তমানে বিশ্বজুড়ে দারুণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে নতুন একটি কৌশল। এর নাম ‘ব্রেন স্ট্যাকিং’ (Brain Stacking)।

ব্রেন স্ট্যাকিং হলো এমন কিছু বাস্তব ও আনন্দদায়ক কাজের একটি ছোট্ট তালিকা বা সংগ্রহ তৈরি করা, যেখানে কোনো ধরনের স্মার্টফোন, গ্যাজেট বা ইন্টারনেটের প্রয়োজন হয় না।

কী থাকে এই তালিকায়? উপন্যাস পড়া, সুডোকু বা ক্রসবোর্ড মেলানো, ডায়েরি বা নোট লেখা, স্কেচ বা ছবি আঁকা কিংবা পত্রিকার কোনো ধাঁধার সমাধান করা।

পদ্ধতিটি কীভাবে কাজ করে? এই জিনিসগুলো বা বই-খাতা একসঙ্গে নিজের হাতের কাছে (যেমন পড়ার টেবিলে বা খাটের পাশে) গুছিয়ে রাখতে হয়। যখনই আপনার মনে হবে একটু ফোন হাতে নিয়ে ইনস্টাগ্রাম বা ফেসবুকে ঢুঁ মারি, ঠিক তখনই ফোনের বদলে চোখের সামনে থাকা সেই অফলাইন কাজগুলোর মধ্য থেকে যেকোনো একটি বেছে নিতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ট্রেন্ডটি জনপ্রিয় করে তুলতে বড় ভূমিকা রেখেছেন কনটেন্ট নির্মাতা ম্যান্ডি রুলজ। অনেকে একটানা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত এই অফলাইন কার্যক্রমে সময় কাটালেও এর জন্য কোনো নির্দিষ্ট বা কঠোর সময়সীমা নেই; আপনি আপনার সুবিধামতো ১০ মিনিট দিয়েও শুরু করতে পারেন।

সুডোকু বা লজিক পাজল খেলার মাধ্যমে স্মৃতিশক্তি এবং যুক্তি দিয়ে জটিল বিষয় চিন্তা করার ক্ষমতা বাড়ে।

বই পড়া বা ডায়েরি লেখার মতো অভ্যাসের ফলে মানুষের মনোযোগ দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং গভীর মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা ফিরে আসে।

রিলসের জগত থেকে বের হয়ে বাস্তব ও মননশীল কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকায় মানসিক ক্লান্তি ও অস্থিরতা কমে, ফলে গভীর মানসিক তৃপ্তি লাভ করা সম্ভব হয়।

এর জন্য নতুন করে কোনো ব্যয়বহুল সরঞ্জাম বা বই কেনার প্রয়োজন নেই। বাড়িতে পড়ে থাকা পুরোনো কোনো উপন্যাস, অসমাপ্ত বই, কোনো পুরোনো খাতা কিংবা খবরের কাগজের ধাঁধার পাতা দিয়েই এটি শুরু করা যেতে পারে।

কফি বা চা খাওয়ার পরের সময়টিতে কিংবা রাতে ঘুমাতে যাওয়ার ঠিক আগে মাত্র ১০ মিনিট ফোন দূরে রেখে এই অভ্যাসটি চর্চা করতে পারেন।

মনে রাখবেন, প্রথম দিন থেকেই রাতারাতি রিলসের নেশা কেটে যাবে না। কোনো কোনো দিন হয়তো আবারও রিলস দেখার তীব্র ইচ্ছা জাগতে পারে, যা খুব স্বাভাবিক। তবে নিয়মিত চর্চা করলে ফোনের ওপর অযাচিত নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি শৈশবের বা তারুণ্যের হারিয়ে যাওয়া সুন্দর শখগুলোও নতুন করে নিজের জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।



Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream