মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

এ কোন ভয়ঙ্কর মায়াজালে আটকে যাচ্ছে আমাদের প্রকৃতি?



এ কোন ভয়ঙ্কর মায়াজালে আটকে যাচ্ছে আমাদের প্রকৃতি?
বান্দরবানের নদীতে ইলেকট্রিক শক আর বিষের থাবা হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের দেশি মাছ

বান্দরবানের সাঙ্গু, মাতামুহুরি সহ বিভিন্ন নদী-খাল-ছড়ায় এখন আর জালের ছপছপ শব্দ শোনা যায় না। তার বদলে রাতের আঁধারে শোনা যায় জেনারেটরের ও ব্যাটারি  গোঁ গোঁ আওয়াজ। আর ভোরে নদীর পাড়ে ভেসে থাকে হাজার হাজার ছোট-বড় মাছের মৃতদেহ।

অভিযোগ উঠেছে, একটা বড় বোয়াল বা মহাশোল ধরার লোভে কিছু অসাধু চক্র ইলেকট্রিক শক মেশিন আর বিষ প্রয়োগ করে নির্বিচারে মাছ শিকার করছে। একটা বড় মাছের জন্য তারা মেরে ফেলছে হাজারো পুঁটি, মলা, ডারকা, চেলা আর কাঁকড়ার পোনা। নদীর তলদেশের কেঁচো, শামুক পর্যন্ত মরে সাফ হয়ে যাচ্ছে।


মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা শুধু মাছ ধরা নয়, এটা একটা নীরব গণহত্যা। ইলেকট্রিক শকে মাছের প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট হয়। বিষে নদীর পুরো ফুড চেইন ভেঙে পড়ে। ফলে দেশি প্রজাতির মাছ দ্রুত বিলুপ্তির দিকে যাচ্ছে।

স্থানীয় জেলেরা আক্ষেপ করে বলেন, "আগে এক জালেই ৫-৬ কেজি দেশি মাছ উঠত। এখন সারাদিন জাল ফেলেও ২০০ গ্রাম পাই না। নদী মরে গেলে আমরা খাব কী?"

মৎস্য সংরক্ষণ আইন ১৯৫০ অনুযায়ী ইলেকট্রিক শক ও বিষ দিয়ে মাছ ধরা দণ্ডনীয় অপরাধ। জরিমানা আর জেল দুটোই আছে। কিন্তু অভিযোগ, আইনের ফাঁকফোকর আর রাতের অন্ধকারকে কাজে লাগিয়ে অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতি রাতেই চলছে এই ধ্বংসযজ্ঞ।

আজ যদি আমরা না থামাই, তাহলে ১০ বছর পর আমাদের সন্তানরা "দেশি মাছ" বলতে ইউটিউব আর গুগলের ছবিই দেখবে। মাছে-ভাতে বাঙালির যে হাজার বছরের ঐতিহ্য, যে রূপালি বাংলার গল্প — তা শুধু বইয়ের পাতায় থেকে যাবে।

পরিবেশকর্মী ও স্থানীয় সচেতন মহল দাবি জানিয়েছেন:

বান্দরবানের প্রতিটি নদীতে রাতের বেলা মোবাইল কোর্ট ও নজরদারি বাড়াতে হবে। ইলেকট্রিক মেশিন ও বিষ বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। ধরা পড়লে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

আপনার চোখের সামনে এমন অপরাধ দেখলে নিকটস্থ থানা বা উপজেলা মৎস্য অফিসে তথ্য দিন। একটি ফোনই বাঁচাতে পারে একটি নদী, একটি প্রজন্ম। আমাদের প্রাণ-প্রকৃতি আর দেশি মাছগুলোকে বাঁচান। নইলে ক্ষমা করবে না আগামী প্রজন্ম।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬


এ কোন ভয়ঙ্কর মায়াজালে আটকে যাচ্ছে আমাদের প্রকৃতি?

প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বান্দরবানের সাঙ্গু, মাতামুহুরি সহ বিভিন্ন নদী-খাল-ছড়ায় এখন আর জালের ছপছপ শব্দ শোনা যায় না। তার বদলে রাতের আঁধারে শোনা যায় জেনারেটরের ও ব্যাটারি  গোঁ গোঁ আওয়াজ। আর ভোরে নদীর পাড়ে ভেসে থাকে হাজার হাজার ছোট-বড় মাছের মৃতদেহ।

অভিযোগ উঠেছে, একটা বড় বোয়াল বা মহাশোল ধরার লোভে কিছু অসাধু চক্র ইলেকট্রিক শক মেশিন আর বিষ প্রয়োগ করে নির্বিচারে মাছ শিকার করছে। একটা বড় মাছের জন্য তারা মেরে ফেলছে হাজারো পুঁটি, মলা, ডারকা, চেলা আর কাঁকড়ার পোনা। নদীর তলদেশের কেঁচো, শামুক পর্যন্ত মরে সাফ হয়ে যাচ্ছে।


মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা শুধু মাছ ধরা নয়, এটা একটা নীরব গণহত্যা। ইলেকট্রিক শকে মাছের প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট হয়। বিষে নদীর পুরো ফুড চেইন ভেঙে পড়ে। ফলে দেশি প্রজাতির মাছ দ্রুত বিলুপ্তির দিকে যাচ্ছে।

স্থানীয় জেলেরা আক্ষেপ করে বলেন, "আগে এক জালেই ৫-৬ কেজি দেশি মাছ উঠত। এখন সারাদিন জাল ফেলেও ২০০ গ্রাম পাই না। নদী মরে গেলে আমরা খাব কী?"

মৎস্য সংরক্ষণ আইন ১৯৫০ অনুযায়ী ইলেকট্রিক শক ও বিষ দিয়ে মাছ ধরা দণ্ডনীয় অপরাধ। জরিমানা আর জেল দুটোই আছে। কিন্তু অভিযোগ, আইনের ফাঁকফোকর আর রাতের অন্ধকারকে কাজে লাগিয়ে অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতি রাতেই চলছে এই ধ্বংসযজ্ঞ।

আজ যদি আমরা না থামাই, তাহলে ১০ বছর পর আমাদের সন্তানরা "দেশি মাছ" বলতে ইউটিউব আর গুগলের ছবিই দেখবে। মাছে-ভাতে বাঙালির যে হাজার বছরের ঐতিহ্য, যে রূপালি বাংলার গল্প — তা শুধু বইয়ের পাতায় থেকে যাবে।

পরিবেশকর্মী ও স্থানীয় সচেতন মহল দাবি জানিয়েছেন:

বান্দরবানের প্রতিটি নদীতে রাতের বেলা মোবাইল কোর্ট ও নজরদারি বাড়াতে হবে। ইলেকট্রিক মেশিন ও বিষ বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। ধরা পড়লে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

আপনার চোখের সামনে এমন অপরাধ দেখলে নিকটস্থ থানা বা উপজেলা মৎস্য অফিসে তথ্য দিন। একটি ফোনই বাঁচাতে পারে একটি নদী, একটি প্রজন্ম। আমাদের প্রাণ-প্রকৃতি আর দেশি মাছগুলোকে বাঁচান। নইলে ক্ষমা করবে না আগামী প্রজন্ম।



Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream