বাংলা চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী শাবানা কেবল একজন নায়িকা নন; তিনি ছিলেন একটি যুগের প্রতীক, সামাজিক মূল্যবোধ এবং সাধারণ মানুষের আবেগের এক অনন্য প্রতিচ্ছবি। রূপালী পর্দায় তাঁর অভিনয় লক্ষ কোটি দর্শকের মনে এক চিরস্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে।
শাবানা এমন একটি সময়ে অভিনয় করেছেন যখন চলচ্চিত্র ছিল বাঙালি পরিবারের বিনোদনের প্রধান মাধ্যম। মা, ভাবি, স্ত্রী কিংবা আত্মত্যাগী বোনের চরিত্রে তাঁর অভিনয় এতই নিখুঁত ও জীবন্ত ছিল যে সাধারণ মানুষ তাঁর চরিত্রের মধ্যে নিজেদের দুঃখ-সুখ ও জীবন সংগ্রাম খুঁজে পেত।
পর্দার চরিত্র নির্বাচন থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত জীবন—সবক্ষেত্রেই তিনি দারুণ শালীনতা বজায় রেখেছেন। ফলে তিনি কেবল তরুণ প্রজন্মের কাছেই নায়িকা ছিলেন না, বরং পরিবারের আবালবৃদ্ধবনিতার কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছিলেন।
ভাত দে, ছুটির ঘণ্টা, রাঙাভাবী, পেনশন, সত্য মিথ্যা কিংবা অবুঝ শিশু-র মতো অসংখ্য কালজয়ী সিনেমা তাঁকে দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে দিয়েছে। ভাত দে সিনেমায় 'বাসন্তী' চরিত্রে তাঁর অনবদ্য অভিনয় বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অনন্য এক দৃষ্টান্ত। рекорд ৫ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দেয়।
শুধু শান্ত ও আত্মত্যাগী চরিত্রই নয়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদী নারীর চরিত্রেও তিনি ছিলেন অনন্য। গ্রামীণ বধূ থেকে শুরু করে শহরের শিক্ষিত ও কর্মজীবী নারী—সব ধরনের রূপেই তিনি দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন।
ক্যারেরিয়ারের শীর্ষ অবস্থানে থাকা অবস্থায় ১৯৯৮ সালে তিনি অভিনয়কে বিদায় জানান। খ্যাতি বা লাইমলাইটের লোভে পড়ে মানহীন কাজ করেননি। অন্তরালে গিয়েও নিজের সম্মান ও ব্যক্তিত্ব ধরে রাখা এবং নীরবে নানা সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কাজ করে যাওয়া তাঁর প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
মূলত তাঁর অভিনয়শৈলী, পারিবারিক মূল্যবোধ ও ব্যক্তিত্বের কারণেই যুগের পর যুগ পার হলেও শাবানাকে সাধারণ দর্শক আজও ভুলতে পারেনি।


মতামত