শরতের সাদা কাশফুলের দোলায় অপরূপ সাজে সেজেছে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর দুধকুমার নদীর তীর। নদীর পাড়জুড়ে বিস্তৃত কাশবন দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন শত শত দর্শনার্থী। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে অনেকে ছুটে আসছেন প্রকৃতির এই নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে।
বিকেল হলেই দুধকুমার নদীর তীর যেন পরিণত হচ্ছে এক মিলনমেলায়। সাদা কাশফুলের সঙ্গে নীল আকাশ, নদীর স্বচ্ছ জল আর মৃদু বাতাস মিলে তৈরি করছে মনোরম পরিবেশ। কেউ কাশবনের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন, আবার কেউ মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে স্মৃতিকে ধরে রাখছেন।
স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছর শরৎ মৌসুমে নদীর তীরে কাশফুল ফুটলে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে ঘুরতে আসেন। এবারও কাশবনকে ঘিরে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বেড়েছে। বিশেষ করে ছুটির দিন এবং বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা যায়।
দর্শনার্থী শফিকুল ইসলাম বলেন, “দুধকুমার নদীর পাড়ের কাশফুলের সৌন্দর্য সত্যিই মনোমুগ্ধকর। শহরের ব্যস্ততা থেকে একটু স্বস্তি পেতে পরিবার নিয়ে এখানে এসেছি। পরিবেশটা খুবই ভালো লাগছে।”
খেয়াঘাটের ইজারাদার ফেরদৌস আলী বলেন, “কাশবন দেখতে প্রতিদিন শত শত মানুষ নদী পারাপার হচ্ছেন। এতে ঘাটের আয় কিছুটা বেড়েছে, যা আমাদের জন্য অর্থনৈতিকভাবে উপকারী।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দুধকুমার নদীর তীরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সংরক্ষণ করে এখানে পরিকল্পিতভাবে পর্যটন সুবিধা গড়ে তোলা হলে এটি ভূরুঙ্গামারীর অন্যতম আকর্ষণীয় বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
তবে দর্শনার্থীদের সচেতনভাবে ঘোরাফেরা এবং কাশবন ও নদীর তীরের প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট না করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মতামত