শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla FM

সারা দেশে নিরাপত্তা জোরদার

ফাঁস হয়েছে পরিকল্পনা, মাঠে সরকারের ৪ বাহিনী


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| ফটো কার্ড

ফাঁস হয়েছে পরিকল্পনা, মাঠে সরকারের ৪ বাহিনী
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক নাশকতার ঘটনায় নতুন কিছু তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের দাবি, গত কয়েক দিনে অগ্নিসংযোগের শিকার হওয়া বেশ কিছু বাসের মালিক আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী ব্যবসায়ী ও নেতাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। নিজেদের মালিকানাধীন পরিবহণে আগুন দিয়ে নাশকতা সৃষ্টি, জনমনে আতঙ্ক ছড়ানো এবং বিমার অর্থ দাবি করার মতো উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রগুলো বলছে, নাশকতার অর্থের জোগানদাতা ও নির্দেশদাতাদের সম্পর্কেও তথ্য পাওয়া গেছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠেকাতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

রাজধানীর ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় নাশকতাকারীরা পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তকে লক্ষ্য করে ‘হিট অ্যান্ড রান’ কৌশল ব্যবহার করছে বলে গোয়েন্দা সূত্রের দাবি। অর্থাৎ, কোনো ঘটনা ঘটিয়ে দ্রুত সেখান থেকে সরে যাওয়ার কৌশল নেওয়া হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে রাজধানীতে এসআরবি (স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন), ডিএমপি, ডিবি ও সিটিটিসির সদস্যরা একসঙ্গে কাজ করছেন। পাশাপাশি দেশের সব বিভাগ ও জেলায়ও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর প্রবেশপথ এবং পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। পূর্বাঞ্চলের ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, সবুজবাগ, বাসাবো ও খিলগাঁও এবং পশ্চিমাঞ্চলের গাবতলী, মোহাম্মদপুর, বসিলা ও মিরপুরের শেষ অংশে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। এসব এলাকায় ড্রোনের মাধ্যমেও পর্যবেক্ষণ বাড়ানো হয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, প্রথমে ককটেল নিক্ষেপের মাধ্যমে নাশকতার মহড়া চালানো হচ্ছে। এরপর বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে। বড় ধরনের নাশকতার অংশ হিসেবে রোববার রাতে কমলাপুরে ট্রেনে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে সূত্রটি জানায়। মেট্রোরেলসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোও সম্ভাব্য টার্গেটের তালিকায় রয়েছে বলে তাদের দাবি। এ কারণে দেশের বিভিন্ন কেপিআইভুক্ত স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনার পর রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও কেপিআই এলাকায় নিয়মিত নিরাপত্তার পাশাপাশি বিশেষ টিম মোতায়েন করা হয়েছে। এসব স্থাপনার তালিকা তৈরি করে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

নাশকতায় একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর অর্থায়ন ও ইন্ধনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ওই গোষ্ঠীর শীর্ষ নেতাদের কেউ কেউ দেশের বাইরে অবস্থান করছেন এবং সেখান থেকে দেশের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও অর্থ পাঠানোর তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের নির্দেশেই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেন তিনি। অর্থের জোগানদাতা ও মূল নির্দেশদাতাদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।

পুলিশের ভাষ্য, সাম্প্রতিক বাসে অগ্নিসংযোগের কয়েকটি ঘটনায় বাসমালিকদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিজেদের পরিবহণে আগুন দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর অন্যদিকে সরানো, জনসমর্থন বা সহানুভূতি আদায় এবং সরকারের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা হতে পারে বলে তদন্তসংশ্লিষ্টদের ধারণা।

এদিকে রেলপথ ও স্টেশনগুলোতেও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। রেলওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজি (ইনচার্জ) ব্যারিস্টার জিল্লুর রহমান জানান, কমলাপুর রেলস্টেশনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে সাখাওয়াত হোসেন রায়হান ও সাইমুন নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও কয়েকজনের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে এবং তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও জানান, রোববার রাতে ট্রেনে আগুন দেওয়ার ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, রাজধানীর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তকে নাশকতার জন্য বেছে নেওয়ার অন্যতম কারণ হলো এসব এলাকা দিয়ে দ্রুত ঢাকার বাইরে চলে যাওয়া বা আশপাশের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় আত্মগোপন করা সম্ভব। পাশাপাশি কিছু এলাকায় তুলনামূলক কম সিসিটিভি ও টহলের সুযোগও অপরাধীরা কাজে লাগাতে পারে বলে তাদের ধারণা।

ডিবির প্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, গণপরিবহণে অগ্নিসংযোগ, ককটেল নিক্ষেপসহ নাশকতার উদ্দেশ্য জনমনে আতঙ্ক তৈরি করা এবং সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ—এমন একটি ধারণা তৈরি করা। রাজধানীর প্রান্তিক এলাকাগুলোতে ঘনবসতি ও গণপরিবহণে অতিরিক্ত ভিড়ের সুযোগ নিয়ে নাশকতাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারে বলেও জানান তিনি।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ফাঁস হয়েছে পরিকল্পনা, মাঠে সরকারের ৪ বাহিনী

প্রকাশের তারিখ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক নাশকতার ঘটনায় নতুন কিছু তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের দাবি, গত কয়েক দিনে অগ্নিসংযোগের শিকার হওয়া বেশ কিছু বাসের মালিক আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী ব্যবসায়ী ও নেতাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। নিজেদের মালিকানাধীন পরিবহণে আগুন দিয়ে নাশকতা সৃষ্টি, জনমনে আতঙ্ক ছড়ানো এবং বিমার অর্থ দাবি করার মতো উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রগুলো বলছে, নাশকতার অর্থের জোগানদাতা ও নির্দেশদাতাদের সম্পর্কেও তথ্য পাওয়া গেছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠেকাতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

রাজধানীর ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় নাশকতাকারীরা পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তকে লক্ষ্য করে ‘হিট অ্যান্ড রান’ কৌশল ব্যবহার করছে বলে গোয়েন্দা সূত্রের দাবি। অর্থাৎ, কোনো ঘটনা ঘটিয়ে দ্রুত সেখান থেকে সরে যাওয়ার কৌশল নেওয়া হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে রাজধানীতে এসআরবি (স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন), ডিএমপি, ডিবি ও সিটিটিসির সদস্যরা একসঙ্গে কাজ করছেন। পাশাপাশি দেশের সব বিভাগ ও জেলায়ও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর প্রবেশপথ এবং পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। পূর্বাঞ্চলের ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, সবুজবাগ, বাসাবো ও খিলগাঁও এবং পশ্চিমাঞ্চলের গাবতলী, মোহাম্মদপুর, বসিলা ও মিরপুরের শেষ অংশে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। এসব এলাকায় ড্রোনের মাধ্যমেও পর্যবেক্ষণ বাড়ানো হয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, প্রথমে ককটেল নিক্ষেপের মাধ্যমে নাশকতার মহড়া চালানো হচ্ছে। এরপর বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে। বড় ধরনের নাশকতার অংশ হিসেবে রোববার রাতে কমলাপুরে ট্রেনে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে সূত্রটি জানায়। মেট্রোরেলসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোও সম্ভাব্য টার্গেটের তালিকায় রয়েছে বলে তাদের দাবি। এ কারণে দেশের বিভিন্ন কেপিআইভুক্ত স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনার পর রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও কেপিআই এলাকায় নিয়মিত নিরাপত্তার পাশাপাশি বিশেষ টিম মোতায়েন করা হয়েছে। এসব স্থাপনার তালিকা তৈরি করে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

নাশকতায় একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর অর্থায়ন ও ইন্ধনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ওই গোষ্ঠীর শীর্ষ নেতাদের কেউ কেউ দেশের বাইরে অবস্থান করছেন এবং সেখান থেকে দেশের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও অর্থ পাঠানোর তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের নির্দেশেই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেন তিনি। অর্থের জোগানদাতা ও মূল নির্দেশদাতাদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।

পুলিশের ভাষ্য, সাম্প্রতিক বাসে অগ্নিসংযোগের কয়েকটি ঘটনায় বাসমালিকদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিজেদের পরিবহণে আগুন দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর অন্যদিকে সরানো, জনসমর্থন বা সহানুভূতি আদায় এবং সরকারের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা হতে পারে বলে তদন্তসংশ্লিষ্টদের ধারণা।

এদিকে রেলপথ ও স্টেশনগুলোতেও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। রেলওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজি (ইনচার্জ) ব্যারিস্টার জিল্লুর রহমান জানান, কমলাপুর রেলস্টেশনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে সাখাওয়াত হোসেন রায়হান ও সাইমুন নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও কয়েকজনের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে এবং তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও জানান, রোববার রাতে ট্রেনে আগুন দেওয়ার ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, রাজধানীর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তকে নাশকতার জন্য বেছে নেওয়ার অন্যতম কারণ হলো এসব এলাকা দিয়ে দ্রুত ঢাকার বাইরে চলে যাওয়া বা আশপাশের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় আত্মগোপন করা সম্ভব। পাশাপাশি কিছু এলাকায় তুলনামূলক কম সিসিটিভি ও টহলের সুযোগও অপরাধীরা কাজে লাগাতে পারে বলে তাদের ধারণা।

ডিবির প্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, গণপরিবহণে অগ্নিসংযোগ, ককটেল নিক্ষেপসহ নাশকতার উদ্দেশ্য জনমনে আতঙ্ক তৈরি করা এবং সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ—এমন একটি ধারণা তৈরি করা। রাজধানীর প্রান্তিক এলাকাগুলোতে ঘনবসতি ও গণপরিবহণে অতিরিক্ত ভিড়ের সুযোগ নিয়ে নাশকতাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারে বলেও জানান তিনি।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream