এক বছর ধরে ১০ তলা ভবনের সিঁড়ি ভেঙেই চলাচল করছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) বেগম খালেদা জিয়া হলের ছাত্রীরা। আবাসন সংকট নিরসনের লক্ষ্যে নির্মিত হলটি চালুর এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো লিফট ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু হয়নি। ৩৫০ জন ছাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করা হলে বর্তমানে থাকছেন প্রায় ৫৪৪ জন। ফলে প্রতিদিন ক্লাস, খাবার ও জরুরি প্রয়োজনে ১০ তলা পর্যন্ত সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা।
হলের ৮ম তলায় থাকা পশুপালন অনুষদের দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, ক্লাস শেষে অনেক ক্লান্ত থাকি। এরপর এত ওপরে উঠতে গিয়ে আরও কাহিল হয়ে পড়ি। অনেক সময় ক্লাসের ফাঁকে এক থেকে দুই ঘণ্টা বিরতি থাকলেও রুমে ফিরতে পারি না। তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিক ক্লাস দিনে দুই সময়ে হওয়ায় হলে আসা-যাওয়া করতে অনেক কষ্ট হয়। আমাদের ক্যান্টিনও নিচতলায়। খাবার নিতে নিচতলা পর্যন্ত যেতে হয়, যা আমাদের জন্য অনেক কষ্টের।
১০ম তলায় থাকা প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, ১০ তলায় সিট বরাদ্দ পাওয়ায় অনেক ভোগান্তির শিকার হচ্ছি। একবার ওপরে উঠলে আবার নিচে নামতে ইচ্ছা করে না। এ কারণে অনেক সময় দিনে এক বেলা খাবার খাই। একবার নিচে নেমে খাবার নিয়ে আসি। সকালের খাবার তো খাওয়াই হয় না। বিশেষ করে শুক্রবার ও শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস বন্ধ থাকায় খাবারের কষ্ট আরও বেশি হয়।
তিনি আরও বলেন, ‘হলে রান্না করার কোনো সুযোগ নেই। জরুরি পরিস্থিতিতে কিছু রান্না করে খাওয়ারও উপায় থাকে না। তাই অনেক সময় না খেয়েই থাকতে হয়।’
হলের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ তলা আবাসিক হলে লিফট নেই, এমনটা দেখিনি। প্রতিদিন সকালে ও বিকেলে ক্লাস শেষে এবং খাবারের জন্য কয়েকবার দীর্ঘ সিঁড়ি ভাঙতে হয়। এতে শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়তে হয়। সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয় ১০ তলার কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে। তাকে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামিয়ে হেলথকেয়ারে নেওয়া এবং চিকিৎসা শেষে আবার ওপরে নিয়ে আসা খুবই কষ্টসাধ্য।’
শিক্ষার্থীদের উদ্বেগের বিষয়ে জানতে চাইলে হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ বিষয়ে উদ্বেগ থাকাটা স্বাভাবিক। এ সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অত্যন্ত দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।’
তিনি বলেন, নতুন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আমরা শিক্ষক ও হাউজ টিউটররা দফায় দফায় মিটিং করেছি। লিফট স্থাপনের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। আমি আশা করছি, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে অন্তত একটি লিফট চালু হয়ে যাবে। লিফট চালু হলে ছাত্রীদের ওঠানামার কষ্ট অনেকখানি কমে যাবে। ১০ তলা পর্যন্ত সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করা কতটা কষ্টের এবং অমানবিক, তা আমরা অভিভাবক ও শিক্ষক হিসেবে গভীরভাবে অনুভব করি।
লিফট চালুর অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী মুহ. এনামুল হক বলেন, খালেদা জিয়া হলের জাপানি প্রযুক্তির নতুন লিফটটির মেশিনসহ স্থাপনের যাবতীয় কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে এটি তিন তলা পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে চালু রয়েছে। কাজ পুরোপুরি শেষ হতে প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগবে।’ষ
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদেরও পরীক্ষামূলকভাবে এটি ব্যবহার করানোর পর লিফটটি স্থায়ীভাবে চালু করা হবে। আপাতত একটি লিফট চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্য লিফটগুলোর যন্ত্রাংশ এলেও সেগুলোর কাজ শুরু হয়নি। নিয়মিত সার্ভিসিং বজায় রেখে একটি লিফট চালুর বিষয়টিকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।
মতামত