ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সায়েন্স ক্লাবের আয়োজনে ‘পরীক্ষাগার ও অগ্নি নিরাপত্তা: প্রতিরোধ, প্রস্তুতি এবং জরুরি প্রতিক্রিয়া’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালা আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রায় ১৮০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালাটি দুইটি পর্বে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম পর্বে সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইবনে সিনা বিজ্ঞান ভবনের ১০২ নম্বর কক্ষে ল্যাবরেটরি নিরাপত্তা বিষয়ক সেশন শুরু হয়। সেশনটি পরিচালনা করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. আহসানুল হক। এ সময় শিক্ষার্থীদের গবেষণাগারে ব্যবহৃত বিভিন্ন কেমিক্যাল, রিএজেন্ট ও রাসায়নিক পদার্থের নিরাপদ ব্যবহার, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
এরপর কর্মশালার দ্বিতীয় সেশনে অগ্নি নিরাপত্তা ও জরুরি প্রতিক্রিয়া বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন মাস্টার মো. আরশেদ আলী। এ সেশনে অগ্নিকাণ্ডের সময় তাৎক্ষণিক করণীয়, আগুন নিয়ন্ত্রণের প্রাথমিক কৌশল এবং জরুরি পরিস্থিতিতে নিরাপদে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
দ্বিতীয় সেশন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যদের অংশগ্রহণে অগ্নি নিরাপত্তা বিষয়ক ব্যবহারিক প্রদর্শনী ও হাতে কলমে প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে আগুনে পুড়ে আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার, গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুন লাগলে করণীয়, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের সঠিক ব্যবহার এবং ভেজা বস্তা ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন কৌশল শিক্ষার্থীদের হাতে কলমে শেখানো হয়। ব্যবহারিক সেশনে কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের প্রায় ১২ সদস্য অংশগ্রহণ করেন।
পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সায়েন্স ক্লাবের সভাপতি জুনাইদুল মোস্তফার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. এ কে এম মতিনুর রহমান।
আলোচনা সভার শুরুতে জাতীয় সংগীত, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও গীতাপাঠ পরিবেশন করা হয়। ক্লাবের সদস্য ঐশী রায়ের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সায়েন্স ক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শাহজাহান আলী এবং কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ওয়াদুদ হোসাইন।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোছাঃ খোদেজা খাতুন, কর্মশালার রিসোর্স পারসন অধ্যাপক ড. আহসানুল হক, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সায়েন্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার হোসেন সাকিব, কোষাধ্যক্ষ হাসিব মিয়া, সহকারী কোষাধ্যক্ষ, প্রচার সম্পাদক রাবিউল রবি, ফটোগ্রাফি ও মিডিয়া সম্পাদক শুভ্রত কুমারসহ অন্যান্য এক্সিকিউটিভবৃন্দ ও ক্লাবের সদস্যবৃন্দ। কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, “যেকোনো দুর্ঘটনা ঘটলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা প্রাথমিক উদ্ধারকাজ পরিচালনা করলেও বাংলাদেশে সাধারণ মানুষও দ্রুত এগিয়ে আসেন। তবে সঠিক প্রশিক্ষণের অভাবে তাঁদের আন্তরিকতা থাকা সত্ত্বেও উদ্ধারকাজের সাফল্য শতভাগ হয় না।”
তিনি আরও বলেন, “রাস্তার অপ্রশস্ততা ও যানজটের মতো বাস্তব সমস্যার কারণেও যথাসময়ে উদ্ধারকাজে বিড়ম্বনা তৈরি হয়। তাই এ ধরনের প্রশিক্ষণ শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে অর্জিত জ্ঞানকে বাস্তব জীবনে কাজে লাগাতে হবে।” প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তৈরি হওয়া শিক্ষার্থীরা পরবর্তীতে অন্যদের উদ্বুদ্ধ ও প্রশিক্ষিত করবে বলেও তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সায়েন্স ক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শাহজাহান আলী ল্যাবরেটরি ও অগ্নি নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ নিশ্চিত করতে নিরাপত্তাবিষয়ক জ্ঞান ও সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ শিক্ষার্থীদের বাস্তব পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত করার পাশাপাশি দায়িত্বশীল ও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।”
কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ওয়াদুদ হোসাইন বলেন, “অগ্নি দুর্ঘটনা বা যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে পরিস্থিতি অনুযায়ী সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাথমিক পর্যায়ে কীভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, কীভাবে নিরাপদে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করতে হবে এবং কখন ফায়ার সার্ভিসের সহায়তা নিতে হবে, এসব বিষয়ে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ ভবিষ্যতে দুর্ঘটনার ক্ষয়ক্ষতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সায়েন্স ক্লাবের সভাপতি জুনাইদুল মোস্তফা বলেন, “ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সায়েন্স ক্লাবের আয়োজনে এ ধরনের একটি সময়োপযোগী কর্মশালা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সার্টিফিকেটের পাশাপাশি ল্যাবরেটরি, অগ্নি ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাস্তব ও ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জন করেছে। বিশেষ করে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ব্যবহারিক সেশনটি শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত কার্যকর হয়েছে।”
ইবি সায়েন্স ক্লাবের আয়োজনে ‘পরীক্ষাগার ও অগ্নি নিরাপত্তা’ বিষয়ক কর্মশালা
মতামত