কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন মুগ্ধ আবাসিক হোটেলে মাদক কারবারের অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। অভিযানে মাদক সেবনের সরঞ্জামসহ একজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদে হোটেলটির ম্যানেজারের মাদক চোরাচালানের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ম্যানেজার পালিয়ে যান।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশ নিয়মিত নজরদারি ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মুগ্ধ আবাসিক হোটেলে অভিযান পরিচালনা করে।
পুলিশের দাবি, হোটেলটিতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মাদক কারবারিরা অবস্থান করতেন। হোটেলের ম্যানেজার মো. রাকিবুল ইসলাম (২৩) শিলখুড়ি ইউনিয়নের শালঝোড় এলাকা দিয়ে ভারত থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে ইয়াবা এনে হোটেলে অবস্থানরত মাদক কারবারিদের কাছে সরবরাহ করতেন এমন তথ্য পুলিশের কাছে রয়েছে।
অভিযানের সময় হোটেলে অবস্থানরত বগুড়ার শেরপুর থানার ধর্মকাম শাহাবন্দেগী এলাকার মৃত আব্দুস ছাত্তারের ছেলে মো. আলমগীর হোসেন (৩৯)-কে মাদক সেবনের সরঞ্জামসহ আটক করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে হোটেলটির ম্যানেজার রাকিবুলের বিরুদ্ধে মাদক চোরাচালানের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ছাড়া হোটেলের বিভিন্ন কক্ষে মাদক সেবনের সরঞ্জাম পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশের দাবি, অভিযানের আগে একই দিন সকালে প্রায় ৭ হাজার ইয়াবার একটি চালান ঢাকাসহ অন্য এলাকা থেকে আসা এক ব্যক্তির কাছে অর্থের বিনিময়ে সরবরাহ করা হয়েছিল।
এদিকে হোটেলটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ভূরুঙ্গামারীর বীর ধাউরার কুটি এলাকার মো. আশরাফুল আলমের ছেলে মো. আবু বক্কর (২০)-কে আটক করা হয়।
পুলিশের অভিযানের পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আটক আলমগীর হোসেন ও আবু বক্করকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাদের কারাদণ্ড ও জরিমানা করেন বলে জানা গেছে। ম্যানেজার মো. রাকিবুল ইসলামকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারেনি; তিনি পলাতক রয়েছেন।
ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, “ভূরুঙ্গামারী বাসস্ট্যান্ডের মুগ্ধ আবাসিক হোটেল কর্তৃপক্ষের মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য আমাদের কাছে ছিল। আমরা বেশ কিছুদিন ধরে হোটেলটির ওপর নজরদারি বাড়িয়েছিলাম। মঙ্গলবার সকালে ইয়াবার একটি বড় চালান হাতবদল হওয়ার গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। মাদক কারবারের সংশ্লিষ্ট আলামত পাওয়া গেছে এবং একজনকে মাদক সেবনের সরঞ্জামসহ আটক করা হয়েছে। হোটেল ম্যানেজার পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”
মতামত