শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে সিলেট নগরের দক্ষিণ সুরমার জৈনপুরে অবস্থিত ৫১ পীঠের অন্যতম মহাপীঠ শ্রীশ্রী মহালক্ষ্মী ভৈরবী গ্রীবা মহাপীঠে দ্বিতীয়বারের মতো কুমারী পূজার আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ১৯ অক্টোবর মহাঅষ্টমীর দিন সকাল সাড়ে ১০টায় এ পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
এ উপলক্ষে মহাপীঠে ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত নানা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর দিন আমন্ত্রণ,অধিবাস ও ষষ্ঠীর পূজা অনুষ্ঠিত হবে। ১৭ অক্টোবর মহাসপ্তমীর দিন সকালে পূজা ও পুষ্পাঞ্জলি,দুপুরে ভোগারতি দর্শন ও মহাপ্রসাদ বিতরণ এবং রাতে আরতি ও ধর্মীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে। ১৮ অক্টোবর পূজা,পুষ্পাঞ্জলি, ভোগারতি দর্শন,মহাপ্রসাদ বিতরণ,আরতি ও মাতৃসংগীত অনুষ্ঠিত হবে।
১৯ অক্টোবর মহাঅষ্টমীর দিন সকাল সাড়ে ১০টায় কুমারী পূজা,পুষ্পাঞ্জলি,ভোগারতি দর্শন ও মহাপ্রসাদ বিতরণ হবে। সন্ধ্যায় আরতি এবং রাত ৯টায় মাতৃসংগীত পরিবেশন করবে সিলেটের সনাতনী সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘গুরুচন্ডালী ব্যান্ড’।
সনাতন ধর্মীয় দর্শনে কুমারী পূজা হলো কুমারী বালিকার মধ্যে দেবী দুর্গার প্রতীকী রূপ উপলব্ধি করে তাকে জীবন্ত দেবী হিসেবে পূজা করা। নারীর মধ্যে নিহিত আদিশক্তির প্রকাশ,পবিত্রতা এবং মাতৃশক্তির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের প্রতীক হিসেবে এ পূজার তাৎপর্য ব্যাখ্যা করা হয়।
কুমারী পূজার সঙ্গে বানাসুর বধের একটি শাস্ত্রীয় কাহিনিও প্রচলিত রয়েছে। শিব পুরাণের রুদ্র সংহিতায় বানাসুরের উপাখ্যানের উল্লেখ পাওয়া যায়। প্রচলিত বর্ণনা অনুযায়ী,কঠোর তপস্যার মাধ্যমে শিবের কাছ থেকে বর লাভ করে বানাসুর শক্তির অহংকারে দেবলোক জয় করেন। এক পর্যায়ে দেবতাদের প্রার্থনায় আদিশক্তি কুমারী রূপ ধারণ করে তাকে বধ করেন। কুমারী রূপে দেবীর এই আবির্ভাবের স্মরণেই কুমারী পূজার প্রচলন হয়েছে বলে ধর্মীয় ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়।
শিব পুরাণের বিদ্যেশ্বর সংহিতার ১৬তম অধ্যায়েও পূজার আধ্যাত্মিক তাৎপর্য ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সেই দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কুমারী পূজায় মাটির প্রতিমার পাশাপাশি জীবন্ত বালিকার মধ্যে দেবী বা পরমশক্তির উপস্থিতি উপলব্ধির বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
মহানবমী ২০ অক্টোবর পূজা,পুষ্পাঞ্জলি, ভোগারতি দর্শন ও মহাপ্রসাদ বিতরণের পাশাপাশি রাতে আরতি,ভক্তিমূলক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ‘মহিষাসুর বধ’ নাটক মঞ্চস্থ হবে। এতে পরিবেশনা করবেন নাট্যশিল্পী নান্টু দাস।
২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব শেষ হবে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী,এবার দেবীর আগমন ঘোটকে এবং গমন নৌকায়। এছাড়া ২৫ অক্টোবর শ্রীশ্রী কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা এবং ৮ নভেম্বর শ্রীশ্রী শ্যামাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।
শারদোৎসব ও কুমারী পূজার আয়োজন সফল করতে সর্বস্তরের নাগরিকের সহযোগিতা ও উপস্থিতি কামনা করেছেন শ্রীশ্রী মহালক্ষ্মী ভৈরবী গ্রীবা মহাপীঠের সভাপতি শিবব্রত ভৌমিক চন্দন ও সাধারণ সম্পাদক জনার্দন চক্রবর্তী মিন্টু।
মতামত