জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) খুলনা জেলা ছাত্রকল্যাণ সংসদের কার্যক্রমে নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রভাব রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংগঠনটির কার্যক্রমে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে রাশেদুজ্জামান রাশেদের বিরুদ্ধে।
সেই সাথে জেলা কল্যানের নির্বাচনের ছাত্রলীগ নেতা রাশেদকে অবৈধভাবে সহযোগিতা করেছে বলে অভিযোগ এসেছে সাংবাদিকতা বিভাগের রাফিদ আদ-দ্বীন রাঈমের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জবির খুলনা জেলার শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা রাশেদ সভাপতি হতে চায় তার বিপক্ষে দাড় করানো হয় ডামি এক প্রার্থীকে, সে জন্য গতকাল রাতে অনলাইনে খুলনা জেলার শিক্ষার্থীরা ভোট দেয়, সেই ভোট কারচুপিতে রাশেদকে রাফিদ সহযোগিতা করেন বলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ।
ছাত্রলীগের পদে ছিলেন রাশেদ ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে অনুমোদিত একটি কমিটির নথিতে রাশেদুজ্জামান রাশেদের নাম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ভূমি ব্যবস্থাপনা ও আইন বিভাগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। তৎকালীন শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. ইব্রাহিম ফরাজি ও সাধারণ সম্পাদক এস এম আকতার হোসেন স্বাক্ষরিত ওই নথিতে একই পদে তুহিন আহমেদ ও আদিল মিয়ার নামও রয়েছে। ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ হওয়ার পরও রাশেদের বিরুদ্ধে সংগঠনটির বিভিন্ন তৎপরতায় সহযোগিতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগ রয়েছে। তাদের অভিযোগ, সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে তিনি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের সহিংস কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন এবং সহযোগীতা করে যাচ্ছেন।
খুলনা জেলা ছাত্রকল্যাণ সংসদের সাবেক দপ্তর সম্পাদক রাফিদ আদ-দ্বীন রাঈমকে ঘিরেও অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের একাংশের দাবি, সংগঠনটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাশেদে পক্ষে ভোট জালিয়াতি করেছেন তিনি। তাদের অভিযোগ, বিভাগ ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত রাশেদুজ্জামান রাশেদকে সভাপতি করতে একাধিক বট আইডি ব্যবহার করে ভোট দেওয়ার সঙ্গে রাফিদ জড়িত ছিলেন। এ ঘটনায় সংগঠনটির কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে তার সাথে বিরোধ তৈরি হয়। একপর্যায়ে ওই বিরোধের জেরে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ ও মারামারির ঘটনাও ঘটে বলে জানা যায়। পরে রাফিদকে খুলনা জেলা ছাত্রকল্যাণ সংসদ থেকে বহিষ্কার করা হয় বলেও জানিয়েছে জেলা কল্যাণ সূত্র।
শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায় মোট ৯৩জন ভোটার হলেও ভোট পড়ে ৯৫টি এবং অধিকাংশ শিক্ষার্থী ভোট দেয়নি বলেও তথ্য রয়েছে। কিভাবে অধিকাংশ ভোট না দিয়েও এত ভোট পড়লো এবং ৯৩ এর যায়গা ৯৫ ভোট কিভাবে হলো তা নিয়ে প্রশ্ন জেলার অধিকাংশ শিক্ষার্থীদের। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ভোট না দিলে ভোট কমার কথা সেখানে উল্টো বেড়ে গেছে কিভাবে। এসংক্রান্ত জেলা কল্যাণ গ্রুপের কথোপকথনের স্কিনশট ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পেজে প্রকাশ পেয়ে গেছে। সেখানে মোস্তফা নামে এক শিক্ষার্থী লিখেন, টোটাল ভোট ৯৩ এর মধ্যে আমাদের ব্যাচের অনেকেই ভোট দেয়নি তাহলে এত ভোট কেমনে হলো। মালিহা নামে আরেকজন লিখেন আমরা এই ভোট মানি না।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সরকার ২০২৪ সালের অক্টোবরে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এরপরও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও আশপাশে সংগঠনটির নামে বিভিন্ন তৎপরতা সামনে এসেছে। এর আগে ১৪ আগস্ট জবি ক্যাম্পাসের তৃতীয় গেটসংলগ্ন বিশ্বজিৎ চত্বর এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের একটি ব্যানার টানানোর খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। পরে সেটি সরিয়ে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের ধারণা, ওই ব্যানার টানানোর সঙ্গে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাশেদের হাত রয়েছে। তাদের দাবি, সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে যাতে কেউ সন্দেহ না করে, সে জন্য তিনি গোপনে এসব কার্যক্রম করতে সহযোগিতা করে আসছেন। এদিকে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগকে পূনর্বাসন করতে কারা সাহায্য করছে তা নিয়ে গভীর অনুসন্ধান চলমান রয়েছে।
মতামত