চাঁদপুরে ব্যাক্তি লাভবান হতে এমএসআর দরপত্রের শিডিউলে নতুন সংযোজন আনার অভিযোগ উঠেছে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাজন কুমার দাসের বিরুদ্ধে। এতে তিনি গোপনে আর্থিকভাবে ব্যাক্তি লাভবান হতে শিডিউলে নতুন সংযোজন কান্ড ঘটানোর অভিযোগ ঠিকাদারদের একাংশের। যদিও বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে শিডিউল প্রয়োজনে পুনরায় সংশোধন করে পূর্বের স্থানে নিয়ে আসার ইঙ্গিত দেন ডা. রাজন কুমার দাস।
২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার এক অনুসন্ধানে প্রতিবেদকের হাতে এসব তথ্য উঠে আসে।
ঠিকাদারদের অভিযোগ, ১৩ সেপ্টেম্বর পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে অনলাইনে এমএসআর এর শিডিউল ছাড়েন মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাজন কুমার দাস। আর তা দেখে শিডিউল কিনতে শুরু করেন ঠিকাদাররা। যা ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিডিউল ড্রপ করার সুযোগ রয়েছে। এরমধ্যেই বিশেষ একটি প্রতিষ্ঠানকে ব্যাক্তি আর্থিক লাভে কাজটি দেয়ার জন্য তিনি কৌশল করে ২২ সেপ্টেম্বর হঠাৎ করেই শিডিউলের কয়েকটি পয়েন্টে অযাচিত নতুন সংযোজন আনেন। আর এতেই তিনি নামমাত্র শিডিউল বিক্রির নতুন ছক একে ব্যক্তি আর্থিক লাভবানের অপচেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ ঠিকাদারদের।
ঠিকাদাররা জানান, পরিবর্তিত শিডিউলে টেন্ডার আইডি-১৩২৪৬৫৩ তে ডা. রাজন কুমার দাস ২ নম্বরে রেজিষ্ট্রার্ট ট্রেডমার্ক ও আইএসও সনদ এবং ৩ নম্বরে ড্রাগ লাইসেন্সের স্থলে হোলসেল ড্রাগ লাইসেন্স চেয়ে সংশোধন আনেন। একই সাথে ১২ নম্বরে অডিট ফার্মের পর ‘উইথ লেটেষ্ট ডিভিসি ভেরিফাইড’ শব্দগুলো যোগ করেন এবং ২৬ নম্বরে এন্ড লেটেস্ট ভ্যাট স্মার্ট কার্ড মাস্ট বি সাবমিটেড শব্দগুলো যুক্ত করেন। শুধু তাই নয়-অন্য ৫ গ্রুপেও হোলসেল ড্রাগ লাইসেন্স ব্যতীত এই একই সংশোধিত শব্দগুলো কৌশলে তিনি শর্তের মধ্যে বসিয়ে দেন। এখানে আইএসও সনদ ও রেজিষ্টার্ড টেডমার্ক নিয়ম বর্হির্ভূত এবং অন্যগুলো সংযোজন করা সাধারণ ঠিকাদারদের হয়রানি করা ও অযৌক্তিক। এতে শিডিউল ক্রয়ে ঠিকাদাররা নিরুৎসাহিত হয় এবং সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারানোর শঙ্কা তৈরি হয়। বলা যায়, বিশেষ কাউকে সুবিধা দিতেই সাধারণ ঠিকাদারদের আড়াল করতেই তার এই হীন অপচেষ্টা। তিনি মূলত প্রতিযোগিতামূলক বা অংশগ্রহকমূলক টেন্ডার না করার উদ্দ্যেশ্যে এবং কাজটি বিশেষ প্রতিষ্ঠানকে দিতেই শিডিউলের ভিতরে টেন্ডার ডাটা শীটে চতুরতার সাথে এসব পরিবর্তন আনেন।
অনুসন্ধানকালে জানা যায়, টেন্ডার আইডি ১৩২৪৬৫৪ থেকে ১৩২৪৬৫৮ তে প্রায় ৪২ লাখ টাকা ঔষুধের শিডিউল ১৫০০ টাকা, প্রায় ২২ লাখ টাকার যন্ত্রপাতির শিডিউল ১ হাজার টাকা, প্রায় ৪ লাখ টাকার ক্যামিক্যালের শিডিউল ৫০০ টাকা, প্রায় ১১ লাখ টাকার গজ ব্যান্ডেজ ১ হাজার টাকা, প্রায় ১১ লাখ টাকার লিনেল ১ হাজার টাকা ও প্রায় ৪ লাখ টাকার আসবাবপত্রের শিডিউল ৫০০ টাকা করে ই-টেন্ডারে বিক্রিতে তিনি অতি চালাকির সাথে ব্যক্তি আর্থিক লাভবান হতে এই উদ্দেশ্য প্রনোদিত ও স্বেচ্ছাচারিতামূলক সংশোধন আনেন বলে জানান ভুক্তভোগী ঠিকাদারদের একাংশ।
বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে মতলব উত্তর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত ড. রাজন কুমার দাস গণমাধ্যমকর্মীদের থেকে ঠিকাদারদের অভিযোগগুলো শোনামাত্রই ব্যস্ততা দেখিয়ে তিনি জানান, দরপত্র অনলাইনে ইডিট করার সুযোগ আমার রয়েছে বলে করেছি। আমি নিয়মের বাইরে কিছু করিনি। আমি কোথায় কোথায় কি ইডিট করেছি তা বলতে বাধ্য নই। যদি এগুলো নিয়ে সমস্যা বা কোন অভিযোগ আসে তাহলে প্রয়োজনে পূর্বের স্থানে শিডিউল নিয়ে আসবো, এখনো ত সময় রয়েছে।
এ বিষয়ে চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ নূর আলম দীন বলেন, এই শিডিউলে আমার কোন হাত থাকে না। এটা সম্পূর্ণ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তার হাতেই। তবে দরপত্রের শিডিউল পত্রিকায় যা বিজ্ঞপ্তি দেয়া তা পরিবর্তন করতে হলে পূর্বেরটি বাতিল করে নতুন করে দরপত্র বিজ্ঞপ্তি আহ্বান করতে হয়।
মতামত