বাংলা চলচ্চিত্রের অভিনেতা সালমান শাহ (চৌধুরী সালমান শাহরিয়ার ইমন)। ১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেটে জন্ম নেওয়া এই ‘স্বপ্নের নায়ক’ রূপালী পর্দায় স্টাইল ও অভিনয়ে নতুন যুগ এনেছিলেন। তবে তরুণ প্রজন্মের অনেকেরই জানা নেই, পর্দার বাইরে কেমন ছিল তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, খাদ্যাভ্যাস কিংবা মানুষ হিসেবে তিনি কেমন ছিলেন।
সালমান শাহ বেশ স্পিডে গাড়ি চালাতে পছন্দ করতেন। রাতের বেলা প্রায়ই বন্ধুদের নিয়ে গুলশানের একটি সাধারণ রেস্তোরাঁয় চলে যেতেন মিল্কশেক খেতে। দোকানদার ভালোবেসে অনেক রাতেও শুধু তাঁর জন্য রেস্তোরাঁ খোলা রাখতেন।
উত্তরার ফুটপাতের চিতই পিঠা ও ‘নানি’র গল্প: পিঠা খেতে খুব ভালোবাসতেন সালমান শাহ। বিশেষ করে উত্তরার ফুটপাতের এক বয়স্ক নারীর হাতের চিতই পিঠা ছিল তাঁর ভীষণ পছন্দের। সহশিল্পী ও বন্ধু ডনকে নিয়ে প্রায়ই সেই দোকানে যেতেন এবং দোকানদার বৃদ্ধাকে ‘নানি’ বলে ডাকতেন। এক বসায় ৯-১০টি পিঠা খেয়ে ফেলতেন এবং পিঠার বিলের চেয়ে অনেক বেশি টাকা (যেমন: আটটি পিঠার জন্য ৫০০ টাকা) দিয়ে আসতেন।
সালমানের সঙ্গে জুটি বেঁধে সফল হওয়া চিত্রনায়িকা শাবনূর তাঁর স্মৃতিচারণে জানান, মানুষকে সম্মান দেওয়ার অসাধারণ গুণ ছিল সালমানের। শাবনূর বলেন, “একদিন আমার মা শুটিংয়ের সেটে গেছেন, সেখানে বসার কিছু ছিল না। হঠাৎ ও পকেট থেকে টাকা বের করে প্রোডাকশনের একজনকে বলল দ্রুত একটা মোড়া কিনে নিয়ে আসার জন্য। মুরব্বিদের কীভাবে শ্রদ্ধা আর ছোটদের কীভাবে আদর করতে হয়, তা সালমান খুব ভালো করেই জানত। চলচ্চিত্রের কেউ বিপদে পড়ে সালমানের কাছে গিয়ে সহযোগিতা পায়নি—এমন নজির নেই। সে ছিল অত্যন্ত ভালো মনের একজন মানুষ।”
আজ ৬ সেপ্টেম্বর। ৩০ বছর আগে ঢাকায় চলচ্চিত্রে রাজত্ব করা মানুষটি আজ অনতিক্রমণীয় দূরত্বে। তিনি কী দেখছেন ছেড়ে যাওয়া ভক্ত ও অনুরাগীরা কী গভীর শ্রদ্ধা আর নিখাদ ভালোবাসায় স্মরণে রেখেছে তাঁকে? এ প্রশ্নের উত্তর কারও জানা নেই। তবে তিনি বেঁচে থাকবেন ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’, ‘তুমি আমার’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘বিক্ষোভ’, ‘প্রেমযুদ্ধ’, ‘দেনমোহর’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘আঞ্জুমান’, ‘বিচার হবে’, ‘এই ঘর এই সংসার’, ‘স্বপ্নের পৃথিবী’, ‘সত্যের মৃত্যু নেই’, ‘জীবন সংসার’, ‘মায়ের অধিকার’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘আনন্দ অশ্রু’র মতো ব্যবসা সফল চলচ্চিত্রের ভেতর; নিজ অভিনয় গুণে। বেঁচে থাকবেন ভক্তদের অন্তরে।



মতামত