আসন্ন ফসল তোলার মৌসুমকে কেন্দ্র করে চরম শ্রমিক সংকটে পড়ার শঙ্কায় থাকা কৃষি খাতে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। বিদেশি কৃষি শ্রমিকদের জন্য দ্রুত ভিসা প্রদানের বিশেষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র বিভাগ। এর ফলে হঠাৎ করে তীব্র কর্মী সংকটে পড়ার যে আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, তা অনেকটাই কেটে গেছে বলে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন খামার মালিক ও কৃষকেরা।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের অন্যতম প্রধান গম, বার্লি ও ক্যানোলা রপ্তানিকারক দেশ। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দেশটির সুবিশাল শস্যক্ষেত্রগুলো থেকে ফসল কাটার কাজ পুরোদমে শুরু হতে যাচ্ছে। প্রতি বছর এই সময়ে মাঠপর্যায়ের কাজ সম্পন্ন করতে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মৌসুমি শ্রমিকের প্রয়োজন হয়।
সম্প্রতি সার্বিক অভিবাসী সংখ্যা কমাতে অস্ট্রেলিয়া সরকার কড়াকড়ি আরোপ করে। ফলে আগে যেখানে কয়েক দিনের মধ্যে মৌসুমি ভিসা পাওয়া যেত, সেখানে প্রক্রিয়াকরণ পিছিয়ে কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লাগছিল।
সঠিক সময়ে ফসল ঘরে তুলতে না পারলে কোটি কোটি ডলারের কৃষি খাত মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়, যা নিয়ে কৃষক সংগঠনগুলো সরকারের কাছে জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করে।
কৃষি খাতের সংকট বিবেচনায় নিয়ে স্বরাষ্ট্র বিভাগ বিশেষ এই দ্রুততম ভিসা (Fast-track visa) ব্যবস্থা চালু করেছে:
কৃষিভিত্তিক বিভিন্ন নিবন্ধিত সংস্থা বা নিয়োগকর্তারা এখন থেকে জরুরি প্রয়োজন প্রদর্শন করে তাঁদের বিদেশি শ্রমিকদের ভিসার আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির আবেদন করতে পারবেন।
যেসব বিদেশি শ্রমিকের কৃষি কাজে বিশেষ দক্ষতা রয়েছে এবং যারা ইতিমধ্যে কোনো স্থানীয় খামার মালিক বা প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তিভুক্ত হয়েছেন, ভিসা অনুমোদনের ক্ষেত্রে তাঁদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
অস্ট্রেলিয়ার কৃষক সংগঠনগুলোর নেতারা সরকারের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, ফসল কাটার একদম সঠিক সময়ে প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ বিদেশি কর্মী পাওয়ার পথ উন্মুক্ত হওয়াতে খামার মালিকরা এখন বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাবেন।
মতামত