সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানসিক চাপ ও স্ট্রেস হরমোন ‘কর্টিসল’ কমানোর উপায় হিসেবে ইদানীং বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ‘ডার্ক শাওয়ারিং’ বা সম্পূর্ণ অন্ধকারে গোসল করার প্রবণতা। অনেকে দাবি করছেন, অন্ধকারে মাত্র ৩০ সেকেন্ড গোসল করলেই মানসিক চাপ কমে অবচেতন মনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও বিশেষজ্ঞরা এই দাবির সত্যতা ও কার্যকারিতা নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করছেন।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক মনোবিজ্ঞানী ড. নাওমি মারফির মতে, অন্ধকারে গোসলের বিষয়টি মূলত ঠান্ডা পানিতে গোসল করার প্রবণতার সাথেই সম্পর্কিত। ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে প্রথমে শরীরে উল্টো প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়—শরীরের সহানুভূতিশীল স্নায়ুতন্ত্র (Sympathetic Nervous System) সক্রিয় হয়ে ক্ষণিকের জন্য স্ট্রেস হরমোন বাড়িয়ে দেয়। গোসল শেষে এ হরমোন কমে এলেও তা তাৎক্ষণিকভাবে কর্টিসল কমায় না।
ড. সিনথিয়া ওডগু জানান, অন্ধকারে গোসল করলেই সঙ্গে সঙ্গে কর্টিসল কমে যাওয়ার কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। রক্তে কর্টিসলের মাত্রা কমতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, আকস্মিক ঠান্ডা পানি অপেক্ষা সহনীয় উষ্ণ পানি কর্টিসল কমাতে বেশি কার্যকর। ‘ইউরোপিয়ান জার্নাল অব অ্যাপ্লায়েড ফিজিওলজি’-তে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইট) তাপমাত্রার সহনীয় উষ্ণ পানিতে গোসল করলে রক্তে কর্টিসলের মাত্রা প্রায় ৩৪ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।
পানির তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি হলে শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বেড়ে উল্টো কর্টিসলের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে।
হৃদরোগী ও স্ট্রোকের ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য আকস্মিক বরফঠান্ডা পানিতে গোসল করা অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে।
সম্পূর্ণ অন্ধকারে গোসল সরাসরি কর্টিসল না কমালেও, দিনের শেষে কৃত্রিম তীব্র আলো এড়িয়ে কম আলো বা আবছা পরিবেশে গোসল করলে মস্তিষ্কে অতিরিক্ত উদ্দীপনা (Overstimulation) কমে। এটি শরীরের স্বাভাবিক ঘুম ও জাগরণের ছন্দ বা ‘সার্কাডিয়ান রিদম’ (Circadian Rhythm) বজায় রাখতে সাহায্য করে।
সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের দাবিগুলো কিছুটা অতিরঞ্জিত। তবে দিনের শেষে কম আলোতে, শান্ত পরিবেশে মৃদু গান বা ল্যাভেন্ডারের সুগন্ধি ব্যবহার করে সচেতনভাবে গোসল করা মানসিক প্রশান্তি জোগাতে ভালো ভূমিকা রাখতে পারে।
মতামত