সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
গত শাসনামলে সাড়ে ৪ হাজারের বেশি মানুষ বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার: আইনমন্ত্রী

গত শাসনামলে সাড়ে ৪ হাজারের বেশি মানুষ বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার: আইনমন্ত্রী

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, ‘গত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে এ দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন ও সংবিধানের পক্ষে অবস্থান নেওয়া ৪ হাজার ৫০০-রও বেশি ভিন্নমতাবলম্বী বা রাজনৈতিক কর্মী বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন।’ আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আবদুস সালাম, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। আইনমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক আইনের শাসনের জন্য লড়াই করা প্রায় ৭০০ মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছয় মিলিয়নের বেশি মানুষ রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। এসব মামলার প্রায় ৯৯ শতাংশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের সময়ের প্রসঙ্গ তুলে মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, গত ছয় মাসের বেশি সময়ে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার বিষয়ে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ দেখিয়েছে। এ ধরনের ঘটনা প্রায় শূন্যের কোঠায় রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পুলিশ মিথ্যা মামলা করেছে—এমন কোনো অভিযোগও তাঁরা পাচ্ছেন না বলে মন্তব্য করেন। আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এমন একটি সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, যেখানে সংবিধান আমাদের পথ দেখানোর মূল ভিত্তি। এভাবেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।’ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৭৮৭ সালের সেপ্টেম্বরে গৃহীত যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের শুরুতে লেখা হয়েছিল ‘উই, দ্য পিপল অব আমেরিকা’। আর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধানেও লেখা হয়েছে ‘উই, দ্য পিপল অব বাংলাদেশ’। তাঁর মতে, দুই সংবিধানের মধ্যে এটি একটি মিল। মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের মূল ভিত্তি গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা। স্বাধীনতার মধ্যে মতপ্রকাশ, সমাবেশ, চলাচল ও সংগঠনের স্বাধীনতাও রয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানও কিছু মৌলিক ভিত্তি ও কাঠামোর ওপর প্রতিষ্ঠিত, যার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক ধারণার মিল রয়েছে। তিনি বলেন, ১৮০৩ সালে মারবারি বনাম ম্যাডিসন মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট বিচারিক পর্যালোচনার নীতি প্রয়োগ করে। বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনেও সুপ্রিম কোর্ট একই ধরনের এখতিয়ার প্রয়োগ করছে। তবে কখনো কখনো এ এখতিয়ার অপব্যবহার ও অপপ্রয়োগও হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। আইনমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রণয়নের আগে জন লক, টমাস হবস ও মন্টেস্কুর রাজনৈতিক তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা ও সেগুলো অনুসরণ করা হয়েছিল। বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের ক্ষেত্রেও এসব তত্ত্বের প্রভাব রয়েছে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রণয়নের সময়ও তীব্র আলোচনা ছিল। সংবিধান নিয়ে আলোচনা এখনো চলছে। বাংলাদেশের সংবিধান নিয়েও শুধু আইনজ্ঞদের মধ্যে নয়, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের চায়ের দোকানেও আলোচনা হয়। সংবিধানের বিভিন্ন বিধান, সংশোধনী ও প্রয়োগ নিয়ে সাধারণ মানুষের এই আলোচনা তাঁদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ যখন প্রয়োজনের মধ্যে থাকে তখন যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের পাশে থাকা, কর্তৃত্ববাদিতার বিরুদ্ধে অবস্থান, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলা এবং নির্বিচার গ্রেপ্তার ও আটকানোর বিরুদ্ধে কথা বলা —এসব বিষয় তিনি গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন। একই সঙ্গে সংগঠন ও সমাবেশের স্বাধীনতার পক্ষেও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের কথা উল্লেখ করেন তিনি। মানবাধিকার কমিশন আইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার দেশে আরও শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আইন করেছে। আইনের কিছু ধারা নিয়ে সমালোচনা থাকতে পারে বলেও স্বীকার করেন তিনি। তবে জনগণের অধিকার সুরক্ষিত রাখার লক্ষ্যেই আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানান। আইনমন্ত্রী বলেন, মানবাধিকার কমিশন আইনে ‘ওএফসিএটি’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কমিশনের বাছাই কমিটিতে প্রেসক্লাব ও জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বের বিধান রাখা হয়েছে। তাঁর দাবি, অন্যান্য কিছু দেশের তুলনায় বাংলাদেশের বাছাই প্রক্রিয়ায় ভিন্ন ধরনের প্রতিনিধিত্ব রাখা হয়েছে। এখানে বাছাই কমিটির প্রধান হিসেবে স্পিকার থাকছেন এবং বিরোধী দলের নেতাদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং সুশাসন বর্তমান সময়ে সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে অর্থনীতি ও আইনের শাসনের ক্ষেত্রে ভঙ্গুর পরিস্থিতি থেকে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রসঙ্গে মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, এসব অপরাধের বিচার সম্পন্ন করার বিষয়ে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ‘কোনো ব্যক্তি আমাদের লক্ষ্য নয়, আমাদের লক্ষ্য মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার সম্পন্ন করা’—বলেন তিনি। তিনি আরও বলেন, এসব অপরাধের সঙ্গে রাজনৈতিক নির্বাহীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। চলমান বিচারপ্রক্রিয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, তাঁদের হাতে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ রয়েছে এবং এসব প্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধ প্রমাণিত হবে বলে তিনি মনে করেন। অনুষ্ঠানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, ১৭৮৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রণয়নের সময় বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে তীব্র বিতর্ক ও মতপার্থক্য ছিল। তাঁর মতে, সংবিধানের শক্তি সবাই সব বিষয়ে একমত হওয়ায় নয়; বরং মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্র পরিচালনার একটি টেকসই কাঠামো তৈরি করতে পারার মধ্যে। তিনি ক্ষমতার পৃথকীকরণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক সংশোধনের সুযোগকে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের স্থায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে উল্লেখ করেন।

নিজের নাম না জুড়লে কেনেডি সেন্টার বন্ধ করবেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটনের বিখ্যাত শিল্পকলা প্রতিষ্ঠান কেনেডি সেন্টারের ভবনে নিজের নাম যুক্ত করা না হলে প্রতিষ্ঠানটি স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখার হুমকি দিয়েছেন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ফেডারেল বিচারক ক্রিস্টোফার কুপার কেনেডি সেন্টারের ভবনে ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার উদ্যোগ আটকে দেওয়ার পর এ অবস্থান জানান তিনি। একই দিনে কেন্দ্রটির পরিচালনা পর্ষদ জরুরি সংস্কারের জন্য মূল ভবনটি তাৎক্ষণিক বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়।  ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে বলেন, তার মনোনীত পরিচালনা পর্ষদ প্রায় সর্বসম্মতভাবে সংস্কারের জন্য কেন্দ্রটি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে নাম যুক্ত করার বিষয়ে আদালতের রায় বহাল থাকলে কেনেডি সেন্টারের পুনর্গঠন ও সংস্কারকাজ শুরু হবে না বলে জানান তিনি।  অন্যদিকে, কেনেডি সেন্টার এক বিবৃতিতে জানায়, বোর্ডের সিদ্ধান্ত নিরাপত্তাকে সবার আগে রাখার বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরে এবং এটি একটি যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত।  এর আগে কেনেডি সেন্টারের ভবন থেকে ট্রাম্পের নাম সরানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারক কুপার। মঙ্গলবারের নতুন রায়ে তিনি বলেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া কেনেডি সেন্টারের পরিচালনা পর্ষদ ট্রাম্প বা অন্য কারও নামে কোনো স্মারক স্থাপন করতে পারবে না।  বিচারকের এই রায় এসেছে পরিচালনা পর্ষদ ভবনের বাইরে ট্রাম্পের নাম যুক্ত করে তার সংস্কারকাজের স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার পর। আদালত ওই উদ্যোগকে আগের আদেশ ও কংগ্রেসের প্রণীত আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে উল্লেখ করেছে।  ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজেকে কেনেডি সেন্টারের বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেন। প্রতিষ্ঠানটি প্রয়াত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডির নামে প্রতিষ্ঠিত। ১৯৬৩ সালে আততায়ীর গুলিতে নিহত হওয়ার আগে কেনেডি নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। 

নিজের নাম না জুড়লে কেনেডি সেন্টার বন্ধ করবেন ট্রাম্প

ইরান যুদ্ধের ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৩৮ বিলিয়ন ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের বিরুদ্ধে ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধে এ পর্যন্ত ৩৮ বিলিয়ন ডলার যা প্রায় ৪ লাখ ৬৭ হাজার ৫৩২ কোটি টাকা বাংলাদেশি মুদ্রায় ব্যয় হয়েছে। এই খরচ প্রতি মাসে আরও ৩ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা করে বাড়তে পারে বলে কংগ্রেসের নিরপেক্ষ হিসাব সংস্থা কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস (সিবিও) জানিয়েছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়। সিবিওর হিসাব অনুযায়ী, আগস্ট পর্যন্ত যুদ্ধের ব্যয়ের তথ্য এতে রয়েছে। যুদ্ধের কারণে ২০২৭ সালের প্রথম তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ০.৫ শতাংশ বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে। ক্রমবর্ধমান এই ব্যয়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুতের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে এবং জ্বালানির দাম বেড়েছে। এতে অন্য কোনো সম্ভাব্য সংঘাত মোকাবিলার প্রস্তুতি এবং দেশটির সরকারি বাজেট নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই ব্যয়ের পরিমাণ ২১ জুলাই সিনেটের শুনানিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের উল্লেখ করা ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলারের প্রায় সমান। সিবিও জানিয়েছে, দ্রুত গোলাবারুদ ব্যবহারের কারণে ব্যয়ের বড় একটি অংশ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে সংস্থাটি ধারণা করছে। আগস্টে রয়টার্স জানিয়েছিল, যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র তাদের দূরপাল্লার নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় পুরোটাই ব্যবহার করেছে। তবে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল অস্ত্রের ঘাটতির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেছেন, প্রয়োজন হলে প্রেসিডেন্ট যেখানে এবং যখন আঘাত হানতে চাইবেন, সেখানেই হামলা চালানোর মতো প্রয়োজনীয় অস্ত্র তাদের রয়েছে। সিবিওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষা বিভাগ এই হিসাব তৈরিতে কংগ্রেসের আর্থিক নিরীক্ষকদের সঙ্গে সহযোগিতা করেনি। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পদক্ষেপগুলো ছিল ‘নির্ণায়ক’। যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয় যুদ্ধাস্ত্র ও গোলাবারুদের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। ব্যয়ের এই হিসাব করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের বাজেট কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য পেনসিলভানিয়ার ব্রেন্ডন বয়েলের অনুরোধে। তিনি বলেন, এই যুদ্ধের কারণে মার্কিন করদাতাদের কয়েক হাজার কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে এবং সেই খরচ আরও বাড়ছে। ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ জন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। তবে সিবিওর প্রতিবেদনে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে সাম্প্রতিক হামলা এবং ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলার খরচ ধরা হয়নি। যুদ্ধের জন্য নেওয়া ঋণের সুদের খরচও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এই খরচ যোগ হলে মোট ব্যয় আরও কয়েক হাজার কোটি ডলার বাড়তে পারে। সিবিওর হিসাবে, যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে। ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ব্যবস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধসরঞ্জামের ঘাটতি পেন্টাগনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা কমাতে পারে। বিশেষ করে চীন ও তাইওয়ানকে ঘিরে সম্ভাব্য বড় সংঘাতের ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। জুলাইয়ে সিনেটের শুনানিতে হেগসেথ গোলাবারুদের মজুত পূরণ করতে প্রায় ৯০ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১১ লাখ ৯ হাজার কোটি টাকা জরুরি অর্থায়ন চেয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এই অর্থ না পেলে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের ঘাটতির মুখে পড়বে। পেন্টাগনের মহাপরিদর্শক চলতি সপ্তাহে জানিয়েছেন, ইরান মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটির শত শত ভবন এবং যুদ্ধবিমান, জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ও ড্রোনসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস করেছে। ১৯ জুন পর্যন্ত যুদ্ধের ব্যয় ৩৩.৪ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৪ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা বলে হিসাব করা হয়েছিল। এর মধ্যে ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনার জন্য প্রায় ১৮৪ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণও রয়েছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো, সেখানে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনায় হামলার কারণে জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। এতে ভোক্তা ও বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বেড়েছে। এদিকে আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের মোট সরকারি ঋণের পরিমাণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের ব্যয় দেশটির আর্থিক অবস্থার ওপর আরও চাপ তৈরি করতে পারে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের আট বছরব্যাপী যুদ্ধে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলার। আর ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ‘কস্টস অব ওয়ার’ প্রকল্পের হিসাবে, আফগানিস্তানে দুই দশকের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হয়েছে প্রায় ২.৩ ট্রিলিয়ন ডলার।

ইরান যুদ্ধের ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৩৮ বিলিয়ন ডলার

ইরানের পরমাণু সংকট মিটলে জ্বালানি দেবে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের পারমাণবিক ইস্যুর সমাধান হলে দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ করতে প্রস্তুত। মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট এ কথা বলেছেন। রাইট মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গকে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা দেশের বাইরে থেকে জ্বালানি সরবরাহ করতে পারি।’ লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটরের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। ক্রিস রাইটের এই প্রস্তাব ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত। তাঁর দাবি, ইরানের এই কর্মসূচির লক্ষ্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা। তবে ইরান বারবার বলে আসছে, তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করেনি। রাইট বলেন, ‘তারা আবারও জাতিগুলোর সম্প্রদায়ের অংশ হতে পারে এবং তাদের জনগণের জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধি নিয়ে আসতে পারে।’ এদিকে, ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে ‘নির্ণায়ক হামলা’ চালানোর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। চলতি বছর ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক কমপ্লেক্সের কাছে ‘নির্মাণকাজে স্পষ্টভাবে বড় ধরনের বৃদ্ধি’ শনাক্ত হওয়ার পর এই পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে আরেক মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। নাতাঞ্জ পারমাণবিক কমপ্লেক্সটি ইরানের রাজধানী তেহরান থেকে প্রায় ১৪০ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত। গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও বাড়ানোর হুমকি দেন। তিনি দাবি করেন, ইরানকে ‘অনেক বেশি হারে বোমা হামলার’ মুখে পড়তে হবে এবং দেশটি ‘কখনোই আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।’ এ সময় পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন এলাকায় হামলা চালানোর সম্ভাবনার কথাও বলেন ট্রাম্প। ওই এলাকায় তৎপরতা ও চলাচল শনাক্ত হওয়ার পর তিনি এই হুমকি দেন। গত সপ্তাহে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা খুব শিগগিরই পিকঅ্যাক্সে হামলা চালাতে পারি।’ পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন এলাকাটি নাতাঞ্জ পারমাণবিক কমপ্লেক্সের কাছেই অবস্থিত।

ইরানের পরমাণু সংকট মিটলে জ্বালানি দেবে যুক্তরাষ্ট্র

মদিনায় মিলল বিরল খনিজের বিশাল ভাণ্ডার

দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সালমান সৌদি আরবের মদিনা অঞ্চলে আনুমানিক ১১ কোটি টন রেয়ার আর্থ মিনারেলস বা বিরল মৃত্তিকা খনিজ ও ইউরেনিয়াম আকরিকের সন্ধান পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন। এই আবিষ্কারের ঘোষণা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সাধারণ সম্মেলনের ৭০ তম নিয়মিত অধিবেশনে দেওয়া হয়। সৌদি আরবের সংবাদমাধ্যম আরব নিউজের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাবাল সাইদ এলাকায় পরিচালিত অনুসন্ধান ও ভূতাত্ত্বিক গবেষণার ভিত্তিতে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখানে বিরল মৃত্তিকা উপাদানের উচ্চ ঘনত্ব রয়েছে। একই সঙ্গে ইউরেনিয়ামেরও সম্ভাবনাময় ঘনত্ব পাওয়া গেছে। ওয়াশিংটন ও রিয়াদের মধ্যে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা আনুষ্ঠানিক হওয়ার কয়েক মাস পর এই তথ্য প্রকাশ করা হলো। গত ২২ জুলাই মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট এবং সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সালমানের মধ্যে একটি চুক্তি সই হয়। মার্কিন জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, এসব চুক্তি কয়েক দশকব্যাপী বহু বিলিয়ন ডলারের অংশীদারত্বের জন্য আইনি ভিত্তি তৈরি করেছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচিতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রবেশের সুযোগও বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সাধারণ সম্মেলনে প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সালমান বলেন, ‘মদিনার জাবাল সাইদ প্রকল্পে অনুসন্ধান ও ভূতাত্ত্বিক গবেষণায় আনুমানিক ১১ কোটি টন আকরিকের সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে। এতে বিরল মৃত্তিকা খনিজের, বিশেষ করে ভারী উপাদানগুলোর, উচ্চ ঘনত্ব রয়েছে। পাশাপাশি ইউরেনিয়ামেরও সম্ভাবনাময় ঘনত্ব পাওয়া গেছে।’ মন্ত্রী বলেন, ২০২৫ সালের নভেম্বরে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের যুক্তরাষ্ট্র সফরের পর এই উদ্যোগ আরও গতি পায়। ওই সফরের সময় দুই দেশ গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে সহযোগিতা আরও গভীর করে। এর মধ্যে সৌদি রাষ্ট্রীয় খনি কোম্পানি মা’আদিন এবং মার্কিন কোম্পানি এমপি ম্যাটেরিয়ালসের মধ্যে অংশীদারত্বও ছিল। ওই সফরের ফলে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, ধাতু ও ইউরেনিয়াম নিয়ে কৌশলগত সহযোগিতার একটি কাঠামো তৈরি হয়। এর আওতায় সৌদি আরবে একটি নতুন বিরল মৃত্তিকা প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানার ৪৯ শতাংশ অর্থায়ন করার বিষয়ে সম্মত হয় মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ। এই প্রকল্পে মা’আদিনের নিয়ন্ত্রণমূলক ৫১ শতাংশ মালিকানা থাকবে। এর অংশীদার হবে এমপি ম্যাটেরিয়ালস। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বিরল মৃত্তিকার একমাত্র খনি ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা পরিচালনা করে এই মার্কিন কোম্পানিটি। মদিনা অঞ্চলে জেদ্দা থেকে প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত জাবাল সাইদ। এলাকাটি এরই মধ্যে বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান বিরল মৃত্তিকা খনিজের মজুত হিসেবে পরিচিত। মার্কিন থিংক ট্যাংক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সৌদি শিল্প ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং রাষ্ট্রীয় খনি কোম্পানি মা’আদিনের দেওয়া হিসাবের ভিত্তিতে জাবাল সাইদকে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম বিরল মৃত্তিকা খনিজের মজুত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সেখানে প্রায় ৫ লাখ ৫২ হাজার টন ভারী বিরল মৃত্তিকা উপাদান রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ডিসপ্রোসিয়াম ও টারবিয়াম। এ ছাড়া আরও প্রায় ৩ লাখ ৫৫ হাজার টন হালকা বিরল মৃত্তিকা উপাদান রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে নিওডিমিয়াম ও প্রসিওডিমিয়াম। একই বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, একই এলাকায় প্রায় ৩১ হাজার টন ইউরেনিয়ামের মজুত রয়েছে। বিশ্লেষণটি বলছে, বিরল মৃত্তিকা খনিজ ও ইউরেনিয়ামের এই সমন্বয় সৌদি আরবকে নিজস্ব পারমাণবিক জ্বালানি চক্র গড়ে তোলার জন্য বিশেষভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে। একই সঙ্গে দেশটি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে এসব উপাদান রপ্তানিও করতে পারে। অন্যদিকে, রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে সৌদি আরবে আবিষ্কৃত বিরল মৃত্তিকা উপাদানের মূল্য ১০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ২০১৮ সালের তুলনায় এই মূল্য ৯০ শতাংশ বেড়েছে। সৌদি ভূতাত্ত্বিক জরিপের গবেষণায় উন্নত পর্যায়ের অনুসন্ধানের জন্য দুটি এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় আনুমানিক ৬৪ কোটি ৪০ লাখ টন খনিজ সম্পদ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মদিনায় মিলল বিরল খনিজের বিশাল ভাণ্ডার

ডাকভোট নিয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনায় সুপ্রিম কোর্টের বাধা

আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ সীমিত করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেওয়া উদ্যোগে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট বড় ধাক্কা দিয়েছেন। বিতর্কিত এ পরিকল্পনা স্থগিত রাখার আদেশ প্রত্যাহারে ট্রাম্প প্রশাসনের আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এ রায়ে সুপ্রিম কোর্টের নয় সদস্যের বেঞ্চের ছয় রক্ষণশীল বিচারপতির মধ্যে দুজন ভিন্নমত পোষণ করেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিদের সঙ্গে একমত হয়ে দেওয়া পৃথক রায়ে বিচারপতি ব্রেট কাভানা বলেন, দীর্ঘ মেয়াদে ট্রাম্পের পরিকল্পনাটি আইনসম্মত হতে পারে। তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তা বাস্তবায়নের জন্য অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় নির্বাচনী কর্মকর্তাদের পর্যাপ্ত সময় নেই। ইতোমধ্যে নর্থ ক্যারোলাইনাসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ভোটারদের ডাকযোগে ভোট দেওয়ার জন্য ব্যালট পাঠানো শুরু হয়েছে। ফলে নির্বাচনের ঠিক আগে ডাকযোগে ভোটের নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন আনলে তা বাস্তবায়নে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। গত মার্চে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ সীমিত করতে একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন ট্রাম্প। সে সময় কোনো প্রমাণ উপস্থাপন না করেই তিনি ডাকযোগে ভোটে জালিয়াতির ঝুঁকি রয়েছে বলে দাবি করেন। আদেশটি জারির পরপরই এর বিরুদ্ধে একাধিক আইনি চ্যালেঞ্জ আসে। ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত কয়েকটি অঙ্গরাজ্য ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করে। তাদের যুক্তি, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজন ও পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যাপক নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা অঙ্গরাজ্যগুলোর হাতে রয়েছে, ফেডারেল সরকারের হাতে নয়। আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডাকযোগে ভোটের বিধিনিষেধ কার্যকর করার ট্রাম্প প্রশাসনের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে চলমান আইনি লড়াইয়ে সুপ্রিম কোর্টের এ সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সূত্র: এএফপি

ডাকভোট নিয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনায় সুপ্রিম কোর্টের বাধা

মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা স্বীকার করল যুক্তরাষ্ট্র

প্রথমবারের মতো পৃথিবীর কক্ষপথে মহাকাশ অস্ত্র মোতায়েনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন বিমানবাহিনীর সচিব ট্রয় মেঙ্ক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।  সোমবার বিমান, মহাকাশ ও সাইবার সম্মেলনে ট্রয় মেঙ্ক জানান, শত্রুভাবাপন্ন শত্রুর আক্রমণ থেকে মার্কিন বাহিনীকে রক্ষা করতে কক্ষপথে এই ধরনের অস্ত্র স্থাপন আবশ্যক ছিল। যুক্তরাষ্ট্র বিকাশমান হুমকির মোকাবেলা করতে প্রস্তুত উল্লেখ করলেও এই অস্ত্রের ধরন বা কবে এটি স্থাপন করা হয়েছে তা নিয়ে স্পষ্ট কিছু বলেননি তিনি। ট্রাম্প প্রশাসন তাদের প্রস্তাবিত ‘গোল্ডেন ডোম’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অধীনে মহাকাশভিত্তিক প্রযুক্তি ও ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে, যা ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশপথের অন্যান্য হুমকি প্রতিরোধ করবে। ১৯৬৭ সালের একটি আন্তর্জাতিক চুক্তিতে মহাকাশে গণবিধ্বংসী অস্ত্র নিষিদ্ধ করা হলেও যোগাযোগ ও নজরদারি স্যাটেলাইট অকার্যকর করার মতো অন্যান্য প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন। যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ফোর্সের এক মুখপাত্র জানান, প্রয়োজনবোধে শত্রুপক্ষের সামরিক সক্ষমতা ব্যাহত, অকার্যকর বা ধ্বংস করতে কাইনেটিক ও নন-কাইনেটিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে। কমান্ডারের নির্দেশনায় এসব ক্ষমতা আক্রমণাত্মক ও আত্মরক্ষামূলক উভয় কাজেই ব্যবহার করা যেতে পারে। ২০১৯ সালে গঠিত মার্কিন স্পেস ফোর্স মূলত আমেরিকান স্যাটেলাইট ও মহাকাশীয় সম্পদ রক্ষায় কাজ করছে। গত বছর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশে এই বাহিনীকে আত্মরক্ষার পাশাপাশি আক্রমণাত্মক ভূমিকা পালনেরও নির্দেশনা প্রদান করেন। মার্কিন গোয়েন্দাদের দাবি অনুযায়ী, রাশিয়া ও চীন তাদের সামরিক আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে মহাকাশকে যুদ্ধক্ষেত্র মনে করছে। ২০২৪ সালে রাশিয়া অন্য স্যাটেলাইটে হামলার উপযোগী কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে পাঠায় এবং ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে প্রায় এক ডজন ইউরোপীয় স্যাটেলাইটের তথ্য রাশিয়ান উপগ্রহ আড়ি পেতেছে বলে মার্কিন তথ্যে জানা যায়। সূত্র: বিবিসি

মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের  কথা স্বীকার করল  যুক্তরাষ্ট্র

ভিসা ও গ্রিন কার্ড নীতিতে চাপে ট্রাম্প প্রশাসন

অভিবাসন নীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বড় দুটি ধাক্কার মুখে পড়েছে। একদিকে ফেডারেল এক বিচারক বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের জন্য প্রস্তাবিত ভিসার সময়সীমা আটকে দিয়েছেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বাধীন কয়েক ডজন অঙ্গরাজ্য অভিবাসীদের বৈধভাবে সরকারি সুবিধা নেওয়ার কারণে গ্রিন কার্ড আটকে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা নতুন বিধির বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের এক ফেডারেল বিচারক প্রশাসনের এমন প্রস্তাব কার্যকর করা বন্ধ করে দেন, যার মাধ্যমে বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন না করে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সময় নির্দিষ্ট করে দেওয়া হতো। একই সময়ে ২২টি অঙ্গরাজ্য ও ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া মিলে আলাদা একটি মামলা করেছে। তাদের লক্ষ্য, এমন একটি ফেডারেল বিধি কার্যকর হওয়া ঠেকানো, যার আওতায় অভিবাসন কর্তৃপক্ষ বৈধভাবে সরকারি সুবিধা নেওয়া অভিবাসীদের গ্রিন কার্ড দিতে অস্বীকৃতি জানাতে পারবে। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএইচএসের প্রস্তাবিত বিধিটি মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই সোমবার বোস্টনের ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জজ এফ ডেনিস সেলার চতুর্থ ট্রেড ইউনিয়ন ও উচ্চশিক্ষা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের জোটের করা আবেদনের ভিত্তিতে বিধিটির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাব অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবহৃত এফ ভিসা এবং যুক্তরাষ্ট্রে সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার জন্য দেওয়া জে ভিসার মেয়াদ সর্বোচ্চ চার বছর করা হতো। অন্যদিকে সাংবাদিকদের জন্য ব্যবহৃত আই ভিসা, যা বর্তমানে কয়েক বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকতে পারে, সেটির মেয়াদ ২৪০ দিনে সীমাবদ্ধ করার প্রস্তাব করা হয়েছিল। বিচারক সেলার রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের নিয়োগপ্রাপ্ত হলেও তিনি ভিসা ব্যবস্থায় জালিয়াতি ঠেকানো এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে ডিএইচএস যে যুক্তি দিয়েছে, সেটিকে ‘অত্যন্ত দুর্বল’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, বিদ্যমান ভিসা ব্যবস্থা কয়েক কোটি গবেষক ও শিক্ষাবিদকে যুক্তরাষ্ট্রে অবদান রাখার সুযোগ দিয়েছে। এর ফলে যুগান্তকারী গবেষণা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ হয়েছে। এই ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হলে উচ্চশিক্ষা এবং বৃহত্তর মার্কিন অর্থনীতির ক্ষতি ‘বিপর্যয়কর’ হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি। প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থা প্রায় ১৬ লাখ এফ ভিসাধারী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এবং প্রায় ৫ লাখ জে ভিসাধারী বিনিময় কর্মসূচির অংশগ্রহণকারীকে প্রভাবিত করত। এদিকে সোমবার ম্যানহাটনের একটি ফেডারেল আদালতে দুটি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলার লক্ষ্য, ডিএইচএসের আরেকটি বিধি কার্যকর হওয়া ঠেকানো। বিধিটি শুক্রবার থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন এই বিধিতে অভিবাসন কর্মকর্তারা কোন আবেদনকারীকে ‘পাবলিক চার্জ’ হিসেবে বিবেচনা করবেন, সেই মানদণ্ড আরও বিস্তৃত করা হবে। ‘পাবলিক চার্জ’ একটি আইনি মানদণ্ড। ঐতিহাসিকভাবে এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি প্রয়োগ করা হয়েছে, যারা নিজেদের জীবনধারণের জন্য মূলত সরকারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন বলে মনে করা হয়। নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া ও ইলিনয় ২২টি অঙ্গরাজ্য এবং ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ার একটি জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছে। তারা নতুন নীতিটি আটকে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। একই বিষয়ে ছয়টি শহর ও কাউন্টিও আলাদা একটি মামলা করেছে। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীদের মূল্যায়নে অভিবাসন কর্মকর্তারা নগদ সরকারি সহায়তা বিবেচনা করতে পারতেন। তবে খাদ্য সহায়তা এবং মেডিকেইডের মতো নগদ নয় এমন সরকারি সুবিধা নেওয়ার কারণে কোনো আবেদনকারীকে শাস্তি দেওয়ার সুযোগ ছিল না। এখন ট্রাম্প প্রশাসন তার প্রথম মেয়াদের নীতিগুলো আবার চালু করতে চাইছে। সেই নীতিতে খাদ্য সহায়তা ও মেডিকেইডের মতো নগদ নয় এমন সরকারি সুবিধা নেওয়াকেও গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্যতার কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নতুন প্রস্তাবে শুধু আবেদনকারী নিজে কী ধরনের সুবিধা নিয়েছেন তা নয়, তার পরিবারের সদস্যরা কী ধরনের সরকারি সুবিধা পেয়েছেন, সেটিও যাচাইয়ের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। ডিএইচএসের এক মুখপাত্র নতুন বিধির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি মামলাকারীদের ‘বামপন্থী নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করে অভিযোগ করেন, তারা আশঙ্কা করছেন যে ফেডারেল সরকারের অর্থায়ন হারাবেন। কারণ, লাখ লাখ ‘অবৈধ অভিবাসী ও অ-নাগরিক’ হয়তো যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কল্যাণমূলক কর্মসূচি থেকে নিজেদের সরিয়ে নেবেন। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি এক বিবৃতিতে বলেন, নতুন এই বিধির লক্ষ্য হলো অভিবাসী পরিবারগুলোকে সেই কর্মসূচিগুলো থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া, যেগুলো কয়েক দশক ধরে মানুষকে খাবার ও স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ দিয়ে আসছে। মামলাকারীরা বলছেন, কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন তার আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে। তাদের যুক্তি, স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার যোগ্যতার মানদণ্ড নির্ধারণের একমাত্র ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। তাদের আরও দাবি, খাদ্য সহায়তা ও মেডিকেইডের মতো নগদ নয় এমন সরকারি সুবিধা বৈধভাবে ব্যবহার করা আবেদনকারীদের শাস্তি দেওয়ার মাধ্যমে প্রশাসন একটি বেআইনি বিধিনিষেধ তৈরি করেছে। মামলাকারীদের মতে, এই বিধিনিষেধ ফেডারেল আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

ভিসা ও গ্রিন কার্ড নীতিতে চাপে ট্রাম্প প্রশাসন

বাংলাদেশের বাণিজ্যে ভারতের জায়গা নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য হ্রাস এবং মার্কিন পণ্যের আমদানি নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারে পরিণত হয়েছে। ফার্স্টপোস্টে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে। বাংলাদেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাম্প্রতিক তথ্যের বরাতে ফার্স্টপোস্ট জানায়, গত অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের মোট দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৬৭ কোটি ডলারে। অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে এই বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৭২ কোটি ডলার, যা যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে প্রায় ১৯৫ কোটি ডলার কম। যদিও সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে চীন, তবে এই নতুন পরিবর্তনটি ভারতের জন্য অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ। মূলত দিল্লি ও ঢাকার মধ্যে সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ এবং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্য দিয়েই এই পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশ তুলনামূলক অনেক বেশি পণ্য ক্রয় করায় এই বাণিজ্য ব্যবধান তৈরি হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি ২৪৯ কোটি ডলার থেকে ৪৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৫৬ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। বিপরীতে ভারত থেকে বাংলাদেশের আমদানি কমেছে প্রায় ৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ভারতে রপ্তানি হ্রাস পেয়েছে প্রায় ৩ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক সংক্রান্ত নীতি ও আলোচনার অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন থেকে ক্রয় বাড়ানোর পদক্ষেপ নেয় ঢাকা, যার ফলে দুই দেশের বাণিজ্যে এই উল্লেখযোগ্য গতি এসেছে। তৈরি পোশাক খাতের কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রেও ভারতের অবস্থান পিছিয়ে পড়ার চিত্র স্পষ্ট দেখা গেছে। সূত্র: ফার্স্টপোস্ট

বাংলাদেশের বাণিজ্যে ভারতের জায়গা নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

রুশ তেল স্থাপনায় হামলা নিয়ে জেলেনস্কিকে ট্রাম্পের বার্তা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কথা মাথায় রেখে রাশিয়ার ডিজেল শোধনাগারগুলোতে আক্রমণ বন্ধ করতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে অনুরোধ করেছেন। আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়ারল্যান্ড সফর শেষে এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে ওয়াশিংটন ডিসিতে ফেরার পথে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, রাশিয়ার জ্বালানি উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটায় বৈশ্বিক সরবরাহে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। ট্রাম্প বলেন, ‘ইউক্রেন ও রাশিয়াকে নিয়ে আমার মূল সমস্যা হলো বিশ্ববাজারের সিংহভাগ ডিজেল আসে রাশিয়া থেকে, আর সেই রাশিয়ার প্ল্যান্টগুলোতেই হামলা চালাচ্ছে ইউক্রেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকে ডিজেল প্ল্যান্ট ও শোধনাগারগুলোতে হামলা না করার জন্য অনুরোধ করেছি।’ রাশিয়া থেকে ডিজেল বাজারে আনা কঠিন হয়ে পড়ায় এর মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সতর্ক করেন, এই পরিস্থিতি সমগ্র বিশ্বকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং এটি এখনই বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

রুশ তেল স্থাপনায় হামলা নিয়ে জেলেনস্কিকে ট্রাম্পের বার্তা

হুতিদের ঠেকাতে গিয়ে ইয়েমেনি বাহিনীর ভিন্ন চিত্র

ইয়েমেনের বন্দরনগরী মোখায় অবস্থানরত ইয়েমেনি ব্যাটালিয়নগুলো ইরান-সমর্থিত হুতিদের দখল ঠেকাতে গত বৃহস্পতিবার অনেকটাই অপ্রস্তুত ছিল। তাদের বাহিনীর তালিকায় এমন বিপুলসংখ্যক সেনার নাম ছিল, যাদের বাস্তবে কোনো অস্তিত্বই ছিল না। এ তথ্য গতকাল শনিবার প্রকাশিত মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ইয়েমেনে হুতিবিরোধী সামরিক অভিযান সম্পর্কে জানেন এমন এক পশ্চিমা সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছেন, এসব ‘ঘোস্ট নেম’ বা ভুতুড়ে নামের সেনারাও বেতন পেতেন। এর ফলে কাগজে-কলমে ইয়েমেনি সেনাবাহিনীকে প্রকৃত শক্তির তুলনায় অনেক বেশি বড় মনে হতো। কিন্তু বাস্তবে সেনাবাহিনীর সদস্যসংখ্যা কাগজে দেখানো সংখ্যার মাত্র প্রায় ২০ শতাংশ ছিল বলে ওই সূত্র জানিয়েছেন। হুতিদের মোখা দখলের সময় ইয়েমেনি বাহিনী কেন কার্যকর সামরিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি, তা নিয়ে দায় চাপানো হচ্ছে ইয়েমেনের নেতাদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের ওপরও। সিএনএনের সঙ্গে কথা বলা একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এই ব্যর্থতার জন্য বিভিন্ন পক্ষের আলাদা আলাদা দায় রয়েছে। সিএনএনের এক আঞ্চলিক সূত্র মোখার পতনকে ‘সৌদি-আমেরিকানদের ভয়াবহ মাত্রার ভুল’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, ওয়াশিংটন ও রিয়াদের সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করার কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শুক্রবার ওই সূত্র সিএনএনকে বলেন, ‘এবার ব্যর্থতা ইয়েমেনিদের নয়। গতকাল সারাদিন সৌদি সমর্থনকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে একটি বিমান হামলাও হয়নি, যদিও প্রতি মিনিটের পরিস্থিতি তাদের জানানো হচ্ছিল।’ আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, হুতিরা অগ্রসর হতে পারে এমন আশঙ্কায় কয়েক সপ্তাহ আগেই সৌদি সামরিক বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছিল। কিন্তু হামলা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি। এমনকি যুদ্ধবিমান পরিচালনা ও নির্দেশ দেওয়ার দায়িত্বে থাকা গুরুত্বপূর্ণ বিমান কমান্ডের কর্মকর্তাদেরও মোতায়েন করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই সূত্র সিএনএনকে বলেন, ‘সৌদিরা ইয়েমেনিদের বাসের নিচে ছুড়ে দিয়েছে।’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়েমেনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকমকে বারবার সতর্ক করেছিলেন যে, ‘পরিস্থিতি সংকটজনক হয়ে উঠছে।’ ওই কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, সেন্টকম তাঁকে আশ্বস্ত করেছিল যে যুক্তরাষ্ট্র ‘পরিস্থিতি খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সৌদি বিমান সহায়তা আসছে।’ কিন্তু সেই বিমান সহায়তা শেষ পর্যন্ত আসেনি। হুতিদের হামলার দিন বৃহস্পতিবার সেন্টকমের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার সমন্বয় বৈঠকের জন্য সৌদি আরবে ছিলেন বলে সিএনএনকে জানিয়েছেন দুটি সূত্র। সেন্টকম অবশ্য ওই সফর হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত করেনি। তবে সিএনএন এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে মার্কিন সামরিক সদস্যরা ইয়েমেনে গঠিত নতুন একটি যৌথ বাহিনী কমান্ডের সঙ্গে কাজ করছিলেন। ইরান হুতিদের হামলায় সহায়তা বাড়ানোর চেষ্টা করছে বলে সন্দেহ তৈরি হওয়ার পর এই যৌথ বাহিনী কমান্ড গঠন করা হয়েছিল। তবে ওয়াশিংটনভিত্তিক মোহাম্মদ আল-বাশা মনে করেন, মোখা রক্ষায় ব্যর্থতার মূল কারণ ইয়েমেনের নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ বিভাজন। তিনি আরব উপদ্বীপ নিয়ে মার্কিন সরকারের উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেছেন। বাশা সিএনএনকে বলেন, ‘এটি হুতিবিরোধী জোটের আরও গভীর একটি সমস্যার সঙ্গে যুক্ত। এখানে কোনো রাজনৈতিক ঐক্য নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইয়েমেনে কোনো ঐক্যবদ্ধ কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেই। আমার মনে হয়, পশ্চিম উপকূলের দিকে হুতিদের অগ্রযাত্রা সম্পর্কে সবাই জানত। দেয়ালে লেখা ছিল খুবই স্পষ্ট।’ এরপর কী ঘটতে পারে জানতে চাইলে বাশা ধারণা করেন, হুতিরা পূর্ব দিকে আরও অগ্রসর হবে এবং ইয়েমেনের আরও ভেতরে ঢুকে পড়বে। সিএনএনকে তিনি বলেন, ‘আমরা আজ স্যাটেলাইট এবং ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স বা ওএসআইএনটি অর্থাৎ উন্মুক্ত উৎসের গোয়েন্দা ছবি থেকে দেখছি...হুতিরা সেনা ও সামরিক শক্তি সংগঠিত করছে।’

হুতিদের ঠেকাতে গিয়ে ইয়েমেনি বাহিনীর ভিন্ন চিত্র

মার্কিন কর্মসংস্থানে প্রবৃদ্ধি, স্বস্তিতে রিপাবলিকানরা

আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত সরকারি তথ্যে এ কথা জানানো হয়েছে। প্রত্যাশার চেয়ে ভালো এই ফল আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে স্বস্তি দিয়েছে। আগস্টে ১ লাখ ৬২ হাজার নতুন কর্মসংস্থান হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। বেকারত্বের হার অপরিবর্তিত থেকে ৪ দশমিক ১ শতাংশে রয়েছে বলে শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে ইউএস ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকস (বিএলএস)। রেস্তোরাঁ ও বার খাতে কর্মসংস্থান বেড়েছে। সরকারি স্কুলগুলোতেও এক মাস আগের সংকোচনের পর কর্মসংস্থান ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। প্রতিবেদনে জুন ও জুলাইয়ের কর্মসংস্থানের হিসাবও মোট ৫৫ হাজার বাড়িয়ে সংশোধন করা হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত মিলেছে। নতুন এই তথ্য ট্রাম্পের জন্য স্বস্তির খবর। আগামী নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে তার রিপাবলিকান পার্টি। বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির অবস্থা ভোটারদের কাছে নির্বাচনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। তবে এই খবর প্রকাশের পর শেয়ারবাজারে দরপতন হয়েছে। চলতি মাসের শেষ দিকে ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সুদের হার নির্ধারণী বৈঠকের দিকে এখন সবার নজর। কর্মসংস্থানে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি শ্রমবাজারের সুস্থ অবস্থার ইঙ্গিত দেয়। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার আরেকটি দায়িত্বের দিকে মনোযোগ দিতে পারে। সেটি হলো দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রায় রাখা। তবে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে ফেড এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি। জুলাইয়ে ভোক্তা মূল্যস্ফীতি ছিল ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। আগস্টের তথ্য আগামী সপ্তাহে প্রকাশিত হবে। ট্রাম্পের ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং তার গুরুত্বপূর্ণ শুল্কনীতির কারণে মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের ফলে জ্বালানির দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে। মে মাসে মূল্যস্ফীতি তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল। এরপর অবশ্য তা কমেছে। ফেডের কয়েকজন নীতিনির্ধারক ইঙ্গিত দিয়েছেন, আগস্টের তথ্য মূল্যস্ফীতি কমার ধারাবাহিকতা না দেখালে তারা সুদের হার বাড়ানোর পক্ষে থাকতে পারেন। কেপিএমজির প্রধান অর্থনীতিবিদ ডায়ান সোয়ঙ্ক এএফপিকে বলেন, আগস্টের তথ্য ‘আশ্বস্ত করার মতো।’তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘এক মাসের তথ্য কোনো প্রবণতা নির্ধারণ করে না।’ তিনি বলেন, ‘এই প্রতিবেদন থেকে বোঝা যাচ্ছে, শ্রমবাজার আবার চাঙ্গা হয়ে উঠছে। শ্রমবাজার এখন আরও শক্তিশালী। ফেডারেল রিজার্ভের জন্য এটি উদ্বেগের বিষয়। কারণ এখন চাহিদার পাশাপাশি সরবরাহজনিত ধাক্কাও রয়েছে।’ তবে শক্তিশালী কর্মসংস্থান প্রবৃদ্ধি শ্রমিকদের জন্য স্বস্তির খবর। যারা জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে চেষ্টা করছেন, তাদের জন্যও এটি একটি স্বস্তির খবর। বিএলএস জানায়, আগস্টে রেস্তোরাঁ ও বার খাতে ৫৯ হাজার কর্মসংস্থান বেড়েছে। গত এক বছরে এ খাতে মাসিক গড় কর্মসংস্থান বৃদ্ধির তুলনায় এটি অনেক বেশি। ওই সময়ে গড় বৃদ্ধি ছিল ১২ হাজার। স্থানীয় সরকার পরিচালিত শিক্ষা খাতে কর্মসংস্থান বেড়েছে ৪২ হাজার। এর বেশিরভাগই সরকারি স্কুল। গ্রীষ্মকালীন ছুটির কারণে আগের মাসে যে কর্মসংস্থান কমেছিল, এর বড় অংশই এতে পুষিয়ে গেছে। জানুয়ারি থেকে এ খাতে সামগ্রিক কর্মসংস্থানে নিট পরিবর্তন খুবই সামান্য। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে স্বাস্থ্যসেবা খাত। আগস্টে এ খাতে ১৩ হাজার কর্মসংস্থান বেড়েছে।

মার্কিন কর্মসংস্থানে প্রবৃদ্ধি, স্বস্তিতে রিপাবলিকানরা

হুতিদের ওপর হামলা চালাতে সৌদি যুবরাজের ফোন, ট্রাম্পের প্রত্যাখ্যান

সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস) গতকাল বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দুইবার ফোন করেছিলেন। এসব ফোনকলের উদ্দেশ্য ছিল ইয়েমেনে হুতিদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রকে হামলা চালানোর আহ্বান জানানো। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই মার্কিন কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে এই তথ্য জানান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী তখন লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব এল–মান্দেবের প্রবেশদ্বারের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল ঠিক সেই সময়েই এই ফোনকল হয়। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন—ট্রাম্প এমবিএসের ওই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আপাতত হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের কোনো পরিকল্পনা মার্কিন প্রশাসনের নেই। গতকাল বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের কৌশলগত উপকূলীয় শহর মোখা হুতিরা দখল করে নেওয়ার পর তেলের দাম বেড়ে যায়। এর ফলে তারা বাব এল-মান্দেব প্রণালির আরও কাছে চলে গেছে। এই প্রণালি বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং সৌদি আরবের তেল রপ্তানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এরই মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালির নৌ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে। এর পাশাপাশি বাব আল-মান্দাবের নিয়ন্ত্রণও যদি হুতিদের হাতে যায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার উপসাগরীয় মিত্রদের ওপর চাপ তৈরির জন্য তেহরান আরও একটি শক্তিশালী কৌশলগত হাতিয়ার পেতে পারে। ইয়েমেনে দ্রুত সংঘাত বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন। সরাসরি সামরিকভাবে জড়িয়ে না পড়ে সৌদি আরবকে সহায়তা আরও বাড়ানোর চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই ব্যক্তি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বৃহস্পতিবার জরুরি সমন্বয় বৈঠকে অংশ নিতে সৌদি আরব সফর করেছেন। সৌদি দূতাবাস ও হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হয় জুলাইয়ে। ওই সময় রিয়াদ ইরানের একটি বিমানকে সানা বিমানবন্দরে অবতরণের অনুমতি দেয়নি। বিমানটিতে হুতিদের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ছিলেন। তারা সাবেক ইরানি সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির শেষকৃত্য থেকে ইয়েমেনে ফিরছিলেন। এরপর এমবিএস ট্রাম্পের কাছে সানা বিমানবন্দরে হামলা চালানোর বিষয়ে রাজনৈতিক সমর্থন চান। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, এ হামলার জন্য সৌদি আরবের মার্কিন সামরিক সহায়তার প্রয়োজন নেই। ট্রাম্প তাকে সমর্থন জানান। এর জবাবে হুতিরা লোহিত সাগরে সৌদি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালায়। এতে সৌদি আরবের তেল রপ্তানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ হুমকির মুখে পড়ে। পরে হুতিরা সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতেও হামলা বাড়িয়ে দেয়। জবাবে সৌদি আরব ও তাদের ইয়েমেনি মিত্ররা হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা এবং স্থল অভিযান শুরু করে। হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের জন্য সৌদি আরবের এই অনুরোধ জুলাইয়ের অবস্থানের সঙ্গে বড় ধরনের পরিবর্তন। ওই সময় রিয়াদ ওয়াশিংটনকে জানিয়েছিল, তারা নিজেরাই হুতিদের মোকাবিলা করতে পারবে। তবে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ক্রমবর্ধমান মাত্রায় সহায়তা চাইতে শুরু করে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত সূত্রগুলো জানিয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা তাদের সৌদি কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, ট্রাম্পের নির্দেশ হলো মার্কিন বাহিনীকে ইরান ও হরমুজ প্রণালিতে কেন্দ্রীভূত রাখা এবং আরেকটি সামরিক ফ্রন্ট খোলা এড়িয়ে চলা। বৃহস্পতিবার হুতিরা উপকূলীয় শহর মোখার দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় এবং সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনী পিছু হটতে থাকলে এমবিএস ট্রাম্পকে ফোন করেন। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফোনে তিনি পরিস্থিতির অবনতির বিষয়ে ট্রাম্পকে অবহিত করেন। এর কয়েক ঘণ্টা পর এমবিএস আবারও ট্রাম্পকে ফোন করে হুতিদের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলার নির্দেশ দেওয়ার আহ্বান জানান। ট্রাম্প সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন। তবে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রশাসন সৌদি আরবকে হুতিদের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য এবং হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করবে। ওই কর্মকর্তা আরও জানান, সৌদি আরবে ইতোমধ্যে প্রায় ২০০ মার্কিন সামরিক সদস্য রয়েছেন। তারা সেখানে অ-সামরিক বা নন-কাইনেটিক সহায়তা দিচ্ছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন, ওয়াশিংটনের অগ্রাধিকার হলো লোহিত সাগরকে উন্মুক্ত রাখা এবং একই সঙ্গে বৃহত্তর সংঘাতের দায়িত্ব আঞ্চলিক অংশীদারদের ওপর ছেড়ে দেওয়া। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র তার মূল জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এর মধ্যে লোহিত সাগরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়টিও রয়েছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও সমাধানের ক্ষেত্রে আমরা আমাদের আঞ্চলিক অংশীদারদের নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা জোরদার করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বিষয়ে আমরা সৌদি আরব এবং ইয়েমেন প্রজাতন্ত্রের সরকারের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।’

হুতিদের ওপর হামলা চালাতে সৌদি যুবরাজের ফোন, ট্রাম্পের প্রত্যাখ্যান

‘নিজ দেশে ফিরুন’—যুক্তরাষ্ট্রের পোস্টার ঘিরে তীব্র বিতর্ক

‘নিজেদের দেশে ফিরে যান নতুবা পরিণতির জন্য তৈরি থাকুন’ যুক্তরাষ্ট্রের একটি নতুন প্রচারণামূলক পোস্টারে অভিবাসীদের শীর্ষক বার্তা দেওয়া নিয়ে অনলাইনে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। জনপ্রিয় চলচ্চিত্র সিরিজ ‘ট্রান্সফর্মার্স’-এর শৈলী অনুসরণে তৈরি এই পোস্টারে ‘মি. সিং’ নামটি ব্যবহার করে ভারতীয় ও দক্ষিণ এশীয়দের নিশানা করার অভিযোগ উঠেছে। পোস্টারটিতে সরাসরি বলা হয়েছে, ‘আমাদের রাস্তা থেকে সরে যান। মি. সিং, আপনি কীভাবে গাড়ি চালাতে হয় তা জানেন না।’ ঘটনাটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন দমন নীতির সময়ে সামনে এসেছে, যা নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিজস্ব অফিশিয়াল অ্যাকাউন্টে বিতর্কিত পোস্টারটির সমর্থনে বার্তা দিয়ে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ স্পষ্ট করেছে, দেশে শত্রুভাবাপন্ন মনোভাব নিয়ে প্রবেশকারীদের প্রতিহত করা হবে। একই সঙ্গে বিজ্ঞাপনে অবৈধ অভিবাসীদের তথ্য দেওয়ার জন্য নির্ধারিত একটি হেল্পলাইন নম্বরও প্রকাশ করা হয়েছে। এ ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশন বিষয়টিকে অন্যায্য জাতিগত প্রোফাইলিং হিসেবে আখ্যা দিয়েছে এবং এফবিআই কর্তৃক তদন্তের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা ফ্রাঞ্চাইজিটির পরিবেশক প্যারামাউন্ট পিকচার্সকেও বিষয়টি খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছে। বিষয়টির নিন্দা জানিয়ে ফক্স সেভেন নিউজের সংবাদ পাঠাক অ্যালেক নোলাও এটিকে সিং পদবিধারী মানুষদের জন্য অপমানজনক বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি তার দাদা ও প্রপিতামহের যুক্তরাষ্ট্রের কর্মজীবনের ঐতিহাসিক কথা উল্লেখ করে সরকারের এ ধরনের পোস্টারকে বর্ণবাদী ও নিচু মানসিকতার পরিচয় বলে অভিহিত করেন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এই উদ্যোগটি মূলত তাদের ‘সিবিপি হোম’ কর্মসূচির প্রচারণার অংশ, যার অধীনে স্বেচ্ছায় দেশত্যাগে ইচ্ছুক অবৈধ অভিবাসীদের যাত্রা খরচ এবং অতিরিক্ত দুই হাজার ছয়শত ডলার দেওয়া হচ্ছে। সূত্র: টাইমস নাউ

‘নিজ দেশে ফিরুন’—যুক্তরাষ্ট্রের পোস্টার ঘিরে তীব্র বিতর্ক

কংগ্রেস ধরে রাখলে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ট্রাম্পের

রিপাবলিকানরা নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিনকে পাঁচ হাজার ডলার করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। একইসাথে তিনি তার সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যেন ‘ধরে নেন’ যে, তিনি ব্যালটে রয়েছেন। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ডালাসে রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচনবিষয়ক সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, রিপাবলিকানরা জিতলে আপনারাও আমাদের সাথে জিতবেন এবং পাঁচ হাজার ডলার পাবেন। এটিকে ‘ট্রাম্প ডিভিডেন্ড’ বলা হবে। তবে এই অর্থ কোথা থেকে আসবে সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি। তাত্ত্বিকভাবে এই অর্থ প্রদানের মোট ব্যয় এক ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি হতে পারে। এ বিষয়ে ট্রাম্প শুধু বলেন, ‘আমাদের দেশ প্রচুর অর্থ আয় করছে।’ জনমত জরিপে পিছিয়ে থাকা সত্ত্বেও নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে- এমন প্রচেষ্টায় নিজের ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আপনাদের বলছি, ধরে নিন আমি ব্যালটে আছি।’ তিনি আরো বলেন, আমি ব্যালটে আছি, আমি ব্যালটে আছি- আর মাত্র একবার। জনমত জরিপগুলোতে দেখা যাচ্ছে, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার হার ৩০ শতাংশের ঘরে রয়েছে। উচ্চমূল্য ও ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নিয়ে ভোটারদের মধ্যে তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে। ডিসিশন ডেস্ক এইচকিউ-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, নভেম্বরে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদে ২৩০-২০৫ আসনে জয় পেতে পারে এবং সিনেটে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ৫১-৪৯ হতে পারে। ট্রাম্প অজনপ্রিয় ইরান যুদ্ধের পক্ষে জোরালো সাফাই গেয়েছেন। তিনি যুদ্ধে বিজয়ের পূর্বাভাস দেয়ার পাশাপাশি এর সাথে সরাসরি তেলের দাম কমার বিষয়টি যুক্ত করেন। একইসাথে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর নাম নিজের নামে পরিবর্তনেরও ইঙ্গিত দেন। ট্রাম্প বলেন, খাদ্যের দাম ও প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম দ্রুত কমছে আর ইরানের সাথে যুদ্ধে আমরা জয়ী হলেই তেলের দাম কমে যাবে। যুদ্ধটি এখন চলছে। সম্মেলনে অন্য রিপাবলিকানদের মতো ট্রাম্পও যুক্তরাষ্ট্রে কমিউনিজমের কথিত ঢেউয়ের হুমকি নিয়ে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, তারা জিতলে এটি একটি কমিউনিস্ট দেশে পরিণত হবে। ট্রাম্প আরো বলেন, ‘আপনাদের ভোটই সিদ্ধান্ত নেবে, আমাদের দেশ আগামী ২৫০ বছরের শুরুতে হোঁচট খাবে, নাকি সামনে এগিয়ে যাবে এবং আর কখনো পেছনে ফিরে তাকাবে না।’ বৃহস্পতিবার সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে আবারো বক্তব্য দেয়ার কথা রয়েছে ট্রাম্পের। এর আগে মূল বক্তব্য দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। মন্ত্রিসভার সদস্য, কংগ্রেসের নেতৃবৃন্দ এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীরাও সম্মেলনের কর্মসূচিতে রয়েছেন। সূত্র : বাসস

কংগ্রেস ধরে রাখলে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ট্রাম্পের

নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই মার্কিন ব্যাংকে ইরানের ৯০০ কোটি ডলার

২০২৪ সালে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৯০০ কোটি ডলার মার্কিন ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা সত্ত্বেও লেনদেন হয়েছে বলে এক তদন্তে উঠে এসেছে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরোক্ষভাবে বিদেশি ব্যাংকের মধ্যস্থতায় এই বিপুল অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকিং নেটওয়ার্কে প্রবেশ করেছে। প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৪ সালে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে স্থানান্তর হওয়া প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলারের ইরানি তহবিল শনাক্ত করেছে। এই অর্থ বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠান, শেল কোম্পানি ও মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্রের মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়। এমন সময়ে এই তথ্য সামনে এলো, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করেছে। ওয়াশিংটন সতর্ক করে দিয়েছে, তেহরানের সঙ্গে ব্যবসা করলে সংশ্লিষ্ট দেশ বা প্রতিষ্ঠানকে মার্কিন ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে রাখা হতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থপ্রবাহ সচল রাখতে ইরান বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করছে। দেশটির অর্থনীতির প্রধান আয়ের উৎস এখনও তেল খাত। যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণে তেল রপ্তানি সীমিত হলেও ইরানের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এখনও ট্যাংকারে মজুত রয়েছে। এর বড় অংশ এশিয়ার জলসীমায়, বিশেষ করে মালয়েশিয়ার আশপাশে সংরক্ষিত আছে। চীন বর্তমানে ইরানের সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা। দেশটি ইরানের মোট তেল রপ্তানির ৮০ শতাংশেরও বেশি গ্রহণ করে। জ্বালানি বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ক্লেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে চীন প্রতিদিন পাঁচ লাখ ব্যারেলের বেশি ইরানি তেল আমদানি করেছে। ইরান তেলের উৎস গোপন করতেও নানা পদ্ধতি ব্যবহার করছে। সমুদ্রে এক জাহাজ থেকে আরেক জাহাজে তেল স্থানান্তরের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ট্যাংকারের তেল অন্য উৎসের বলে দেখানো হয়। পরে চীনে পৌঁছালে সেই তেল ভিন্ন দেশের তেল হিসেবে নথিভুক্ত হতে পারে। জ্বালানি বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ভরটেক্সার হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে এশিয়ার জলসীমায় ভাসমান সংরক্ষণাগারে প্রায় ৮ কোটি ব্যারেল ইরানি অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে। যার বাজারমূল্য কয়েক বিলিয়ন ডলার হতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চীনের সঙ্গে বাণিজ্যে ইরান ধীরে ধীরে মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমিয়েছে। চীনা ক্রেতাদের সঙ্গে তেল বাণিজ্যের লেনদেন এখন অনেক ক্ষেত্রে চীনা মুদ্রা ইউয়ানে সম্পন্ন হচ্ছে। এই ইউয়ান ব্যবহার করে ইরান চীনা পণ্য ও সেবা কিনছে। কিছু ক্ষেত্রে অবকাঠামো প্রকল্পের বিনিময়েও তেল দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ক্রিপ্টোকারেন্সিও ব্যবহার করছে তেহরান। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, বাণিজ্য পরিচালনা এবং অস্ত্রসহ বিভিন্ন পণ্য সংগ্রহে ইরান বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করেছে। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) চীনা ক্রেতাদের কাছ থেকে তেলের মূল্য গ্রহণের ক্ষেত্রেও ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ ব্যবহার করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আমদানি ব্যয়, সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় এবং আঞ্চলিক মিত্রদের সহায়তার জন্য ইরানের এখনও মার্কিন ডলার ও অন্যান্য প্রধান মুদ্রার প্রয়োজন রয়েছে। এ কারণে হংকং ও দুবাইয়ের মতো আন্তর্জাতিক আর্থিক কেন্দ্রে শেল কোম্পানি ও মানি এক্সচেঞ্জ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে তেহরান। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তেল রপ্তানি ও অন্যান্য বাণিজ্যিক আয়কে ডলার, ইউরো ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহামে রূপান্তর করা হয়। একই সঙ্গে অর্থের সঙ্গে ইরানের সংশ্লিষ্টতাও আড়াল করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক নানা নিষেধাজ্ঞা বসিয়ে এই অর্থপ্রবাহ লাগাম টানার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচ্ছিন্নভাবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যাংক বা কোম্পানির ওপর ব্যবস্থা নিয়ে পুরো আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক অচল করা সম্ভব হচ্ছে না।

নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই মার্কিন ব্যাংকে ইরানের ৯০০ কোটি ডলার
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream