বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
এআই সামলাতে ট্রাম্পের ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স’

এআই সামলাতে ট্রাম্পের ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স’

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে কাজ করার জন্য এক নতুন টাস্কফোর্স গঠন করেছেন বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন। বাহিনীর নাম হবে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স।’ এর নেতৃত্ব দেবেন ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক জে ক্লেটন। স্থানীয় সময় গতকাল রোববার ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজ মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এই ঘোষণা দেন। পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স’–এর কাজ হবে এই প্রযুক্তির উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্র যাতে নেতৃত্ব ধরে রাখতে পারে তা নিশ্চিত করা এবং এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে জনসাধারণের সম্পৃক্ততা সমন্বয় করা। এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে এআই-এর নাম পরিবর্তন করে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ করার নির্দেশ দেন। এর আগে তিনি বলেছিলেন, ‘artificial’ বা ‘কৃত্রিম’ শব্দটি প্রযুক্তিটিকে ‘নকল’ বলে মনে করায়। ট্রাম্প গত সপ্তাহে আরও বলেছিলেন, এআই-এর নিরাপত্তা তদারকির জন্য তিনি একটি বোর্ড গঠন করবেন। শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানির কর্মকর্তারা তাঁর ভাষায় ‘নৈতিকভাবে বাধ্যতামূলক’ চুক্তিতে স্বাক্ষর করার পর তিনি এই ঘোষণা দেন। ট্রাম্প লিখেছেন, ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স (মার্কিন) ফেডারেল সরকারের পক্ষ থেকে ভোক্তা, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী, ধর্মীয় সংগঠন, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সরবরাহকারী এবং সুপার ইন্টেলিজেন্স কোম্পানিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা সমন্বয় করবে।’ টাস্কফোর্সে আরও থাকবেন—ফেডারেল ট্রেড কমিশনের চেয়ারম্যান অ্যান্ড্রু ফার্গুসন, গবেষণা ও প্রকৌশলবিষয়ক প্রতিরক্ষা উপসচিব এমিল মাইকেল এবং অফিস অব পার্সোনেল ম্যানেজমেন্টের পরিচালক স্কট কুপার। টাস্কফোর্সটি সরাসরি প্রেসিডেন্ট এবং হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলসের কাছে প্রতিবেদন দেবে। প্রযুক্তিটির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করার জন্য শিল্পখাতের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের, যার মধ্যে ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের কর্মকর্তারাও রয়েছেন, ক্রমবর্ধমান চাপের পর এই ঘোষণা এল। গত ৪ অক্টোবর প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান বলেন, এআই-এর সুবিধাগুলো এর কিছু ঝুঁকি মেনে নেওয়ার যৌক্তিকতা তৈরি করে। তিনি যুক্তি দেন, প্রযুক্তিটি সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকা উচিত। অল্টম্যান মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর প্রযুক্তিবিষয়ক নিউজলেটার ‘ডিকোডেড’কে বলেন, ‘এই প্রযুক্তির সুবিধা এবং মানুষের নিজেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতার জন্য পৃথিবীর কিছু খারাপ ঘটনা ঘটার বিষয় মেনে নেওয়া উচিত।’ আরও কঠোর নজরদারির আহ্বান ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং মূলত এআই কোম্পানিগুলোকেই নিজেদের নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব দিয়ে রেখেছেন। ২৯ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষরিত ওই চুক্তিতে ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিক, স্পেসএক্স ও গুগলের মতো শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের স্বাক্ষর রয়েছে। একই দিনে প্রেসিডেন্ট একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। এতে মার্কিন সরকারের বিভিন্ন বিভাগ ও সংস্থাকে ‘এসআই’ এবং ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শব্দ ব্যবহার শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ শব্দটি আর ব্যবহার করা যাবে না বলে নির্দেশ দেওয়া হয়। আদেশে বলা হয়, সরকারি চিঠিপত্র, ওয়েবসাইট, প্রতিবেদন এবং অন্যান্য যোগাযোগের ক্ষেত্রে এআই-এর পরিবর্তে এসআই ব্যবহার করা হবে। তবে কিছু বিশেষজ্ঞ এই নাম পরিবর্তনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের যুক্তি, ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শব্দটি আরও উন্নত ধরনের ব্যবস্থাকে বোঝায়, ফলে এই নাম ব্যবহার করলে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। শীর্ষ প্রযুক্তি নেতাদের কয়েকজন ইতোমধ্যে নতুন নাম ব্যবহার শুরু করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বহু বিলিয়ন ডলারের সম্পদের মালিক ইলন মাস্ক। তিনি রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তাঁর প্রতিষ্ঠানের এআই প্ল্যাটফর্ম স্পেসএক্সএআই-এর নাম পরিবর্তন করে স্পেসএক্সএসআই করা হবে।

নিজেদের নীতিতেই বিশ্বে একা হয়ে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্র, জানালেন ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের নীতির কারণেই বিশ্বে অনেকটা একা হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এবং চীনের ক্রমবর্ধমান শক্তি বিশ্ব রাজনীতির চিত্র বদলে দিচ্ছে।৬২তম মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিযোগিতা, উন্নয়নশীল ও মধ্যম শক্তির দেশগুলোর নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নতুন নতুন অংশীদারত্ব তৈরির প্রবণতার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে।তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এর পাশাপাশি চীনের উত্থানও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। এই পুনর্বিন্যাসকে একটি ইচ্ছাকৃত অবস্থান উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজের ইচ্ছাতেই নিঃসঙ্গ শক্তিতে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার দ্বিতীয় প্রধান বৈশিষ্ট্য হিসেবে চীনের উত্থানকে চিহ্নিত করে জয়শঙ্কর দেশটির অর্থনৈতিক ক্ষমতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিশ্ব প্রস্তুতকারক খাতের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পরিচালনা করছে চীন, যা তাদের রাজনৈতিক প্রভাব বাড়াতে সহায়তা করছে। বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র-চীন তীব্র প্রতিযোগিতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজকের এই প্রতিযোগিতা কেবল এই দুটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং কোনও দেশের হাতে থাকা যেকোনও প্রভাবকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের দিকে ঠেলে দিয়েছে। পাশাপাশি বিকাশমান ও মাঝারি শক্তির দেশগুলোর আত্মসচেতনতা বাড়ার কথা উল্লেখ করে জয়শঙ্কর বলেন, তারা এখন অধিকতর স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করছে। ভারতের ‘আত্মনির্ভর’ ধারণার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, এই দেশগুলো এখন সরবরাহ শৃঙ্খল আরও শক্তিশালী করছে এবং নিজেদের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার বাইরে গিয়ে অংশীদারত্বের বৈচিত্র্যায়ন ও ঝুঁকি কমানোর নীতি গ্রহণ করছে। জয়শঙ্কর জোর দিয়ে বলেন, একসঙ্গে কাজ করার জন্য প্রতিটি বিষয়ে দেশগুলোর মধ্যে পূর্ণ ঐকমত্যের প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, যে দিনগুলোতে সব বিষয়ে অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি বা স্বার্থের শক্তিশালী মিল থাকতে হতো, সেই দিনগুলোর মাপকাঠি আজকের দিনে অনেক বেশি উঁচু। পর্যাপ্ত সাধারণ ভিত্তি বা লক্ষ্য থাকলেই দেশগুলোর একসঙ্গে কাজ করার জন্য তা যথেষ্ট। উদীয়মান শক্তিগুলোর বিভিন্ন সহযোগিতার উদাহরণ হিসেবে তিনি কোয়াড, ইন্ডিয়া-মিডল ইস্ট-ইউরোপ ইকোনমিক করিডোর, ইন্টারন্যাশনাল নর্থ-সাউথ ট্রান্সপোর্ট করিডোর এবং ব্রিকস-এর কথা উল্লেখ করেন। ব্রিকস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্রিকস এমন এক পক্ষগুলোর একত্রিত হওয়ার উদাহরণ, যারা মনে করে তাদের ব্যক্তিগত কণ্ঠস্বরের চেয়ে যৌথ কণ্ঠস্বর অনেক বেশি শক্তিশালী। এসব নমনীয় অংশীদারত্বের মাধ্যমেই আজকের পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক ব্যবস্থা গড়ে উঠছে বলে জানান তিনি। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

নিজেদের নীতিতেই বিশ্বে একা হয়ে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্র, জানালেন ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী

‘এই সংঘাতের কোনো সামরিক সমাধান নেই’: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পারস্পরিক আলোচনা, ন্যায়বিচার ও কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমেই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের সমাধান সম্ভব বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেছেন, এই সংঘাতের কোনো সামরিক সমাধান নেই। শুধু ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেও যুদ্ধের সমাধান করা সম্ভব নয়।রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানায়, তেহরানে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন আব্বাস আরাগচি।তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান সংঘাত সামরিক উপায়ে সমাধান করা যাবে না। একইভাবে, ইরানের ওপর অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা দিয়েও এর সমাধান সম্ভব নয়।ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, পারস্পরিক আলোচনা, ন্যায়বিচার ও কূটনৈতিক পদক্ষেপের ভিত্তিতে নেওয়া সিদ্ধান্তই বর্তমান পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে পারে। এর মাধ্যমে চলমান যুদ্ধ এবং ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনেরও শেষ হতে পারে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য নিজেদের শর্তে অনড় থাকার কথা জানিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার ও শীর্ষ আলোচক মোহাম্মাদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, তেহরানের সাত দফা শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ বন্ধই থাকবে। গালিবাফ জানান, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরান সাত দিনের একটি রোডম্যাপ প্রস্তাব করার পর যুক্তরাষ্ট্র একজন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে তেহরানের কাছে কিছু প্রস্তাব পাঠিয়েছে। তবে এসব প্রস্তাবের পরও ইরানের অবস্থানে কোন পরিবর্তন আসেনি। তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের বোঝা উচিত- একতরফা দাবি চাপিয়ে দিয়ে সময়ক্ষেপণের দিন শেষ হয়ে গেছে। ইরানের অবস্থান এখনও ‘স্পষ্ট ও চূড়ান্ত’। গালিবাফের ভাষায়, ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’-এর ভিত্তিতে নির্ধারিত সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খোলা হবে না। ইরানের শীর্ষ আলোচকের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন যুদ্ধ অবসানের জন্য তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা চলছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন হওয়ায় এর দীর্ঘস্থায়ী বন্ধাবস্থা আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাসের বাজারে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপে ইরান ‘উচ্ছ্বসিত’ও নয়, আবার ‘ভীত’ও নয়। তেহরান একই সঙ্গে যুদ্ধ এবং কূটনীতি- দুই পথেই এগিয়ে যাবে। তিনি বলেন, সামরিক ক্ষেত্রে ইরান সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই চালিয়ে যাবে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন নতুন চমকের মুখোমুখি করবে। একই সঙ্গে কূটনৈতিক হাতিয়ার ব্যবহার করে সামরিক ক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করা এবং ইরানি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালানো হবে।সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল, আল-জাজিরা, আনাদোলু এজেন্সি

‘এই সংঘাতের কোনো সামরিক সমাধান নেই’: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বিশ্ববাজারে তেলের দামে লাগাম টানতে জি৭-এর বড় উদ্যোগ

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় জরুরি মজুত থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও ডিজেল বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি৭। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের পর জোটটি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) সমন্বয়ে চার মাসে প্রায় ১০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়বে। পাশাপাশি প্রথম ২০ দিনেই বড় পরিমাণ ডিজেল সরবরাহ করা হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগের ফলে স্বল্পমেয়াদে তেল ও বিশেষ করে ডিজেলের দাম কিছুটা কমতে পারে। তবে এতে বিশ্ববাজারের সরবরাহ ঘাটতির মূল সমস্যা পুরোপুরি সমাধান হবে না। তাই দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানির দাম স্থিতিশীল রাখতে আরও বড় ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হতে পারে। কেন এত বাড়ছে তেল ও ডিজেলের দাম? বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির পেছনে মূলত মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের দুটি যুদ্ধ বড় ভূমিকা রাখছে। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। একই সময়ে ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনা ও শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্ববাজারে সরবরাহ আরও কমেছে। ফলে অপরিশোধিত তেলের পাশাপাশি ডিজেলের বাজারেও তৈরি হয়েছে বড় ধরনের চাপ। ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের জলবায়ু ও পণ্যবাজার অর্থনীতিবিদ হামাদ হুসেইন বলেন, জি৭-এর জরুরি মজুত ছাড়ার সিদ্ধান্ত বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ডিজেলের দামে কিছুটা নিম্নমুখী চাপ তৈরি করতে পারে। তবে এটি সাময়িক সমাধান হওয়ায় সরবরাহ সংকটের কারণে সৃষ্ট সমস্যার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হবে না। গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে ব্যারেলপ্রতি ৪ ডলারের বেশি বেড়ে যায়। এর আগেই ডিজেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল। যুক্তরাষ্ট্রে গত শুক্রবার এক গ্যালন (৩ দশমিক ৭৯ লিটার) ডিজেলের গড় দাম দাঁড়ায় ৬ দশমিক ৫০ ডলার। এক মাস আগে যা ছিল ৫ দশমিক ৬১ ডলার। কী ঘোষণা দিয়েছে জি৭? ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সভাপতিত্বে জি৭ নেতাদের ভিডিও বৈঠকের পর জোটটি জানায়, আইইএ’র মাধ্যমে সমন্বিতভাবে ১০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়া হবে। এর আগে আইইএ’র নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল জানিয়েছিলেন, ৪০ কোটি ব্যারেল জরুরি মজুত ছাড়ার যে সমঝোতা হয়েছিল, তার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ইতোমধ্যে সদস্য দেশগুলো বাজারে ছেড়েছে। নতুন কর্মসূচির আওতায় জি৭-এর তেল মজুত ছাড়ার প্রক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে শুরু হবে এবং চার মাস চলবে। এর মধ্যে প্রথম ২০ দিনেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডিজেল বাজারে ছাড়া হবে। তবে কোন দেশ কত পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও ডিজেল ছাড়বে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। জি৭ জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে আরও ডিজেল মজুত ছাড়ার বিষয়েও আইইএ’র মাধ্যমে আলোচনা হবে। এছাড়া জোটভুক্ত দেশগুলো নিজেদের মধ্যে জ্বালানি পণ্য রফতানিতে বিধিনিষেধ না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে জি৭ দেশগুলোর তেল শোধনাগারগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে একই সময়ে একাধিক শোধনাগার বন্ধ হয়ে বাজারে সরবরাহ আরও কমে না যায়। ডিজেলের সংকট কেন এত তীব্র? বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহ কমে যাওয়ার পেছনে তিনটি প্রধান কারণের কথা জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার তেল শিল্প ও বাজার বিভাগের সাবেক প্রধান নিল অ্যাটকিনসন। প্রথমত, মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপে ডিজেল সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ইউরোপ আগে সৌদি আরব ও কুয়েত থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল আমদানি করত। দ্বিতীয়ত, ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার বিভিন্ন তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রাশিয়া ডিজেল রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে। তৃতীয়ত, চীনও ডিজেল রফতানি কমিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে ডিজেলের চাহিদা এখনও তুলনামূলকভাবে বেশি। বিশেষ করে কৃষিপণ্যের মৌসুমি সংগ্রহ বা ফসল কাটার সময় ডিজেলের চাহিদা আরও বেড়ে যায়। তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে বড় ডিজেল উৎপাদক ও রফতানিকারক। দেশটি বছরে প্রায় ২৪ কোটি ৫ লাখ টন ডিজেল উৎপাদন করে এবং প্রতিদিন প্রায় ১২ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল ডিজেল রফতানি করে। রাশিয়া বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ডিজেল রফতানিকারক। দেশটি প্রতিদিন প্রায় ৭ লাখ ৮৩ হাজার ৪০০ ব্যারেল ডিজেল আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করে। অন্যদিকে সৌদি আরব বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ডিজেল উৎপাদক হলেও দেশটির উৎপাদনের বড় অংশ অভ্যন্তরীণ বাজারেই ব্যবহৃত হয়। জি৭-এর উদ্যোগে কি দাম কমবে? জি৭-এর ঘোষণা আসার পর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সাময়িকভাবে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে নেমে যায়। পরে আবার তা প্রায় ১০২ ডলারে উঠে আসে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, জরুরি মজুত থেকে তেল ছাড়ার ফলে বিশেষ করে ডিজেলসহ বিভিন্ন পেট্রোলিয়াম পণ্যের দাম কমতে পারে। জায়ে ক্যাপিটাল মার্কেটসের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা নাইম আসলামও মনে করেন, জি৭-এর উদ্যোগটি বাজারের ওপর তৈরি চাপ কমাতে প্রয়োজনীয় ছিল। তবে তার মতে, কোন দেশ কত মজুত ছাড়বে এবং কোথায় রফতানি নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে- এসব বিষয়ে বিস্তারিত কাঠামো বাজারের প্রতিক্রিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তার ধারণা, সপ্তাহের শেষ দিকে জ্বালানি বাজারের ওপর চাপ কিছুটা কমতে পারে। তবে পরবর্তী কর্মদিবসে বাজার আবার বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। নিল অ্যাটকিনসনের মতে, জরুরি মজুত থেকে জ্বালানি ছাড়ার উদ্যোগ স্বাগত জানানোর মতো হলেও এতে বিশ্ববাজারের মৌলিক সমস্যা সমাধান হচ্ছে না। কারণ যুদ্ধ শুরুর কয়েক মাস পরও বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ডিজেলের দাম বাড়লে কেন সবকিছুর দাম বাড়ে? ডিজেলের দাম বাড়ার প্রভাব শুধু পরিবহন খাতে সীমাবদ্ধ থাকে না। কারণ বিশ্বের অর্থনীতির বড় একটি অংশ সরাসরি ডিজেলনির্ভর। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক কাউন্সিলের অনাবাসিক জ্যেষ্ঠ ফেলো ফ্রেডেরিক শ্নাইডারের মতে, পেট্রল মূলত ব্যক্তিগত গাড়িতে ব্যবহৃত হলেও ডিজেল ব্যবহার হয় ট্রাক, মালবাহী ট্রেন, জাহাজ, ট্রাক্টর, ফসল কাটার যন্ত্র, নির্মাণ ও খনিশিল্পের যন্ত্রপাতি এবং জরুরি বিদ্যুৎ উৎপাদনের জেনারেটরে। ফলে ডিজেলের দাম বেড়ে গেলে পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয় একসঙ্গে বাড়ে। এর প্রভাব পড়ে খাদ্য, নির্মাণসামগ্রী এবং ট্রাকে পরিবহন করা প্রায় সব ধরনের পণ্যের দামে। কৃষকেরা এ ক্ষেত্রে দ্বিগুণ চাপের মুখে পড়ছেন। একদিকে ডিজেলের দাম বাড়ছে, অন্যদিকে সারও ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে উভয় পণ্যের সরবরাহ ও দামে চাপ তৈরি হয়েছে। অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, ডিজেলের উচ্চ দাম কার্যত উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত করের মতো কাজ করে। এতে একদিকে মূল্যস্ফীতি বাড়ে, অন্যদিকে পরিবহন ও কৃষিখাতের মুনাফা কমে যায়। ফলে অর্থনীতিতে ‘স্ট্যাগফ্লেশন’ বা একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি ও দুর্বল প্রবৃদ্ধির ঝুঁকিও বাড়তে পারে। ট্রাম্পের ওপরও বাড়ছে চাপ যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়া ট্রাম্প প্রশাসনের জন্যও রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করেছে। নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে থাকায় জ্বালানির বাড়তি দাম ভোটারদের ওপর কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে রিপাবলিকানদের মধ্যেও উদ্বেগ রয়েছে। গত সপ্তাহে ট্রাম্প ইউক্রেনকে রাশিয়ার ডিজেল ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানান। এরপর বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলোকে জরুরি ডিজেল মজুত বাজারে ছাড়ার আহ্বান জানাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও ইউরোপকে দ্রুত জরুরি মজুত ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছিলেন। এমনকি ইউরোপ মজুত না ছাড়লে যুক্তরাষ্ট্র ডিজেল রফতানি নিষিদ্ধ করতে পারে বলেও ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন। তবে শুক্রবার তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ডিজেল রফতানি বন্ধ করবে না। তার ভাষ্য, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবে কখনোই চূড়ান্ত পরিকল্পনার অংশ ছিল না। জি৭-এর ঘোষণার পর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, ইউরোপ বিপুল পরিমাণ মজুত ডিজেল বাজারে ছাড়তে সম্মত হয়েছে এবং প্রক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে শুরু হবে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড উচ্চ ডিজেলের দাম মোকাবিলায় ট্রাম্প প্রশাসন একটি নির্বাহী আদেশ জারির প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। সামনে কী হতে পারে? বিশ্লেষকদের মতে, জি৭-এর জরুরি মজুত ছাড়ার সিদ্ধান্ত স্বল্পমেয়াদে বাজারে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। বিশেষ করে ডিজেলের সরবরাহ বাড়লে পরিবহন, কৃষি ও শিল্প খাতে তাৎক্ষণিক চাপ কিছুটা কমতে পারে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ অব্যাহত থাকা, হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে জ্বালানি পরিবহনে বাধা, রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় ইউক্রেনের হামলা এবং চীনের ডিজেল রফতানি কমে যাওয়ার মতো বিষয়গুলো অব্যাহত থাকলে বাজারের মৌলিক সরবরাহ সংকট থেকেই যাবে। অর্থাৎ জরুরি মজুত থেকে তেল ছাড়ার ফলে বাজারে সাময়িক স্বস্তি এলেও বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম স্থায়ীভাবে কমানোর জন্য যুদ্ধজনিত সরবরাহ সংকটের সমাধানই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সূত্র: আল-জাজিরা

বিশ্ববাজারে তেলের দামে লাগাম টানতে জি৭-এর বড় উদ্যোগ

ক্যাম্প ডেভিডে গোপন বৈঠক, ইরানে বড় অভিযানের ভাবনা ট্রাম্পের

ইরান যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা থমকে যাওয়ার পর দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করার কথা বিবেচনা করছেন। এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণে প্রেসিডেন্টের অবকাশ যাপনকেন্দ্র ক্যাম্প ডেভিডে গত শুক্রবার কয়েক ঘণ্টা ধরে গোপন বৈঠক করেছেন তাঁর শীর্ষ মন্ত্রিসভার সদস্যরা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে তিন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বৈঠকে ইরান যুদ্ধের পাশাপাশি ইয়েমেনে সৌদি আরব ও হুতিদের সংঘাত নিয়েও আলোচনা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, হোয়াইট হাউসের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এবং অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট উপস্থিত ছিলেন। ট্রাম্প প্রশাসন বৈঠকটির কথা প্রকাশ্যে ঘোষণা করেনি। ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার কয়েক দিন আগে একই ধরনের একটি বৈঠক হয়েছিল। বৈঠকে অংশ নেওয়া এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নিয়ে ‘কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, অথবা অন্তত গভীরভাবে আলোচনা করা হয়েছে।’ হোয়াইট হাউস বৈঠক নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ইরানকে চুক্তিতে রাজি হওয়ার জন্য চাপ দিয়ে বলেন, ‘এখন আমাকে একটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে: হয় ইরান চুক্তিতে সই করবে, নয়তো আর অস্তিত্ব থাকবে না।’ পরে শুক্রবার বিকেলে ক্যাম্প ডেভিডে তাঁর উপদেষ্টাদের বৈঠকের সময় সাংবাদিকেরা ট্রাম্পকে ইরান নিয়ে তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি যদি আপনাদের বলে দিই, তাহলে আপনাদের বড় একটি খবর হয়ে যাবে। তবে আপনারা দেখতে পাবেন। বিষয়টি খুব ভালোভাবে এগোচ্ছে। ইরানের অবস্থা ভালো নয়।’ ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকে ইরান হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ করে রেখেছে। এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বন্দরগুলোর বিরুদ্ধে পাল্টা অবরোধ বজায় রেখেছে। এদিকে ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের পরিকল্পিত সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রকে যুক্ত করার জন্য ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ছে। সৌদি আরব হুতিদের বিরুদ্ধে মার্কিন বিমান হামলার আহ্বান জানিয়েছে। ট্রাম্প এখন পর্যন্ত এ ধরনের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার দিকেই ঝুঁকেছেন। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তিনি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারেন।

ক্যাম্প ডেভিডে গোপন বৈঠক, ইরানে বড় অভিযানের ভাবনা ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের আশঙ্কায় প্রস্তুতি কানাডার

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ হলেও দেশটির সম্ভাব্য সামরিক হামলা মোকাবিলায় কানাডা প্রস্তুতি নিচ্ছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, ঝুঁকি খুব কম হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের পরিবর্তিত বাস্তবতায় সব ধরনের সম্ভাবনা বিবেচনায় নেওয়া সরকারের দায়িত্ব।  সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমসকে কার্নি বলেন, এটি মূলত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার অংশ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি এবং কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ করার বারবার মন্তব্যের পর দুই দেশের সম্পর্ক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে। ২০২৫ সালে ট্রাম্প বলেছিলেন, কানাডার বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা প্রায় নেই। রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে তিনি অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখার কথা বলেছিলেন। চলতি সপ্তাহে হোয়াইট হাউসও বিবিসিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কানাডার জনগণের সুরক্ষায় ট্রাম্প অন্য যেকোনো প্রেসিডেন্টের চেয়ে বেশি করেছেন। তবে কানাডার সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধের সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোর সদস্য এবং উত্তর আমেরিকার আকাশ ও আর্কটিক অঞ্চলের প্রতিরক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। নর্থ আমেরিকান অ্যারোস্পেস ডিফেন্স কমান্ডের (নোরাড) আওতায় দুই দেশ যৌথ প্রতিরক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্যও বিনিময় করে। রয়্যাল কানাডিয়ান এয়ার ফোর্সে ৩৪ বছর দায়িত্ব পালন করা সাবেক লেফটেন্যান্ট-জেনারেল ক্রিস্টোফার কোটস বলেন, তাঁর পুরো সামরিক জীবনে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড থেকে কানাডার ওপর হামলার সম্ভাবনা বিবেচনা করতে হয়নি। তাঁর মতে, দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার কারণে এমন যুদ্ধ অত্যন্ত জটিল ও প্রায় অকল্পনীয়। তবে কোটসের মতে, যুক্তরাষ্ট্র কখনো আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নিলে তা সরাসরি সামরিক হামলা দিয়ে শুরু নাও হতে পারে। সাইবার হামলা বা অন্য কোনো পদ্ধতিতে চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ইতিহাসে অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সম্পর্ক সবসময় এতটা ঘনিষ্ঠ ছিল না। ১৭৭৫ সালে আমেরিকান বাহিনী মন্ট্রিয়েল দখল করেছিল এবং কুইবেক সিটি দখলেরও চেষ্টা করেছিল। পরে ১৮১২ সালের যুদ্ধে তৎকালীন কানাডার বিভিন্ন অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী হামলা চালায়। ওই যুদ্ধের সময় ব্রিটিশ বাহিনী পাল্টা আক্রমণে ওয়াশিংটনে গিয়ে হোয়াইট হাউস পুড়িয়ে দেয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরও যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান শক্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কানাডা সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েছিল। কানাডার সামরিক কর্মকর্তারা তখন পর্যটকের ছদ্মবেশে সীমান্তবর্তী মার্কিন শহরগুলো ঘুরে সেতু, মহাসড়ক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতিতেও কানাডা সামরিক প্রস্তুতির ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করছে। একটি সামরিক মডেল অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণ করলে কানাডার গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থানগুলো এক সপ্তাহের মধ্যেই দখলে চলে যেতে পারে। এরপর কানাডীয় বাহিনীকে গেরিলা-ধাঁচের প্রতিরোধে যেতে হতে পারে এবং ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মতো মিত্রদের সহায়তা চাইতে হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও এমন যুদ্ধ সহজ হবে না। কানাডার সঙ্গে দীর্ঘদিনের সামরিক সহযোগিতা এবং দুই দেশের সেনাদের পারস্পরিক সম্পর্কের কারণে মার্কিন সামরিক বাহিনীর মধ্যেও এমন অভিযানের রাজনৈতিক ও নৈতিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। কানেকটিকাটের ইউনিভার্সিটি অব নিউ হ্যাভেনের জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ম্যাথিউ শ্মিটের মতে, যুদ্ধ শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র কানাডার তেল ও খনিজসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদের নিয়ন্ত্রণ এবং দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্বকে দ্রুত অচল করার দিকে নজর দিতে পারে। তবে তিনি মনে করেন, কানাডার সেনারা সংখ্যাগত ও সামরিক সক্ষমতায় পিছিয়ে থাকলেও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হবে। কানাডায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আশঙ্কা সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি করেছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে লেজার পরিচালিত এক জরিপে ৩০ শতাংশের বেশি কানাডীয় জানিয়েছিলেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা করছেন। কানাডার জন্য এমন প্রস্তুতি তাই সরাসরি যুদ্ধের পূর্বাভাস নয়। বরং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের বর্তমান অনিশ্চয়তার মধ্যে সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলোকে সামরিক পরিকল্পনার আওতায় আনারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের আশঙ্কায় প্রস্তুতি কানাডার

হরমুজ নিয়ে ‘খেলা’ চললে ট্রাম্পের হাতে সব বিকল্প: হেগসেথ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইরান হরমুজ প্রণালি নিয়ে ‘খেলা’ চালিয়ে গেলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে প্রয়োজনীয় সব বিকল্পই রয়েছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ‘অটুট’ রয়েছে।  হেগসেথ শনিবার সাংবাদিকদের বলেন, ইরান হরমুজ প্রণালির মতো বিষয় নিয়ে গেম খেলতে চায়। এটি তাদের নিয়ন্ত্রণে নেই, আমাদের নিয়ন্ত্রণে।’ তিনি আরও বলেন, তারা আক্ষরিক অর্থেই কিছুই পার করতে পারেনি। আমাদের অবরোধ অটুট রয়েছে এবং প্রতিরাতেই যুদ্ধের আগের সময়ের কাছাকাছি মাত্রায় এর মধ্য দিয়ে পণ্য পরিবহন হচ্ছে। হেগসেথ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে তারা ‘খুব শক্তিশালী অবস্থানে’ রয়েছে। ইরানকে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তা না হলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতে প্রয়োজনীয় সব বিকল্পই থাকবে। তিনি বলেন, তবে তিনি এসব বিষয় অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘায়িত হতে দেবেন না। তিনি জানেন মিশন কী এবং প্রয়োজন হলে আমরা তা সম্পন্ন করতে পারি। এদিকে ইরান যাতে কখনও পারমাণবিক অস্ত্র না পায়, সে বিষয়ে ট্রাম্প ‘দৃঢ়প্রতিজ্ঞ’ বলেও জানিয়েছেন হেগসেথ। তিনি বলেন, বার্তাটি খুবই সহজ: ইরান কখনোই কোনও পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যে তাদের কাছে এটি নেই; থাকবেও না।

হরমুজ নিয়ে ‘খেলা’ চললে ট্রাম্পের হাতে সব বিকল্প: হেগসেথ

ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার আগেই স্থগিত মৃত্যুদণ্ড

এক নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার মাত্র এক ঘণ্টা আগে যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে তা স্থগিত করা হয়েছে। টেনেসির একমাত্র নারী ক্রিস্টা গেইল পাইক ছিলেন , যার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে যাচ্ছিল। গত দুই শতাব্দীতে ওই অঙ্গরাজ্যে কোনো নারীর সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর হয়নি।দেশের সুপ্রিম কোর্ট তার আপিল খারিজ করে দেওয়া এবং গভর্নর ক্ষমা করতে অস্বীকৃতি জানানোর পর বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিষাক্ত ইনজেকশনের মাধ্যমে দণ্ড কার্যকর করার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ষষ্ঠ সার্কিট আপিল আদালত দণ্ডটি স্থগিত করে। বিচারপতিরা বলেছেন, মামলাটি আরও বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা দরকার। স্থগিতাদেশ কতদিন বহাল থাকবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।টেনেসিতে সাধারণত বিষাক্ত ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তবে এই পদ্ধতি দীর্ঘ ও যন্ত্রণাদায়ক বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে ক্রিস্টা চেয়েছিলেন সম্পূর্ণ নারীদের নিয়ে গঠিত ফায়ারিং স্কোয়াডের গুলিতে তার দণ্ড কার্যকর হোক।১৮ বছর বয়সে এক সহপাঠীকে হত্যার অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এরপর থেকে ৩২ বছর ধরে তিনি কারাগারে আছেন।সূত্র: আলজাজিরা

ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার আগেই স্থগিত মৃত্যুদণ্ড

গত শাসনামলে সাড়ে ৪ হাজারের বেশি মানুষ বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার: আইনমন্ত্রী

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, ‘গত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে এ দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন ও সংবিধানের পক্ষে অবস্থান নেওয়া ৪ হাজার ৫০০-রও বেশি ভিন্নমতাবলম্বী বা রাজনৈতিক কর্মী বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন।’ আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আবদুস সালাম, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। আইনমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক আইনের শাসনের জন্য লড়াই করা প্রায় ৭০০ মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছয় মিলিয়নের বেশি মানুষ রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। এসব মামলার প্রায় ৯৯ শতাংশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের সময়ের প্রসঙ্গ তুলে মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, গত ছয় মাসের বেশি সময়ে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার বিষয়ে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ দেখিয়েছে। এ ধরনের ঘটনা প্রায় শূন্যের কোঠায় রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পুলিশ মিথ্যা মামলা করেছে—এমন কোনো অভিযোগও তাঁরা পাচ্ছেন না বলে মন্তব্য করেন। আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এমন একটি সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, যেখানে সংবিধান আমাদের পথ দেখানোর মূল ভিত্তি। এভাবেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।’ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৭৮৭ সালের সেপ্টেম্বরে গৃহীত যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের শুরুতে লেখা হয়েছিল ‘উই, দ্য পিপল অব আমেরিকা’। আর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধানেও লেখা হয়েছে ‘উই, দ্য পিপল অব বাংলাদেশ’। তাঁর মতে, দুই সংবিধানের মধ্যে এটি একটি মিল। মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের মূল ভিত্তি গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা। স্বাধীনতার মধ্যে মতপ্রকাশ, সমাবেশ, চলাচল ও সংগঠনের স্বাধীনতাও রয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানও কিছু মৌলিক ভিত্তি ও কাঠামোর ওপর প্রতিষ্ঠিত, যার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক ধারণার মিল রয়েছে। তিনি বলেন, ১৮০৩ সালে মারবারি বনাম ম্যাডিসন মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট বিচারিক পর্যালোচনার নীতি প্রয়োগ করে। বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনেও সুপ্রিম কোর্ট একই ধরনের এখতিয়ার প্রয়োগ করছে। তবে কখনো কখনো এ এখতিয়ার অপব্যবহার ও অপপ্রয়োগও হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। আইনমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রণয়নের আগে জন লক, টমাস হবস ও মন্টেস্কুর রাজনৈতিক তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা ও সেগুলো অনুসরণ করা হয়েছিল। বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের ক্ষেত্রেও এসব তত্ত্বের প্রভাব রয়েছে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রণয়নের সময়ও তীব্র আলোচনা ছিল। সংবিধান নিয়ে আলোচনা এখনো চলছে। বাংলাদেশের সংবিধান নিয়েও শুধু আইনজ্ঞদের মধ্যে নয়, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের চায়ের দোকানেও আলোচনা হয়। সংবিধানের বিভিন্ন বিধান, সংশোধনী ও প্রয়োগ নিয়ে সাধারণ মানুষের এই আলোচনা তাঁদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ যখন প্রয়োজনের মধ্যে থাকে তখন যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের পাশে থাকা, কর্তৃত্ববাদিতার বিরুদ্ধে অবস্থান, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলা এবং নির্বিচার গ্রেপ্তার ও আটকানোর বিরুদ্ধে কথা বলা —এসব বিষয় তিনি গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন। একই সঙ্গে সংগঠন ও সমাবেশের স্বাধীনতার পক্ষেও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের কথা উল্লেখ করেন তিনি। মানবাধিকার কমিশন আইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার দেশে আরও শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আইন করেছে। আইনের কিছু ধারা নিয়ে সমালোচনা থাকতে পারে বলেও স্বীকার করেন তিনি। তবে জনগণের অধিকার সুরক্ষিত রাখার লক্ষ্যেই আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানান। আইনমন্ত্রী বলেন, মানবাধিকার কমিশন আইনে ‘ওএফসিএটি’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কমিশনের বাছাই কমিটিতে প্রেসক্লাব ও জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বের বিধান রাখা হয়েছে। তাঁর দাবি, অন্যান্য কিছু দেশের তুলনায় বাংলাদেশের বাছাই প্রক্রিয়ায় ভিন্ন ধরনের প্রতিনিধিত্ব রাখা হয়েছে। এখানে বাছাই কমিটির প্রধান হিসেবে স্পিকার থাকছেন এবং বিরোধী দলের নেতাদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং সুশাসন বর্তমান সময়ে সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে অর্থনীতি ও আইনের শাসনের ক্ষেত্রে ভঙ্গুর পরিস্থিতি থেকে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রসঙ্গে মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, এসব অপরাধের বিচার সম্পন্ন করার বিষয়ে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ‘কোনো ব্যক্তি আমাদের লক্ষ্য নয়, আমাদের লক্ষ্য মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার সম্পন্ন করা’—বলেন তিনি। তিনি আরও বলেন, এসব অপরাধের সঙ্গে রাজনৈতিক নির্বাহীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। চলমান বিচারপ্রক্রিয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, তাঁদের হাতে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ রয়েছে এবং এসব প্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধ প্রমাণিত হবে বলে তিনি মনে করেন। অনুষ্ঠানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, ১৭৮৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রণয়নের সময় বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে তীব্র বিতর্ক ও মতপার্থক্য ছিল। তাঁর মতে, সংবিধানের শক্তি সবাই সব বিষয়ে একমত হওয়ায় নয়; বরং মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্র পরিচালনার একটি টেকসই কাঠামো তৈরি করতে পারার মধ্যে। তিনি ক্ষমতার পৃথকীকরণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক সংশোধনের সুযোগকে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের স্থায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে উল্লেখ করেন।

গত শাসনামলে সাড়ে ৪ হাজারের বেশি মানুষ বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার: আইনমন্ত্রী

নিজের নাম না জুড়লে কেনেডি সেন্টার বন্ধ করবেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটনের বিখ্যাত শিল্পকলা প্রতিষ্ঠান কেনেডি সেন্টারের ভবনে নিজের নাম যুক্ত করা না হলে প্রতিষ্ঠানটি স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখার হুমকি দিয়েছেন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ফেডারেল বিচারক ক্রিস্টোফার কুপার কেনেডি সেন্টারের ভবনে ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার উদ্যোগ আটকে দেওয়ার পর এ অবস্থান জানান তিনি। একই দিনে কেন্দ্রটির পরিচালনা পর্ষদ জরুরি সংস্কারের জন্য মূল ভবনটি তাৎক্ষণিক বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়।  ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে বলেন, তার মনোনীত পরিচালনা পর্ষদ প্রায় সর্বসম্মতভাবে সংস্কারের জন্য কেন্দ্রটি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে নাম যুক্ত করার বিষয়ে আদালতের রায় বহাল থাকলে কেনেডি সেন্টারের পুনর্গঠন ও সংস্কারকাজ শুরু হবে না বলে জানান তিনি।  অন্যদিকে, কেনেডি সেন্টার এক বিবৃতিতে জানায়, বোর্ডের সিদ্ধান্ত নিরাপত্তাকে সবার আগে রাখার বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরে এবং এটি একটি যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত।  এর আগে কেনেডি সেন্টারের ভবন থেকে ট্রাম্পের নাম সরানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারক কুপার। মঙ্গলবারের নতুন রায়ে তিনি বলেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া কেনেডি সেন্টারের পরিচালনা পর্ষদ ট্রাম্প বা অন্য কারও নামে কোনো স্মারক স্থাপন করতে পারবে না।  বিচারকের এই রায় এসেছে পরিচালনা পর্ষদ ভবনের বাইরে ট্রাম্পের নাম যুক্ত করে তার সংস্কারকাজের স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার পর। আদালত ওই উদ্যোগকে আগের আদেশ ও কংগ্রেসের প্রণীত আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে উল্লেখ করেছে।  ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজেকে কেনেডি সেন্টারের বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেন। প্রতিষ্ঠানটি প্রয়াত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডির নামে প্রতিষ্ঠিত। ১৯৬৩ সালে আততায়ীর গুলিতে নিহত হওয়ার আগে কেনেডি নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। 

নিজের নাম না জুড়লে কেনেডি সেন্টার বন্ধ করবেন ট্রাম্প

ইরান যুদ্ধের ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৩৮ বিলিয়ন ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের বিরুদ্ধে ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধে এ পর্যন্ত ৩৮ বিলিয়ন ডলার যা প্রায় ৪ লাখ ৬৭ হাজার ৫৩২ কোটি টাকা বাংলাদেশি মুদ্রায় ব্যয় হয়েছে। এই খরচ প্রতি মাসে আরও ৩ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা করে বাড়তে পারে বলে কংগ্রেসের নিরপেক্ষ হিসাব সংস্থা কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস (সিবিও) জানিয়েছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়। সিবিওর হিসাব অনুযায়ী, আগস্ট পর্যন্ত যুদ্ধের ব্যয়ের তথ্য এতে রয়েছে। যুদ্ধের কারণে ২০২৭ সালের প্রথম তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ০.৫ শতাংশ বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে। ক্রমবর্ধমান এই ব্যয়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুতের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে এবং জ্বালানির দাম বেড়েছে। এতে অন্য কোনো সম্ভাব্য সংঘাত মোকাবিলার প্রস্তুতি এবং দেশটির সরকারি বাজেট নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই ব্যয়ের পরিমাণ ২১ জুলাই সিনেটের শুনানিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের উল্লেখ করা ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলারের প্রায় সমান। সিবিও জানিয়েছে, দ্রুত গোলাবারুদ ব্যবহারের কারণে ব্যয়ের বড় একটি অংশ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে সংস্থাটি ধারণা করছে। আগস্টে রয়টার্স জানিয়েছিল, যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র তাদের দূরপাল্লার নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় পুরোটাই ব্যবহার করেছে। তবে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল অস্ত্রের ঘাটতির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেছেন, প্রয়োজন হলে প্রেসিডেন্ট যেখানে এবং যখন আঘাত হানতে চাইবেন, সেখানেই হামলা চালানোর মতো প্রয়োজনীয় অস্ত্র তাদের রয়েছে। সিবিওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষা বিভাগ এই হিসাব তৈরিতে কংগ্রেসের আর্থিক নিরীক্ষকদের সঙ্গে সহযোগিতা করেনি। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পদক্ষেপগুলো ছিল ‘নির্ণায়ক’। যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয় যুদ্ধাস্ত্র ও গোলাবারুদের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। ব্যয়ের এই হিসাব করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের বাজেট কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য পেনসিলভানিয়ার ব্রেন্ডন বয়েলের অনুরোধে। তিনি বলেন, এই যুদ্ধের কারণে মার্কিন করদাতাদের কয়েক হাজার কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে এবং সেই খরচ আরও বাড়ছে। ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ জন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। তবে সিবিওর প্রতিবেদনে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে সাম্প্রতিক হামলা এবং ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলার খরচ ধরা হয়নি। যুদ্ধের জন্য নেওয়া ঋণের সুদের খরচও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এই খরচ যোগ হলে মোট ব্যয় আরও কয়েক হাজার কোটি ডলার বাড়তে পারে। সিবিওর হিসাবে, যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে। ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ব্যবস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধসরঞ্জামের ঘাটতি পেন্টাগনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা কমাতে পারে। বিশেষ করে চীন ও তাইওয়ানকে ঘিরে সম্ভাব্য বড় সংঘাতের ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। জুলাইয়ে সিনেটের শুনানিতে হেগসেথ গোলাবারুদের মজুত পূরণ করতে প্রায় ৯০ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১১ লাখ ৯ হাজার কোটি টাকা জরুরি অর্থায়ন চেয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এই অর্থ না পেলে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের ঘাটতির মুখে পড়বে। পেন্টাগনের মহাপরিদর্শক চলতি সপ্তাহে জানিয়েছেন, ইরান মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটির শত শত ভবন এবং যুদ্ধবিমান, জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ও ড্রোনসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস করেছে। ১৯ জুন পর্যন্ত যুদ্ধের ব্যয় ৩৩.৪ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৪ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা বলে হিসাব করা হয়েছিল। এর মধ্যে ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনার জন্য প্রায় ১৮৪ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণও রয়েছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো, সেখানে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনায় হামলার কারণে জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। এতে ভোক্তা ও বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বেড়েছে। এদিকে আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের মোট সরকারি ঋণের পরিমাণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের ব্যয় দেশটির আর্থিক অবস্থার ওপর আরও চাপ তৈরি করতে পারে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের আট বছরব্যাপী যুদ্ধে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলার। আর ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ‘কস্টস অব ওয়ার’ প্রকল্পের হিসাবে, আফগানিস্তানে দুই দশকের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হয়েছে প্রায় ২.৩ ট্রিলিয়ন ডলার।

ইরান যুদ্ধের ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৩৮ বিলিয়ন ডলার

ইরানের পরমাণু সংকট মিটলে জ্বালানি দেবে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের পারমাণবিক ইস্যুর সমাধান হলে দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ করতে প্রস্তুত। মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট এ কথা বলেছেন। রাইট মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গকে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা দেশের বাইরে থেকে জ্বালানি সরবরাহ করতে পারি।’ লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটরের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। ক্রিস রাইটের এই প্রস্তাব ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত। তাঁর দাবি, ইরানের এই কর্মসূচির লক্ষ্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা। তবে ইরান বারবার বলে আসছে, তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করেনি। রাইট বলেন, ‘তারা আবারও জাতিগুলোর সম্প্রদায়ের অংশ হতে পারে এবং তাদের জনগণের জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধি নিয়ে আসতে পারে।’ এদিকে, ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে ‘নির্ণায়ক হামলা’ চালানোর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। চলতি বছর ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক কমপ্লেক্সের কাছে ‘নির্মাণকাজে স্পষ্টভাবে বড় ধরনের বৃদ্ধি’ শনাক্ত হওয়ার পর এই পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে আরেক মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। নাতাঞ্জ পারমাণবিক কমপ্লেক্সটি ইরানের রাজধানী তেহরান থেকে প্রায় ১৪০ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত। গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও বাড়ানোর হুমকি দেন। তিনি দাবি করেন, ইরানকে ‘অনেক বেশি হারে বোমা হামলার’ মুখে পড়তে হবে এবং দেশটি ‘কখনোই আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।’ এ সময় পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন এলাকায় হামলা চালানোর সম্ভাবনার কথাও বলেন ট্রাম্প। ওই এলাকায় তৎপরতা ও চলাচল শনাক্ত হওয়ার পর তিনি এই হুমকি দেন। গত সপ্তাহে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা খুব শিগগিরই পিকঅ্যাক্সে হামলা চালাতে পারি।’ পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন এলাকাটি নাতাঞ্জ পারমাণবিক কমপ্লেক্সের কাছেই অবস্থিত।

ইরানের পরমাণু সংকট মিটলে জ্বালানি দেবে যুক্তরাষ্ট্র

মদিনায় মিলল বিরল খনিজের বিশাল ভাণ্ডার

দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সালমান সৌদি আরবের মদিনা অঞ্চলে আনুমানিক ১১ কোটি টন রেয়ার আর্থ মিনারেলস বা বিরল মৃত্তিকা খনিজ ও ইউরেনিয়াম আকরিকের সন্ধান পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন। এই আবিষ্কারের ঘোষণা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সাধারণ সম্মেলনের ৭০ তম নিয়মিত অধিবেশনে দেওয়া হয়। সৌদি আরবের সংবাদমাধ্যম আরব নিউজের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাবাল সাইদ এলাকায় পরিচালিত অনুসন্ধান ও ভূতাত্ত্বিক গবেষণার ভিত্তিতে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখানে বিরল মৃত্তিকা উপাদানের উচ্চ ঘনত্ব রয়েছে। একই সঙ্গে ইউরেনিয়ামেরও সম্ভাবনাময় ঘনত্ব পাওয়া গেছে। ওয়াশিংটন ও রিয়াদের মধ্যে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা আনুষ্ঠানিক হওয়ার কয়েক মাস পর এই তথ্য প্রকাশ করা হলো। গত ২২ জুলাই মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট এবং সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সালমানের মধ্যে একটি চুক্তি সই হয়। মার্কিন জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, এসব চুক্তি কয়েক দশকব্যাপী বহু বিলিয়ন ডলারের অংশীদারত্বের জন্য আইনি ভিত্তি তৈরি করেছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচিতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রবেশের সুযোগও বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সাধারণ সম্মেলনে প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সালমান বলেন, ‘মদিনার জাবাল সাইদ প্রকল্পে অনুসন্ধান ও ভূতাত্ত্বিক গবেষণায় আনুমানিক ১১ কোটি টন আকরিকের সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে। এতে বিরল মৃত্তিকা খনিজের, বিশেষ করে ভারী উপাদানগুলোর, উচ্চ ঘনত্ব রয়েছে। পাশাপাশি ইউরেনিয়ামেরও সম্ভাবনাময় ঘনত্ব পাওয়া গেছে।’ মন্ত্রী বলেন, ২০২৫ সালের নভেম্বরে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের যুক্তরাষ্ট্র সফরের পর এই উদ্যোগ আরও গতি পায়। ওই সফরের সময় দুই দেশ গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে সহযোগিতা আরও গভীর করে। এর মধ্যে সৌদি রাষ্ট্রীয় খনি কোম্পানি মা’আদিন এবং মার্কিন কোম্পানি এমপি ম্যাটেরিয়ালসের মধ্যে অংশীদারত্বও ছিল। ওই সফরের ফলে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, ধাতু ও ইউরেনিয়াম নিয়ে কৌশলগত সহযোগিতার একটি কাঠামো তৈরি হয়। এর আওতায় সৌদি আরবে একটি নতুন বিরল মৃত্তিকা প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানার ৪৯ শতাংশ অর্থায়ন করার বিষয়ে সম্মত হয় মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ। এই প্রকল্পে মা’আদিনের নিয়ন্ত্রণমূলক ৫১ শতাংশ মালিকানা থাকবে। এর অংশীদার হবে এমপি ম্যাটেরিয়ালস। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বিরল মৃত্তিকার একমাত্র খনি ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা পরিচালনা করে এই মার্কিন কোম্পানিটি। মদিনা অঞ্চলে জেদ্দা থেকে প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত জাবাল সাইদ। এলাকাটি এরই মধ্যে বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান বিরল মৃত্তিকা খনিজের মজুত হিসেবে পরিচিত। মার্কিন থিংক ট্যাংক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সৌদি শিল্প ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং রাষ্ট্রীয় খনি কোম্পানি মা’আদিনের দেওয়া হিসাবের ভিত্তিতে জাবাল সাইদকে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম বিরল মৃত্তিকা খনিজের মজুত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সেখানে প্রায় ৫ লাখ ৫২ হাজার টন ভারী বিরল মৃত্তিকা উপাদান রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ডিসপ্রোসিয়াম ও টারবিয়াম। এ ছাড়া আরও প্রায় ৩ লাখ ৫৫ হাজার টন হালকা বিরল মৃত্তিকা উপাদান রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে নিওডিমিয়াম ও প্রসিওডিমিয়াম। একই বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, একই এলাকায় প্রায় ৩১ হাজার টন ইউরেনিয়ামের মজুত রয়েছে। বিশ্লেষণটি বলছে, বিরল মৃত্তিকা খনিজ ও ইউরেনিয়ামের এই সমন্বয় সৌদি আরবকে নিজস্ব পারমাণবিক জ্বালানি চক্র গড়ে তোলার জন্য বিশেষভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে। একই সঙ্গে দেশটি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে এসব উপাদান রপ্তানিও করতে পারে। অন্যদিকে, রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে সৌদি আরবে আবিষ্কৃত বিরল মৃত্তিকা উপাদানের মূল্য ১০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ২০১৮ সালের তুলনায় এই মূল্য ৯০ শতাংশ বেড়েছে। সৌদি ভূতাত্ত্বিক জরিপের গবেষণায় উন্নত পর্যায়ের অনুসন্ধানের জন্য দুটি এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় আনুমানিক ৬৪ কোটি ৪০ লাখ টন খনিজ সম্পদ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মদিনায় মিলল বিরল খনিজের বিশাল ভাণ্ডার

ডাকভোট নিয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনায় সুপ্রিম কোর্টের বাধা

আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ সীমিত করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেওয়া উদ্যোগে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট বড় ধাক্কা দিয়েছেন। বিতর্কিত এ পরিকল্পনা স্থগিত রাখার আদেশ প্রত্যাহারে ট্রাম্প প্রশাসনের আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এ রায়ে সুপ্রিম কোর্টের নয় সদস্যের বেঞ্চের ছয় রক্ষণশীল বিচারপতির মধ্যে দুজন ভিন্নমত পোষণ করেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিদের সঙ্গে একমত হয়ে দেওয়া পৃথক রায়ে বিচারপতি ব্রেট কাভানা বলেন, দীর্ঘ মেয়াদে ট্রাম্পের পরিকল্পনাটি আইনসম্মত হতে পারে। তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তা বাস্তবায়নের জন্য অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় নির্বাচনী কর্মকর্তাদের পর্যাপ্ত সময় নেই। ইতোমধ্যে নর্থ ক্যারোলাইনাসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ভোটারদের ডাকযোগে ভোট দেওয়ার জন্য ব্যালট পাঠানো শুরু হয়েছে। ফলে নির্বাচনের ঠিক আগে ডাকযোগে ভোটের নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন আনলে তা বাস্তবায়নে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। গত মার্চে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ সীমিত করতে একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন ট্রাম্প। সে সময় কোনো প্রমাণ উপস্থাপন না করেই তিনি ডাকযোগে ভোটে জালিয়াতির ঝুঁকি রয়েছে বলে দাবি করেন। আদেশটি জারির পরপরই এর বিরুদ্ধে একাধিক আইনি চ্যালেঞ্জ আসে। ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত কয়েকটি অঙ্গরাজ্য ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করে। তাদের যুক্তি, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজন ও পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যাপক নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা অঙ্গরাজ্যগুলোর হাতে রয়েছে, ফেডারেল সরকারের হাতে নয়। আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডাকযোগে ভোটের বিধিনিষেধ কার্যকর করার ট্রাম্প প্রশাসনের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে চলমান আইনি লড়াইয়ে সুপ্রিম কোর্টের এ সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সূত্র: এএফপি

ডাকভোট নিয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনায় সুপ্রিম কোর্টের বাধা

মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা স্বীকার করল যুক্তরাষ্ট্র

প্রথমবারের মতো পৃথিবীর কক্ষপথে মহাকাশ অস্ত্র মোতায়েনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন বিমানবাহিনীর সচিব ট্রয় মেঙ্ক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।  সোমবার বিমান, মহাকাশ ও সাইবার সম্মেলনে ট্রয় মেঙ্ক জানান, শত্রুভাবাপন্ন শত্রুর আক্রমণ থেকে মার্কিন বাহিনীকে রক্ষা করতে কক্ষপথে এই ধরনের অস্ত্র স্থাপন আবশ্যক ছিল। যুক্তরাষ্ট্র বিকাশমান হুমকির মোকাবেলা করতে প্রস্তুত উল্লেখ করলেও এই অস্ত্রের ধরন বা কবে এটি স্থাপন করা হয়েছে তা নিয়ে স্পষ্ট কিছু বলেননি তিনি। ট্রাম্প প্রশাসন তাদের প্রস্তাবিত ‘গোল্ডেন ডোম’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অধীনে মহাকাশভিত্তিক প্রযুক্তি ও ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে, যা ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশপথের অন্যান্য হুমকি প্রতিরোধ করবে। ১৯৬৭ সালের একটি আন্তর্জাতিক চুক্তিতে মহাকাশে গণবিধ্বংসী অস্ত্র নিষিদ্ধ করা হলেও যোগাযোগ ও নজরদারি স্যাটেলাইট অকার্যকর করার মতো অন্যান্য প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন। যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ফোর্সের এক মুখপাত্র জানান, প্রয়োজনবোধে শত্রুপক্ষের সামরিক সক্ষমতা ব্যাহত, অকার্যকর বা ধ্বংস করতে কাইনেটিক ও নন-কাইনেটিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে। কমান্ডারের নির্দেশনায় এসব ক্ষমতা আক্রমণাত্মক ও আত্মরক্ষামূলক উভয় কাজেই ব্যবহার করা যেতে পারে। ২০১৯ সালে গঠিত মার্কিন স্পেস ফোর্স মূলত আমেরিকান স্যাটেলাইট ও মহাকাশীয় সম্পদ রক্ষায় কাজ করছে। গত বছর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশে এই বাহিনীকে আত্মরক্ষার পাশাপাশি আক্রমণাত্মক ভূমিকা পালনেরও নির্দেশনা প্রদান করেন। মার্কিন গোয়েন্দাদের দাবি অনুযায়ী, রাশিয়া ও চীন তাদের সামরিক আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে মহাকাশকে যুদ্ধক্ষেত্র মনে করছে। ২০২৪ সালে রাশিয়া অন্য স্যাটেলাইটে হামলার উপযোগী কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে পাঠায় এবং ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে প্রায় এক ডজন ইউরোপীয় স্যাটেলাইটের তথ্য রাশিয়ান উপগ্রহ আড়ি পেতেছে বলে মার্কিন তথ্যে জানা যায়। সূত্র: বিবিসি

মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের  কথা স্বীকার করল  যুক্তরাষ্ট্র

ভিসা ও গ্রিন কার্ড নীতিতে চাপে ট্রাম্প প্রশাসন

অভিবাসন নীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বড় দুটি ধাক্কার মুখে পড়েছে। একদিকে ফেডারেল এক বিচারক বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের জন্য প্রস্তাবিত ভিসার সময়সীমা আটকে দিয়েছেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বাধীন কয়েক ডজন অঙ্গরাজ্য অভিবাসীদের বৈধভাবে সরকারি সুবিধা নেওয়ার কারণে গ্রিন কার্ড আটকে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা নতুন বিধির বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের এক ফেডারেল বিচারক প্রশাসনের এমন প্রস্তাব কার্যকর করা বন্ধ করে দেন, যার মাধ্যমে বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন না করে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সময় নির্দিষ্ট করে দেওয়া হতো। একই সময়ে ২২টি অঙ্গরাজ্য ও ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া মিলে আলাদা একটি মামলা করেছে। তাদের লক্ষ্য, এমন একটি ফেডারেল বিধি কার্যকর হওয়া ঠেকানো, যার আওতায় অভিবাসন কর্তৃপক্ষ বৈধভাবে সরকারি সুবিধা নেওয়া অভিবাসীদের গ্রিন কার্ড দিতে অস্বীকৃতি জানাতে পারবে। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএইচএসের প্রস্তাবিত বিধিটি মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই সোমবার বোস্টনের ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জজ এফ ডেনিস সেলার চতুর্থ ট্রেড ইউনিয়ন ও উচ্চশিক্ষা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের জোটের করা আবেদনের ভিত্তিতে বিধিটির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাব অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবহৃত এফ ভিসা এবং যুক্তরাষ্ট্রে সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার জন্য দেওয়া জে ভিসার মেয়াদ সর্বোচ্চ চার বছর করা হতো। অন্যদিকে সাংবাদিকদের জন্য ব্যবহৃত আই ভিসা, যা বর্তমানে কয়েক বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকতে পারে, সেটির মেয়াদ ২৪০ দিনে সীমাবদ্ধ করার প্রস্তাব করা হয়েছিল। বিচারক সেলার রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের নিয়োগপ্রাপ্ত হলেও তিনি ভিসা ব্যবস্থায় জালিয়াতি ঠেকানো এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে ডিএইচএস যে যুক্তি দিয়েছে, সেটিকে ‘অত্যন্ত দুর্বল’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, বিদ্যমান ভিসা ব্যবস্থা কয়েক কোটি গবেষক ও শিক্ষাবিদকে যুক্তরাষ্ট্রে অবদান রাখার সুযোগ দিয়েছে। এর ফলে যুগান্তকারী গবেষণা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ হয়েছে। এই ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হলে উচ্চশিক্ষা এবং বৃহত্তর মার্কিন অর্থনীতির ক্ষতি ‘বিপর্যয়কর’ হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি। প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থা প্রায় ১৬ লাখ এফ ভিসাধারী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এবং প্রায় ৫ লাখ জে ভিসাধারী বিনিময় কর্মসূচির অংশগ্রহণকারীকে প্রভাবিত করত। এদিকে সোমবার ম্যানহাটনের একটি ফেডারেল আদালতে দুটি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলার লক্ষ্য, ডিএইচএসের আরেকটি বিধি কার্যকর হওয়া ঠেকানো। বিধিটি শুক্রবার থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন এই বিধিতে অভিবাসন কর্মকর্তারা কোন আবেদনকারীকে ‘পাবলিক চার্জ’ হিসেবে বিবেচনা করবেন, সেই মানদণ্ড আরও বিস্তৃত করা হবে। ‘পাবলিক চার্জ’ একটি আইনি মানদণ্ড। ঐতিহাসিকভাবে এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি প্রয়োগ করা হয়েছে, যারা নিজেদের জীবনধারণের জন্য মূলত সরকারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন বলে মনে করা হয়। নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া ও ইলিনয় ২২টি অঙ্গরাজ্য এবং ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ার একটি জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছে। তারা নতুন নীতিটি আটকে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। একই বিষয়ে ছয়টি শহর ও কাউন্টিও আলাদা একটি মামলা করেছে। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীদের মূল্যায়নে অভিবাসন কর্মকর্তারা নগদ সরকারি সহায়তা বিবেচনা করতে পারতেন। তবে খাদ্য সহায়তা এবং মেডিকেইডের মতো নগদ নয় এমন সরকারি সুবিধা নেওয়ার কারণে কোনো আবেদনকারীকে শাস্তি দেওয়ার সুযোগ ছিল না। এখন ট্রাম্প প্রশাসন তার প্রথম মেয়াদের নীতিগুলো আবার চালু করতে চাইছে। সেই নীতিতে খাদ্য সহায়তা ও মেডিকেইডের মতো নগদ নয় এমন সরকারি সুবিধা নেওয়াকেও গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্যতার কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নতুন প্রস্তাবে শুধু আবেদনকারী নিজে কী ধরনের সুবিধা নিয়েছেন তা নয়, তার পরিবারের সদস্যরা কী ধরনের সরকারি সুবিধা পেয়েছেন, সেটিও যাচাইয়ের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। ডিএইচএসের এক মুখপাত্র নতুন বিধির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি মামলাকারীদের ‘বামপন্থী নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করে অভিযোগ করেন, তারা আশঙ্কা করছেন যে ফেডারেল সরকারের অর্থায়ন হারাবেন। কারণ, লাখ লাখ ‘অবৈধ অভিবাসী ও অ-নাগরিক’ হয়তো যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কল্যাণমূলক কর্মসূচি থেকে নিজেদের সরিয়ে নেবেন। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি এক বিবৃতিতে বলেন, নতুন এই বিধির লক্ষ্য হলো অভিবাসী পরিবারগুলোকে সেই কর্মসূচিগুলো থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া, যেগুলো কয়েক দশক ধরে মানুষকে খাবার ও স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ দিয়ে আসছে। মামলাকারীরা বলছেন, কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন তার আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে। তাদের যুক্তি, স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার যোগ্যতার মানদণ্ড নির্ধারণের একমাত্র ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। তাদের আরও দাবি, খাদ্য সহায়তা ও মেডিকেইডের মতো নগদ নয় এমন সরকারি সুবিধা বৈধভাবে ব্যবহার করা আবেদনকারীদের শাস্তি দেওয়ার মাধ্যমে প্রশাসন একটি বেআইনি বিধিনিষেধ তৈরি করেছে। মামলাকারীদের মতে, এই বিধিনিষেধ ফেডারেল আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

ভিসা ও গ্রিন কার্ড নীতিতে চাপে ট্রাম্প প্রশাসন
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream