মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই মার্কিন ব্যাংকে ইরানের ৯০০ কোটি ডলার


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
| ফটো কার্ড

নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই মার্কিন ব্যাংকে ইরানের ৯০০ কোটি ডলার
নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই মার্কিন ব্যাংকে ইরানের ৯০০ কোটি ডলার

২০২৪ সালে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৯০০ কোটি ডলার মার্কিন ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা সত্ত্বেও লেনদেন হয়েছে বলে এক তদন্তে উঠে এসেছে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরোক্ষভাবে বিদেশি ব্যাংকের মধ্যস্থতায় এই বিপুল অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকিং নেটওয়ার্কে প্রবেশ করেছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৪ সালে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে স্থানান্তর হওয়া প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলারের ইরানি তহবিল শনাক্ত করেছে। এই অর্থ বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠান, শেল কোম্পানি ও মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্রের মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়।

এমন সময়ে এই তথ্য সামনে এলো, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করেছে। ওয়াশিংটন সতর্ক করে দিয়েছে, তেহরানের সঙ্গে ব্যবসা করলে সংশ্লিষ্ট দেশ বা প্রতিষ্ঠানকে মার্কিন ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে রাখা হতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থপ্রবাহ সচল রাখতে ইরান বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করছে। দেশটির অর্থনীতির প্রধান আয়ের উৎস এখনও তেল খাত। যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণে তেল রপ্তানি সীমিত হলেও ইরানের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এখনও ট্যাংকারে মজুত রয়েছে। এর বড় অংশ এশিয়ার জলসীমায়, বিশেষ করে মালয়েশিয়ার আশপাশে সংরক্ষিত আছে।

চীন বর্তমানে ইরানের সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা। দেশটি ইরানের মোট তেল রপ্তানির ৮০ শতাংশেরও বেশি গ্রহণ করে। জ্বালানি বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ক্লেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে চীন প্রতিদিন পাঁচ লাখ ব্যারেলের বেশি ইরানি তেল আমদানি করেছে।

ইরান তেলের উৎস গোপন করতেও নানা পদ্ধতি ব্যবহার করছে। সমুদ্রে এক জাহাজ থেকে আরেক জাহাজে তেল স্থানান্তরের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ট্যাংকারের তেল অন্য উৎসের বলে দেখানো হয়। পরে চীনে পৌঁছালে সেই তেল ভিন্ন দেশের তেল হিসেবে নথিভুক্ত হতে পারে।

জ্বালানি বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ভরটেক্সার হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে এশিয়ার জলসীমায় ভাসমান সংরক্ষণাগারে প্রায় ৮ কোটি ব্যারেল ইরানি অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে। যার বাজারমূল্য কয়েক বিলিয়ন ডলার হতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চীনের সঙ্গে বাণিজ্যে ইরান ধীরে ধীরে মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমিয়েছে। চীনা ক্রেতাদের সঙ্গে তেল বাণিজ্যের লেনদেন এখন অনেক ক্ষেত্রে চীনা মুদ্রা ইউয়ানে সম্পন্ন হচ্ছে। এই ইউয়ান ব্যবহার করে ইরান চীনা পণ্য ও সেবা কিনছে। কিছু ক্ষেত্রে অবকাঠামো প্রকল্পের বিনিময়েও তেল দেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া ক্রিপ্টোকারেন্সিও ব্যবহার করছে তেহরান। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, বাণিজ্য পরিচালনা এবং অস্ত্রসহ বিভিন্ন পণ্য সংগ্রহে ইরান বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করেছে। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) চীনা ক্রেতাদের কাছ থেকে তেলের মূল্য গ্রহণের ক্ষেত্রেও ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ ব্যবহার করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে আমদানি ব্যয়, সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় এবং আঞ্চলিক মিত্রদের সহায়তার জন্য ইরানের এখনও মার্কিন ডলার ও অন্যান্য প্রধান মুদ্রার প্রয়োজন রয়েছে। এ কারণে হংকং ও দুবাইয়ের মতো আন্তর্জাতিক আর্থিক কেন্দ্রে শেল কোম্পানি ও মানি এক্সচেঞ্জ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে তেহরান।

এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তেল রপ্তানি ও অন্যান্য বাণিজ্যিক আয়কে ডলার, ইউরো ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহামে রূপান্তর করা হয়। একই সঙ্গে অর্থের সঙ্গে ইরানের সংশ্লিষ্টতাও আড়াল করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক নানা নিষেধাজ্ঞা বসিয়ে এই অর্থপ্রবাহ লাগাম টানার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচ্ছিন্নভাবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যাংক বা কোম্পানির ওপর ব্যবস্থা নিয়ে পুরো আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক অচল করা সম্ভব হচ্ছে না।

বিষয় : ইরান যুক্তরাষ্ট্র ডলার

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই মার্কিন ব্যাংকে ইরানের ৯০০ কোটি ডলার

প্রকাশের তারিখ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

২০২৪ সালে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৯০০ কোটি ডলার মার্কিন ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা সত্ত্বেও লেনদেন হয়েছে বলে এক তদন্তে উঠে এসেছে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরোক্ষভাবে বিদেশি ব্যাংকের মধ্যস্থতায় এই বিপুল অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকিং নেটওয়ার্কে প্রবেশ করেছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৪ সালে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে স্থানান্তর হওয়া প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলারের ইরানি তহবিল শনাক্ত করেছে। এই অর্থ বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠান, শেল কোম্পানি ও মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্রের মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়।

এমন সময়ে এই তথ্য সামনে এলো, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করেছে। ওয়াশিংটন সতর্ক করে দিয়েছে, তেহরানের সঙ্গে ব্যবসা করলে সংশ্লিষ্ট দেশ বা প্রতিষ্ঠানকে মার্কিন ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে রাখা হতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থপ্রবাহ সচল রাখতে ইরান বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করছে। দেশটির অর্থনীতির প্রধান আয়ের উৎস এখনও তেল খাত। যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণে তেল রপ্তানি সীমিত হলেও ইরানের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এখনও ট্যাংকারে মজুত রয়েছে। এর বড় অংশ এশিয়ার জলসীমায়, বিশেষ করে মালয়েশিয়ার আশপাশে সংরক্ষিত আছে।

চীন বর্তমানে ইরানের সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা। দেশটি ইরানের মোট তেল রপ্তানির ৮০ শতাংশেরও বেশি গ্রহণ করে। জ্বালানি বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ক্লেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে চীন প্রতিদিন পাঁচ লাখ ব্যারেলের বেশি ইরানি তেল আমদানি করেছে।

ইরান তেলের উৎস গোপন করতেও নানা পদ্ধতি ব্যবহার করছে। সমুদ্রে এক জাহাজ থেকে আরেক জাহাজে তেল স্থানান্তরের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ট্যাংকারের তেল অন্য উৎসের বলে দেখানো হয়। পরে চীনে পৌঁছালে সেই তেল ভিন্ন দেশের তেল হিসেবে নথিভুক্ত হতে পারে।

জ্বালানি বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ভরটেক্সার হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে এশিয়ার জলসীমায় ভাসমান সংরক্ষণাগারে প্রায় ৮ কোটি ব্যারেল ইরানি অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে। যার বাজারমূল্য কয়েক বিলিয়ন ডলার হতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চীনের সঙ্গে বাণিজ্যে ইরান ধীরে ধীরে মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমিয়েছে। চীনা ক্রেতাদের সঙ্গে তেল বাণিজ্যের লেনদেন এখন অনেক ক্ষেত্রে চীনা মুদ্রা ইউয়ানে সম্পন্ন হচ্ছে। এই ইউয়ান ব্যবহার করে ইরান চীনা পণ্য ও সেবা কিনছে। কিছু ক্ষেত্রে অবকাঠামো প্রকল্পের বিনিময়েও তেল দেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া ক্রিপ্টোকারেন্সিও ব্যবহার করছে তেহরান। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, বাণিজ্য পরিচালনা এবং অস্ত্রসহ বিভিন্ন পণ্য সংগ্রহে ইরান বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করেছে। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) চীনা ক্রেতাদের কাছ থেকে তেলের মূল্য গ্রহণের ক্ষেত্রেও ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ ব্যবহার করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে আমদানি ব্যয়, সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় এবং আঞ্চলিক মিত্রদের সহায়তার জন্য ইরানের এখনও মার্কিন ডলার ও অন্যান্য প্রধান মুদ্রার প্রয়োজন রয়েছে। এ কারণে হংকং ও দুবাইয়ের মতো আন্তর্জাতিক আর্থিক কেন্দ্রে শেল কোম্পানি ও মানি এক্সচেঞ্জ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে তেহরান।

এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তেল রপ্তানি ও অন্যান্য বাণিজ্যিক আয়কে ডলার, ইউরো ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহামে রূপান্তর করা হয়। একই সঙ্গে অর্থের সঙ্গে ইরানের সংশ্লিষ্টতাও আড়াল করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক নানা নিষেধাজ্ঞা বসিয়ে এই অর্থপ্রবাহ লাগাম টানার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচ্ছিন্নভাবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যাংক বা কোম্পানির ওপর ব্যবস্থা নিয়ে পুরো আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক অচল করা সম্ভব হচ্ছে না।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream