বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
যেকোনো হামলার জবাব দিতে প্রস্তুত ইরান

যেকোনো হামলার জবাব দিতে প্রস্তুত ইরান

ইরানের ওপর নতুন করে কোনো হামলা চালানো হলে কঠোর পাল্টা জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আলী আবদোল্লাহি। তিনি বলেন, শত্রুপক্ষের হামলার অপেক্ষায় থাকবে না ইরান। বরং নিজেদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পাল্টা হামলার সময় ও ধরন ঠিক করবে দেশটি।শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় আবদোল্লাহি জানান, ইরানের সামরিক বাহিনী গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছে। শত্রুপক্ষের গতিবিধি ও সামরিক প্রস্তুতির ওপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তুর তালিকাও হালনাগাদ করা হচ্ছে।তিনি আরও বলেন, প্রতিপক্ষের যেকোনো বৈরী তৎপরতার আভাস পেলেই ইরান পাল্টা ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত। এ জন্য শত্রুপক্ষের প্রথম হামলার জন্য অপেক্ষা করা হবে না।আবদোল্লাহি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের জবাব হবে তাৎক্ষণিক ও কার্যকর। এ ক্ষেত্রে কোনো ভৌগোলিক সীমারেখাও মানা হবে না। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতবা হোসেইনি খামেনি জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডারদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়ার পর এসব বক্তব্য দেন তিনি। ওই নির্দেশনাকে বিচক্ষণ, দূরদর্শী ও সিদ্ধান্তমূলক আখ্যা দিয়ে আবদোল্লাহি বলেন, তৃতীয় ‘আরোপিত যুদ্ধের’ সময় যেমন সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশনা সামরিক বাহিনীকে পথ দেখিয়েছিল, এবারও তা একইভাবে দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে। তিনি সর্বোচ্চ নেতা ও ইরানের জনগণকে আশ্বস্ত করে বলেন, যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী দৃঢ় অবস্থানে থাকবে। প্রয়োজনে জীবন দিয়ে হলেও মাতৃভূমি রক্ষা করা হবে। আবদোল্লাহি আরও জানান, কমান্ডার-ইন-চিফের নির্দেশনা অনুযায়ী ইরানের সামরিক বাহিনী দেশ ও জনগণকে রক্ষায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত। মার্কিন ও ইসরায়েলি শত্রুদের মোকাবিলায় তারা উন্নত সামরিক সরঞ্জাম ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করবে। একই সঙ্গে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে। নতুন করে ইরানে হামলা চালানো হলে এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন কৌশলে জবাব দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি। তার দাবি, এই প্রতিক্রিয়া তৃতীয় ‘আরোপিত যুদ্ধের’ সময়ের চেয়েও অনেক বেশি কঠোর ও কার্যকর হবে। ইরানের সামরিক বাহিনীর এই কর্মকর্তা আরও বলেন, যুদ্ধ কখন শেষ হবে, সেই সিদ্ধান্ত ইরানই নেবে। প্রতিপক্ষের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা ধ্বংস করে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। তথ্যসূত্র: তাসনিম নিউজ 

১০ মিনিটেই ইরানের বাকি স্থাপনা ধ্বংস করা সম্ভব: ট্রাম্প

ইরানের সামরিক সক্ষমতার বড় একটি অংশ ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে দেশটিতে আরও এক বা দুটি স্থাপনায় হামলা চালানো বাকি রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এসব স্থাপনার মধ্যে ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ নামে পরিচিত একটি সন্দেহভাজন পারমাণবিক স্থাপনাও রয়েছে।ফ্লোরিডায় নিজের বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন ট্রাম্প। এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা ভালোভাবেই এগোচ্ছে। তবে ইরানকে পুরোপুরি বিশ্বাস করা যায় না। তার দাবি, দেশটির সামরিক বাহিনী ও পারমাণবিক কর্মসূচির বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। তাই এখনই নতুন করে হামলা চালানোর কোনো তাড়া নেই যুক্তরাষ্ট্রের।তিনি আরও বলেন, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করা হয়েছে। তবে এখনো এক বা দুটি স্থাপনা বাকি রয়েছে। চাইলে মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যেই সেগুলো ধ্বংস করা সম্ভব। এ সময় পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই স্থাপনাটির বিষয়েও ব্যবস্থা নিতে হবে। তার ভাষায়, “আমরা খুব দ্রুতই এসব কাজ করতে পারি।” পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনকে ইরানের একটি সন্দেহভাজন ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে সেখানে কোনও ধরনের পারমাণবিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে- এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইরান সরকার। ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা চলার কথা বলা হচ্ছে। একদিকে আলোচনায় অগ্রগতির কথা বলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট, অন্যদিকে ইরানের আরও কিছু স্থাপনায় হামলার সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরছেন তিনি। সূত্র: ডন নিউজ

১০ মিনিটেই ইরানের বাকি স্থাপনা ধ্বংস করা সম্ভব: ট্রাম্প

আলোচনা ও হরমুজ খুলতে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ৭ শর্ত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনা শুরু করতে এবং হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দিতে সাতটি শর্ত দিয়েছে ইরান। এসব শর্ত পূরণ না হলে আলোচনায় বসা এবং প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে তেহরান রাজি নয়।ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা উপস্থিতি কমানো, জব্দ করা ইরানি অর্থ ফেরত দেওয়া এবং সব রণাঙ্গনে যুদ্ধ বন্ধ করা।ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ি জানিয়েছেন, গত সেপ্টেম্বরেই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এসব শর্ত তুলে ধরেছিল তেহরান। তবে তখন সব শর্তের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।সম্প্রতি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শর্তগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। সেগুলো হলো—1. মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার: গত জুলাইয়ে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক ভেঙে যাওয়ার পর ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র যেসব নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল, তা তুলে নিতে হবে।2. মার্কিন সেনা উপস্থিতি কমানো: মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি কমাতে হবে।3. তেল রপ্তানির সুবিধা ফিরিয়ে দেওয়া: জুনে ইসলামাবাদ সমঝোতার আওতায় ইরানকে তেল রপ্তানিতে যে ছাড় দেওয়া হয়েছিল, তা আবার চালু করতে হবে।4. জব্দ করা অর্থ ফেরত: কাতারসহ বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ইরানের অর্থ ও সম্পদ ফেরত দিতে হবে।5. হরমুজ প্রণালির নতুন নৌপথের স্বীকৃতি: ইরান ও ওমানের নির্ধারণ করা নতুন জাহাজ চলাচলের পথ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিতে হবে। একই সঙ্গে অন্য পথগুলো বন্ধ করার দাবিও জানিয়েছে ইরান।6. সব রণাঙ্গনে যুদ্ধ বন্ধ: লেবাননে ইসরায়েলের হামলাসহ মধ্যপ্রাচ্যের সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। এদিকে সেপ্টেম্বরে রেজায়ি আরও দুটি দাবির কথা জানিয়েছিলেন। সেগুলো হলো- ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মার্কিন হস্তক্ষেপ বন্ধ করা। এর মধ্যে ইরানের বিপ্লববিরোধীদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতাও রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। ইরানের এসব শর্ত পূরণ না হলে শান্তি আলোচনা শুরু হবে না এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার পথও তৈরি হবে না- তেহরানের অবস্থান থেকে এমনটাই স্পষ্ট হয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা

আলোচনা ও হরমুজ খুলতে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ৭ শর্ত

ভ্যান্সের চিঠি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে ইরান, তবে বৈঠকে অনাগ্রহ

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাঠানো চিঠিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে ইরান। এ নিয়ে দেশটির শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনাও হয়েছে। তবে আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো বৈঠকে বসার পরিকল্পনা নেই তেহরানের।ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এ তথ্য জানিয়েছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।শনিবার (৩১ অক্টোবর) আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাঘচি বলেন, ভ্যান্সের পাঠানো চিঠি নিয়ে ইরানের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসার কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কাছে চিঠিটি পাঠান ভ্যান্স। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, চিঠিতে দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনা আবারও শুরুর প্রস্তাব দিয়েছিলেন ভ্যান্স। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ দাবি নাকচ করেছেন। তিনি বলেন, শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরুর জন্য নয়, বরং ইরানে চিকিৎসাসামগ্রী প্রবেশের অনুমতি নিয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যে ওই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।  

ভ্যান্সের চিঠি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে ইরান, তবে বৈঠকে অনাগ্রহ

ট্রাম্পকে ইরানে হামলার প্রস্তাব নেতানিয়াহুর

ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক অভিযান চালাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। আগামী মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলা চান তিনি।মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানকে নিয়ে এখন ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে দুই ধরনের মত দেখা যাচ্ছে। এক পক্ষ তেহরানের সঙ্গে আবারও আলোচনায় বসে কূটনৈতিকভাবে সমস্যার সমাধান করতে চায়। অন্য পক্ষ মনে করছে, ইরানের ওপর নতুন করে সামরিক হামলা চালানো প্রয়োজন।এদিকে, নেতানিয়াহু চাইছেন, নির্বাচনের পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল মিলে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান শুরু করুক। ফলে ইরানকে ঘিরে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে, ইসরাইলের টেলিভিশন চ্যানেল ১৫ জানিয়েছে, ইরানে হামলা চালানোর সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। চ্যানেলটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলের সামরিক কর্মকর্তারা মনে করছেন, ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত শুরু হলে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহও নতুন করে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে। এ কারণে ইসরাইলের উত্তর সীমান্ত থেকেও একযোগে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কা বিবেচনায় নিয়ে সামরিক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ইরানের পাশাপাশি হিজবুল্লাহর সম্ভাব্য হামলাও মোকাবিলা করতে হতে পারে—এমন পরিস্থিতি মাথায় রেখে নিজেদের প্রতিরক্ষা ও সামরিক পরিকল্পনা সাজাচ্ছে ইসরাইল। তথ্যসূত্র: গলফ নিউজ

ট্রাম্পকে ইরানে হামলার প্রস্তাব নেতানিয়াহুর

নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে সামরিক সরঞ্জাম আনতে ইরানের ৫ হাজার প্রতিষ্ঠানের গোপন নেটওয়ার্ক

যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ও পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে সামরিক সরঞ্জাম আমদানির জন্য পাঁচ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠান নিয়ে একটি গোপন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে ইরান। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অন্তত ২০০ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম, বিস্ফোরক ও ভারী ট্রাক আমদানি করেছে দেশটি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক অনুসন্ধানে এসব তথ্য উঠে এসেছে।গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরু হয়। ওই সংঘাতের সময় ইরান হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে। তবে এত অস্ত্র ব্যবহারের পরও কীভাবে দেশটি নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুত গড়ে তুলেছে, রয়টার্সের অনুসন্ধানে তার বিস্তারিত চিত্র উঠে এসেছে।অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, ইরানের এই গোপন সরবরাহ নেটওয়ার্ক বেশ পরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এর সঙ্গে দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ‘বুনিয়াদ’ নামে পরিচিত বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক রয়েছে।২০১৬ সাল থেকেই জাহাজে পণ্য পরিবহন ও খালাসের বিলসহ বিভিন্ন নৌপরিবহণ সংক্রান্ত নথিতে এই নেটওয়ার্কের আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, এ নেটওয়ার্কের নম্বরযুক্ত কোনো সংস্থার বিরুদ্ধে পশ্চিমা সরকারগুলো কখনো নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যেভাবে কাজ করে নেটওয়ার্কটি ইসরাইলি-আমেরিকান ঝুঁকি বিশ্লেষণকারী পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ২৪০ অ্যানালিটিকসের সহযোগিতায় রয়টার্স প্রথমবারের মতো এ নেটওয়ার্কের সন্ধান পায়। অনুসন্ধান অনুযায়ী, এটি তেহরানের সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ ও নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। নেটওয়ার্কের সংস্থাগুলোর নামের শুরুতে ইংরেজি ‘এমওডি’ অক্ষরগুলো রয়েছে। ফারসিতে এর সংক্ষিপ্ত রূপ ‘ভিওডিজেএ’। এর পর পাঁচ বা ছয় অঙ্কের একটি সংখ্যা শব্দে লেখা থাকে। সব সংস্থার ঠিকানা ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তেহরানের ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠার তারিখ দেখানো হয়েছে ১৯৭৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি। ওই দিন আয়াতুল্লাহ খোমেনি ক্ষমতা গ্রহণ করেছিলেন। তবে করপোরেট নথিতে দেখা গেছে, এসব সংস্থার অধিকাংশই প্রকৃতপক্ষে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ২০১৩ সালে। ওই সময় নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের তেল রপ্তানি ও মুদ্রাব্যবস্থা চরম চাপে ছিল। সংস্থাগুলো বিভিন্ন মধ্যস্বত্বভোগী ও বিদেশি ভুয়া কোম্পানির নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে। সম্মিলিতভাবে এসব প্রতিষ্ঠানকে ‘ট্রাস্টি’ বলা হয়। অবৈধ তেল বিক্রির আয় ব্যবহার করে তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুত পুনরায় পূরণে সহায়তা করে। রয়টার্সের পর্যালোচনা করা চালানের ৯৭ শতাংশের ক্ষেত্রে লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে ‘মুদ্রা স্থানান্তর ছাড়াই’। ফলে নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর নজরে আসতে পারে, এমনভাবে সীমান্ত পেরিয়ে অর্থ স্থানান্তরের প্রয়োজন হয়নি। এসব সংস্থার মাধ্যমে আমদানি করা গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের মধ্যে রয়েছে রকেটের জ্বালানি, বিভিন্ন যন্ত্রাংশ এবং ভারী লঞ্চার। চীন, রাশিয়া ও জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশ থেকে এসব সরঞ্জাম সংগ্রহ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যেভাবে সন্ধান মিলল ২৪০ অ্যানালিটিকসের অর্থনীতিবিদ নোয়াম বিনস্টক ২০২৫ সালের জুনে এ নেটওয়ার্কের ধরন শনাক্ত করেন। টেলিগ্রাম ও উইকিইরান ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে পড়া ব্যাংক সেপাহর ফাঁস হওয়া নথি বিশ্লেষণের সময় তিনি বিষয়টি খুঁজে পান। ব্যাংকটি আইআরজিসির সদস্যদের বেতন-ভাতা পরিচালনা করে। নথিতে থাকা অর্থের পরিমাণ তাকে বিস্মিত করে। দেখা যায়, ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ ৩৬টি সংস্থার কাছে ১২০ কোটি ডলার ছিল। বাকি সংস্থাগুলোর কাছে ছিল আরও প্রায় ১৮০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ স্থানীয় মুদ্রা। পরে তিনি জানতে পারেন, এসব সংস্থা তেল বিক্রির অর্থ পাচ্ছে এবং দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য সরঞ্জাম কিনছে। প্রতিটি সংস্থার জন্য রয়েছে ১১ অঙ্কের আলাদা পরিচিতি নম্বর। জাহাজের নথি, চালান ও ব্যাংক হিসাবেও একই নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে ভুয়া কোম্পানির আড়ালে থাকলেও নেটওয়ার্কটির কার্যক্রম শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এরপর রয়টার্স প্রায় ১৯ হাজার আমদানি নথির একটি অংশ জাহাজ চলাচলের কাগজপত্র, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও, স্যাটেলাইট চিত্র এবং রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখে। সবচেয়ে বড় ক্রেতা যে সংস্থা নেটওয়ার্কের একটি সংস্থা বিশেষভাবে নজরে এসেছে। এর নাম ‘এমওডি ৩৪৬৪২৮’। ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত এক বছরে সংস্থাটির আমদানির পরিমাণ ছিল ৪৪ কোটি ২০ লাখ ডলার। পরের বছর তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯৮ কোটি ৮০ লাখ ডলারে। এর ফলে ইরানের শীর্ষ ১০ আমদানিকারকের মধ্যে জায়গা করে নেয় সংস্থাটি। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সংস্থাটি ২৩০ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম আমদানি করেছে। এসব পণ্যের মধ্যে ছিল রকেটের জ্বালানি তৈরির উপাদান, বিস্ফোরক ও অস্ত্রের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে সংস্থাটি চীন থেকে ৮৮৬ টন রাসায়নিক আমদানি করে। এর মধ্যে ছিল সোডিয়াম ক্লোরেট ও অন্যান্য পারক্লোরেট। এগুলো কঠিন জ্বালানিচালিত রকেটের জ্বালানি তৈরির গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল। বন্দর আব্বাস দিয়ে এসব পণ্য ইরানে আনা হয়। সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ২৬ এপ্রিল দক্ষিণ ইরানের শহীদ রাজায়ি বন্দরে ভয়াবহ বিস্ফোরণের কারণ ছিল এসব চালানের একটি থেকে আসা সোডিয়াম পারক্লোরেট। বন্দরের কনটেইনারে থাকা রাসায়নিকটিতে আগুন ধরে গেলে বিস্ফোরণ ঘটে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছিল, রাসায়নিকগুলো সংরক্ষণ করেছিল সিনা পোর্ট অ্যান্ড মেরিন সার্ভিসেস ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি। প্রতিষ্ঠানটির মালিক বুনিয়াদ মোস্তাজাফান। এটি কয়েকশ কোটি ডলারের একটি ফাউন্ডেশন, যা ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সরাসরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ওই বিস্ফোরণে অন্তত ৭০ জন নিহত এবং ১ হাজার ২০০ জনের বেশি আহত হন। ট্রাক ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণযান এ সংস্থাটি ৪৩৫টি আইভেকো ট্রাকও আমদানি করেছে। সামরিক বাহিনী এসব ট্রাককে ছদ্মবেশী ভ্রাম্যমাণ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণযান হিসেবে ব্যবহার করে। এর আগে ২০২২ সালে একই ধরনের ছয়টি ট্রাক কেনা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সেগুলো সরবরাহ করা হয় সাহারা থান্ডার নামের একটি ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কাছে। রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যের অভিযোগে ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এমওডি ৩৪৬৪২৮ হাজার হাজার টয়োটা হাইলাক্স ও ল্যান্ড ক্রুজার পিকআপও আমদানি করেছে। আইআরজিসি এসব গাড়িতে ভারি মেশিনগান সংযুক্ত করে ব্যবহার করে। আইভেকো জানিয়েছে, ইরানে তাদের কোনো গাড়ি থাকলে তা তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। অন্যদিকে টয়োটা বলেছে, ইরানে তাদের কোনো ব্যবসায়িক কার্যক্রম নেই। যুদ্ধের মধ্যেও চলেছে আমদানি রয়টার্সের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরও ইরানে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ অব্যাহত ছিল। যুদ্ধ শুরুর আগের কয়েক সপ্তাহে চীন থেকে ৯৩ টন টাইটানিয়াম আমদানি করে ইরান। উচ্চ শক্তিসম্পন্ন এ ধাতু ক্ষেপণাস্ত্রের বাইরের কাঠামো ও রকেটের ইঞ্জিনের আবরণ তৈরিতে ব্যবহার করা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন অস্ত্র ও নিষেধাজ্ঞাবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা। এ ছাড়া চীন থেকে ২৬৮ টন নাইট্রোসেলুলোজ এবং আরও ২৭৬ টন রাসায়নিক আমদানি করা হয়। এসব রাসায়নিকের মধ্যে পারক্লোরেট শ্রেণির উপাদানও রয়েছে, যা রকেটের জ্বালানি ও বিস্ফোরক তৈরিতে ব্যবহার করা যায়। মার্চে মাসিক আমদানির পরিমাণ ৪৭ শতাংশ কমে ৫ কোটি ৪০ লাখ ডলারে নেমে আসে। তবে মে মাসে তা আবার বেড়ে ৭ কোটি ৭০ লাখ ডলারে পৌঁছায়। রাশিয়া থেকে ৭৬ লাখ ডলার মূল্যের ডেটোনেটর বা বিস্ফোরক সক্রিয় করার যন্ত্রও পাঁচটি চালানে ইরানে পৌঁছায়। এর সর্বশেষ চালানটি আসে জুনে। এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এসেছে বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এমন ২ কোটি ৭০ লাখ ডলারের পণ্যও ইরানে পৌঁছেছে। এসব পণ্যের সর্বশেষ চালানটি আসে জুনে যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে অবরোধ স্থগিত করার কয়েক দিন পর। ইরান কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত লেদ মেশিন ও ইলেকট্রন-বিম ফার্নেসের মতো নিখুঁত যন্ত্রপাতিও কিনেছে। এসব সরঞ্জাম ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের কাঠামো তৈরিতে ব্যবহার করা সম্ভব। যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা অনুসন্ধানের তথ্য পর্যালোচনা করা বিশেষজ্ঞরা একে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের বহর পুনর্গঠনে ‘শিল্পপর্যায়ের প্রচেষ্টা’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, এসব উপকরণের বড় একটি অংশ দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য। অর্থাৎ সামরিক কাজের পাশাপাশি বেসামরিক কাজেও এগুলো ব্যবহার করা সম্ভব। রয়টার্সের অনুসন্ধান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘ইরানি সরকারের অর্থনৈতিক লাইফলাইন বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে’। তিনি বলেন, ‘আমাদের শক্তিশালী নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলা, সামরিক ও অস্ত্র কর্মসূচিতে অর্থায়ন করা এবং বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহের জন্য ইরানি সরকার মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যেতে পারে। তবে আমরা সব সময় তাদের চেয়ে ১০ ধাপ এগিয়ে রয়েছি।’ তবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞাবিষয়ক সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মিয়াদ মালেকি এ ব্যবস্থাকে ইরানের সামরিক বাহিনীর ‘লাইফলাইন’ এবং তাদের বাণিজ্যের ‘সম্পূর্ণ বাস্তুতন্ত্র’ বলে অভিহিত করেছেন। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা কর্মসূচি প্রণয়নে সহায়তা করা মালেকি রয়টার্সকে বলেন, ‘এখানে আমরা যা দেখছি, তা হলো এই সংঘাতের সময় এবং তার বহু বছর আগে থেকেই ইরানি সরকারের সামরিক বাহিনীর লাইফলাইন হিসেবে কাজ করছে। এটি ইরানের সামরিক বাণিজ্যের সম্পূর্ণ বাস্তুতন্ত্র।’ চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ বিষয়ে তারা ‘অবগত নয়’। রয়টার্সকে ফ্যাক্সের মাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘আঞ্চলিক সংঘাতের সঙ্গে বিদ্বেষপূর্ণভাবে চীনকে জড়ানোর চেষ্টা কিংবা চীনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার প্রচেষ্টার আমরা দৃঢ় বিরোধিতা করি।’ ইরানের সংশ্লিষ্ট সংস্থা, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, হোয়াইট হাউস, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত এ অনুসন্ধানের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। সূত্র: রয়টার্স

নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে সামরিক সরঞ্জাম আনতে ইরানের ৫ হাজার প্রতিষ্ঠানের গোপন নেটওয়ার্ক

বারবার পতনের শঙ্কা, তবুও যেভাবে টিকে আছেন নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের রাজনীতিতে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে নানা সংকট মোকাবিলা করে ক্ষমতায় টিকে আছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। অনেকবার তার রাজনৈতিক জীবনের অবসানের আশঙ্কা তৈরি হলেও প্রতিবারই ঘুরে দাঁড়িয়েছেন তিনি।তবে এবারের নির্বাচনের ফল তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের ইতি টানার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। যদিও ইসরায়েলের জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এখনই তার বিদায় নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত ৯০ শতাংশ ভোট গণনা শেষে দেখা গেছে, ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি প্রায় ২৬টি আসন নিয়ে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে রয়েছে। কিন্তু তার নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট পেয়েছে আনুমানিক ৫৩টি আসন। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সরকার গঠন নিয়ে চাপে পড়েছেন নেতানিয়াহু।অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলো সম্মিলিতভাবে প্রায় ৬৭টি আসন পেতে পারে। এতে তাদের সরকার গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে দলগুলোর মধ্যে আদর্শিক ও রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকায় তাদের ঐক্য ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ।নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকটের দল পেয়েছে ২১টি আসন। তবে আরব দলগুলোকে বাদ দিলে ইহুদি বিরোধী দলগুলোর আসনসংখ্যা মাত্র ৪৮। তাই সরকার গঠন করতে হলে আরব দলগুলোর সমর্থন প্রয়োজন হবে তাদের। ফলে নির্বাচনে এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত কারা সরকার গঠন করবে, তা নির্ভর করছে জোটের সমীকরণের ওপর। ইসরায়েলের আরব ভোটারদের প্রতিনিধিত্বকারী রা’আম ও জয়েন্ট লিস্ট দল দুটি মিলে রেকর্ড ১৯টি আসন পেতে পারে। তবে আইজেনকটের ডানপন্থী মিত্র নাফতালি বেনেট ও আভিগদর লিবারম্যান আরব দলগুলোর সমর্থননির্ভর সরকার গঠনের বিরোধিতা করেছেন। অন্যদিকে জয়েন্ট লিস্ট জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর শাসনের অবসান ঘটাতে তারা রাজনৈতিক সহযোগিতায় প্রস্তুত। বিরোধীদের ঠেকাতে নতুন কৌশল? নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, আরব ও ইহুদি দলগুলোর সহযোগিতায় বিরোধীদের সরকার গঠনের সম্ভাবনা নস্যাৎ করাই এখন তার প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে বিরোধী আইনপ্রণেতাদের ওপর চাপ প্রয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে তার। নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে লিকুদ পার্টি আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ করেছে। তবে নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিরোধীদের আশঙ্কা, ক্ষমতা ধরে রাখতে নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানসহ কোনও নিরাপত্তা সংকট তৈরি বা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। এর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে ইরানে যৌথ হামলার পক্ষে চাপ দিয়েছিলেন। তবে ইসরায়েলি সেনাপ্রধানের আপত্তিসহ বিভিন্ন কারণে ওয়াশিংটন তখন সিদ্ধান্তটি স্থগিত রাখে। সরকার গঠনের পরবর্তী ধাপ ভোট গণনা শেষ হলে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ নির্বাচিত দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য প্রার্থী মনোনীত করবেন। সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া দলের নেতাই যে মনোনয়ন পাবেন, এমন নয়; বরং যার সরকার গঠনের সম্ভাবনা বেশি, তাকেই বেছে নেওয়া হবে। আরব দলগুলোর সমর্থন পাওয়ায় আইজেনকট এগিয়ে থাকতে পারেন। মনোনীত প্রার্থী সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন সময় বাড়ানো হতে পারে। তিনি ব্যর্থ হলে অন্য প্রার্থীকে সুযোগ দেওয়া হবে। সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে আবার নির্বাচন হতে পারে। এদিকে সরকার গঠন করতে না পারলেও সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে বিরোধীরা নেসেটের স্পিকারসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন আনতে এবং আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিতে পারে। তবে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকায় এই ঐক্য ধরে রাখা কঠিন হতে পারে। হারজগ বুধবার নতুন নির্বাচন এড়াতে দলগুলোর প্রতি ‘খোলা মন’ নিয়ে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন। রাজনৈতিক অচলাবস্থায় তার মধ্যস্থতাই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আর নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় থাকার সুযোগ পাচ্ছেন নেতানিয়াহু। সূত্র: সিএনএন

বারবার পতনের শঙ্কা, তবুও যেভাবে টিকে আছেন নেতানিয়াহু

আঞ্চলিক সহযোগিতা নিয়ে তেহরানে তিন দেশের বৈঠক

মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে আঞ্চলিক সমন্বয় নিয়ে আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের শীর্ষ কর্মকর্তারা। এ লক্ষ্যে ইরানের রাজধানী তেহরানে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) এ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এতে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির অংশ নেবেন।এ ছাড়া তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধানও বৈঠকে যোগ দেবেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই ব্যক্তি রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে তারা নিজেদের নাম প্রকাশ করতে চাননি। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে সৌদি সরকারের গণমাধ্যম দপ্তর, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ও তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স। তবে তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেয়নি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুতি বিদ্রোহীদের হামলা বেড়ে সৌদি আরব আক্রান্ত হওয়ার পর এই প্রথম ইরান ও তিন দেশের জোটের সব সদস্যের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ হতে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের জোরালো হামলা চলছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাত এবং বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারও অস্থিতিশীল। এ প্রেক্ষাপটে তেহরানের এই বৈঠকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে ধারণা করা হচ্ছে। সৌদি আরব নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও ইয়েমেন সংকটের লাগাম টানতে চায়, অন্যদিকে পাকিস্তান ও তুরস্ক সীমান্ত নিরাপত্তা বজায় রেখে আঞ্চলিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়া রোধে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। এ অবস্থায় মক্কা চুক্তিভুক্ত এই তিন দেশের শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব তেহরানে গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে আঞ্চলিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় এড়ানোর চেষ্টা করতে পারেন বলেই আশা। সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর, টাইমস অব ইসরায়েল

আঞ্চলিক সহযোগিতা নিয়ে তেহরানে তিন দেশের বৈঠক

মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের প্রস্তাব নিয়ে প্রতিবেদনকে মিথ্যা বলল ইরান

হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের প্রস্তাব দিয়েছে ইরান—সৌদি মালিকানাধীন সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়ার এমন খবর প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরানের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও কল্পনাপ্রসূত।ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া বক্তব্যে সূত্রটি জানায়, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর সঙ্গে মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টি যুক্ত করে কোনো সমঝোতায় রাজি নয় ইরান। তেহরানকে নিয়ে আল আরাবিয়ার আগের কিছু প্রতিবেদনের মতো এটিও ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়েছে।সূত্রটি আরও জানায়, নিজস্ব কৌশলে মার্কিন অবরোধ এড়িয়ে চলছে ইরান। শেষ পর্যন্ত এই অবরোধ ভেঙে ফেলার ব্যাপারেও আত্মবিশ্বাসী দেশটি। একই সঙ্গে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের কাছে নতুন কোনো প্রস্তাব পাঠানোর খবরও নাকচ করেছে তেহরান।সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের দাবিগুলো সম্বলিত সাত দফার একটি পরিকল্পনা আগেই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে এটিই ইরানের আনুষ্ঠানিক অবস্থান বলে উল্লেখ করেছে সূত্রটি। তাসনিমকে দেওয়া বক্তব্যে সূত্রটি বলে, ইরানের সব বৈধ দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তাহীনতা দূর হবে না। এসব দাবির মধ্যে ইরানের বন্দর ও সামুদ্রিক জাহাজ চলাচলের ওপর হস্তক্ষেপ বন্ধ করার বিষয়টিও রয়েছে। সূত্রটি আরও বলেছে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো অবস্থানের বাইরে কোনো অনুমান বা সংবাদমাধ্যমের জল্পনাকে ইরানের প্রকৃত অবস্থান হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তাহীনতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী ও হস্তক্ষেপমূলক কর্মকাণ্ডকে দায়ী করেছে ইরানি সূত্রটি। তাদের দাবি, এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ করা শুধু আঞ্চলিক দেশগুলোর নয়, বরং পুরো বিশ্বের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়।

মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের প্রস্তাব নিয়ে প্রতিবেদনকে মিথ্যা বলল ইরান

প্রকাশ্যে না এলেও বিচার বিভাগের প্রধানের সঙ্গে বৈঠকে মোজতবা খামেনি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির সঙ্গে বিরল বৈঠক করেছেন দেশটির বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেইন মোহসেনি এজেই। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত মোজতবা খামেনিকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। এজেইর সঙ্গে তার বৈঠকটি কখন ও কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছে, সে বিষয়েও কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির বরাতে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।ইরানের বিচার বিভাগের অনলাইন সংবাদমাধ্যম মিজান অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে জনসাধারণের অধিকার রক্ষা, দুর্নীতি দমন এবং এসব ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাধা দূর করার বিষয়ে আলোচনা করেন দুই নেতা।এ ছাড়া ‘আমেরিকান-জায়নবাদী অপরাধীদের’ কর্মকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট আর্থিক ও নৈতিক ক্ষতির ক্ষতিপূরণ আদায় এবং ক্ষতিগ্রস্তদের অধিকার পুনরুদ্ধারে চলমান উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে বৈঠকটি কবে এবং কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছে, সে বিষয়ে কোনও তথ্য জানায়নি বিচার বিভাগের সংবাদমাধ্যমটি। এর আগে মোজতবা খামেনির সঙ্গে অন্য ব্যক্তিদের বৈঠকের খবর প্রকাশিত হলেও সেসব বৈঠকের সময় ও স্থানও জানানো হয়নি। জনসমক্ষে অনুপস্থিত মোজতবা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে মোজতবা খামেনি মূলত লিখিত বার্তার মাধ্যমে নিজের বক্তব্য প্রকাশ করছেন। এসব বার্তার কয়েকটি তার হাতের লেখা বলে দাবি করে প্রকাশ করা হয়েছে। তবে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তার কোনও ভিডিওবার্তা প্রকাশ করা হয়নি। জনসমক্ষে তার অনুপস্থিতি নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনও ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। বিচার বিভাগের প্রধানের সঙ্গে বৈঠকের খবর প্রকাশের মধ্য দিয়ে মোজতবার সঙ্গে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের যোগাযোগের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে এল। তবে বৈঠকটি সরাসরি অনুষ্ঠিত হয়েছে কি না, কিংবা এর কোনও ছবি বা ভিডিও রয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়নি। গালিবাফের সঙ্গেও বৈঠকের খবর এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের সঙ্গে মোজতবা খামেনির বৈঠকের খবর প্রকাশিত হয়। ওই বৈঠকে যুদ্ধের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানানো হয়েছিল। বিচার বিভাগের প্রধান এবং প্রধান আলোচকের সঙ্গে এসব বৈঠকের খবর এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন ইরান যুদ্ধ ও কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তবে এসব বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কিংবা যুদ্ধ পরিচালনা ও আলোচনার বিষয়ে কোনও নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কি না, তা প্রকাশ করা হয়নি। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার জনসমক্ষে অনুপস্থিতি এবং তার কার্যক্রম সম্পর্কে সীমিত তথ্যের কারণে দেশটির নেতৃত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বৈঠকগুলোর খবর বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। সূত্র: ডন নিউজ

প্রকাশ্যে না এলেও বিচার বিভাগের প্রধানের সঙ্গে বৈঠকে মোজতবা খামেনি

সৌদিসহ মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন কূটনীতিকদের সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন কূটনীতিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের দ্রুত সরিয়ে নিচ্ছে। এই পদক্ষেপ গোয়েন্দা তথ্যে ইরানের পক্ষ থেকে মার্কিন কর্মকর্তা ও কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করার তৎপরতা বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়ার পর নেওয়া হচ্ছে।  মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যে অঞ্চলটির বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলোর জনবল পুনর্বিন্যাস করছে যুক্তরাষ্ট্র। নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় সৌদি আরব থেকে জরুরি নয় এমন মার্কিন সরকারি কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  পাশাপাশি জর্ডান, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও লেবাননসহ কয়েকটি দেশে কূটনৈতিক মিশনের কর্মীসংখ্যা সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, ইরানের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা এবং হুতি বিদ্রোহীদের হুমকির কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে সব দেশে একই ধরনের নির্দেশ জারি করা হয়নি। কোথাও জরুরি নয় এমন কর্মী ও তাদের পরিবারকে চলে যেতে বলা হয়েছে, আবার কোথাও দূতাবাসের কার্যক্রম সীমিত রেখে কর্মীসংখ্যায় সাময়িক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে দেওয়া ২৩ অক্টোবরের এক আনক্ল্যাসিফায়েড মেমোতে বলা হয়েছে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানতে পেরেছে, ইরান মার্কিন কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করার প্রচেষ্টা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। স্মারক অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যসহ কয়েকটি অঞ্চলে এসব তৎপরতা উন্নত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে গোয়েন্দা মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, দূতাবাসগুলোতে কর্মীসংখ্যা নির্ধারণের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে পাওয়া নতুন তথ্য নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়। হুতি বিদ্রোহীদের হামলার হুমকি এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে ইরানের সন্ত্রাসী ষড়যন্ত্রের তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই এই অঞ্চলে 'রেসট্রিক্টেড অপারেশনস' স্ট্যাটাসে থাকা দূতাবাসগুলোর কর্মী সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।' এক মার্কিন কূটনীতিক বলেন, 'পরিস্থিতিকে কেবল বিশৃঙ্খল বললে কম বলা হবে।' তিনি ব্যাখ্যা করেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে পুরো পরিবার সরিয়ে নেওয়ার জন্য এ পর্যন্ত যে আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তা পুরো খরচের জন্য যথেষ্ট নয়। যুদ্ধের শুরুর সপ্তাহগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের আবাস ছেড়ে এই পরিবারগুলোর অনেককেই সন্তানদের জন্য নতুন বাড়ি ও স্কুল খুঁজতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছিল। এখন স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে আরও কম আর্থিক সহায়তা পাওয়ার আশঙ্কার মধ্যেই তাদের আবারও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। আমেরিকান ফরেন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মুখপাত্র নিকি গেমার সিএনএনকে বলেন, 'এটি চলতি বছরের শুরুর দিকে পরিবারগুলোর মুখোমুখি হওয়া সেই বিশৃঙ্খলারই পুনরাবৃত্তি। অনেকে কেবল থিতু হতে শুরু করেছিলেন, এর মধ্যেই তাঁদের আবার চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলো। স্বাভাবিকভাবেই তাঁরা হতাশ, বিভ্রান্ত ও ক্ষুব্ধ।' পরবর্তীতে শুক্রবার স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত সব কর্মী ও তাঁদের পরিবার 'দৈনিক ভাতা (পার ডিয়েম) এবং বাসস্থান ও স্কুলের জন্য সহায়তা পাচ্ছেন; যা সংশ্লিষ্ট দেশের ভৌগোলিক অবস্থানের জন্য নির্ধারিত সরকারি হারের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।' সৌদি আরবে ইরান-সমর্থিত হুথিদের আক্রমণ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই রদবদল করা হচ্ছে। এসব হামলা নিয়ে স্টেট ডিপার্টমেন্ট বারবার সতর্ক করে বলেছে যে এটি 'তাৎক্ষণিক এলাকার বাইরেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।' এছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় হামলা শুরু করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। অন্যদিকে সূত্রগুলো জানিয়েছে, দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ইসরায়েল জোরালো লবিং করলেও আপাতত তা সফল হয়নি। চলতি সপ্তাহে সৌদি আরব থেকে জরুরি দায়িত্বে না থাকা কর্মী এবং তাঁদের পরিবারের সব সদস্যকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হুথিদের তৎপরতা বৃদ্ধির প্রতিক্রিয়ায় এই প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে জর্ডান, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দূতাবাসে অত্যন্ত নীরবে কর্মী সংখ্যার সর্বোচ্চ সীমা সমন্বয় করা হচ্ছে বলে সিএনএনকে জানিয়েছে বিভিন্ন সূত্র। স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক কর্মকর্তা সিএনএনকে নিশ্চিত করেছেন যে লেবানন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও জর্ডানের ক্ষেত্রে 'সীমাবদ্ধ কার্যক্রমের (রেসট্রিক্টেড অপারেশনস) অধীনে কর্মীদের উপস্থিতির মাত্রায় অস্থায়ী পরিবর্তন আনা হবে।' তাঁরা জানান, কুয়েত বা বাহরাইনের কর্মীদের ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি, যা ইঙ্গিত করে যে সেখানে কর্মীর সংখ্যা নির্ধারিত সীমার বেশি নয়। ওই কর্মকর্তা বলেন, 'রেসট্রিক্টেড অপারেশনস স্ট্যাটাসের অধীনে কর্মীদের উপস্থিতি সার্বক্ষণিক মূল্যায়ন ও সমন্বয় করা হয়।' সৌদি আরবে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হলেও এসব দূতাবাস থেকে কর্মীদের সরানোর বিষয়টি প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হয়নি। স্টেট ডিপার্টমেন্ট জোর দিয়ে বলেছে, সৌদি আরবের মতো এই দূতাবাসগুলোর মর্যাদায় (স্ট্যাটাস) কোনো পরিবর্তন আসেনি এবং সেগুলো 'রেসট্রিক্টেড অপারেশনস' স্ট্যাটাসেই রয়েছে। তবে মর্যাদায় কোনো আনুষ্ঠানিক পরিবর্তন না হলেও এই স্ট্যাটাসের ভেতরে থেকেই কর্মী সংখ্যায় পরিবর্তন আনা সম্ভব। জর্ডানের রাজধানী আম্মান ছাড়ার নির্দেশ পাওয়া দূতাবাস কর্মীদের পরিস্থিতি নিয়ে সেখানকার একটি সূত্র বলে, 'এখানে সবকিছুতেই বারবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তির অনুভূতি (গ্রাউন্ডহগ ডে ভাইব) কাজ করছে।' সব দূতাবাসে সন্তানদের ফিরতে না দেওয়া হলেও বেশিরভাগ জায়গায় জীবনসঙ্গীদের ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এখন পরিবারের সদস্যরা সেই দূতাবাসগুলো ছেড়ে যাচ্ছেন যেগুলোতে মাত্র কিছুদিন আগেই তাঁদের ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে বছরের শুরুর দিকের মতো এবার পরিবারের সদস্যদের একই রকম আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছে সূত্রগুলো। প্রত্যাহারের বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র জানায়, ফগি বটমে স্টেট ডিপার্টমেন্টের সদর দপ্তর থেকে মাঠ পর্যায়ের ফরেন সার্ভিস কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের বিষয়টি ইরান যুদ্ধের শুরুর মতো 'তেমনই চরম লেজেগোবরে অবস্থায়' রয়েছে। ওই সূত্র আরও জানায়, এই রদবদলের দিনগুলোতে ফরেন সার্ভিস কর্মকর্তাদের মধ্যে এমন উদ্বেগ ছিল যে যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরের জন্য স্টেট ডিপার্টমেন্ট তাঁদের পরিবারকে দৈনিক ভাতা দেবে কি না। তিনি উল্লেখ করেন, সাধারণত প্রস্থানের আগে কর্মীদের নিয়ে যে ধরনের পরিকল্পনা বৈঠক বা টাউন হল সভা হয়, কিছু দূতাবাসে তাও করা হয়নি। সূত্রটি আরও বলে, 'অনেকে নিজ কর্মস্থলের নেতৃত্বের কাছ থেকে জানার বদলে খবরের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারছেন।' ফরেন সার্ভিস কর্মকর্তাদের প্রতিনিধিত্বকারী ইউনিয়ন 'আমেরিকান ফরেন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন' (এএফএসএ) জানায়, তারা 'আমলাতান্ত্রিক ঠেলাঠেলির' বিবরণ শুনতে পাচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, 'যে পরিবারগুলো মাত্র কিছুদিন আগে কর্মস্থলে ফিরেছিল এবং সন্তানদের স্কুলে পুনরায় ভর্তি করিয়েছিল, তারা কী পরিমাণ আর্থিক সহায়তা পেতে পারে সে বিষয়ে কোনো পরামর্শ ছাড়াই তাদের আবারও সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে বলা হচ্ছে।' এএফএসএ-এর মুখপাত্র গেমার সিএনএনকে বলেন, 'সৌদি আরবের বাইরের পরিবারগুলো এএফএসএ-কে জানিয়েছে, আবাসন সহায়তা বা দৈনিক ভাতা নিশ্চিত না করেই তাঁদের চলে যেতে বলা হচ্ছে।' তাদের জানানো হয়েছে যে দূতাবাসগুলোর 'রেসট্রিক্টেড অপারেশনস' স্ট্যাটাসে কোনো পরিবর্তন না আসায় এই সহায়তা মিলছে না। বিদেশে আকস্মিকভাবে বাসস্থান হারানোর অপ্রত্যাশিত খরচ মেটাতে এবং নতুন বাড়ি খুঁজতে এই পরিবারগুলো মূলত এসব ভাতার ওপর নির্ভর করে থাকে; বিশেষ করে যখন তাদের পরিবারের কূটনৈতিক সদস্য জরুরি কর্মী হিসেবে দূতাবাসে থেকে যান। গেমার বলেন, ‘বিমানে ওঠার আগেই পরিবারগুলোর জানার অধিকার রয়েছে যে তারা কীভাবে বাসস্থানের খরচ মেটাবে।’ স্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তা বলেন, ‘রেসট্রিক্টেড অপারেশনস স্ট্যাটাস, অনুমোদিত প্রস্থান কিংবা বাধ্যতামূলক প্রস্থানের আওতায় থাকা আমাদের কূটনৈতিক কর্মী ও তাদের পরিবারের জন্য কতটা কঠিন, তা আমরা বুঝি।’ তারা আরও বলেন, ‘অতিরিক্ত খরচ ও স্কুলে ভর্তি করানোসহ এই কঠিন সময় পার করতে পরিবারগুলোকে সহায়তা করার সব ধরনের উপায় ব্যবহারে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। এই সাম্প্রতিক পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের সঙ্গে আমরা সরাসরি যোগাযোগ করছি এবং আগামী দিনগুলোতে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানানো হবে।’ সূত্র: সিএনএন

সৌদিসহ মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন কূটনীতিকদের সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ঢুকতে না দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আলী আবদোল্লাহি বলেছেন, কোনও পরিস্থিতিতেই মার্কিন সামরিক জাহাজকে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করতে দেবে না ইরান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে তেহরানের সামরিক অবস্থান তুলে ধরে তিনি এ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রচারিত বক্তব্যে আবদোল্লাহি দাবি করেন, ইরানি বাহিনী মার্কিন নৌবাহিনীর কার্যক্ষমতা কার্যত অকার্যকর করে দিয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন বাহিনী এখন পারস্য উপসাগরসংলগ্ন জলসীমা কিংবা ইরানের আঞ্চলিক জলসীমার কাছাকাছি আসতে পারছে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংসের দাবি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই ইরানি জেনারেল। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই ইরানের সব পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস করে থাকে, তাহলে একই দাবি বারবার করার প্রয়োজন কেন? আবদোল্লাহি আরও প্রশ্ন তোলেন, ইরানের সামরিক স্থাপনা ও সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে থাকলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো কেন হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি যাওয়ার সাহস দেখাচ্ছে না। তিনি বলেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে নিজেদের তৈরি সংকটের আরও গভীরে ঠেলে দেওয়াই ইরানের কৌশল। আবদোল্লাহি আরও বলেন, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংসের বিষয়ে ট্রাম্পের বারবার দেওয়া বক্তব্য পরস্পরবিরোধী। তার মতে, এসব বক্তব্যের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে জনমতকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এগুলো তার নিজস্ব অভিযোগ; ইরানের সামরিক সক্ষমতা কিংবা মার্কিন নৌবাহিনীর কার্যক্ষমতা নিয়ে তার দাবির স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি। পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ, জাহাজ চলাচল এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। আবদোল্লাহির বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, ইরানের ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ এবং কূটনৈতিক সমাধানের শর্ত নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ অব্যাহত রয়েছে। ফলে উপসাগরে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি নিয়ে তেহরানের এই হুঁশিয়ারি আঞ্চলিক উত্তেজনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে সামনে এসেছে। সূত্র: আল-জাজিরা

উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ঢুকতে না দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের

হরমুজ প্রণালিতে দুই তেলবাহী ট্যাংকারে অগ্নিকাণ্ড

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সূত্রে দেশটির সংবাদমাধ্যম ফার্স জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে মাইনে আঘাত লেগে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন ধরে গেছে। এ ঘটনায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।ফার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, মাইনে আঘাত লাগার পর ট্যাংকার দুটি আগুনে জ্বলতে শুরু করে। তবে জাহাজ দুটির নাম, কোন দেশের পতাকাবাহী এবং এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, তা এখনো জানা যায়নি। আগুনে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। প্রতিবেদনে আইআরজিসির বরাতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে তেল কোম্পানিগুলোকে আরও বড় মূল্য দিতে হবে। আইআরজিসি বলেছে, “যুক্তরাষ্ট্রের এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ শাসনের দুষ্টামি অব্যাহত থাকলে তেল কোম্পানিগুলোকে আরও বেশি মূল্য দিতে হবে।” এদিকে, হরমুজ প্রণালির ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত করার দাবিও করেছে আইআরজিসি। বাহিনীটির দাবি, সোমবার ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয়। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনও বক্তব্য পাওয়া গেছে কি না, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের প্রধান পথ এটি। এ অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এর প্রভাব পড়তে পারে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম, জাহাজ চলাচলের ব্যয় এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তায়। তবে ট্যাংকারে আগুন লাগা ও মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনাগুলো সম্পর্কে আইআরজিসির দাবির স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা যায়নি। সূত্র: আল-জাজিরা

হরমুজ প্রণালিতে দুই তেলবাহী ট্যাংকারে অগ্নিকাণ্ড

ইরানের সহায়তায় শক্তিশালী হয়েছে হুতিদের হামলা

ইরানের সহযোগিতায় সৌদি আরব ও ইয়েমেনে তাদের মিত্রদের লক্ষ্য করে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী ও অত্যাধুনিক হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জন করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা।মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।সৌদি আরব ও ইয়েমেনে হুতিবিরোধী জোটের গোয়েন্দা তথ্য সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুতিদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে ইরানের সহায়তা বড় ভূমিকা রাখছে। এই সহযোগিতার ফলে লোহিত সাগর উপকূলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা বাড়ানোর পাশাপাশি সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও বিমানবন্দরেও হামলা চালাতে সক্ষম হচ্ছে গোষ্ঠীটি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সপ্তাহে সৌদি রাজধানী রিয়াদে চালানো একটি হামলায় ১৩ জন নিহত হয়। ওই হামলাসহ সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হুতিদের সাম্প্রতিক আক্রমণগুলো তাদের ক্রমবর্ধমান সামরিক সক্ষমতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এসব হামলার পেছনে ইরানের গোয়েন্দা সহায়তা রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ইরানের সহায়তায় হুতিরা শুধু হামলার সক্ষমতাই বাড়াচ্ছে না, ইয়েমেনের সংঘাতপূর্ণ এলাকাগুলোতেও নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করছে। বিশেষ করে লোহিত সাগরের উপকূলীয় অঞ্চলে তাদের সাম্প্রতিক ভূখণ্ডগত অগ্রগতি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে ইয়েমেনের হুতিদের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক ও তাদের সামরিক সহায়তার বিষয়ে তেহরান বরাবরই হস্তক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। ইরানের দাবি, ইয়েমেনের হুতিরা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নিজেদের সিদ্ধান্ত নেয় এবং তারা ‘সম্পূর্ণ স্বাধীন সত্তা’ হিসেবে কাজ করে। ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের সংঘাতের অন্যতম পক্ষ হুতি বিদ্রোহীরা। গোষ্ঠীটি দেশটির উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যদিকে, সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে ইয়েমেনের হুতিবিরোধী পক্ষকে সমর্থন দিয়ে আসছে। ফলে হুতিদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ লড়াইয়ের বাইরেও আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুতিদের সামরিক অভিযানে ইরানের সহায়তার অভিযোগ নতুন করে সামনে আসায় সৌদি আরবের নিরাপত্তা এবং ইয়েমেনের সংঘাত ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। তবে প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে ইরান তাৎক্ষণিকভাবে নতুন কোনও বক্তব্য দিয়েছে কি না, তা উল্লেখ করা হয়নি। সূত্র: আল-জাজিরা

ইরানের সহায়তায় শক্তিশালী হয়েছে হুতিদের হামলা

আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়ল অপরিশোধিত তেলের দাম

বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি আরও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে।  শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা গত ১৯ মে-এর পর সর্বোচ্চ। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দামও বেড়ে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুডের ফিউচারসের দাম ৩ দশমিক ৯৪ ডলার বা ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৯ দশমিক ৮৬ ডলারে স্থির হয়। এর আগে গত ১৯ মে ব্রেন্টের দাম সর্বশেষ এতটা উঁচুতে উঠেছিল। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ৪৪ ডলার বা ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০১ দশমিক ৪১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বরের পর এটিই ছিল ডব্লিউটিআইয়ের সর্বোচ্চ দর। চলতি সপ্তাহে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ব্রেন্টের দাম বেড়েছে ৪ দশমিক ৯ শতাংশ। একই সময়ে ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়েছে ১০ দশমিক ৪ শতাংশ। অর্থাৎ, সপ্তাহজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির হার ব্রেন্টের তুলনায় বেশি ছিল। জ্বালানি গবেষণা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এনার্জি অ্যাসপেক্টসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এর ফলে আগের দরপতন কাটিয়ে আবারও বাড়তে শুরু করে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআইয়ের দাম। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল উৎপাদনকারী ও রফতানিকারক দেশগুলোর সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হতে পারে। বিশেষ করে সৌদি আরবের মতো বড় উৎপাদক দেশের জ্বালানি অবকাঠামো আক্রান্ত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়বে। এমন আশঙ্কা থেকেই বাজারে দাম বাড়ার চাপ তৈরি হয়েছে। তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা সাধারণত আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দেয়। আর তেলের দাম দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা ও পণ্য পরিবহনের ব্যয় বেড়ে যেতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে বিভিন্ন দেশের মূল্যস্ফীতি ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে। ফলে অঞ্চলটিতে সামরিক উত্তেজনা বাড়লেই তেলের বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার আশঙ্কার খবরও বাজারে সেই অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। তবে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার খবরটি প্রতিবেদনে গুঞ্জন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে; হামলার ঘটনা নিশ্চিত হওয়ার তথ্য দেওয়া হয়নি। তেলের দামের পরবর্তী গতিপথ নির্ভর করবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, সম্ভাব্য সরবরাহ বিঘ্ন এবং বাজারে বিনিয়োগকারীদের প্রতিক্রিয়ার ওপর। সূত্র: আল-জাজিরা

আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়ল অপরিশোধিত তেলের দাম

যুদ্ধের গতি বাড়াচ্ছে এআই, ঝুঁকিতে বেসামরিক মানুষের জীবন

যুদ্ধক্ষেত্রে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করা থেকে হামলার পরিকল্পনা, সবখানেই বাড়ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার। সিদ্ধান্ত নিতে কয়েক সেকেন্ড লাগছে কয়েক দিনের বদলে। কিন্তু এখানে সেই প্রশ্নও সামনে আসছে যে ভুল লক্ষ্যবস্তুতে হামলায় বেসামরিক মানুষ মারা গেলে দায় কে নেবে। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ দেশটির এআইনির্ভর সামরিক ব্যবস্থার প্রথম বড় পরীক্ষা। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, এপ্রিলে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’তে ১৩ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা হয়। প্রথম দিনেই হামলা হয় এক হাজার লক্ষ্যবস্তুতে। এই ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ প্যালান্টিরের তৈরি ‘মেভেন স্মার্ট সিস্টেম’। এটি তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করে। এরপর হামলার বিকল্প ও অস্ত্রের সুপারিশ দেয়। চূড়ান্ত অনুমোদন দেন মানুষ। ব্যবস্থাটির কেন্দ্রে রয়েছে অ্যানথ্রপিকের ক্লড। পূর্ণাঙ্গ ব্যবহারের আগে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে মেভেন পরীক্ষা করা হয়। তখন অবশ্য নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুর তথ্য দেওয়ার মতো উন্নত সক্ষমতা বাদ রাখা হয়েছিল। গাজায় ইসরায়েলও এআই ব্যবহার করেছে। ‘হাসবোরা’ ভবন ও অবকাঠামো শনাক্ত করে। ‘ল্যাভেন্ডার’ বেছে নেয় মানুষকে। গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ল্যাভেন্ডার ৩৭ হাজার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করেছিল। এই প্রযুক্তির ঝুঁকি নিয়ে আলোচনায় এসেছে ইরানের মিনাবের একটি মেয়েদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলা। ২৮ ফেব্রুয়ারির ওই হামলায় দেড় শতাধিক মানুষ নিহত হন। অধিকাংশই শিশু। তদন্তে পুরোনো গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এআই বিদ্যালয়টিকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল—এটি নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি। এআইয়ের সুপারিশের নির্ভরযোগ্যতা ‘তথ্য ও ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত অনুমানের ওপর নির্ভর করে’। উচ্চ আস্থাসূচক স্কোর কোনো ব্যক্তিকে যোদ্ধা কিংবা হামলাকে বৈধ প্রমাণ করে না। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের ব্যবহারে সীমা ও মানবিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। ভুলের দায় অ্যালগরিদমের নয়; সংশ্লিষ্ট মানুষ ও প্রতিষ্ঠানের। দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া আর সঠিক বিচার এক নয়।

যুদ্ধের গতি বাড়াচ্ছে এআই, ঝুঁকিতে বেসামরিক মানুষের জীবন
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream