সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla FM
Topic Ads 1
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ থামাতে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ভোট, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ৭ রিপাবলিকান

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ থামাতে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ভোট, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ৭ রিপাবলিকান

আবারও ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে ভোট দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ। তৃতীয়বারের মতো ২২০-২০৪ ভোটে পাস হওয়া এই প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলো। সব ডেমোক্র্যাটের সঙ্গে সাতজন রিপাবলিকান সদস্যও এর পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। এর মধ্যে তিনজন প্রথমবারের মতো এমন প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন। প্রস্তাব পাস হওয়ার ফলে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা সীমিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। আইওয়ার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান জ্যাক নান বলেছেন, আলোচনার সুযোগ এখন আর নেই। দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান চালাতে কংগ্রেসের অনুমোদন দরকার। আমি আরেকটি অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধকে সমর্থন করব না। তবে এ ধরনের প্রস্তাব আগেও পাস হয়েছে, কিন্তু সেগুলো কখনোই প্রেসিডেন্টের কাছে পৌঁছায়নি। এবারও ট্রাম্পের কাছে গেলে তিনি ভেটো দেবেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে। ফ্লোরিডার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান ও পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ব্রায়ান মাস্ট প্রশ্ন তুলেছেন, ইরানকে এখনো হুমকি হিসেবে দেখা হলে ডেমোক্র্যাটরা অঞ্চল থেকে কোন সামরিক সম্পদ সরাতে চান? তিনি বলেন, ট্রাম্প চিরস্থায়ী যুদ্ধের বিরোধী এবং ইরানের সঙ্গে কয়েক দশকের সংঘাতের অবসান ঘটাচ্ছেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এটিই হয়তো শেষ ভোট। নির্বাচনের প্রচারে এই যুদ্ধ ইস্যুটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর প্রায় সাত মাস ধরে সংঘাত চলছে। পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পুরো অঞ্চলে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। কংগ্রেসম্যানরা সপ্তাহের শেষে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে নির্বাচনি প্রচারে সময় দেবেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর ৫০ দিনেরও কম সময় বাকি। নির্দলীয় কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের (সিবিও) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই যুদ্ধ মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ বাড়াচ্ছে এবং অস্ত্র-গোলাবারুদের মজুতেও টান পড়ছে। ছয় মাসে প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। যুদ্ধ চলতে থাকলে প্রতি মাসে আরও প্রায় তিন বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে। ২০২৭ সালের প্রথম তিন মাসে মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়তে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে জুন ও জুলাইয়ে প্রতিনিধি পরিষদ দুটি যুদ্ধক্ষমতা প্রস্তাব অনুমোদন করেছিল। সিনেটও একবার পাস করলেও পরদিন ট্রাম্পের সমালোচনার পর রিপাবলিকান সিনেটররা অবস্থান বদলে ফেলেন। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। তবে প্রেসিডেন্ট সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে কিছু পদক্ষেপ নিতে পারেন। ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর প্রণীত যুদ্ধক্ষমতা আইনে প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতার ওপর সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সাধারণত ৬০ দিনের পর দীর্ঘমেয়াদি অভিযান চালাতে কংগ্রেসের অনুমোদন লাগে। সূত্র: আলজাজিরা

ইরান যুদ্ধের ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৩৮ বিলিয়ন ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের বিরুদ্ধে ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধে এ পর্যন্ত ৩৮ বিলিয়ন ডলার যা প্রায় ৪ লাখ ৬৭ হাজার ৫৩২ কোটি টাকা বাংলাদেশি মুদ্রায় ব্যয় হয়েছে। এই খরচ প্রতি মাসে আরও ৩ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা করে বাড়তে পারে বলে কংগ্রেসের নিরপেক্ষ হিসাব সংস্থা কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস (সিবিও) জানিয়েছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়। সিবিওর হিসাব অনুযায়ী, আগস্ট পর্যন্ত যুদ্ধের ব্যয়ের তথ্য এতে রয়েছে। যুদ্ধের কারণে ২০২৭ সালের প্রথম তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ০.৫ শতাংশ বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে। ক্রমবর্ধমান এই ব্যয়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুতের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে এবং জ্বালানির দাম বেড়েছে। এতে অন্য কোনো সম্ভাব্য সংঘাত মোকাবিলার প্রস্তুতি এবং দেশটির সরকারি বাজেট নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই ব্যয়ের পরিমাণ ২১ জুলাই সিনেটের শুনানিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের উল্লেখ করা ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলারের প্রায় সমান। সিবিও জানিয়েছে, দ্রুত গোলাবারুদ ব্যবহারের কারণে ব্যয়ের বড় একটি অংশ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে সংস্থাটি ধারণা করছে। আগস্টে রয়টার্স জানিয়েছিল, যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র তাদের দূরপাল্লার নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় পুরোটাই ব্যবহার করেছে। তবে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল অস্ত্রের ঘাটতির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেছেন, প্রয়োজন হলে প্রেসিডেন্ট যেখানে এবং যখন আঘাত হানতে চাইবেন, সেখানেই হামলা চালানোর মতো প্রয়োজনীয় অস্ত্র তাদের রয়েছে। সিবিওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষা বিভাগ এই হিসাব তৈরিতে কংগ্রেসের আর্থিক নিরীক্ষকদের সঙ্গে সহযোগিতা করেনি। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পদক্ষেপগুলো ছিল ‘নির্ণায়ক’। যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয় যুদ্ধাস্ত্র ও গোলাবারুদের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। ব্যয়ের এই হিসাব করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের বাজেট কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য পেনসিলভানিয়ার ব্রেন্ডন বয়েলের অনুরোধে। তিনি বলেন, এই যুদ্ধের কারণে মার্কিন করদাতাদের কয়েক হাজার কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে এবং সেই খরচ আরও বাড়ছে। ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ জন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। তবে সিবিওর প্রতিবেদনে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে সাম্প্রতিক হামলা এবং ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলার খরচ ধরা হয়নি। যুদ্ধের জন্য নেওয়া ঋণের সুদের খরচও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এই খরচ যোগ হলে মোট ব্যয় আরও কয়েক হাজার কোটি ডলার বাড়তে পারে। সিবিওর হিসাবে, যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে। ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ব্যবস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধসরঞ্জামের ঘাটতি পেন্টাগনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা কমাতে পারে। বিশেষ করে চীন ও তাইওয়ানকে ঘিরে সম্ভাব্য বড় সংঘাতের ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। জুলাইয়ে সিনেটের শুনানিতে হেগসেথ গোলাবারুদের মজুত পূরণ করতে প্রায় ৯০ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১১ লাখ ৯ হাজার কোটি টাকা জরুরি অর্থায়ন চেয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এই অর্থ না পেলে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের ঘাটতির মুখে পড়বে। পেন্টাগনের মহাপরিদর্শক চলতি সপ্তাহে জানিয়েছেন, ইরান মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটির শত শত ভবন এবং যুদ্ধবিমান, জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ও ড্রোনসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস করেছে। ১৯ জুন পর্যন্ত যুদ্ধের ব্যয় ৩৩.৪ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৪ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা বলে হিসাব করা হয়েছিল। এর মধ্যে ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনার জন্য প্রায় ১৮৪ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণও রয়েছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো, সেখানে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনায় হামলার কারণে জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। এতে ভোক্তা ও বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বেড়েছে। এদিকে আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের মোট সরকারি ঋণের পরিমাণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের ব্যয় দেশটির আর্থিক অবস্থার ওপর আরও চাপ তৈরি করতে পারে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের আট বছরব্যাপী যুদ্ধে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলার। আর ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ‘কস্টস অব ওয়ার’ প্রকল্পের হিসাবে, আফগানিস্তানে দুই দশকের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হয়েছে প্রায় ২.৩ ট্রিলিয়ন ডলার।

ইরান যুদ্ধের ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৩৮ বিলিয়ন ডলার

ইরানের পরমাণু সংকট মিটলে জ্বালানি দেবে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের পারমাণবিক ইস্যুর সমাধান হলে দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ করতে প্রস্তুত। মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট এ কথা বলেছেন। রাইট মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গকে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা দেশের বাইরে থেকে জ্বালানি সরবরাহ করতে পারি।’ লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটরের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। ক্রিস রাইটের এই প্রস্তাব ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত। তাঁর দাবি, ইরানের এই কর্মসূচির লক্ষ্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা। তবে ইরান বারবার বলে আসছে, তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করেনি। রাইট বলেন, ‘তারা আবারও জাতিগুলোর সম্প্রদায়ের অংশ হতে পারে এবং তাদের জনগণের জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধি নিয়ে আসতে পারে।’ এদিকে, ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে ‘নির্ণায়ক হামলা’ চালানোর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। চলতি বছর ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক কমপ্লেক্সের কাছে ‘নির্মাণকাজে স্পষ্টভাবে বড় ধরনের বৃদ্ধি’ শনাক্ত হওয়ার পর এই পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে আরেক মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। নাতাঞ্জ পারমাণবিক কমপ্লেক্সটি ইরানের রাজধানী তেহরান থেকে প্রায় ১৪০ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত। গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও বাড়ানোর হুমকি দেন। তিনি দাবি করেন, ইরানকে ‘অনেক বেশি হারে বোমা হামলার’ মুখে পড়তে হবে এবং দেশটি ‘কখনোই আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।’ এ সময় পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন এলাকায় হামলা চালানোর সম্ভাবনার কথাও বলেন ট্রাম্প। ওই এলাকায় তৎপরতা ও চলাচল শনাক্ত হওয়ার পর তিনি এই হুমকি দেন। গত সপ্তাহে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা খুব শিগগিরই পিকঅ্যাক্সে হামলা চালাতে পারি।’ পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন এলাকাটি নাতাঞ্জ পারমাণবিক কমপ্লেক্সের কাছেই অবস্থিত।

ইরানের পরমাণু সংকট মিটলে জ্বালানি দেবে যুক্তরাষ্ট্র

হুতিদের ওপর হামলা চালাতে সৌদি যুবরাজের ফোন, ট্রাম্পের প্রত্যাখ্যান

সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস) গতকাল বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দুইবার ফোন করেছিলেন। এসব ফোনকলের উদ্দেশ্য ছিল ইয়েমেনে হুতিদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রকে হামলা চালানোর আহ্বান জানানো। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই মার্কিন কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে এই তথ্য জানান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী তখন লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব এল–মান্দেবের প্রবেশদ্বারের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল ঠিক সেই সময়েই এই ফোনকল হয়। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন—ট্রাম্প এমবিএসের ওই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আপাতত হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের কোনো পরিকল্পনা মার্কিন প্রশাসনের নেই। গতকাল বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের কৌশলগত উপকূলীয় শহর মোখা হুতিরা দখল করে নেওয়ার পর তেলের দাম বেড়ে যায়। এর ফলে তারা বাব এল-মান্দেব প্রণালির আরও কাছে চলে গেছে। এই প্রণালি বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং সৌদি আরবের তেল রপ্তানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এরই মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালির নৌ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে। এর পাশাপাশি বাব আল-মান্দাবের নিয়ন্ত্রণও যদি হুতিদের হাতে যায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার উপসাগরীয় মিত্রদের ওপর চাপ তৈরির জন্য তেহরান আরও একটি শক্তিশালী কৌশলগত হাতিয়ার পেতে পারে। ইয়েমেনে দ্রুত সংঘাত বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন। সরাসরি সামরিকভাবে জড়িয়ে না পড়ে সৌদি আরবকে সহায়তা আরও বাড়ানোর চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই ব্যক্তি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বৃহস্পতিবার জরুরি সমন্বয় বৈঠকে অংশ নিতে সৌদি আরব সফর করেছেন। সৌদি দূতাবাস ও হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হয় জুলাইয়ে। ওই সময় রিয়াদ ইরানের একটি বিমানকে সানা বিমানবন্দরে অবতরণের অনুমতি দেয়নি। বিমানটিতে হুতিদের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ছিলেন। তারা সাবেক ইরানি সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির শেষকৃত্য থেকে ইয়েমেনে ফিরছিলেন। এরপর এমবিএস ট্রাম্পের কাছে সানা বিমানবন্দরে হামলা চালানোর বিষয়ে রাজনৈতিক সমর্থন চান। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, এ হামলার জন্য সৌদি আরবের মার্কিন সামরিক সহায়তার প্রয়োজন নেই। ট্রাম্প তাকে সমর্থন জানান। এর জবাবে হুতিরা লোহিত সাগরে সৌদি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালায়। এতে সৌদি আরবের তেল রপ্তানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ হুমকির মুখে পড়ে। পরে হুতিরা সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতেও হামলা বাড়িয়ে দেয়। জবাবে সৌদি আরব ও তাদের ইয়েমেনি মিত্ররা হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা এবং স্থল অভিযান শুরু করে। হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের জন্য সৌদি আরবের এই অনুরোধ জুলাইয়ের অবস্থানের সঙ্গে বড় ধরনের পরিবর্তন। ওই সময় রিয়াদ ওয়াশিংটনকে জানিয়েছিল, তারা নিজেরাই হুতিদের মোকাবিলা করতে পারবে। তবে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ক্রমবর্ধমান মাত্রায় সহায়তা চাইতে শুরু করে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত সূত্রগুলো জানিয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা তাদের সৌদি কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, ট্রাম্পের নির্দেশ হলো মার্কিন বাহিনীকে ইরান ও হরমুজ প্রণালিতে কেন্দ্রীভূত রাখা এবং আরেকটি সামরিক ফ্রন্ট খোলা এড়িয়ে চলা। বৃহস্পতিবার হুতিরা উপকূলীয় শহর মোখার দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় এবং সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনী পিছু হটতে থাকলে এমবিএস ট্রাম্পকে ফোন করেন। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফোনে তিনি পরিস্থিতির অবনতির বিষয়ে ট্রাম্পকে অবহিত করেন। এর কয়েক ঘণ্টা পর এমবিএস আবারও ট্রাম্পকে ফোন করে হুতিদের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলার নির্দেশ দেওয়ার আহ্বান জানান। ট্রাম্প সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন। তবে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রশাসন সৌদি আরবকে হুতিদের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য এবং হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করবে। ওই কর্মকর্তা আরও জানান, সৌদি আরবে ইতোমধ্যে প্রায় ২০০ মার্কিন সামরিক সদস্য রয়েছেন। তারা সেখানে অ-সামরিক বা নন-কাইনেটিক সহায়তা দিচ্ছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন, ওয়াশিংটনের অগ্রাধিকার হলো লোহিত সাগরকে উন্মুক্ত রাখা এবং একই সঙ্গে বৃহত্তর সংঘাতের দায়িত্ব আঞ্চলিক অংশীদারদের ওপর ছেড়ে দেওয়া। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র তার মূল জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এর মধ্যে লোহিত সাগরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়টিও রয়েছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও সমাধানের ক্ষেত্রে আমরা আমাদের আঞ্চলিক অংশীদারদের নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা জোরদার করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বিষয়ে আমরা সৌদি আরব এবং ইয়েমেন প্রজাতন্ত্রের সরকারের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।’

হুতিদের ওপর হামলা চালাতে সৌদি যুবরাজের ফোন, ট্রাম্পের প্রত্যাখ্যান

২০ বছরের মধ্যে প্রথমবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ইরান

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার পরিচালনা পর্ষদ বুধবার ভোট দিয়ে ইরানের পারমাণবিক ‘অমান্যতা’র কারণে বিষয়টি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি তেহরানের ওপর চাপ বাড়ানোর একটি কূটনৈতিক পদক্ষেপ। ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্রের যোগদানে, ২০২৫ সালের জুনে ১২ দিনের একটি সংঘাত শুরু করার পর থেকে আইএইএ ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে প্রবেশাধিকার পায়নি। ওই সংঘাতে পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলাও চালানো হয়েছিল। সবশেষ যুদ্ধেও পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা হয়েছে। এই যুদ্ধ ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় এবং আইএইএ বারবার সেখানে প্রবেশাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে। প্রস্তাবটির পক্ষে পড়ে ২৩ ভোট আর বিপক্ষে ৩ ভোট। ভোটদানে বিরত থাকে ৮টি দেশ। রাশিয়া, চীন ও নাইজার এর বিপক্ষে ভোট দেয়। এতে আইএইএ’র মহাপরিচালককে ইরানের বিষয়টি নিরাপত্তা পরিষদ এবং জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রতিবেদন করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্থাপিত এই প্রস্তাবটি ইরানের পারমাণবিক প্রতিবেদন সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা পালনে ব্যর্থতার কারণে ২০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো দেশটিকে নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানোর ঘটনা। এই পদক্ষেপকে মূলত প্রতীকী হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ ইরানের মিত্র চীন ও রাশিয়ার তেহরানের বিরুদ্ধে যেকোনো নিষেধাজ্ঞায় ভেটো দেয়ার ক্ষমতা রয়েছে। ইরান এই প্রস্তাবের নিন্দা করেছে এবং বলেছে, এটি কোনো ফলাফল বয়ে আনবে না। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থায় ইরানের প্রতিনিধি রেজা নাজাফি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, ‘এই প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের রাজনৈতিক চাপের অধীনে পাস হয়েছে এবং আমাদের দৃষ্টিতে এর কোনো ভিত্তি নেই। তিনি এএফপিকেও বলেন যে প্রস্তাবটি সম্পূর্ণ বিপরীত ফল বয়ে আনবে।’

২০ বছরের মধ্যে প্রথমবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ইরান

নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই মার্কিন ব্যাংকে ইরানের ৯০০ কোটি ডলার

২০২৪ সালে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৯০০ কোটি ডলার মার্কিন ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা সত্ত্বেও লেনদেন হয়েছে বলে এক তদন্তে উঠে এসেছে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরোক্ষভাবে বিদেশি ব্যাংকের মধ্যস্থতায় এই বিপুল অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকিং নেটওয়ার্কে প্রবেশ করেছে। প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৪ সালে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে স্থানান্তর হওয়া প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলারের ইরানি তহবিল শনাক্ত করেছে। এই অর্থ বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠান, শেল কোম্পানি ও মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্রের মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়। এমন সময়ে এই তথ্য সামনে এলো, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করেছে। ওয়াশিংটন সতর্ক করে দিয়েছে, তেহরানের সঙ্গে ব্যবসা করলে সংশ্লিষ্ট দেশ বা প্রতিষ্ঠানকে মার্কিন ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে রাখা হতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থপ্রবাহ সচল রাখতে ইরান বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করছে। দেশটির অর্থনীতির প্রধান আয়ের উৎস এখনও তেল খাত। যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণে তেল রপ্তানি সীমিত হলেও ইরানের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এখনও ট্যাংকারে মজুত রয়েছে। এর বড় অংশ এশিয়ার জলসীমায়, বিশেষ করে মালয়েশিয়ার আশপাশে সংরক্ষিত আছে। চীন বর্তমানে ইরানের সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা। দেশটি ইরানের মোট তেল রপ্তানির ৮০ শতাংশেরও বেশি গ্রহণ করে। জ্বালানি বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ক্লেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে চীন প্রতিদিন পাঁচ লাখ ব্যারেলের বেশি ইরানি তেল আমদানি করেছে। ইরান তেলের উৎস গোপন করতেও নানা পদ্ধতি ব্যবহার করছে। সমুদ্রে এক জাহাজ থেকে আরেক জাহাজে তেল স্থানান্তরের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ট্যাংকারের তেল অন্য উৎসের বলে দেখানো হয়। পরে চীনে পৌঁছালে সেই তেল ভিন্ন দেশের তেল হিসেবে নথিভুক্ত হতে পারে। জ্বালানি বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ভরটেক্সার হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে এশিয়ার জলসীমায় ভাসমান সংরক্ষণাগারে প্রায় ৮ কোটি ব্যারেল ইরানি অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে। যার বাজারমূল্য কয়েক বিলিয়ন ডলার হতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চীনের সঙ্গে বাণিজ্যে ইরান ধীরে ধীরে মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমিয়েছে। চীনা ক্রেতাদের সঙ্গে তেল বাণিজ্যের লেনদেন এখন অনেক ক্ষেত্রে চীনা মুদ্রা ইউয়ানে সম্পন্ন হচ্ছে। এই ইউয়ান ব্যবহার করে ইরান চীনা পণ্য ও সেবা কিনছে। কিছু ক্ষেত্রে অবকাঠামো প্রকল্পের বিনিময়েও তেল দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ক্রিপ্টোকারেন্সিও ব্যবহার করছে তেহরান। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, বাণিজ্য পরিচালনা এবং অস্ত্রসহ বিভিন্ন পণ্য সংগ্রহে ইরান বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করেছে। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) চীনা ক্রেতাদের কাছ থেকে তেলের মূল্য গ্রহণের ক্ষেত্রেও ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ ব্যবহার করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আমদানি ব্যয়, সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় এবং আঞ্চলিক মিত্রদের সহায়তার জন্য ইরানের এখনও মার্কিন ডলার ও অন্যান্য প্রধান মুদ্রার প্রয়োজন রয়েছে। এ কারণে হংকং ও দুবাইয়ের মতো আন্তর্জাতিক আর্থিক কেন্দ্রে শেল কোম্পানি ও মানি এক্সচেঞ্জ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে তেহরান। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তেল রপ্তানি ও অন্যান্য বাণিজ্যিক আয়কে ডলার, ইউরো ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহামে রূপান্তর করা হয়। একই সঙ্গে অর্থের সঙ্গে ইরানের সংশ্লিষ্টতাও আড়াল করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক নানা নিষেধাজ্ঞা বসিয়ে এই অর্থপ্রবাহ লাগাম টানার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচ্ছিন্নভাবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যাংক বা কোম্পানির ওপর ব্যবস্থা নিয়ে পুরো আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক অচল করা সম্ভব হচ্ছে না।

নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই মার্কিন ব্যাংকে ইরানের ৯০০ কোটি ডলার

যুক্তরাষ্ট্র জিতলেই তেলের দাম নামবে: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র জয়ী হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত ও বড় আকারে কমে যাবে বলে দাবি করেছেন। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, পেট্রলের দাম যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন ৩ ডলারে নেমে আসবে। শেষ পর্যন্ত তা ২ ডলারের নিচেও নামতে পারে। এক গ্যালনে প্রায় ৩ দশমিক ৮ লিটার। ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তেলের দাম দ্রুত কমবে।’ একই সঙ্গে তিনি পুনরায় সতর্ক করে বলেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না। তবে ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের মধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩৪ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৩৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৭ দশমিক ৩৪ ডলারে উঠেছে। আর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে ১ দশমিক ১৫ ডলার বা ১ দশমিক ২৬ শতাংশ। এতে প্রতি ব্যারেলের দাম দাঁড়িয়েছে ৯২ দশমিক ৬৩ ডলার। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ইরানও হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ভূখণ্ড বা সম্পদে নতুন করে হামলা চালালে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে। এ পরিস্থিতিতে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ায় তেলের দামে ঝুঁকিমূল্য যুক্ত হয়েছে। সর্বশেষ লেনদেনে ব্রেন্ট তেলের দাম ২৪ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশ্বের অপরিশোধিত তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়ে এই নৌপথে তেল পরিবহন ব্যাহত হলে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র জিতলেই তেলের দাম নামবে: ট্রাম্প

জ্বালানি সংকটে ছাদে ছাদে সৌরবিদ্যুতের উদ্যোগ থাইল্যান্ডের

জ্বালানির দাম মধ্যপ্রাচ্যে চলমান মার্কিন–ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ–সংকটের কারণে বেড়ে যাওয়ার প্রভাব থেকে দেশের নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে থাইল্যান্ড আগামী এক বছরের মধ্যে ১০ লাখ পরিবারকে বাড়ির ছাদে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল বসাতে সহায়তা করবে। এর মাধ্যমে মোট ৫ গিগাওয়াট (৫ হাজার মেগাওয়াট) সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী আকানাত প্রমফান। রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ২০০ বিলিয়ন বাথ বা ৬ দশমিক ০১ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি রূপান্তর জরুরি তহবিল থেকে এই কর্মসূচিতে অর্থায়ন করা হবে । এশিয়ার বড় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি আমদানিকারক দেশগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ডই সর্বশেষ দেশ, যারা বাড়ির ছাদের সৌরবিদ্যুৎকে জ্বালানির দাম বাড়ার ঝুঁকি মোকাবিলার উপায় হিসেবে ব্যবহার করছে। এর আগে ফিলিপাইন ও বাংলাদেশও একই ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জুন পর্যন্ত ছয় মাসে থাইল্যান্ডের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ১০ শতাংশ এসেছে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে। অন্যদিকে, গ্যাস থেকে এসেছে ৬০ শতাংশেরও বেশি বিদ্যুৎ। জ্বালানি খাত নিয়ে কাজ করা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস বা আইইইএফএ’র তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত গ্যাসের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি আমদানি করতে হয় থাইল্যান্ডকে। পণ্যবাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য বলছে, থাইল্যান্ড তার মোট এলএনজির অর্ধেকই স্পট মার্কেট থেকে কেনে। ফলে এলএনজির দামের বড় ধরনের ওঠানামার ঝুঁকিতে দেশটি তুলনামূলকভাবে বেশি রয়েছে। ছয় মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করার পর এলএনজির দাম বেড়ে যাওয়ায় এই ঝুঁকি আরও স্পষ্ট হয়েছে। আকানাত রয়টার্সকে বলেন, জরুরি তহবিল ব্যবহার করে জ্বালানি রূপান্তরের দিকে এগিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তা না হলে মধ্যপ্রাচ্যে যা ঘটছে, তার প্রভাব থাইল্যান্ডকে ভবিষ্যতেও বারবার মোকাবিলা করতে হবে। ৫ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের এই লক্ষ্য থাইল্যান্ডের দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ উন্নয়ন পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আগামী ২৫ বছরে দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদনের রূপরেখা নির্ধারণকারী এই পরিকল্পনা আগামী মাসে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন জ্বালানিমন্ত্রী আকানাত। এই লক্ষ্য অর্জন করা গেলে থাইল্যান্ডের ছোট আকারের সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা দ্বিগুণেরও বেশি হবে। জ্বালানি খাতের মডেলিং প্রতিষ্ঠান ট্রানজিশনজিরোর হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ থাইল্যান্ডে ছোট আকারের সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ছিল আনুমানিক ৩ দশমিক ৬ গিগাওয়াট। এর মধ্যে আবাসিক বাড়ির ছাদে স্থাপিত সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতা ছিল ১ দশমিক ৪ গিগাওয়াট। ট্রানজিশনজিরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে থাইল্যান্ড ছিল সবচেয়ে এগিয়ে। কিন্তু সরকারি প্রণোদনা কমে যাওয়ার পর দেশটিতে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের গতি কমে যায়। পরে গত দশকের শেষ দিকে ভিয়েতনাম থাইল্যান্ডকে ছাড়িয়ে যায়। থাইল্যান্ড সরকার প্রতিটি পরিবারকে বাড়ির ছাদে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল বসানোর জন্য ৫০ হাজার বাথ বা প্রায় ১ হাজার ৫০০ ডলার আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এর পাশাপাশি প্যানেল স্থাপনের জন্য ঋণের ব্যবস্থাও করা হবে বলে গত মাসে জানিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী একনিতি নিথিতানাপ্রাপাস। এর পাশাপাশি, জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে থাইল্যান্ড সরকার দেশের অভ্যন্তরে গ্যাসের নতুন উৎস খুঁজছে। দেশটি তার আমদানির উৎসে বৈচিত্র্য আনতে নতুন দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি ক্রয় চুক্তি করার চেষ্টাও করছে বলে জানিয়েছেন আকানাত। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জ্বালানি প্রতিষ্ঠান পিটিটির অনুসন্ধান ও উৎপাদন শাখা পিটিটিইপি আন্দামান সাগর ও মিয়ানমারে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানের জন্য বাজেট বরাদ্দ করেছে বলেও জানান তিনি।

জ্বালানি সংকটে ছাদে ছাদে সৌরবিদ্যুতের উদ্যোগ থাইল্যান্ডের

হরমুজ অচল, বিশ্ববাজারে বাড়ছে তেলের দাম

মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানিতে বড় ধাক্কা লেগেছে হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট কার্যত বন্ধ থাকায় । যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় গত আগস্টে অঞ্চলটি থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি কমেছে ৩৯ শতাংশ। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত নতুন করে শুরু হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দামও বেড়েছে।  গত এক সপ্তাহে ব্রেন্টের দাম ৭ দশমিক ৬ শতাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির তুলনায় আগস্টে তেল রপ্তানি কমেছে ৩৯ শতাংশ। ওই দুই মাসে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ কোটি ৮৫ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি হয়েছিল বলে জানিয়েছে তেলবাহী জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ট্যাংকারট্র্যাকার্স। প্রতিষ্ঠানটি এক্সে দেয়া এক পোস্টে জানিয়েছে, চলতি বছরের মে মাসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানি সবচেয়ে বেশি কমেছিল। ওই মাসে যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় তেল রপ্তানি ৬৭ শতাংশ কমে যায়। তবে আগস্টে এই ঘাটতি কিছুটা কমে এসেছে। মে মাসে দৈনিক ১ কোটি ২৪ লাখ ব্যারেল ঘাটতির তুলনায় আগস্টে ঘাটতি কমে দাঁড়িয়েছে ৭২ লাখ ব্যারেলে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় কয়েক দশকের মধ্যে সমুদ্রপথে অন্যতম বড় পণ্য পরিবহন সংকট তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানি কমে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স। এর মধ্য দিয়ে গত সপ্তাহটি উল্লেখযোগ্য মূল্যবৃদ্ধির মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে খুচরা ডিজেলের দামও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। গত শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল ৯৬ দশমিক ২৮ ডলারে স্থির হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় ৭৬ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ১৮ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯১ দশমিক ৪৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এতে করে পুরো সপ্তাহে ব্রেন্টের দাম বেড়েছে ৭ দশমিক ৬ শতাংশ। আর যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ। যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহের পথগুলোতে চলাচল এখনো ব্যাহত হওয়ায় এই মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি জ্বালানির দাম আরও দ্রুত বাড়ায় বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি ও সরকারের ঋণ নেয়ার খরচ বেড়েছে। এতে কোনো ধরনের স্বস্তি না এলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার আশঙ্কাও আরও বেড়েছে। রিস্ট্যাড এনার্জির প্রধান অর্থনীতিবিদ ক্লদিও গালিমবার্তি বলেন, ‘অর্থনীতির সব খাতই ডিজেলের ওপর নির্ভরশীল। যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি বন্ডের সুদের হার এত বেশি হওয়ার একটি কারণ হলো, মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে থাকবে—এমন আশঙ্কা।’ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের নতুন করে সংঘাত এবং রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনের হামলার কারণে সরবরাহে আরও বিঘ্ন ঘটেছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের গড় খুচরা দাম রেকর্ড উচ্চতায় উঠেছে। এএএ-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশটিতে এক গ্যালন ডিজেলের গড় দাম ৫ দশমিক ৮৫ ডলার। মজুত দ্রুত কমে যাওয়ায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কৃষিপ্রধান অঙ্গরাজ্যে ফসল কাটার ও বীজ বপনের মৌসুম শুরু হওয়ায় ডিজেলের দাম আরও বাড়তে পারে। কৃষিকাজের যন্ত্রপাতিতে ডিজেল প্রধান জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। শীত ঘনিয়ে আসায় এর সমতুল্য ফিউচারস চুক্তি হিটিং অয়েলের দামও দ্রুত বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ব্রেন্টের গড় দামের পূর্বাভাস বাড়িয়েছে সিটি গ্রুপ। প্রতি ব্যারেল ৮০ ডলার থেকে বাড়িয়ে তা ৮৬ ডলার করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, হরমুজ প্রণালি খুলতে আগের ধারণার চেয়ে বেশি সময় লাগছে।   অন্যদিকে, এএনজেডের বিশ্লেষকেরাও স্বল্পমেয়াদে ব্রেন্টের দামের পূর্বাভাস বাড়িয়ে প্রতি ব্যারেল ৯৫ ডলার করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও তীব্র হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তাঁরা।

হরমুজ অচল, বিশ্ববাজারে বাড়ছে তেলের দাম

ইরানের পিকঅ্যাক্সে হামলার ইঙ্গিত ট্রাম্পের

ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স’ পর্বতে খুব শিগগির হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ কথা বলেন। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতকে ‘ছোটখাটো বিষয়’ বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প।  তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিরতি দিয়ে দিয়ে ইরানে হামলা চালাচ্ছে। এ সংঘাতকে যুদ্ধ বলা যায় কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি একে ‘সামরিক সংঘাত’ বলতে পছন্দ করেন। ট্রাম্প বলেন, ‘অনেকেই এটিকে যুদ্ধ বলেন না। আমিও এটিকে সামরিক সংঘাত বলি। কারণ, এটি আমাদের জন্য ছোটখাটো বিষয়। এটি বড় কোনো ব্যাপার নয়।’ মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ‘বিরতি দিয়ে দিয়ে হামলা’ চালাচ্ছে। তার দাবি, সম্প্রতি ইরানের রাডারব্যবস্থায় হামলার আগে কয়েক দিন সেখানে সক্রিয় কোনো লড়াই হয়নি। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এখন লড়াই করছি না। কোনো লড়াই হচ্ছে না।’ তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতার ওপর হামলা চালাচ্ছে। ট্রাম্পের দাবি, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের সুরক্ষায় থাকা ইরানের রাডার, উড়োজাহাজ ও অন্যান্য ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া মাইন অপসারণকারী জাহাজ দিয়ে হরমুজ প্রণালির মাইনও সরানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা থেকে বিরত রেখেছে। তার ভাষ্যমতে, এতে ইসরায়েল ও পুরো মধ্যপ্রাচ্য সুরক্ষিত হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, ‘তারা (ইরান) পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না। আমরা সেটিই করেছি। ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না। কারণ, তাদের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে আপনারা হয়তো আর এখানে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারতেন না।’ ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স’ পর্বতে হামলার বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা খুব শিগগির পিকঅ্যাক্সে হামলা চালাতে পারি।’ তিনি আরও বলেন, পিকঅ্যাক্সসহ ইরানের বিভিন্ন জায়গায় কারা চলাফেরা করছে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণাঙ্গ তথ্য রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, পিকঅ্যাক্স পর্বত ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনার কাছে অবস্থিত অত্যন্ত সুরক্ষিত একটি ভূগর্ভস্থ স্থাপনা। পাহাড়ের শত শত মিটার পুরু গ্রানাইটের নিচে এখানে দুটি টানেল কমপ্লেক্স রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের ধারণা, সেখানে গোপন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা থাকতে পারে।  তবে ইরানের দাবি, এটি উন্নত সেন্ট্রিফিউজ তৈরি ও সংযোজনের জন্য ব্যবহৃত হয়। গভীর ভূগর্ভে থাকায় স্থাপনাটি ধ্বংস করা কঠিন। এ কারণে এটি যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। চলমান সংঘাত কবে শেষ হবে, তা জানতে চাইলে ট্রাম্প কোনো সময়সীমা বলেননি। তবে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে তাদের প্রধান লক্ষ্য অর্জন করেছে। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘আমরা ইতিমধ্যে সবচেয়ে বড় বিষয়টি অর্জন করেছি—ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না।’ ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনই ইরান থেকে সরে গেলেও দেশটির অবকাঠামো ও সক্ষমতা পুনর্গঠনে তেহরানের ২৫ বছর সময় লাগবে।

ইরানের পিকঅ্যাক্সে হামলার ইঙ্গিত ট্রাম্পের

ইরানের সঙ্গে যা চলছে এটাকে যুদ্ধ বলব না: জেডি ভ্যান্স

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের অবস্থান জানতে চাওয়া হয়েছিল ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের কাছে। তিনি সরাসরি বলে দেন, এটিকে যুদ্ধ বলাই যায় না। তবে এর শেষ কবে সেটিও জানেন না তিনি। এদিকে এই যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বেড়েছে এবং খোদ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও যুদ্ধটি জনপ্রিয়তা হারিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ভ্যান্স এই যুদ্ধের পরিণতি বা প্রভাবকে তুচ্ছ করে দেখানোর চেষ্টা করেন। এমনকি এই সংঘাতকে কী নামে অভিহিত করা উচিত, তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। ভ্যান্স বলেন, ‘আমি এটিকে যুদ্ধ বলব না। এই মুহূর্তে কোনো সক্রিয় গোলাগুলি হচ্ছে না।’ এরপর তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘আমি স্বীকার করি, এমন কিছু জায়গা রয়েছে, যেখানে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।’ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কয়েক দিন ধরে চলা তীব্র হামলা-পাল্টা হামলার পর ভ্যান্সের পক্ষ থেকে এমন বক্তব্য এলো। তা সত্ত্বেও ভ্যান্স দাবি করেন যে মূল সামরিক অভিযান কেবল ‘প্রায় ছয় সপ্তাহ’ স্থায়ী ছিল এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইরানের প্রতিরক্ষা উৎপাদন সক্ষমতা ধ্বংস করতে সফল হয়েছে। যুদ্ধের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হরমুজ প্রণালীর দিকেও মনোযোগ ঘোরানোর চেষ্টা করেন ভ্যান্স। গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্যপথে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত করার জন্য তিনি ইরানকে দায়ী করেন। সাংবাদিকদের ভ্যান্স বলেন, ‘আপনি যখন প্রশ্ন করেন, “এটি কবে শেষ হবে? ” তখন আসলে আমাকে এমন একটি প্রশ্ন করছেন ইরানিরা কবে জাহাজে গুলি চালানো বন্ধ করবে?’ তিনি বলেন, ‘বাস্তবতা হলো, ওই প্রশ্নের উত্তর আমি জানি না। আপনাকে ইরানিদেরই জিজ্ঞাসা করতে হবে।’ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালী দিয়ে অবাধে জাহাজ চলাচল করত। কিন্তু ওই মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল প্রথম দফায় হামলা চালানোর পর ইরান বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য জলপথটি বন্ধ করে দেয়। এতে বিশ্ববাণিজ্যে বড় ধাক্কা লাগে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হতো। তবে ভ্যান্সের দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন বাড়ানোর পরিস্থিতি তৈরি করতে সহায়তা করছে। তিনি আরও দাবি করেন, ভেনেজুয়েলার ৬ হাজার ৫০০ কোটি ব্যারেল তেলের মজুদের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরের নতুন একটি চুক্তি বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমাতে সহায়তা করবে। ভ্যান্স বলেন, ‘ইরানিরা কবে জাহাজে গুলি চালানো বন্ধ করবে এবং এর প্রভাব বিশ্ববাজারে পড়া বন্ধ হবে? এর উত্তর হলো, দিন দিন এর প্রভাব কমছে।’ যুদ্ধে আরও বেশি অবদান না রাখায় যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেরও ভর্ৎসনা করেন ভ্যান্স। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাই জ্বালানি সংকট ঠেকাচ্ছেন বলে প্রশংসা করেন। ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা এখন যা করছি, তা হলো বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখা, যাতে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট দেখা না দেয়। আমরা এখন জ্বালানি সংকটে পড়িনি শুধু প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বের কারণে নয়, আমাদের সামরিক বাহিনীর চমৎকার কাজের কারণেও।’ ইরানে বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ভ্যান্স বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তবে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে হামলাটির বিষয়ে দেওয়া বর্ণনা নিয়ে তিনি ‘অত্যন্ত সন্দিহান’ বলেও মন্তব্য করেন। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা এটি তদন্ত করছি, কারণ স্পষ্টতই আমরা বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন। আমরা জানতে চাই। আমাদের সামরিক বাহিনী যখন ভুল করে, তখন তারা সেই ভুল থেকে শিক্ষা নেয় এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো করার চেষ্টা করে।’ ওই হামলায় শিশুসহ অন্তত পাঁচজন নিহত এবং আরও প্রায় ৭০ জন আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে মানবাধিকারকর্মীরা উল্লেখ করেছেন, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় অতীতেও যুক্তরাষ্ট্র হামলার দায় অস্বীকার করেছে। এসব হামলার শিকার ব্যক্তিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার সুযোগও খুবই সীমিত। এই ঘটনার বিষয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী বলেছে, তারা ‘কখনোই বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করে না’। যুদ্ধের প্রথম দিন ইরানের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিমান হামলায় ১৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনায়ও দায় অস্বীকার করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। নিহতদের বেশির ভাগই ছিল স্কুলশিক্ষার্থী। যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের পর্যালোচনা করা প্রমাণে হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

ইরানের সঙ্গে যা চলছে  এটাকে যুদ্ধ বলব না: জেডি ভ্যান্স

শর্ত মানলেই খুলবে হরমুজ, না মানলে বন্ধই থাকবে

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহেব্বি ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) মুখপাত্র বলেছেন, কোনো অবস্থাতেই হরমুজ প্রণালী খুলে দেয়া হবে না যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্ত মেনে না নিলে।হরমুজ প্রণালীর সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পারস্য উপসাগরে শত্রুপক্ষের কোনো সামরিক জাহাজ নেই এবং হরমুজ প্রণালী ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।আইআরজিসির মুখপাত্র বলেন, হরমুজ প্রণালী থেকে শত্রুপক্ষের সব যুদ্ধজাহাজ কমপক্ষে ৪০০ কিলোমিটার দূরে সরে গেছে। সামরিক ও আঞ্চলিক দৃষ্টিকোণ থেকে ইরানের অনুমতি ও নিয়ন্ত্রণ ছাড়া কোনো জাহাজ এই পানিপথ অতিক্রম করতে পারবে না।তিনি আরো বলেন, ওমানের নিকটবর্তী পানিপথটিও সম্পূর্ণভাবে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।মোহেব্বি বলেন, হরমুজ প্রণালী ইরান ও বিপরীতে অবস্থিত ওমানের অন্তর্গত। প্রায় এক মাস আগে ওমানের সাথে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং উভয় পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য কিছু সমঝোতায় পৌঁছানো গেছে।তিনি আরো বলেন, এসব আলোচনায় প্রণালীর পানিসীমায় দুই দেশের অংশ এবং সেখান থেকে প্রাপ্ত আয়ে ইরান ও ওমানের অংশীদারিত্বের বিষয়েও সমঝোতা হয়েছে।আইআরজিসির মুখপাত্র অভিযোগ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এ প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করছে, যার কারণে কাজের অগ্রগতি বিলম্বিত হয়েছে।তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্ত না মানলে কোনো অবস্থাতেই হরমুজ প্রণালী খুলে দেয়া হবে না।সূত্র : পার্সটুডে

শর্ত মানলেই খুলবে হরমুজ, না মানলে বন্ধই থাকবে

করিডোর হবে, মাইনও সরবে—তবু হরমুজ খুলবে না ইরান

ওমান ও ইরান হরমুজ প্রণালিতে অস্থায়ী ট্রানজিট করিডোর এবং মাইন অপসারণ নিয়ে আলোচনা করেছে। তবে বুধবার তেহরান সতর্ক করে বলেছে, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধ না করা পর্যন্ত পুনরায় চালু হবে না। তেহরানে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইরান ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ধাপে ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য একটি রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করেন। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই রূপরেখার মধ্যে নৌ-চলাচলের অস্থায়ী করিডোর এবং মাইন অপসারণ প্রকল্প আছে।  মঙ্গলবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, প্রস্তাবিত রূপরেখাটি শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতি অঙ্গীকার এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে অবিচল কূটনৈতিক প্রচেষ্টার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। প্রণালির তীরবর্তী দেশ দুটি জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণে একটি পরিকল্পনা চূড়ান্ত করারও চেষ্টা করছে। গত জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারকে এ ধরনের পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছিল। যুদ্ধ শুরুর প্রায় ছয় মাস পরও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্থবির হয়ে আছে। এর ফলে তেলের বৈশ্বিক বাজারে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণত বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়ই নিজেদের মতো করে প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করে রেখেছে।

করিডোর হবে, মাইনও সরবে—তবু হরমুজ খুলবে না ইরান

ইরান-সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যে অর্থনৈতিক ডি-ডে’ ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন সোমবার (২৪ আগস্ট) তেহরানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক রাখা ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও দেশগুলোর বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক সংবাদ সম্মেলনে এ পদক্ষেপকে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশকে ইরানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করতে এটাই শেষ সতর্কবার্তা। না হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বাদ পড়ার ঝুঁকিতে পড়বে। বেসেন্ট বলেন, বিশ্বজুড়ে আমরা ইরানের আর্থিক যোগাযোগের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক হামলা শুরু করেছি। আমাদের লক্ষ্য হলো এই শাসনব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখা প্রতিটি অর্থনৈতিক পথ বন্ধ করে দেওয়া, যাতে তেহরান একা হয়ে পড়ে। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা এড়াতে এবং তেল পাচারে ইরান যেসব নেটওয়ার্ক ও আর্থিক মাধ্যম ব্যবহার করে, সেগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। ইরানের অবৈধ আয়ের সব উৎস বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র তার অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করবে। মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ইরান তার অর্থনীতি টিকিয়ে রাখতে ডিজিটাল সম্পদ, প্রযুক্তি, সোনা, বিমান চলাচল ও নৌপরিবহন এই পাঁচটি খাত ব্যবহার করছে। এসব খাতের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ৬০টি প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। চীন কয়েক বছর ধরে ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। চীনে ইরানি তেল কেনা-বেচা বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র চাপ বাড়িয়েছে। তবে এ বাণিজ্যে জড়িত থাকতে পারে, এমন বড় চীনা ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে এখনো সরাসরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রায় ছয় মাস হতে চলেছে। বড় ধরনের লড়াই কমলেও যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক আলোচনা এগোয়নি। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও অন্যান্য পণ্য পরিবহন এখনো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম চড়া রয়েছে। যুদ্ধ ও জ্বালানির উচ্চমূল্যের প্রভাব ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার ওপরও পড়েছে। সর্বশেষ রয়টার্স/ইপসোস জরিপে মাত্র ৩৩ শতাংশ মার্কিন নাগরিক তার কাজের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তবে ট্রাম্পের দাবি, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখতে এই অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্র কয়েক দশক ধরে ইরানের ওপর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা বজায় রেখেছে। এসব নিষেধাজ্ঞার মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের তেল বিক্রির আয় কমানো এবং বিমান চলাচল, ক্রিপ্টোকারেন্সি ও সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ সীমিত করা। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যবসার অর্থের প্রবাহও বন্ধ করার চেষ্টা করেছে ওয়াশিংটন। নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য মার্কিন ডলারনির্ভর আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা ব্যবহার করার সুযোগ থাকে না। তবে ইরান বহু আগে থেকেই ভুয়া কোম্পানি, নতুন প্রতিষ্ঠান ও জাহাজ নিবন্ধনের মাধ্যমে এসব নিষেধাজ্ঞা দ্রুত পাশ কাটানোর কৌশল বজায় রেখে আসছে।

ইরান-সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যে অর্থনৈতিক ডি-ডে’ ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

ইরান ইস্যুতে এশিয়ার শেয়ারবাজারে ওঠানামা

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিকভাবে শ্বাসরোধের’ পরিকল্পনা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের মধ্যে এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলোতে ওঠানামা দেখা গেছে। তেলের দামও একই সময়ে কিছুটা বেড়েছে। পাশাপাশি সতর্কতা বেড়েছে ওয়াল স্ট্রিটে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর দরপতন এবং চিপ নির্মাতা এনভিডিয়ার আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের আগে বাজারে। তেহরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এখন ষষ্ঠ মাসে গড়াচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, হোয়াইট হাউস ইরানের বিরুদ্ধে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ ঘোষণা করছে। এছাড়াও ইরানের সাথে বাণিজ্য করা দেশগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দিয়েছেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করার আলোচনা থমকে আছে। যুদ্ধে কোনো পক্ষই পিছু হটার লক্ষণ দেখাচ্ছে না। ফলে আগস্টের বেশিভাগ সময় তেলের দাম বেড়েছে। এতে দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ আরো বেড়েছে এবং বন্ড বাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে। সোমবার সাংবাদিকদের বেসেন্ট বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে আমাদের লক্ষ্য হলো এই স্বৈরাচারী সরকারকে টিকিয়ে রাখে এমন প্রতিটি অর্থনৈতিক পথ বন্ধ করে দেয়া, যতক্ষণ না তেহরান পুরোপুরি একঘরে হয়ে পড়ে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা সবাইকে জবাবদিহির আওতায় আনব। এটি এই সরকারের অর্থনৈতিক শ্বাসরোধ।’ বেসেন্ট জানান, যারা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় যোগ দেবে না, তারাও ইরানের সাথে বিচ্ছিন্নতার ‘অংশীদার’ হবে। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের নেতাদের ফোন করে তেহরানের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছেন। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের ডিজিটাল সম্পদ, প্রযুক্তি, স্বর্ণ, বিমান চলাচল ও নৌপরিবহন খাত নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হবে। সোমবার তেলের দু’টি প্রধান আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্কের দামই ২ শতাংশের বেশি কমেছিল। বেসেন্টের বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র আপাতত সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকবে—এমন ইঙ্গিত পাওয়ার পর এ দরপতন ঘটে। তবে মঙ্গলবার এশিয়ার বাজারে তেলের দাম আবার কিছুটা বেড়েছে। কুইন্টেক্স ইন্টেলের বৈশ্বিক কৌশলবিদ স্টিফেন ইনেস বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান কঠোর অর্থনৈতিক অভিযান তেহরানের বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার সংকুচিত করার উদ্দেশ্যে নেয়া হয়েছে। একইসাথে এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক চাপ বজায় রেখে বাজারে তাৎক্ষণিকভাবে নতুন সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়া ঠেকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তার ভাষায়, ‘আপাতত তেলের বাজার বিষয়টিকে এভাবেই নিয়েছে।’ এতে যুক্তরাষ্ট্র কিছুটা সুবিধা পাচ্ছে, কারণ তেলের দাম কম থাকলে মূল্যস্ফীতির ওপর চাপও কমে। তবে এশিয়ার শেয়ারবাজারে পরিস্থিতি ছিল দুর্বল। ওয়াল স্ট্রিটে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর দরপতনের ধারাবাহিকতায় এশিয়াতেও প্রযুক্তি খাতের শেয়ারগুলোতে বিক্রির চাপ দেখা গেছে। প্রযুক্তি কোম্পানিনির্ভর সিউলের বাজার একপর্যায়ে ২ শতাংশের বেশি পড়ে যায়। চিপ নির্মাতা এসকে হাইনিক্স ও স্যামসাং-এর শেয়ারের দর কমে যায়। হংকং, সাংহাই, তাইপে ও ম্যানিলার বাজারও নিম্নমুখী ছিল। অন্যদিকে টোকিও, সিডনি, সিঙ্গাপুর ও ওয়েলিংটনের শেয়ারবাজারে দর বেড়েছে। এশিয়ার বাজারের এই দুর্বল পরিস্থিতির মধ্যে বিনিয়োগকারীরা এখন চিপ নির্মাতা এনভিডিয়ার বহুল প্রতীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের দিকে তাকিয়ে আছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে ব্যাপক বিনিয়োগের কারণে এনভিডিয়ার আর্থিক প্রতিবেদনকে পুরো প্রযুক্তি ও এআই বাজারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত দুই বছরে এআই প্রযুক্তিতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগের পর কোম্পানিগুলো সেই বিনিয়োগের প্রত্যাশিত ফল দিতে পারবে কি-না, তা নিয়ে বাজারে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রত্যাশার চেয়ে ভালো আর্থিক ফল করলেও কখনো কখনো তা বিনিয়োগকারীদের সন্তুষ্ট করার জন্য যথেষ্ট নাও হতে পারে। সূত্র : বাসস

ইরান ইস্যুতে এশিয়ার শেয়ারবাজারে ওঠানামা

বিশ্বাসের সংকট মেটাতে ইরান-সৌদির জন্য ইরাকের নতুন উদ্যোগ

ইরান এবং সৌদি আরব মধ্যপ্রাচ্যের দুই আঞ্চলিক শক্তির মধ্যে বিদ্যমান ‘বিশ্বাসের সংকট’ দূর করতে দুটি দেশের মধ্যে ইরাক একটি যৌথ নিরাপত্তা পরিষদ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। ইরাকি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরাকিয়া টিভির এক সাক্ষাৎকারে সোমবার (২৪ আগস্ট) এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা কাসিম আল-আরাজি জানান, ইতোমধ্যেই বাগদাদের পক্ষ থেকে তেহরান এবং রিয়াদ—উভয় দেশের সরকারের কাছে এই আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবটি উপস্থাপন করা হয়েছে। ইরাকিয়া টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আল-আরাজি বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের মূল সমস্যাটি হলো একে অপরের প্রতি গভীর বিশ্বাসের সংকট। এই সমঝোতা প্রস্তাবের মাধ্যমে এই অঞ্চলের দীর্ঘদিনের দ্বিধা ও টানাপোড়েন নিরসন সম্ভব বলে মনে করছে বাগদাদ। সূত্র: ডন

বিশ্বাসের সংকট মেটাতে ইরান-সৌদির জন্য ইরাকের নতুন উদ্যোগ
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream