বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla FM

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ থামাতে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ভোট, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ৭ রিপাবলিকান


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
| ফটো কার্ড

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ থামাতে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ভোট, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ৭ রিপাবলিকান
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ থামাতে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ভোট, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ৭ রিপাবলিকান

আবারও ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে ভোট দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ। তৃতীয়বারের মতো ২২০-২০৪ ভোটে পাস হওয়া এই প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলো। সব ডেমোক্র্যাটের সঙ্গে সাতজন রিপাবলিকান সদস্যও এর পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। এর মধ্যে তিনজন প্রথমবারের মতো এমন প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন।

প্রস্তাব পাস হওয়ার ফলে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা সীমিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। আইওয়ার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান জ্যাক নান বলেছেন, আলোচনার সুযোগ এখন আর নেই। দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান চালাতে কংগ্রেসের অনুমোদন দরকার। আমি আরেকটি অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধকে সমর্থন করব না।

তবে এ ধরনের প্রস্তাব আগেও পাস হয়েছে, কিন্তু সেগুলো কখনোই প্রেসিডেন্টের কাছে পৌঁছায়নি। এবারও ট্রাম্পের কাছে গেলে তিনি ভেটো দেবেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

ফ্লোরিডার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান ও পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ব্রায়ান মাস্ট প্রশ্ন তুলেছেন, ইরানকে এখনো হুমকি হিসেবে দেখা হলে ডেমোক্র্যাটরা অঞ্চল থেকে কোন সামরিক সম্পদ সরাতে চান? তিনি বলেন, ট্রাম্প চিরস্থায়ী যুদ্ধের বিরোধী এবং ইরানের সঙ্গে কয়েক দশকের সংঘাতের অবসান ঘটাচ্ছেন।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এটিই হয়তো শেষ ভোট। নির্বাচনের প্রচারে এই যুদ্ধ ইস্যুটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর প্রায় সাত মাস ধরে সংঘাত চলছে। পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পুরো অঞ্চলে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

কংগ্রেসম্যানরা সপ্তাহের শেষে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে নির্বাচনি প্রচারে সময় দেবেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর ৫০ দিনেরও কম সময় বাকি।

নির্দলীয় কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের (সিবিও) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই যুদ্ধ মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ বাড়াচ্ছে এবং অস্ত্র-গোলাবারুদের মজুতেও টান পড়ছে। ছয় মাসে প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। যুদ্ধ চলতে থাকলে প্রতি মাসে আরও প্রায় তিন বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে। ২০২৭ সালের প্রথম তিন মাসে মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়তে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে জুন ও জুলাইয়ে প্রতিনিধি পরিষদ দুটি যুদ্ধক্ষমতা প্রস্তাব অনুমোদন করেছিল। সিনেটও একবার পাস করলেও পরদিন ট্রাম্পের সমালোচনার পর রিপাবলিকান সিনেটররা অবস্থান বদলে ফেলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। তবে প্রেসিডেন্ট সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে কিছু পদক্ষেপ নিতে পারেন। ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর প্রণীত যুদ্ধক্ষমতা আইনে প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতার ওপর সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সাধারণত ৬০ দিনের পর দীর্ঘমেয়াদি অভিযান চালাতে কংগ্রেসের অনুমোদন লাগে।

সূত্র: আলজাজিরা

বিষয় : ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ ভোট

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ থামাতে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ভোট, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ৭ রিপাবলিকান

প্রকাশের তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

আবারও ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে ভোট দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ। তৃতীয়বারের মতো ২২০-২০৪ ভোটে পাস হওয়া এই প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলো। সব ডেমোক্র্যাটের সঙ্গে সাতজন রিপাবলিকান সদস্যও এর পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। এর মধ্যে তিনজন প্রথমবারের মতো এমন প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন।

প্রস্তাব পাস হওয়ার ফলে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা সীমিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। আইওয়ার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান জ্যাক নান বলেছেন, আলোচনার সুযোগ এখন আর নেই। দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান চালাতে কংগ্রেসের অনুমোদন দরকার। আমি আরেকটি অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধকে সমর্থন করব না।

তবে এ ধরনের প্রস্তাব আগেও পাস হয়েছে, কিন্তু সেগুলো কখনোই প্রেসিডেন্টের কাছে পৌঁছায়নি। এবারও ট্রাম্পের কাছে গেলে তিনি ভেটো দেবেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

ফ্লোরিডার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান ও পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ব্রায়ান মাস্ট প্রশ্ন তুলেছেন, ইরানকে এখনো হুমকি হিসেবে দেখা হলে ডেমোক্র্যাটরা অঞ্চল থেকে কোন সামরিক সম্পদ সরাতে চান? তিনি বলেন, ট্রাম্প চিরস্থায়ী যুদ্ধের বিরোধী এবং ইরানের সঙ্গে কয়েক দশকের সংঘাতের অবসান ঘটাচ্ছেন।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এটিই হয়তো শেষ ভোট। নির্বাচনের প্রচারে এই যুদ্ধ ইস্যুটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর প্রায় সাত মাস ধরে সংঘাত চলছে। পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পুরো অঞ্চলে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

কংগ্রেসম্যানরা সপ্তাহের শেষে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে নির্বাচনি প্রচারে সময় দেবেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর ৫০ দিনেরও কম সময় বাকি।

নির্দলীয় কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের (সিবিও) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই যুদ্ধ মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ বাড়াচ্ছে এবং অস্ত্র-গোলাবারুদের মজুতেও টান পড়ছে। ছয় মাসে প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। যুদ্ধ চলতে থাকলে প্রতি মাসে আরও প্রায় তিন বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে। ২০২৭ সালের প্রথম তিন মাসে মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়তে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে জুন ও জুলাইয়ে প্রতিনিধি পরিষদ দুটি যুদ্ধক্ষমতা প্রস্তাব অনুমোদন করেছিল। সিনেটও একবার পাস করলেও পরদিন ট্রাম্পের সমালোচনার পর রিপাবলিকান সিনেটররা অবস্থান বদলে ফেলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। তবে প্রেসিডেন্ট সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে কিছু পদক্ষেপ নিতে পারেন। ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর প্রণীত যুদ্ধক্ষমতা আইনে প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতার ওপর সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সাধারণত ৬০ দিনের পর দীর্ঘমেয়াদি অভিযান চালাতে কংগ্রেসের অনুমোদন লাগে।

সূত্র: আলজাজিরা


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream