বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla FM

জাজিরায় সরকারি ল্যাট্রিন দেওয়ার নামে ১৩ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ


| ফটো কার্ড

জাজিরায় সরকারি ল্যাট্রিন দেওয়ার নামে ১৩ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ

‎শাওন মিয়া, ‎জাজিরা (শরীয়তপুর) প্রতিনিধি:

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিকেনগর ইউনিয়নে সরকারি প্রকল্পের আওতায় সেনেটারি ল্যাট্রিন দেওয়ার কথা বলে অসহায় ও দুস্থ পরিবারের কাছ থেকে ১৩ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস্কান্দার ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে।

‎ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চেয়ারম্যান নিজে এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিভিন্ন পরিবারের কাছ থেকে ৬ হাজার ৫০০ থেকে ১৩ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। তবে টাকা দেওয়ার পরও অনেক পরিবার এখনো ল্যাট্রিন পায়নি।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জাজিরা উপজেলায় দুস্থ ও অসহায় পরিবারের জন্য মোট ৬০০টি সেনেটারি ল্যাট্রিন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় উপকারভোগী নির্বাচনের জন্য ইউনিয়ন পরিষদগুলোর কাছে তালিকা চাওয়া হয়। চেয়ারম্যানদের দেওয়া তালিকা বর্তমানে যাচাই-বাছাই পর্যায়ে রয়েছে। এখনো কোনো চূড়ান্ত তালিকা করা হয়নি।

বিকেনগর ইউনিয়নে এ প্রকল্পের জন্য ৩৫ জনের একটি খসড়া তালিকা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ওই তালিকায় থাকা কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তালিকাভুক্ত মো. বাবুল অভিযোগ করে বলেন, ল্যাট্রিন দেওয়ার কথা বলে চেয়ারম্যান এস্কান্দার ভুঁইয়া তাঁর কাছ থেকে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নিয়েছেন। তবে টাকা দেওয়ার পরও তিনি এখনো ল্যাট্রিন পাননি।

‎সকিনা নামে আরেক ভুক্তভোগী বলেন, চেয়ারম্যানের লোক হিসেবে পরিচিত খোকন হাওলাদার তাঁর কাছ থেকে ১২ হাজার টাকা নিয়েছেন। ল্যাট্রিন দেওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত তা দেওয়া হয়নি।

‎নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, কারও কাছ থেকে ৬ হাজার ৫০০ টাকা, আবার কারও কাছ থেকে ৭, ৮, ১০, ১২ ও ১৩ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, চেয়ারম্যান ছাড়াও তাঁর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি ও কয়েকজন ইউপি সদস্যের মাধ্যমে এসব টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউপি সদস্য বলেন, চেয়ারম্যান ১২ হাজার টাকা করে দাবি করেছিলেন। তাঁর পরিচিত দুজন অসহায় পরিবারের জন্য সুপারিশ করলে ১০ হাজার টাকা করে দিলে ল্যাট্রিনের ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলা হয়। পরে তিনি ওই দুই পরিবারের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা করে নিয়ে চেয়ারম্যানকে দিয়েছেন বলে দাবি করেন।

‎টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে খোকন হাওলাদার কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। আর বাদশা নামে আরেক ব্যক্তির বিরুদ্ধে টাকা সংগ্রহের অভিযোগ উঠলেও তিনি কারও কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে বিকেনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস্কান্দার ভুঁইয়া বলেন, আমি কারও কাছ থেকে টাকা নেইনি। এসব সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমাকে রাজনৈতিকভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

‎এদিকে অভিযোগকারী কয়েকজন ভুক্তভোগী দাবি করেছেন, সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করার পর তাঁদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি টাকা দেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ করলে ল্যাট্রিন দেওয়া হবে না বলেও ভয় দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁদের।

জাজিরা উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী বলেন, পুরো উপজেলায় দুস্থ ও অসহায় পরিবারের জন্য ৬০০টি সেনেটারি ল্যাট্রিন বরাদ্দ হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদগুলোর কাছ থেকে খসড়া তালিকা নেওয়া হয়েছে। এখন যাচাই-বাছাই চলছে। চূড়ান্ত তালিকা এখনো হয়নি।

‎তিনি আরও জানান, চূড়ান্ত তালিকায় থাকা প্রতিটি পরিবারকে সরকারি ফি হিসেবে ৫ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা দিতে হবে। তবে বিকেনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে এর বাইরে টাকা নেওয়ার অভিযোগ তাঁর জানা নেই।

জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল ইমরান বলেন, এ ধরনের অভিযোগ পেলে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিষয় : জাজিরা সরকারি ল্যাট্রিন

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


জাজিরায় সরকারি ল্যাট্রিন দেওয়ার নামে ১৩ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

‎শাওন মিয়া, ‎জাজিরা (শরীয়তপুর) প্রতিনিধি:

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিকেনগর ইউনিয়নে সরকারি প্রকল্পের আওতায় সেনেটারি ল্যাট্রিন দেওয়ার কথা বলে অসহায় ও দুস্থ পরিবারের কাছ থেকে ১৩ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস্কান্দার ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে।

‎ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চেয়ারম্যান নিজে এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিভিন্ন পরিবারের কাছ থেকে ৬ হাজার ৫০০ থেকে ১৩ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। তবে টাকা দেওয়ার পরও অনেক পরিবার এখনো ল্যাট্রিন পায়নি।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জাজিরা উপজেলায় দুস্থ ও অসহায় পরিবারের জন্য মোট ৬০০টি সেনেটারি ল্যাট্রিন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় উপকারভোগী নির্বাচনের জন্য ইউনিয়ন পরিষদগুলোর কাছে তালিকা চাওয়া হয়। চেয়ারম্যানদের দেওয়া তালিকা বর্তমানে যাচাই-বাছাই পর্যায়ে রয়েছে। এখনো কোনো চূড়ান্ত তালিকা করা হয়নি।

বিকেনগর ইউনিয়নে এ প্রকল্পের জন্য ৩৫ জনের একটি খসড়া তালিকা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ওই তালিকায় থাকা কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তালিকাভুক্ত মো. বাবুল অভিযোগ করে বলেন, ল্যাট্রিন দেওয়ার কথা বলে চেয়ারম্যান এস্কান্দার ভুঁইয়া তাঁর কাছ থেকে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নিয়েছেন। তবে টাকা দেওয়ার পরও তিনি এখনো ল্যাট্রিন পাননি।

‎সকিনা নামে আরেক ভুক্তভোগী বলেন, চেয়ারম্যানের লোক হিসেবে পরিচিত খোকন হাওলাদার তাঁর কাছ থেকে ১২ হাজার টাকা নিয়েছেন। ল্যাট্রিন দেওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত তা দেওয়া হয়নি।

‎নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, কারও কাছ থেকে ৬ হাজার ৫০০ টাকা, আবার কারও কাছ থেকে ৭, ৮, ১০, ১২ ও ১৩ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, চেয়ারম্যান ছাড়াও তাঁর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি ও কয়েকজন ইউপি সদস্যের মাধ্যমে এসব টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউপি সদস্য বলেন, চেয়ারম্যান ১২ হাজার টাকা করে দাবি করেছিলেন। তাঁর পরিচিত দুজন অসহায় পরিবারের জন্য সুপারিশ করলে ১০ হাজার টাকা করে দিলে ল্যাট্রিনের ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলা হয়। পরে তিনি ওই দুই পরিবারের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা করে নিয়ে চেয়ারম্যানকে দিয়েছেন বলে দাবি করেন।

‎টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে খোকন হাওলাদার কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। আর বাদশা নামে আরেক ব্যক্তির বিরুদ্ধে টাকা সংগ্রহের অভিযোগ উঠলেও তিনি কারও কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে বিকেনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস্কান্দার ভুঁইয়া বলেন, আমি কারও কাছ থেকে টাকা নেইনি। এসব সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমাকে রাজনৈতিকভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

‎এদিকে অভিযোগকারী কয়েকজন ভুক্তভোগী দাবি করেছেন, সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করার পর তাঁদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি টাকা দেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ করলে ল্যাট্রিন দেওয়া হবে না বলেও ভয় দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁদের।

জাজিরা উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী বলেন, পুরো উপজেলায় দুস্থ ও অসহায় পরিবারের জন্য ৬০০টি সেনেটারি ল্যাট্রিন বরাদ্দ হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদগুলোর কাছ থেকে খসড়া তালিকা নেওয়া হয়েছে। এখন যাচাই-বাছাই চলছে। চূড়ান্ত তালিকা এখনো হয়নি।

‎তিনি আরও জানান, চূড়ান্ত তালিকায় থাকা প্রতিটি পরিবারকে সরকারি ফি হিসেবে ৫ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা দিতে হবে। তবে বিকেনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে এর বাইরে টাকা নেওয়ার অভিযোগ তাঁর জানা নেই।

জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল ইমরান বলেন, এ ধরনের অভিযোগ পেলে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream