রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla FM
Topic Ads 1
ট্রাম্পের নতুন নিষেধাজ্ঞায় ১০০% শুল্কের মুখে ভারত-চীন

ট্রাম্পের নতুন নিষেধাজ্ঞায় ১০০% শুল্কের মুখে ভারত-চীন

রাশিয়ার বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন নিষেধাজ্ঞা আইনে স্বাক্ষর করেছেন। এর ফলে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত রাশিয়ার তেল ও গ্যাস আমদানি অব্যাহত রাখা দেশগুলোর পণ্যে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পেয়েছে মার্কিন প্রশাসন। এর ফলে ভারত ও চীনের মতো দেশের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের পথ তৈরি হয়েছে।  ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট ২০২৬’ নামের আইনটি রাশিয়ার সরকারি কর্মকর্তা, ব্যাংক, জ্বালানি খাত এবং মস্কোর সঙ্গে ব্যবসা করা বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে তৈরি। রুশ পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ এবং রুশ জ্বালানি কেনা দেশগুলোর পণ্যে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের বিধান রয়েছে। তবে ভারতের ওপর এখনই ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়নি। আইনটি ট্রাম্পকে এমন শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দিয়েছে; তিনি তা প্রয়োগ করলে তবেই ভারতীয় পণ্যে নতুন শুল্ক কার্যকর হবে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত বৈচিত্র্যময় উৎস থেকে তেল আমদানি অব্যাহত রাখবে। একই সঙ্গে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। এর আগে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনাকে কেন্দ্র করে ভারতীয় পণ্যে অতিরিক্ত মার্কিন শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল। তবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেই অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার করা হয় এবং পারস্পরিক শুল্ক ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। মার্কিন কংগ্রেসে আইনটি পাস হলেও কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা নতুন শুল্ক আরোপের ক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, অতিরিক্ত শুল্ক শেষ পর্যন্ত মার্কিন ভোক্তাদের জন্য পণ্যের দাম বাড়াতে পারে। সূত্র: এনডিটিভি

ইরান যুদ্ধে মার্কিন সেনা মৃত্যু নিয়ে নতুন দাবি

ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে চলমান ইরান যুদ্ধে পেন্টাগনের প্রকাশ্যে স্বীকার করা তথ্যের তুলনায় বাস্তবে অনেক বেশি মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ছয় কর্মকর্তার পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ তথ্যের বরাতে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) এই খবর জানানো হয়েছে। ওই কর্মকর্তাদের মধ্যে পাঁচজন জানান, যুদ্ধে অন্তত ২২ জন সেনা সদস্য মারা গেছেন, যা পেন্টাগনের প্রাতিষ্ঠানিক ডাটাবেজ ‘ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালিসিস সিস্টেম’ বা ডিসিএএস-এ প্রদর্শিত সংখ্যার চেয়ে চারটি বেশি। অন্য এক কর্মকর্তা জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প প্রশাসন ও ইসরায়েল যৌথভাবে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ২৩ জন মার্কিন সেনা এবং মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত তিনজন মার্কিন ঠিকাদার প্রাণ হারিয়েছেন। পেন্টাগনের প্রকাশ্য ডাটাবেজে ১৮ জন মার্কিন সেনার মৃত্যুর কথা বলা হলেও চারজনের তথ্য বাদ দেওয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মৃতের সংখ্যা আড়াল করার ফলে নিহত সেনাদের স্বজনরা সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। পেন্টাগন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। রয়টার্স-ইপসোস জরিপ অনুযায়ী ট্রাম্পের ইরাননীতির প্রতি মার্কিন জনগণের অনিচ্ছা ও অসন্তোষ বাড়ছে। এর মধ্যেই রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতা যুদ্ধ বন্ধে ও তথ্য বিকৃতি রুখতে নানা আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছেন। এমনকি যুদ্ধ পরিচালনা নিয়ে আইনি জটিলতার অভিযোগে প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের অভিশংসন দাবি করেছেন একজন রিপাবলিকান প্রতিনিধি। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের এক নথি অনুযায়ী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই যুদ্ধে আমেরিকার খরচ হয়েছে প্রায় ৪৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে ইরানি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং আটশরও বেশি মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন, যাদের অনেকেই মস্তিষ্কে মারাত্মক আঘাত পেয়েছেন। সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট

ইরান যুদ্ধে মার্কিন সেনা মৃত্যু নিয়ে নতুন দাবি

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ থামাতে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ভোট, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ৭ রিপাবলিকান

আবারও ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে ভোট দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ। তৃতীয়বারের মতো ২২০-২০৪ ভোটে পাস হওয়া এই প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলো। সব ডেমোক্র্যাটের সঙ্গে সাতজন রিপাবলিকান সদস্যও এর পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। এর মধ্যে তিনজন প্রথমবারের মতো এমন প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন। প্রস্তাব পাস হওয়ার ফলে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা সীমিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। আইওয়ার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান জ্যাক নান বলেছেন, আলোচনার সুযোগ এখন আর নেই। দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান চালাতে কংগ্রেসের অনুমোদন দরকার। আমি আরেকটি অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধকে সমর্থন করব না। তবে এ ধরনের প্রস্তাব আগেও পাস হয়েছে, কিন্তু সেগুলো কখনোই প্রেসিডেন্টের কাছে পৌঁছায়নি। এবারও ট্রাম্পের কাছে গেলে তিনি ভেটো দেবেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে। ফ্লোরিডার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান ও পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ব্রায়ান মাস্ট প্রশ্ন তুলেছেন, ইরানকে এখনো হুমকি হিসেবে দেখা হলে ডেমোক্র্যাটরা অঞ্চল থেকে কোন সামরিক সম্পদ সরাতে চান? তিনি বলেন, ট্রাম্প চিরস্থায়ী যুদ্ধের বিরোধী এবং ইরানের সঙ্গে কয়েক দশকের সংঘাতের অবসান ঘটাচ্ছেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এটিই হয়তো শেষ ভোট। নির্বাচনের প্রচারে এই যুদ্ধ ইস্যুটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর প্রায় সাত মাস ধরে সংঘাত চলছে। পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পুরো অঞ্চলে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। কংগ্রেসম্যানরা সপ্তাহের শেষে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে নির্বাচনি প্রচারে সময় দেবেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর ৫০ দিনেরও কম সময় বাকি। নির্দলীয় কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের (সিবিও) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই যুদ্ধ মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ বাড়াচ্ছে এবং অস্ত্র-গোলাবারুদের মজুতেও টান পড়ছে। ছয় মাসে প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। যুদ্ধ চলতে থাকলে প্রতি মাসে আরও প্রায় তিন বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে। ২০২৭ সালের প্রথম তিন মাসে মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়তে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে জুন ও জুলাইয়ে প্রতিনিধি পরিষদ দুটি যুদ্ধক্ষমতা প্রস্তাব অনুমোদন করেছিল। সিনেটও একবার পাস করলেও পরদিন ট্রাম্পের সমালোচনার পর রিপাবলিকান সিনেটররা অবস্থান বদলে ফেলেন। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। তবে প্রেসিডেন্ট সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে কিছু পদক্ষেপ নিতে পারেন। ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর প্রণীত যুদ্ধক্ষমতা আইনে প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতার ওপর সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সাধারণত ৬০ দিনের পর দীর্ঘমেয়াদি অভিযান চালাতে কংগ্রেসের অনুমোদন লাগে। সূত্র: আলজাজিরা

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ থামাতে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ভোট, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ৭ রিপাবলিকান

নিজের নাম না জুড়লে কেনেডি সেন্টার বন্ধ করবেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটনের বিখ্যাত শিল্পকলা প্রতিষ্ঠান কেনেডি সেন্টারের ভবনে নিজের নাম যুক্ত করা না হলে প্রতিষ্ঠানটি স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখার হুমকি দিয়েছেন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ফেডারেল বিচারক ক্রিস্টোফার কুপার কেনেডি সেন্টারের ভবনে ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার উদ্যোগ আটকে দেওয়ার পর এ অবস্থান জানান তিনি। একই দিনে কেন্দ্রটির পরিচালনা পর্ষদ জরুরি সংস্কারের জন্য মূল ভবনটি তাৎক্ষণিক বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়।  ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে বলেন, তার মনোনীত পরিচালনা পর্ষদ প্রায় সর্বসম্মতভাবে সংস্কারের জন্য কেন্দ্রটি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে নাম যুক্ত করার বিষয়ে আদালতের রায় বহাল থাকলে কেনেডি সেন্টারের পুনর্গঠন ও সংস্কারকাজ শুরু হবে না বলে জানান তিনি।  অন্যদিকে, কেনেডি সেন্টার এক বিবৃতিতে জানায়, বোর্ডের সিদ্ধান্ত নিরাপত্তাকে সবার আগে রাখার বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরে এবং এটি একটি যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত।  এর আগে কেনেডি সেন্টারের ভবন থেকে ট্রাম্পের নাম সরানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারক কুপার। মঙ্গলবারের নতুন রায়ে তিনি বলেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া কেনেডি সেন্টারের পরিচালনা পর্ষদ ট্রাম্প বা অন্য কারও নামে কোনো স্মারক স্থাপন করতে পারবে না।  বিচারকের এই রায় এসেছে পরিচালনা পর্ষদ ভবনের বাইরে ট্রাম্পের নাম যুক্ত করে তার সংস্কারকাজের স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার পর। আদালত ওই উদ্যোগকে আগের আদেশ ও কংগ্রেসের প্রণীত আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে উল্লেখ করেছে।  ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজেকে কেনেডি সেন্টারের বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেন। প্রতিষ্ঠানটি প্রয়াত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডির নামে প্রতিষ্ঠিত। ১৯৬৩ সালে আততায়ীর গুলিতে নিহত হওয়ার আগে কেনেডি নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। 

নিজের নাম না জুড়লে কেনেডি সেন্টার বন্ধ করবেন ট্রাম্প

ভিসা ও গ্রিন কার্ড নীতিতে চাপে ট্রাম্প প্রশাসন

অভিবাসন নীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বড় দুটি ধাক্কার মুখে পড়েছে। একদিকে ফেডারেল এক বিচারক বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের জন্য প্রস্তাবিত ভিসার সময়সীমা আটকে দিয়েছেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বাধীন কয়েক ডজন অঙ্গরাজ্য অভিবাসীদের বৈধভাবে সরকারি সুবিধা নেওয়ার কারণে গ্রিন কার্ড আটকে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা নতুন বিধির বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের এক ফেডারেল বিচারক প্রশাসনের এমন প্রস্তাব কার্যকর করা বন্ধ করে দেন, যার মাধ্যমে বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন না করে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সময় নির্দিষ্ট করে দেওয়া হতো। একই সময়ে ২২টি অঙ্গরাজ্য ও ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া মিলে আলাদা একটি মামলা করেছে। তাদের লক্ষ্য, এমন একটি ফেডারেল বিধি কার্যকর হওয়া ঠেকানো, যার আওতায় অভিবাসন কর্তৃপক্ষ বৈধভাবে সরকারি সুবিধা নেওয়া অভিবাসীদের গ্রিন কার্ড দিতে অস্বীকৃতি জানাতে পারবে। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএইচএসের প্রস্তাবিত বিধিটি মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই সোমবার বোস্টনের ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জজ এফ ডেনিস সেলার চতুর্থ ট্রেড ইউনিয়ন ও উচ্চশিক্ষা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের জোটের করা আবেদনের ভিত্তিতে বিধিটির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাব অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবহৃত এফ ভিসা এবং যুক্তরাষ্ট্রে সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার জন্য দেওয়া জে ভিসার মেয়াদ সর্বোচ্চ চার বছর করা হতো। অন্যদিকে সাংবাদিকদের জন্য ব্যবহৃত আই ভিসা, যা বর্তমানে কয়েক বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকতে পারে, সেটির মেয়াদ ২৪০ দিনে সীমাবদ্ধ করার প্রস্তাব করা হয়েছিল। বিচারক সেলার রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের নিয়োগপ্রাপ্ত হলেও তিনি ভিসা ব্যবস্থায় জালিয়াতি ঠেকানো এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে ডিএইচএস যে যুক্তি দিয়েছে, সেটিকে ‘অত্যন্ত দুর্বল’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, বিদ্যমান ভিসা ব্যবস্থা কয়েক কোটি গবেষক ও শিক্ষাবিদকে যুক্তরাষ্ট্রে অবদান রাখার সুযোগ দিয়েছে। এর ফলে যুগান্তকারী গবেষণা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ হয়েছে। এই ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হলে উচ্চশিক্ষা এবং বৃহত্তর মার্কিন অর্থনীতির ক্ষতি ‘বিপর্যয়কর’ হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি। প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থা প্রায় ১৬ লাখ এফ ভিসাধারী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এবং প্রায় ৫ লাখ জে ভিসাধারী বিনিময় কর্মসূচির অংশগ্রহণকারীকে প্রভাবিত করত। এদিকে সোমবার ম্যানহাটনের একটি ফেডারেল আদালতে দুটি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলার লক্ষ্য, ডিএইচএসের আরেকটি বিধি কার্যকর হওয়া ঠেকানো। বিধিটি শুক্রবার থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন এই বিধিতে অভিবাসন কর্মকর্তারা কোন আবেদনকারীকে ‘পাবলিক চার্জ’ হিসেবে বিবেচনা করবেন, সেই মানদণ্ড আরও বিস্তৃত করা হবে। ‘পাবলিক চার্জ’ একটি আইনি মানদণ্ড। ঐতিহাসিকভাবে এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি প্রয়োগ করা হয়েছে, যারা নিজেদের জীবনধারণের জন্য মূলত সরকারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন বলে মনে করা হয়। নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া ও ইলিনয় ২২টি অঙ্গরাজ্য এবং ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ার একটি জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছে। তারা নতুন নীতিটি আটকে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। একই বিষয়ে ছয়টি শহর ও কাউন্টিও আলাদা একটি মামলা করেছে। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীদের মূল্যায়নে অভিবাসন কর্মকর্তারা নগদ সরকারি সহায়তা বিবেচনা করতে পারতেন। তবে খাদ্য সহায়তা এবং মেডিকেইডের মতো নগদ নয় এমন সরকারি সুবিধা নেওয়ার কারণে কোনো আবেদনকারীকে শাস্তি দেওয়ার সুযোগ ছিল না। এখন ট্রাম্প প্রশাসন তার প্রথম মেয়াদের নীতিগুলো আবার চালু করতে চাইছে। সেই নীতিতে খাদ্য সহায়তা ও মেডিকেইডের মতো নগদ নয় এমন সরকারি সুবিধা নেওয়াকেও গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্যতার কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নতুন প্রস্তাবে শুধু আবেদনকারী নিজে কী ধরনের সুবিধা নিয়েছেন তা নয়, তার পরিবারের সদস্যরা কী ধরনের সরকারি সুবিধা পেয়েছেন, সেটিও যাচাইয়ের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। ডিএইচএসের এক মুখপাত্র নতুন বিধির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি মামলাকারীদের ‘বামপন্থী নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করে অভিযোগ করেন, তারা আশঙ্কা করছেন যে ফেডারেল সরকারের অর্থায়ন হারাবেন। কারণ, লাখ লাখ ‘অবৈধ অভিবাসী ও অ-নাগরিক’ হয়তো যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কল্যাণমূলক কর্মসূচি থেকে নিজেদের সরিয়ে নেবেন। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি এক বিবৃতিতে বলেন, নতুন এই বিধির লক্ষ্য হলো অভিবাসী পরিবারগুলোকে সেই কর্মসূচিগুলো থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া, যেগুলো কয়েক দশক ধরে মানুষকে খাবার ও স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ দিয়ে আসছে। মামলাকারীরা বলছেন, কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন তার আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে। তাদের যুক্তি, স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার যোগ্যতার মানদণ্ড নির্ধারণের একমাত্র ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। তাদের আরও দাবি, খাদ্য সহায়তা ও মেডিকেইডের মতো নগদ নয় এমন সরকারি সুবিধা বৈধভাবে ব্যবহার করা আবেদনকারীদের শাস্তি দেওয়ার মাধ্যমে প্রশাসন একটি বেআইনি বিধিনিষেধ তৈরি করেছে। মামলাকারীদের মতে, এই বিধিনিষেধ ফেডারেল আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

ভিসা ও গ্রিন কার্ড নীতিতে চাপে ট্রাম্প প্রশাসন

এআই নিয়ে সতর্ককারীদের ‘নেগেটিভ ফোর্স’ বললেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে যারা সতর্কবার্তা ছড়াচ্ছে তাদের সমালোচনা করেছেন। ‘নেগেটিভ ফোর্স’ বলে তিনি উল্লেখ করেন প্রযুক্তিটির উন্নয়ন ধীর করা নিয়ে যারা কথা বলছেন। আয়ারল্যান্ড সফরের সময় রোববার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি, অনেক নেগেটিভ ফোর্স আছে। তারা এমন বিষয় সামনে আনছে, যেগুলো সামনে আনা উচিত নয়। তারা এমন বিষয়ও তুলে ধরছে, যা বাস্তবে ঘটবে না।’ অ্যানথ্রোপিকের সদ্য সাবেক কর্মী জ্যাকব কক্সনের একটি দাবির পর ট্রাম্প এই মন্তব্য করলেন। কক্সন বলেছিলেন, ওপেনএআই ও অ্যানথ্রোপিক এমন মডেল তৈরির প্রতিযোগিতায় নেমেছে, যা মানুষের জীবনকে বিপন্ন করতে পারে।   কক্সনের ওই দাবির পর ‘সুপারইন্টেলিজেন্ট’ কম্পিউটার সিস্টেমের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। এর পরিপ্রেক্ষিতে এআই উন্নয়নের গতি কমিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন অ্যানথ্রোপিকের সিইও দারিও আমোদেই।  ওপেনএআইয়ের স্যাম অল্টম্যান ও এক্সএআইয়ের ইলন মাস্কও এতে সহমত জানিয়েছেন।

এআই নিয়ে সতর্ককারীদের ‘নেগেটিভ ফোর্স’ বললেন ট্রাম্প

‘আয়ারল্যান্ড এক হলে চমৎকার হবে’: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডাবলিন সফরে আয়ারল্যান্ডকে একীভূত করার পক্ষে মন্তব্য করেছেন। আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিনের সঙ্গে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, আয়ারল্যান্ড যদি এক হয়ে যায়, সেটা হবে চমৎকার একটা বিষয়। ট্রাম্প বলেন, আমি কোনো ঝামেলা তৈরি করতে চাই না। কিন্তু আপনাদের বলছি, আমি আয়ারল্যান্ডকে একীভূত দেখতে চাই। একদিন না একদিন এটা হবেই... আমার মনে হয়, এটা খুবই সুন্দর একটা ব্যাপার হবে। প্রধানমন্ত্রী মার্টিন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ট্রাম্পের কথা শুনেও তিনি নীরব থাকেন। লন্ডনে অবশ্য এ মন্তব্য ভালো লাগেনি। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের মুখপাত্র জানিয়েছেন, আয়ারল্যান্ড একীভূত হওয়ার প্রশ্নে বার্নহামের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। এর আগে বুধবার পার্লামেন্টে উত্তর আয়ারল্যান্ডে গণভোটের সম্ভাবনা নিয়ে বার্নহাম বলেছিলেন, এমন কোনো তথ্য তার কাছে নেই যেখানে দেখা যায়, সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ আরও একটা গণভোট চায়। পরিস্থিতি না বদলালে কোনো গণভোট হবে না। ১৯৯৮ সালের গুড ফ্রাইডে চুক্তি অনুযায়ী উত্তর আয়ারল্যান্ড যুক্তরাজ্য থেকে বেরিয়ে যাবে কি না, সেই সিদ্ধান্তের গণভোট ডাকার ক্ষমতা ব্রিটিশ সরকারের হাতেই রয়েছে। ওই চুক্তির মাধ্যমেই ‘দ্য ট্রাবলস’ নামের প্রায় তিন দশকের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটেছিল। উত্তর আয়ারল্যান্ডের প্রধান ইউনিয়নিস্ট দল ডিইউপির নেতা গ্যাভিন রবিনসন স্পষ্ট করে বলেছেন, উত্তর আয়ারল্যান্ডের ভবিষ্যৎ ট্রাম্প ঠিক করবেন না। সেখানকার জনগণই ঠিক করবে। তিনি যোগ করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেও জানেন নির্বাচন কতটা গুরুত্বপূর্ণ। লন্ডন, ডাবলিন বা ওয়াশিংটনের কোনো কথার ওপর নির্ভর করে এ সিদ্ধান্ত হবে না। জনমত জরিপগুলোতে এখনো অধিকাংশ মানুষ যুক্তরাজ্যের সঙ্গে থাকার পক্ষে থাকলেও ব্যবধান কমছে। বিশেষ করে ব্রিটেনের ইইউ ত্যাগের পর একীভূত আয়ারল্যান্ডের আলোচনা আবার জোরালো হয়েছে। সফরে ট্রাম্প আয়ারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ক্যাথরিন কনলির সঙ্গেও দেখা করেন। ২০১৯ সালে ট্রাম্প যখন আয়ারল্যান্ডে এসেছিলেন, তখন শ্যানন বিমানবন্দরে কনলি তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছিলেন। এবারও ট্রাম্পের সফরকে ঘিরে ডাবলিনে যুদ্ধবিরোধী ও ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। অনেকে মার্কিন সামরিক নীতি, আয়ারল্যান্ডের নিরপেক্ষতা এবং গাজায় ইসরাইলের প্রতি ট্রাম্পের সমর্থন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সফরের নিরাপত্তায় বিপুল অর্থ ব্যয় নিয়েও সমালোচনা হয়েছে। সূত্র: আলজাজিরা

‘আয়ারল্যান্ড এক হলে চমৎকার হবে’: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র-জাপানের মহড়ার পরই ক্ষেপণাস্ত্র উত্তর কোরিয়ার

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) উত্তর কোরিয়া একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। এর একদিন আগে দক্ষিণ কোরিয়া উত্তর কোরিয়াকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সাথে পাঁচ দিনের যৌথ নৌমহড়া শেষ করে। দক্ষিণ কোরিয়ার উপকূলের কাছে গত মাসে আন্তর্জাতিক পানিসীমায় অনুষ্ঠিতব্য ‘ফ্রিডম এজ’ নামে পরিচিত এই যৌথ মহড়ার পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করেছিল পিয়ংইয়ং। উত্তর কোরিয়া একে দেশটির এবং এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশের জন্য ‘হুমকি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল। শনিবার দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ‘পূর্ব উপকূলের ওয়নসান এলাকা থেকে জাপান সাগরের দিকে ছোড়া একাধিক স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র’ শনাক্ত করেছে। পূর্ব সাগর নামেও পরিচিত এই জলভাগকে জাপান সাগর বলা হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ (জেসিএস) শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানায়, স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ২০ মিনিটের দিকে ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে শনাক্ত করা হয়। এগুলো প্রায় ২৫০ কিলোমিটার (১৫৫ মাইল) পথ অতিক্রম করে। জেসিএস জানায়, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ‘ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের প্রাথমিক পর্যায় থেকেই সংশ্লিষ্ট ঘটনাপ্রবাহ পর্যবেক্ষণ ও তথ্য বিনিময় করে আসছে। পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্রটি সম্পর্কে জাপানের সাথেও তথ্য আদান-প্রদান করা হয়েছে’। এর আগে সর্বশেষ ২০ আগস্ট উত্তর কোরিয়া সমুদ্রে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। ওই সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, চলতি বছর উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উনের সাথে তার বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে চলতি মাসের শুরুতে দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা দেশটির আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে যোগাযোগের কিছু লক্ষণ দেখা যাওয়ায় দুই দেশের শীর্ষ বৈঠক ‘যেকোনো সময়’ হতে পারে বলে মনে হচ্ছে। ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে কিমের সাথে তিনবার বৈঠক করেছিলেন। একবার তিনি কিমের সাথে তার সম্পর্ককে ‘প্রেমে পড়েছি’ বলেও মন্তব্য করেছিলেন। ওই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলোর লক্ষ্য ছিল উত্তর কোরিয়ার পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো। তবে শেষ পর্যন্ত এর দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। সূত্র : বাসস

যুক্তরাষ্ট্র-জাপানের মহড়ার পরই ক্ষেপণাস্ত্র উত্তর কোরিয়ার

হুতিদের ওপর হামলা চালাতে সৌদি যুবরাজের ফোন, ট্রাম্পের প্রত্যাখ্যান

সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস) গতকাল বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দুইবার ফোন করেছিলেন। এসব ফোনকলের উদ্দেশ্য ছিল ইয়েমেনে হুতিদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রকে হামলা চালানোর আহ্বান জানানো। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই মার্কিন কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে এই তথ্য জানান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী তখন লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব এল–মান্দেবের প্রবেশদ্বারের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল ঠিক সেই সময়েই এই ফোনকল হয়। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন—ট্রাম্প এমবিএসের ওই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আপাতত হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের কোনো পরিকল্পনা মার্কিন প্রশাসনের নেই। গতকাল বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের কৌশলগত উপকূলীয় শহর মোখা হুতিরা দখল করে নেওয়ার পর তেলের দাম বেড়ে যায়। এর ফলে তারা বাব এল-মান্দেব প্রণালির আরও কাছে চলে গেছে। এই প্রণালি বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং সৌদি আরবের তেল রপ্তানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এরই মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালির নৌ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে। এর পাশাপাশি বাব আল-মান্দাবের নিয়ন্ত্রণও যদি হুতিদের হাতে যায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার উপসাগরীয় মিত্রদের ওপর চাপ তৈরির জন্য তেহরান আরও একটি শক্তিশালী কৌশলগত হাতিয়ার পেতে পারে। ইয়েমেনে দ্রুত সংঘাত বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন। সরাসরি সামরিকভাবে জড়িয়ে না পড়ে সৌদি আরবকে সহায়তা আরও বাড়ানোর চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই ব্যক্তি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বৃহস্পতিবার জরুরি সমন্বয় বৈঠকে অংশ নিতে সৌদি আরব সফর করেছেন। সৌদি দূতাবাস ও হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হয় জুলাইয়ে। ওই সময় রিয়াদ ইরানের একটি বিমানকে সানা বিমানবন্দরে অবতরণের অনুমতি দেয়নি। বিমানটিতে হুতিদের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ছিলেন। তারা সাবেক ইরানি সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির শেষকৃত্য থেকে ইয়েমেনে ফিরছিলেন। এরপর এমবিএস ট্রাম্পের কাছে সানা বিমানবন্দরে হামলা চালানোর বিষয়ে রাজনৈতিক সমর্থন চান। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, এ হামলার জন্য সৌদি আরবের মার্কিন সামরিক সহায়তার প্রয়োজন নেই। ট্রাম্প তাকে সমর্থন জানান। এর জবাবে হুতিরা লোহিত সাগরে সৌদি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালায়। এতে সৌদি আরবের তেল রপ্তানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ হুমকির মুখে পড়ে। পরে হুতিরা সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতেও হামলা বাড়িয়ে দেয়। জবাবে সৌদি আরব ও তাদের ইয়েমেনি মিত্ররা হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা এবং স্থল অভিযান শুরু করে। হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের জন্য সৌদি আরবের এই অনুরোধ জুলাইয়ের অবস্থানের সঙ্গে বড় ধরনের পরিবর্তন। ওই সময় রিয়াদ ওয়াশিংটনকে জানিয়েছিল, তারা নিজেরাই হুতিদের মোকাবিলা করতে পারবে। তবে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ক্রমবর্ধমান মাত্রায় সহায়তা চাইতে শুরু করে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত সূত্রগুলো জানিয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা তাদের সৌদি কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, ট্রাম্পের নির্দেশ হলো মার্কিন বাহিনীকে ইরান ও হরমুজ প্রণালিতে কেন্দ্রীভূত রাখা এবং আরেকটি সামরিক ফ্রন্ট খোলা এড়িয়ে চলা। বৃহস্পতিবার হুতিরা উপকূলীয় শহর মোখার দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় এবং সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনী পিছু হটতে থাকলে এমবিএস ট্রাম্পকে ফোন করেন। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফোনে তিনি পরিস্থিতির অবনতির বিষয়ে ট্রাম্পকে অবহিত করেন। এর কয়েক ঘণ্টা পর এমবিএস আবারও ট্রাম্পকে ফোন করে হুতিদের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলার নির্দেশ দেওয়ার আহ্বান জানান। ট্রাম্প সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন। তবে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রশাসন সৌদি আরবকে হুতিদের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য এবং হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করবে। ওই কর্মকর্তা আরও জানান, সৌদি আরবে ইতোমধ্যে প্রায় ২০০ মার্কিন সামরিক সদস্য রয়েছেন। তারা সেখানে অ-সামরিক বা নন-কাইনেটিক সহায়তা দিচ্ছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন, ওয়াশিংটনের অগ্রাধিকার হলো লোহিত সাগরকে উন্মুক্ত রাখা এবং একই সঙ্গে বৃহত্তর সংঘাতের দায়িত্ব আঞ্চলিক অংশীদারদের ওপর ছেড়ে দেওয়া। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র তার মূল জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এর মধ্যে লোহিত সাগরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়টিও রয়েছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও সমাধানের ক্ষেত্রে আমরা আমাদের আঞ্চলিক অংশীদারদের নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা জোরদার করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বিষয়ে আমরা সৌদি আরব এবং ইয়েমেন প্রজাতন্ত্রের সরকারের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।’

হুতিদের ওপর হামলা চালাতে সৌদি যুবরাজের ফোন, ট্রাম্পের প্রত্যাখ্যান

‘নিজ দেশে ফিরুন’—যুক্তরাষ্ট্রের পোস্টার ঘিরে তীব্র বিতর্ক

‘নিজেদের দেশে ফিরে যান নতুবা পরিণতির জন্য তৈরি থাকুন’ যুক্তরাষ্ট্রের একটি নতুন প্রচারণামূলক পোস্টারে অভিবাসীদের শীর্ষক বার্তা দেওয়া নিয়ে অনলাইনে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। জনপ্রিয় চলচ্চিত্র সিরিজ ‘ট্রান্সফর্মার্স’-এর শৈলী অনুসরণে তৈরি এই পোস্টারে ‘মি. সিং’ নামটি ব্যবহার করে ভারতীয় ও দক্ষিণ এশীয়দের নিশানা করার অভিযোগ উঠেছে। পোস্টারটিতে সরাসরি বলা হয়েছে, ‘আমাদের রাস্তা থেকে সরে যান। মি. সিং, আপনি কীভাবে গাড়ি চালাতে হয় তা জানেন না।’ ঘটনাটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন দমন নীতির সময়ে সামনে এসেছে, যা নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিজস্ব অফিশিয়াল অ্যাকাউন্টে বিতর্কিত পোস্টারটির সমর্থনে বার্তা দিয়ে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ স্পষ্ট করেছে, দেশে শত্রুভাবাপন্ন মনোভাব নিয়ে প্রবেশকারীদের প্রতিহত করা হবে। একই সঙ্গে বিজ্ঞাপনে অবৈধ অভিবাসীদের তথ্য দেওয়ার জন্য নির্ধারিত একটি হেল্পলাইন নম্বরও প্রকাশ করা হয়েছে। এ ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশন বিষয়টিকে অন্যায্য জাতিগত প্রোফাইলিং হিসেবে আখ্যা দিয়েছে এবং এফবিআই কর্তৃক তদন্তের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা ফ্রাঞ্চাইজিটির পরিবেশক প্যারামাউন্ট পিকচার্সকেও বিষয়টি খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছে। বিষয়টির নিন্দা জানিয়ে ফক্স সেভেন নিউজের সংবাদ পাঠাক অ্যালেক নোলাও এটিকে সিং পদবিধারী মানুষদের জন্য অপমানজনক বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি তার দাদা ও প্রপিতামহের যুক্তরাষ্ট্রের কর্মজীবনের ঐতিহাসিক কথা উল্লেখ করে সরকারের এ ধরনের পোস্টারকে বর্ণবাদী ও নিচু মানসিকতার পরিচয় বলে অভিহিত করেন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এই উদ্যোগটি মূলত তাদের ‘সিবিপি হোম’ কর্মসূচির প্রচারণার অংশ, যার অধীনে স্বেচ্ছায় দেশত্যাগে ইচ্ছুক অবৈধ অভিবাসীদের যাত্রা খরচ এবং অতিরিক্ত দুই হাজার ছয়শত ডলার দেওয়া হচ্ছে। সূত্র: টাইমস নাউ

‘নিজ দেশে ফিরুন’—যুক্তরাষ্ট্রের পোস্টার ঘিরে তীব্র বিতর্ক

কংগ্রেস ধরে রাখলে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ট্রাম্পের

রিপাবলিকানরা নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিনকে পাঁচ হাজার ডলার করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। একইসাথে তিনি তার সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যেন ‘ধরে নেন’ যে, তিনি ব্যালটে রয়েছেন। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ডালাসে রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচনবিষয়ক সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, রিপাবলিকানরা জিতলে আপনারাও আমাদের সাথে জিতবেন এবং পাঁচ হাজার ডলার পাবেন। এটিকে ‘ট্রাম্প ডিভিডেন্ড’ বলা হবে। তবে এই অর্থ কোথা থেকে আসবে সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি। তাত্ত্বিকভাবে এই অর্থ প্রদানের মোট ব্যয় এক ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি হতে পারে। এ বিষয়ে ট্রাম্প শুধু বলেন, ‘আমাদের দেশ প্রচুর অর্থ আয় করছে।’ জনমত জরিপে পিছিয়ে থাকা সত্ত্বেও নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে- এমন প্রচেষ্টায় নিজের ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আপনাদের বলছি, ধরে নিন আমি ব্যালটে আছি।’ তিনি আরো বলেন, আমি ব্যালটে আছি, আমি ব্যালটে আছি- আর মাত্র একবার। জনমত জরিপগুলোতে দেখা যাচ্ছে, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার হার ৩০ শতাংশের ঘরে রয়েছে। উচ্চমূল্য ও ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নিয়ে ভোটারদের মধ্যে তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে। ডিসিশন ডেস্ক এইচকিউ-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, নভেম্বরে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদে ২৩০-২০৫ আসনে জয় পেতে পারে এবং সিনেটে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ৫১-৪৯ হতে পারে। ট্রাম্প অজনপ্রিয় ইরান যুদ্ধের পক্ষে জোরালো সাফাই গেয়েছেন। তিনি যুদ্ধে বিজয়ের পূর্বাভাস দেয়ার পাশাপাশি এর সাথে সরাসরি তেলের দাম কমার বিষয়টি যুক্ত করেন। একইসাথে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর নাম নিজের নামে পরিবর্তনেরও ইঙ্গিত দেন। ট্রাম্প বলেন, খাদ্যের দাম ও প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম দ্রুত কমছে আর ইরানের সাথে যুদ্ধে আমরা জয়ী হলেই তেলের দাম কমে যাবে। যুদ্ধটি এখন চলছে। সম্মেলনে অন্য রিপাবলিকানদের মতো ট্রাম্পও যুক্তরাষ্ট্রে কমিউনিজমের কথিত ঢেউয়ের হুমকি নিয়ে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, তারা জিতলে এটি একটি কমিউনিস্ট দেশে পরিণত হবে। ট্রাম্প আরো বলেন, ‘আপনাদের ভোটই সিদ্ধান্ত নেবে, আমাদের দেশ আগামী ২৫০ বছরের শুরুতে হোঁচট খাবে, নাকি সামনে এগিয়ে যাবে এবং আর কখনো পেছনে ফিরে তাকাবে না।’ বৃহস্পতিবার সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে আবারো বক্তব্য দেয়ার কথা রয়েছে ট্রাম্পের। এর আগে মূল বক্তব্য দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। মন্ত্রিসভার সদস্য, কংগ্রেসের নেতৃবৃন্দ এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীরাও সম্মেলনের কর্মসূচিতে রয়েছেন। সূত্র : বাসস

কংগ্রেস ধরে রাখলে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্র জিতলেই তেলের দাম নামবে: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র জয়ী হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত ও বড় আকারে কমে যাবে বলে দাবি করেছেন। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, পেট্রলের দাম যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন ৩ ডলারে নেমে আসবে। শেষ পর্যন্ত তা ২ ডলারের নিচেও নামতে পারে। এক গ্যালনে প্রায় ৩ দশমিক ৮ লিটার। ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তেলের দাম দ্রুত কমবে।’ একই সঙ্গে তিনি পুনরায় সতর্ক করে বলেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না। তবে ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের মধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩৪ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৩৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৭ দশমিক ৩৪ ডলারে উঠেছে। আর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে ১ দশমিক ১৫ ডলার বা ১ দশমিক ২৬ শতাংশ। এতে প্রতি ব্যারেলের দাম দাঁড়িয়েছে ৯২ দশমিক ৬৩ ডলার। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ইরানও হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ভূখণ্ড বা সম্পদে নতুন করে হামলা চালালে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে। এ পরিস্থিতিতে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ায় তেলের দামে ঝুঁকিমূল্য যুক্ত হয়েছে। সর্বশেষ লেনদেনে ব্রেন্ট তেলের দাম ২৪ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশ্বের অপরিশোধিত তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়ে এই নৌপথে তেল পরিবহন ব্যাহত হলে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র জিতলেই তেলের দাম নামবে: ট্রাম্প

মার্কিন নির্ভরতা কমিয়ে আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষায় দক্ষিণ কোরিয়া

সিউল এখন নিজস্ব সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক হুমকি এবং যুক্তরাষ্ট্রের আচরণে হঠাৎ পরিবর্তনের মুখে থাকায়। দেশের নিরাপত্তায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ভরসা করে হাত গুটিয়ে বসে থাকার সময় শেষ বলে ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক পার্টি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সংসদে দাঁড়িয়ে শাসক দলের নেতা কিম মিন-সক বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আর আগের মতো দয়ালু বড় ভাই নয়। তারা এখন নিজেদের স্বার্থে কঠিন দরকষাকষি করছে। তাই সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জনগণের নিরাপত্তার জন্য দক্ষিণ কোরিয়াকে এখন থেকেই নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এই উদ্বেগের মূল কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্ত। ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে শিগগির বৈঠক করার পরিকল্পনা করেছেন। একই সঙ্গে খরচের অজুহাতে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া কমিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন। তার দাবি, এসব মহড়ায় অনেক টাকা নষ্ট হয় এবং উত্তর কোরিয়াকে অযথা উসকে দেওয়া হয়। সিউলের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক অস্ত্র সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে বাধ্য না করে শুধু নতুন অস্ত্র তৈরি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার কোনো চুক্তিতে রাজি হয়ে যেতে পারে। এ কারণে ডেমোক্রেটিক পার্টি মনে করে, ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে হঠাৎ কোনো চুক্তি হলেও যেন দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তা বিপন্ন না হয়, সে জন্য স্বাধীন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা ছাড়া উপায় নেই। পাশাপাশি উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় সংঘাত এড়িয়ে শান্তিপূর্ণ পথ খোঁজারও পরামর্শ দিয়েছে তারা। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

মার্কিন নির্ভরতা কমিয়ে আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষায় দক্ষিণ কোরিয়া

শীতেও গড়াতে পারে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ: জেলেনস্কি

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি কিয়েভে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ দুই দূতের সাথে বৈঠকের পর বলেছেন, রাশিয়ার সাথে যুদ্ধ সামনে শীতের সময়েও গড়াতে পারে বলে তিনি মনে করছেন। ওই বৈঠক শেষে বড় কোনো অগ্রগতির ঘোষণা আসেনি। রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর এই প্রথম ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার ইউক্রেনে সফর করলেন। এর আগের দিন তারা মস্কোয় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে বৈঠক করেছিলেন। উইটকফ বলেছেন, কিয়েভে অনুষ্ঠিত আলোচনাকে তিনি ‘আশাব্যঞ্জক’ মনে করছেন এবং বৈঠকটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ ও ‘ফলপ্রসূ’। জেলেনস্কি বলেছেন, তিনি এমন একটি ন্যায়সঙ্গত শান্তি চান, যাতে রাশিয়ার জন্য ভবিষ্যতে আবার আগ্রাসন চালানোর কোনো সুযোগ না থাকে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) কয়েক ঘণ্টা ধরে রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর জেলেনস্কি সাংবাদিকদের বলেন, ইউক্রেন, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা শিগগিরই আবার বৈঠক করবেন এবং আলোচনা চালিয়ে যাবেন। তিনি রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকেরও আহ্বান জানান। উইটকফ বলেন, ‘আমরা আত্মবিশ্বাসী যে এখানে একটি ভালো সমাধান আসবে।’ তিনি আরো বলেন, মস্কোতে তাদের আলোচনায় ‘অনেক অগ্রগতি হয়েছে’। মস্কোর বৈঠক সম্পর্কে জানতে চাইলে কুশনার বলেন, মার্কিন দল এমন অনেক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেছে, যেগুলো ‘এখন পর্যন্ত কাজ করেনি’। এরপর থেকে তারা দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য কী কী উপাদান প্রয়োজন, তা নিয়ে চিন্তা করেছেন। তিনি আরো বলেন, পুতিনের সাথে ‘খুব ভালো সংলাপ’ হয়েছে। পুতিন অনেক প্রশ্ন করেছেন এবং তারাও অনেক প্রশ্ন করেছেন। উইটকফ জানান, কিয়েভে যাওয়ার আগে তারা পুতিনের সাথে দেখা করেছিলেন, কারণ ‘তার অবস্থান কী, সেটা আমাদের জানতে হতো’। জেলেনস্কি জোর দিয়ে বলেন, যদি যুদ্ধ শীতকাল পর্যন্ত চলতে থাকে তাহলে ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং জ্বালানি খাতে সহায়তা প্রয়োজন হবে। তিনি মনে করেন, এখন পরিস্থিতি সেদিকেই যাচ্ছে। রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবেলায় ইউক্রেন মার্কিন-নির্মিত প্যাট্টিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে আসছে। তবে ইরানের সাথে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র তার অনেক মজুত ব্যবহার করেছে। জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনকে নিজেদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে। তবে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র আগামী বছর উৎপাদন বাড়াবে এবং ইউক্রেন সেটির ওপর নির্ভর করছে। মার্কিন দূতরা বিমানে পোল্যান্ডে পৌঁছানোর পর সেখান থেকে ট্রেনে করে কিয়েভ যান। জেলেনস্কি সাংবাদিকদের বলেন, তাদের বিমানের অবতরণের জন্য প্রস্তুতি নেয়া হলেও শেষ পর্যন্ত সেটি কিয়েভে নামানো সম্ভব হয়নি। আলোচনার সময় তিন দিনের জন্য একে অপরের রাজধানীতে হামলা না চালাতে সম্মত হয়েছিলেন পুতিন ও জেলেনস্কি। জেলেনস্কি কিয়েভের সেন্ট সোফিয়া ক্যাথেড্রালের কাছে উইটকফ ও কুশনারকে স্বাগত জানান। ওই এলাকায় শুক্রবার একটি রুশ ড্রোন ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থার সদর দফতরে আঘাত করেছিল। এদিকে রাতভর রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত ছিল। ইউক্রেন জানায়, তারা একটি তেল শোধনাগার, একটি বিমানঘাঁটি এবং দু’টি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় হামলা চালিয়েছে। এর আগে ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানায়, রাশিয়া ১০৮টি দূরপাল্লার ড্রোন ও কয়েকটি ছোট ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ৮২টি ড্রোন ও ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। তবে ১১টি স্থানে হামলা হয়েছে এবং আরো সাতটি স্থানে ধ্বংসাবশেষ পড়েছে। শনিবার মস্কোর ক্রেমলিনে পুতিনের সাথে বৈঠকটি তিন ঘণ্টা স্থায়ী হয় এবং তা রুদ্ধদ্বার ছিল বলে রুশ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়। পুতিনের উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ বৈঠকটিকে ‘গঠনমূলক ও অত্যন্ত খোলামেলা’ বলে বর্ণনা করেন। তিনি জানান, যুদ্ধের সমাধান, অর্থনৈতিক বিষয় এবং সম্ভাব্য ‘পারস্পরিক লাভজনক রুশ-মার্কিন প্রকল্প’ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। উশাকভ বলেন, আলোচনায় যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ সেনাবাহিনীর ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ নিয়ে কথা হয়েছে এবং সংঘাতের ‘মূল কারণগুলো’ সমাধান করা প্রয়োজন বলে স্বীকার করা হয়েছে। তবে ইউক্রেনের শহরগুলো বিশেষ করে কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বেড়ে গেলেও যুদ্ধের বেশিভাগ সময় রুশ স্থলবাহিনীর অগ্রগতি অত্যন্ত ধীর ছিল এবং এতে বিপুলসংখ্যক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। রাশিয়া এখনো ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে- যার বেশিভাগই ২০২২ সালে দখল করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই আকাশপথে হামলা বাড়ানোর পর এই নতুন দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হলো। সূত্র : বিবিসি

শীতেও গড়াতে পারে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ: জেলেনস্কি

গ্রিনল্যান্ডে ইইউর সমর্থন জানাতে উরসুলার সফর

ইইউ প্রধান উরসুলা ভন ডার লেয়েন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রহের কেন্দ্রে থাকা ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করতে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সেখানে দুই দিনের সফরে যাচ্ছেন। তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে সোমবার একটি যৌথ ঘোষণা স্বাক্ষর করবেন। রয়্যাল ড্যানিশ ডিফেন্স কলেজের গবেষক মার্ক ইয়াকবসেন বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘আর্কটিক অঞ্চলে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ পথ এবং এর ভূরাজনৈতিক অবস্থান, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ ও আর্কটিক নিরাপত্তায় ভূমিকার কারণে গ্রিনল্যান্ড ইইউর কাছে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।’ চলতি বছরের শুরুতে ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছিলেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে বিশাল এই আর্কটিক দ্বীপটির ওপর ওয়াশিংটনের নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। তবে পরে তিনি সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে গ্রিনল্যান্ড দখলের সম্ভাবনা নাকচ করে দেন। এরপর ভবিষ্যতে সহযোগিতার বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে ডেনমার্ক, গ্রিনল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের একটি যৌথ কর্মগোষ্ঠী নিয়মিত বৈঠক করে আসছে। ট্রাম্পের হুমকির পর ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ব্যাপকভাবে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পাশে দাঁড়ায়। জানুয়ারিতে ভন ডার লেয়েন আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদারে গ্রিনল্যান্ডে ‘বিপুল’ ইইউ বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেন। গ্রিনল্যান্ড ইইউর সদস্য নয়, তবে ডেনমার্ক ইইউর সদস্য। এদিকে, ২০২৮ থেকে ২০৩৪ মেয়াদের পরবর্তী বাজেটে গ্রিনল্যান্ডের জন্য সরাসরি ইইউ সহায়তা দ্বিগুণ করে ৫৩০ মিলিয়ন ইউরো (৬১৬ মিলিয়ন ডলার) করার প্রস্তাব দিয়েছে ব্রাসেলস। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভন ডার লেয়েন রোববার ও সোমবারের সফরে গ্রিনল্যান্ডের জন্য আরো ২০০ মিলিয়ন ইউরো সহায়তার প্রস্তাব দিতে পারেন। তার সফরের সময়ই শুরু হচ্ছে ন্যাটোর ‘আর্কটিক শিল্ড’ সামরিক মহড়া। এতে ১০টি দেশের সেনারা অংশ নিচ্ছেন। কুইবেক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূরাজনীতি গবেষক মিকায়া ব্লুজোঁ-মেরে এই সময়েই এই মহড়াকে ‘একেবারেই গুরুত্বহীন কাকতালীয় ঘটনা নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন। ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে ডেনমার্কের বিরুদ্ধে গ্রিনল্যান্ড ও আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তাকে অবহেলার অভিযোগ করে আসছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কোপেনহেগেন ওই অঞ্চলে নতুন করে বিনিয়োগ করেছে। ন্যাটোও একইভাবে আর্কটিক অঞ্চলে সক্রিয়তা বাড়িয়েছে এবং বছরের শুরুতে ‘আর্কটিক সেন্ট্রি’ অভিযান শুরু করেছে। ইয়াকবসেন বলেন, ‘ন্যাটো যেভাবে গ্রিনল্যান্ডকে সামরিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারে, ইইউ সেভাবে পারে না। তবে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি বার্তা দিতে পারে—গ্রিনল্যান্ড একা নয়।’ যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের ওপর চাপ অব্যাহত রাখায় এই বার্তা আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে মে মাসে ট্রাম্পের বিশেষ দূত জেফ ল্যান্ড্রি গ্রিনল্যান্ড সফরের পর এ বিষয়ে ট্রাম্পকে তুলনামূলকভাবে কম সরব হতে দেখা গেছে। ব্লুজোঁ-মেরে বলেন, ‘প্রতি মাসেই আমরা ট্রাম্প বা তার ঘনিষ্ঠদের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ‘পোস্টকার্ড’ পাচ্ছি। এতে বোঝা যায়, তারা বিষয়টি ভুলে যাননি।’ মে মাসে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এমন একটি ছবি পোস্ট করেন। ছবিতে তাকে গ্রিনল্যান্ডের ওপর দিয়ে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায় এবং শিরোনাম ছিল— ‘হ্যালো, গ্রিনল্যান্ড!’ আগস্টে গ্রিনল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকায় একটি মার্কিন তেল কোম্পানির প্রস্তুতিমূলক কর্মকাণ্ডের খবর প্রকাশিত হলে দ্বীপটিতে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দেয়। টেক্সাসভিত্তিক একটি কোম্পানি এই প্রকল্প পরিচালনা করছে। ২০২১ সালে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির আগে প্রতিষ্ঠানটি প্রয়োজনীয় লাইসেন্স পেয়েছিল। তবে প্রকল্পটি স্থানীয় বাসিন্দা ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। অনুসন্ধানমূলক খননকাজ শুরু করতে কোম্পানিটিকে এখনো অনুমোদন দেয়নি কর্তৃপক্ষ। এর কারণ হিসেবে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে। গ্রিনল্যান্ড তার খনিজ শিল্পও গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। এই শিল্পের উন্নয়ন হলে ডেনমার্কের কাছ থেকে ভবিষ্যতে স্বাধীন হওয়ার অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী হতে পারে। ইয়াকবসেন বলেন, এ ক্ষেত্রে গ্রিনল্যান্ড ও ইউরোপের স্বার্থ অনেকটাই পরস্পর সম্পূরক। তিনি আরো বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ডের খনিজসম্পদ খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বিনিয়োগ, অবকাঠামো ও বাজার প্রয়োজন। অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের আরো নিরাপদ ও বৈচিত্র্যময় উৎস নিশ্চিত করতে চাইছে।’ তবে গ্রিনল্যান্ডের ভূতাত্ত্বিক সম্ভাবনাকে বাস্তবে কাজে লাগানো প্রত্যাশার চেয়ে কঠিন হয়ে উঠছে। ৬০টির বেশি কোম্পানির হাতে প্রায় ১৩৫টি খনন অনুমতিপত্র থাকলেও বর্তমানে মাত্র দু’টি খনি চালু রয়েছে। ইয়াকবসেন বলেন, ‘প্রশ্ন হলো, বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির গতি শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারবে কি না।’ ব্লুজোঁ-মেরে বলেন, দুই বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বার ভন ডার লেয়েনের গ্রিনল্যান্ড সফর ইউরোপীয় বিনিয়োগ যে দীর্ঘমেয়াদি, তার একটি শক্তিশালী বার্তা দিচ্ছে। সফরে ভন ডার লেয়েন গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইয়েন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন, ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন এবং ডেনমার্কের অপর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল ফারো দ্বীপপুঞ্জের সরকার প্রধানের সাথে বৈঠক করবেন। সূত্র : বাসস

গ্রিনল্যান্ডে ইইউর সমর্থন জানাতে উরসুলার সফর

ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে পুতিনের দরজায় ট্রাম্পের দূত

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে মস্কোতে ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার জোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ‘রুদ্ধদ্বার’ বৈঠক করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ দুই প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। ট্রাম্পের প্রতিনিধিরা এমন একটি সময়ে রাশিয়া গেছেন, যার ঠিক এক সপ্তাহের কিছু বেশি সময় আগে সিআইএর প্রধান জন র‍্যাটক্লিফ ‘বিরল এক সফরে’ মস্কো যান। তবে বৈঠকে ঠিক কী কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো পক্ষই পরিষ্কার করে কিছু জানায়নি। রাশিয়ার সাথে বৈঠক শেষে রোববার কিয়েভে যাওয়ার কথা রয়েছে মার্কিন প্রতিনিধি দলটির। গত শনিবার ক্রেমলিন থেকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে রুশ প্রেসিডেন্টকে মার্কিন প্রতিনিধিদের স্বাগত জানাতে দেখা গেছে। পুতিনকে সেসময় বলতে শোনা গেছে, বর্তমান পরিস্থিতি ‘খুব একটা সহজ নয়’। তিন দিনের জন্য একে অপরের রাজধানীতে হামলা বন্ধ রাখার বিষয়ে ইউক্রেনের সাথে রাজি হওয়ায় পুতিনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন উইটকফ। পুতেনের সাথে দেখা করার পর রোববার মার্কিন প্রতিনিধি দলটির সদস্যরা কিয়েভে যাবেন। যুদ্ধ অবসানে আলোচনার জন্য ইউক্রেনের রাজধানীতে এটিই তাদের প্রথম সফর। ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে দীর্ঘদিন ধরে প্রচেষ্টা চালিয়েও এখন পর্যন্ত কোনো শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। সবশেষ গত শুক্রবার ট্রাম্প জানান, উইটকফ ও কুশনার ‘যুদ্ধ শেষ করার একটি প্রস্তাব নিয়ে আসছেন।’ গত শনিবার ক্রেমলিনে অনুষ্ঠিত আলোচনায় পুতিন বলেছেন, ‘যা-ই ঘটুক না কেন, এ ধরনের যোগাযোগ নিঃসন্দেহে সবসময়ই উপকারী।’ তিনি শান্তি স্থাপনের প্রচেষ্টার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান তিনি। মার্কিন প্রতিনিধিদের সাথে কাজ করতে ‘স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন’ বলেও মন্তব্য করেন রুশ প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘এক্ষেত্রে আমাদের দিক থেকে আমরা অবশ্যই বেশ উচ্চমাত্রায় আস্থা রাখছি।’ রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, মস্কোতে প্রেসিডেন্ট পুতিনের সরকারি বাসভবনে আয়োজিত রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে ঠিক কী আলোচনা হয়েছে এবং দু’পক্ষ কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পেরেছে কি-না, সেবিষয়ে এখনো নিশ্চিত করে কিছু জানা যায়নি। তবে রুশ প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ ওই বৈঠককে ‘গঠনমূলক এবং অত্যন্ত খোলামেলা’ বলে বর্ণনা করেছেন। ইউরি উশাকভ বলেন, ‘আলোচনা শুধু ইউক্রেন সঙ্কট সমাধানের বিষয়ে মতবিনিময়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং অর্থনৈতিক বিষয় এবং সম্ভাব্য বড় ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক রুশ-মার্কিন প্রকল্পগুলো নিয়েও বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে।’ ‘যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ সেনাবাহিনীর দৃশ্যমান অগ্রগতির বিষয়টি আমলে নেয়া হয়েছে’ মন্তব্য করে তিনি আরো বলেন, চলমান ওই সঙ্ঘাতের ‘মূল কারণগুলো’ সমাধানের জন্য আরো আলোচনায় প্রয়োজন রয়েছে। কিয়েভসহ ইউক্রেনের শহরগুলোতে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও এই যুদ্ধের বেশিভাগ সময় জুড়ে রুশ সেনাবাহিনী অত্যন্ত ধীর গতিতে অগ্রসর হতে দেখা গেছে। এতে তারা ব্যাপক হতাহতের শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে রাশিয়া। গত শনিবার পুতিনের সাথে মার্কিন প্রতিনিধি দলের বৈঠকের আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন, তিনি ইতোমধ্যেই ট্রাম্পের দূতদের সাথে কথা বলেছেন। মস্কোর সাথে বৈঠক শেষে রোববার একই ইস্যুতে কিয়েভের সাথে বৈঠক করার কথা রয়েছে মার্কিন প্রতিনিধিদের। জেলেনস্কি বলেন, ‘স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের জন্য আমরা অপেক্ষা করছি এবং একটি ফলপ্রসু আলোচনার জন্য প্রস্তুত আছি।’ বৈঠক চলাকালে, অর্থাৎ গত শনিবার থেকে শুরু করে সোমবার পর্যন্ত রাশিয়া এবং ইউক্রেন একে অপরের রাজধানীতে হামলা বন্ধ রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। এ বিষয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন ইতোমধ্যেই তিন দিনের জন্য কিয়েভে হামলা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বলে রুশ গণমাধ্যমের খবরে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে পুতিন জানিয়েছেন, কিয়েভের বাইরে ইউক্রেনের অণ্য অঞ্চলের জন্য সাময়িক ওই যুদ্ধবিরতির নির্দেশনা কার্যকর হবে না। যুদ্ধ অবসানের আলোচনাকে এগিয়ে নিতে এবং মধ্যস্থতাকারী মার্কিন প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন ভ্লাদিমির পুতিন। ট্রাম্পের দূত কুশনার এবং উইটকফ এর আগেও বেশ কয়েকবার রাশিয়া সফর করেছেন। তবে রোববার তারা প্রথমবারের মতো ইউক্রেনে আলোচনা করতে যাচ্ছেন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া পূর্ণাঙ্গ আক্রমণ শুরু করার পর থেকে ইউক্রেনের আকাশসীমা বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় মস্কো থেকে মার্কিন প্রতিনিধিরা কিভাবে কিয়েভে যাবেন, সেটি এখনো স্পষ্ট নয়। এদিকে, গত শনিবারের বৈঠকের আগে রাশিয়া রাতভর কিয়েভ ও বোরিসপিলের বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে বলে জানান জেলেনস্কি। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন এবং রাশিয়া আলাদাভাবে ইঙ্গিত দিয়েছিল, যুদ্ধ শেষ করতে একটি শান্তি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া বিষয়টি নিয়ে ইউক্রেনের ইউরোপীয় মিত্ররাও প্যারিসে আলোচনায় বসেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি ছাড়াই সেটি শেষ হয়। গত কয়েক মাসে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়ই পাল্টা-পাল্টি বিমান হামলা আরো জোরদার করেছে। এর মধ্যেই রাশিয়া তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এতো বেশি বৃদ্ধি করেছে যে, প্রতিহত করতে রীতিমত হিমশিম খাচ্ছে ইউক্রেন। তারপরও তারা রাশিয়ার অর্থনৈতিক অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। সূত্র : বিবিসি

ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে পুতিনের দরজায় ট্রাম্পের দূত
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream