বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
যুক্তরাষ্ট্রে ভোট আজ, মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ হারানোর শঙ্কায় ট্রাম্পের দল

যুক্তরাষ্ট্রে ভোট আজ, মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ হারানোর শঙ্কায় ট্রাম্পের দল

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে দেশটির রাজনীতিতে উত্তেজনা বাড়ছে। আজ মঙ্গলবারের ভোটে নির্ধারিত হবে, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে কি না প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি।সর্বশেষ জনমত জরিপে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। বিশেষ করে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে সিনেটেও দলটির অবস্থান আগের তুলনায় কিছুটা শক্ত হয়েছে।নির্বাচনের আগে ভোটারদের কাছে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় অর্থনীতি ও নিত্যপণ্যের দাম। মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও খাবার, জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিলসহ দৈনন্দিন খরচ এখনো অনেক বেশি। রেস্তোরাঁয় খাবার খেতেও আগের চেয়ে বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।এ কারণে অনেক ভোটার ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক নীতির সমালোচনা করছেন। বিশেষ করে আমদানি পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রভাবে পণ্যের দাম বাড়ছে বলে মনে করছেন তারা। সব মিলিয়ে অর্থনৈতিক চাপ এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থনীতি নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের অসন্তোষের বিপরীতে দেশটির সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানে ইতিবাচক চিত্রও রয়েছে। বেকারত্বের হার এখনো ঐতিহাসিকভাবে নিম্ন পর্যায়ে। কর্মসংস্থানে যুক্ত মানুষের সংখ্যাও আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগ শেয়ারবাজারের উত্থানেও ভূমিকা রেখেছে। এতে অনেক মার্কিন নাগরিকের অবসরকালীন সঞ্চয়ের পরিমাণ বেড়েছে। তবে অর্থনীতির এসব ইতিবাচক সূচক ভোটারদের অসন্তোষ দূর করতে পারছে না। কয়েক বছর আগের তুলনায় মূল্যস্ফীতির হার কমলেও পণ্য ও সেবার দাম এখনো অনেক বেশি। ফলে দৈনন্দিন ব্যয়ের ক্ষেত্রে বাড়তি চাপ সামলাতে হচ্ছে সাধারণ পরিবারগুলোকে। জরিপেও উঠে এসেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর থেকে অর্থনীতি নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের মনোভাবের অবনতি হয়েছে। ট্রাম্প নিজে এবারের নির্বাচনে প্রার্থী না হলেও ভোটের মাঠে তাঁর অর্থনৈতিক নীতি ও প্রশাসনের কর্মকাণ্ড বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে। ভোটারদের একটি বড় অংশের মধ্যে এ নিয়ে বিরক্তি ও হতাশা রয়েছে। কংগ্রেস ধরে রাখতে শেষ মুহূর্তের লড়াই নির্বাচনের আগের দিন সোমবারও প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করেছেন ট্রাম্প ও রিপাবলিকান নেতারা। জনমত জরিপে ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার আভাস তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শেষ মুহূর্তের প্রচারে রিপাবলিকানদের মূল লক্ষ্য ছিল ভোটারদের সমর্থন আদায় করে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা। ওয়াশিংটনের লিঙ্কন মেমোরিয়াল রিফ্লেক্টিং পুল এলাকায় প্রচার চালান ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীকে নতুনভাবে সাজানোর উচ্চাভিলাষী ও বিতর্কিত পরিকল্পনার কারণে স্থানটির সঙ্গে তাঁর বিশেষ রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা তৈরি হয়েছে। এর আগে রোববার ট্রাম্প আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, ‘আমরা জিততে যাচ্ছি।’ ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, দলটি ক্ষমতায় এলে সাধারণ পরিবারগুলোকে দেউলিয়া করে দেবে। অন্যদিকে, নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে প্রচারে সক্রিয় ছিলেন ডেমোক্র্যাট নেতারাও। টেক্সাসে দলটির আলোচিত সিনেট প্রার্থী জেমস টালারিকো এবং কানসাসের প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিলটনের সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে প্রচার শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। দুই দলের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও বৈরিতার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে এবারের নির্বাচনী প্রচার। প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের সম্ভাবনা সর্বশেষ জনমত জরিপ অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর আশঙ্কা প্রবল। অন্যদিকে, বর্তমানে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সিনেটেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে ডেমোক্র্যাটদের সামনে। প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে গেলেও ট্রাম্প প্রশাসন বড় ধরনের রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়বে। কারণ, কেন্দ্রীয় বাজেটের ওপর ভোট দেওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কমিটিগুলোর নিয়ন্ত্রণ পাবে বিরোধী দল। এর ফলে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ, এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি এবং প্রশাসনের অন্যান্য বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্তের সুযোগ তৈরি হবে। কংগ্রেসের দুই কক্ষেই রিপাবলিকানদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ বজায় না থাকলে ট্রাম্পকে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে। মূল্যস্ফীতির চাপ, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অচলাবস্থা এবং প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য তদন্ত—সব মিলিয়ে তাঁর প্রেসিডেন্সির শেষ দুই বছর কঠিন হয়ে উঠতে পারে। সিনেটের লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাত অঙ্গরাজ্য সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সাতটি অঙ্গরাজ্যের অধিকাংশেই ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা রিপাবলিকানদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছেন। জরিপ অনুযায়ী, টেক্সাস ও কানসাসে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের অবস্থান বেশ শক্তিশালী। ঐতিহাসিকভাবে এই দুই অঙ্গরাজ্যে দলটির সিনেট নির্বাচনে সাফল্যও বিরল। টেক্সাসে সর্বশেষ ১৯৮৮ সালে এবং কানসাসে ১৯৩২ সালে ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হয়েছিলেন। সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে হলে ডেমোক্র্যাটদের নিজেদের বর্তমান আসনগুলো ধরে রাখার পাশাপাশি রিপাবলিকানদের দখলে থাকা অন্তত চারটি আসনে জয় পেতে হবে। এ সমীকরণকে শুরুতে কঠিন মনে করা হলেও সাম্প্রতিক জরিপে পরিস্থিতির পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। কানসাস, মেইন, ওহাইও ও টেক্সাসে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। আলাস্কায় তাদের ব্যবধান সামান্য। অন্যদিকে, আইওয়ায় দুই দলের প্রার্থীদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে ডেমোক্র্যাটদের দখলে থাকা মিশিগানেও দলটির প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ প্রায় দুই অঙ্কের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। তবে মিশিগানের জরিপটি করা হয়েছিল দলটির অভ্যন্তরীণ বিভেদ প্রকাশ্যে আসার আগে। ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য হেইলি স্টিভেন্সের রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণার পর পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ মার্কিন বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নির্বাচনের দিন সরাসরি ভোটসংক্রান্ত বিষয়ে হস্তক্ষেপের আগ্রহ দেখিয়ে কয়েক দশকের প্রচলিত রীতির ব্যত্যয় ঘটিয়েছে বিভাগটি। ক্যালিফোর্নিয়ার প্রায় ২০ হাজার ভোটারের ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট বাতিলের আবেদন জানিয়েছে বিচার বিভাগ। তাদের অভিযোগ, এসব ভোটারের অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন। ফলে তাঁদের ভোট দেওয়ার আইনগত অধিকার নেই। এ ঘটনায় চলমান একটি ফৌজদারি তদন্তের অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় নথিপত্রও চেয়েছে বিভাগটি। তবে ক্যালিফোর্নিয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অ-মার্কিন নাগরিকদের ভোট দেওয়া ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভোটাধিকার বাধাগ্রস্ত করার এখতিয়ার বিচার বিভাগের নেই বলেও যুক্তি দিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। এদিকে, আলাস্কায় রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সালিভানের সঙ্গে একই নামের একজন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। ভোটারদের বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে ওই প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে ফৌজদারি তদন্ত জোরদার করেছে বিচার বিভাগ। মিশিগানে ডেমোক্র্যাট নেত্রীর অবস্থান পরিবর্তনে চাঞ্চল্য মিশিগানের সিনেট নির্বাচন ঘিরে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য হেইলি স্টিভেন্স। দলীয় প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। গত শনিবার রাত পর্যন্তও এমন সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা ছিল অনেকের কাছে অকল্পনীয়। এর আগে এল-সায়েদের বক্তব্যের প্রশংসা করে বিবৃতি দিয়েছিলেন স্টিভেন্স। প্রাইমারি নির্বাচনে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী এল-সায়েদের প্রতি সমর্থন তুলে নিতে পারেন—এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লেও তিনি বারবার তা নাকচ করেছিলেন। এমনকি গত সপ্তাহে তাঁর কয়েকজন সহযোগী রজার্সকে সমর্থন না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে যোগাযোগ করেন। তাঁদের একজনকে খুদে বার্তায় স্টিভেন্স লিখেছিলেন, ‘আপনারা কেন ভাবছেন যে আমি এমনটা করব?’ গত শনিবার মধ্যরাতেও নিজের এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মিত্রকে তিনি জানিয়েছিলেন, এল-সায়েদের প্রতিই তাঁর সমর্থন বহাল থাকবে। কিন্তু পরদিন সকালে অবস্থান পাল্টে ফেলেন এই ডেমোক্র্যাট নেত্রী। সাংবাদিকদের কাছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কথা জানিয়ে রজার্সকে সমর্থনের ঘোষণা দেন। স্টিভেন্সের আকস্মিক এই অবস্থান পরিবর্তন মিশিগানের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তাঁর সমর্থন রিপাবলিকান প্রার্থী রজার্সের পক্ষে ভোটের সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা বিশ্লেষণ।

প্রেস সেক্রেটারি পদে নিকি মিনাজকে পছন্দ ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের পরবর্তী প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে জনপ্রিয় র‍্যাপার নিকি মিনাজকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেননি তিনি। মার্কিন বিনোদনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টিএমজেডের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।‘দ্য বেনি শো’ অনুষ্ঠানে এক সাক্ষাৎকারে উপস্থাপক বেনি জনসন ট্রাম্পের কাছে জানতে চান, নিকি মিনাজকে প্রেস সেক্রেটারি করা যায় কি না। জবাবে ট্রাম্প বলেন, ধারণাটি ভালো। বিষয়টি নিয়ে তাঁকে ভাবতে হবে। একই সঙ্গে উপস্থাপক বেনি জনসনকেও এই পদের জন্য যোগ্য প্রার্থী বলে উল্লেখ করেন তিনি।এর আগে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এয়ার ফোর্স ওয়ানে করে একটি নির্বাচনী সমাবেশে গিয়েছিলেন নিকি মিনাজ। এরপর তাঁকে প্রেস সেক্রেটারি করার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।গত সপ্তাহান্তে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক স্টিভেন চেউং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, মনে হচ্ছে, হোয়াইট হাউসের নতুন প্রেস সেক্রেটারিকে খুঁজে পাওয়া গেছে।পরে ট্রাম্পের উপদেষ্টা অ্যালেক্স ব্রুসেউইৎজও বিষয়টি নিয়ে পোস্ট করেন। নিকি মিনাজের ভক্তদের উদ্দেশে তিনি লেখেন, এই প্রস্তাব সম্পর্কে তাঁদের মতামত কী?এদিকে, প্রেস সেক্রেটারি করার আলোচনা শুরুর আগেও নিকি মিনাজকে নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প। মিশিগানের পোর্ট হুরনে এক নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তাঁর শারীরিক সৌন্দর্যের প্রশংসা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। নিকি মিনাজের শারীরিক গড়ন নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশংসাসূচক মন্তব্য করেন তিনি। নিকি মিনাজের ট্রাম্প প্রশাসনের অংশ হয়ে হোয়াইট হাউসে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা ২০২৬ সালের আলোচিত সম্ভাব্য ঘটনাগুলোর তালিকায় ছিল না। তবে এ ধরনের ঘটনা ঘটার সম্ভাবনাও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

প্রেস সেক্রেটারি পদে নিকি মিনাজকে পছন্দ ট্রাম্পের

ট্রাম্পকে ইরানে হামলার প্রস্তাব নেতানিয়াহুর

ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক অভিযান চালাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। আগামী মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলা চান তিনি।মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানকে নিয়ে এখন ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে দুই ধরনের মত দেখা যাচ্ছে। এক পক্ষ তেহরানের সঙ্গে আবারও আলোচনায় বসে কূটনৈতিকভাবে সমস্যার সমাধান করতে চায়। অন্য পক্ষ মনে করছে, ইরানের ওপর নতুন করে সামরিক হামলা চালানো প্রয়োজন।এদিকে, নেতানিয়াহু চাইছেন, নির্বাচনের পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল মিলে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান শুরু করুক। ফলে ইরানকে ঘিরে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে, ইসরাইলের টেলিভিশন চ্যানেল ১৫ জানিয়েছে, ইরানে হামলা চালানোর সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। চ্যানেলটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলের সামরিক কর্মকর্তারা মনে করছেন, ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত শুরু হলে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহও নতুন করে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে। এ কারণে ইসরাইলের উত্তর সীমান্ত থেকেও একযোগে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কা বিবেচনায় নিয়ে সামরিক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ইরানের পাশাপাশি হিজবুল্লাহর সম্ভাব্য হামলাও মোকাবিলা করতে হতে পারে—এমন পরিস্থিতি মাথায় রেখে নিজেদের প্রতিরক্ষা ও সামরিক পরিকল্পনা সাজাচ্ছে ইসরাইল। তথ্যসূত্র: গলফ নিউজ

ট্রাম্পকে ইরানে হামলার প্রস্তাব নেতানিয়াহুর

ব্রাজিলের নির্বাচন বদলে দিল ট্রাম্পের হিসাব

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার জয় ডোনাল্ড ট্রাম্পের পশ্চিম গোলার্ধ নিয়ে পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট চেয়েছিলেন, দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোকে নিয়ে এমন একটি জোট গড়ে তুলতে, যেখানে তাঁর সমর্থক নেতারা ব্যবসাবান্ধব নীতি অনুসরণ করবেন এবং কঠোরভাবে দেশ পরিচালনা করবেন। একই সঙ্গে উদার গণতন্ত্রে বিশ্বাসী মিত্রদের থেকে দূরত্ব তৈরি করতে চেয়েছিলেন তিনি। রোববারের নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা সফল হওয়ার সম্ভাবনা দেখা গেলেও লুলার জয়ের পর তা বড় বাধার মুখে পড়েছে।পশ্চিম গোলার্ধকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের বহু পুরোনো। ১৮২৩ সালে দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জেমস মনরো ইউরোপীয় শক্তিগুলোকে আমেরিকা মহাদেশের বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। তাঁর এই ঘোষণাই পরে ‘মনরো নীতি’ নামে পরিচিতি পায়। ১৮৯০-এর দশকে স্পেনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের সময় নীতিটি আবারও গুরুত্ব পায়। পরবর্তী সময়ে পশ্চিম গোলার্ধে নিজেদের প্রভাব ও আধিপত্য বাড়ানোর এই পরিকল্পনা কিছুটা আড়ালে চলে যায়। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও সেই পুরোনো নীতিকে সামনে এনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন। ব্রাজিল যদি বাম পন্থা থেকে ডান পন্থার দিকে ঝুঁকে পড়ত, তাহলে লাতিন আমেরিকায় ট্রাম্পের জন্য তা হতো অভাবনীয় সাফল্যের বছর। বছরের শুরুতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে অপহরণের পর দেশটিকে নিজের অনুগত রাষ্ট্রে পরিণত করার সুযোগ পান ট্রাম্প। এরপর চিলির নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থী হোসে আন্তোনিও কাস্তের জয় হয়। তাঁর বাবা ছিলেন জার্মানির নাৎসি বাহিনীর একজন কর্মকর্তা। কলম্বিয়াতেও ট্রাম্প-সমর্থিত ডানপন্থী প্রার্থী আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলার কাছে বামপন্থীরা পরাজিত হন। এই সাফল্যের ফলে এল সালভাদরের নায়িব বুকেলে ও আর্জেন্টিনার হাভিয়ের মিলের মতো ট্রাম্পের পুরোনো মিত্ররা আর বিচ্ছিন্ন ব্যতিক্রম বলে বিবেচিত হচ্ছেন না। ব্রাজিলে কট্টর ডানপন্থী ফ্লাভিও বলসোনারো জিতলে মেক্সিকোর দক্ষিণে ট্রাম্পের মিত্রদের প্রায় পূর্ণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হতো। ২০২৫ সালের নভেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসনের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে পশ্চিম গোলার্ধের দিকে বিশেষ মনোযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়। এরপর ‘অপারেশন অ্যাবসলিউট রিজলভ’-এর আওতায় মার্কিন বাহিনী মাদুরোকে আটক করে। তাঁর উত্তরসূরিকে দিয়ে ভেনেজুয়েলার ১৭টি তেলক্ষেত্রে নতুন করে ১০০ বছরের জন্য একটি মার্কিন কোম্পানিকে অধিকার দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়। এসব তেলক্ষেত্রে প্রমাণিত মজুতের পরিমাণ ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল। মার্চে হোয়াইট হাউস ‘আমেরিকাস কাউন্টার কার্টেল কোয়ালিশন’ বা মাদক চক্রবিরোধী জোট গঠনের মাধ্যমে এই পরিকল্পনা আরও জোরদার করে। ‘শিল্ড অব দ্য আমেরিকাস’ বা ‘আমেরিকার সুরক্ষাকবচ’ নামে পরিচিত এই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল মাদক ব্যবসা ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন করা। ফ্লোরিডার ডোরালে মার্কিন দক্ষিণাঞ্চলীয় সামরিক কমান্ডের সদর দপ্তরে একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজনের পর লাতিন আমেরিকার ১২ জন নেতা ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর গলফ ক্লাবে যান। মার্কিন কর্মকর্তারা মাদক চক্র, বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও চীনের মতো বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপ মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের প্রশংসা করেন। বক্তব্যের শেষ দিকে ট্রাম্প এই আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিকল্পনার সঙ্গে ইরানে তাঁর সামরিক হামলারও যোগসূত্র টানেন। তবে এই জোট শুধু নিরাপত্তা সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। ডোরালে গোপন বৈঠকের পর ভেনেজুয়েলার সোনা ও তেল এবং চিলির খনিজ সম্পদ নিয়ে এমন কিছু চুক্তি সামনে আসে, যেগুলো মার্কিন কোম্পানির স্বার্থের অনুকূলে ছিল। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে জোটের সদস্যরা ‘অর্থনৈতিক সহযোগিতা’কে আনুষ্ঠানিকভাবে এর লক্ষ্য হিসেবে যুক্ত করেন। এর মধ্যে ছিল বিনিয়োগ যাচাই, খনিজ সরবরাহব্যবস্থার নিরাপত্তা এবং ডিজিটাল অবকাঠামোয় নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী নিশ্চিত করার উদ্যোগ। কিন্তু লুলার বিজয়ের আগেই জোটটির দুর্বলতা প্রকাশ পেতে শুরু করেছিল। জোট ঘোষণার মাত্র দুই দিন আগে এর প্রথম প্রধান ক্রিস্টি নোয়েমকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে অপমানজনকভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁকে বিশেষ দূত হিসেবে রাখার সিদ্ধান্তও সেপ্টেম্বরে কার্যত শেষ হয়ে যায়। পরবর্তী দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউকে নিয়োগের প্রয়োজনও পররাষ্ট্র দপ্তর অনুভব করেনি। বুয়েনস এইরেস ও সান্তিয়াগোয় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতদের কর্মকাণ্ডও আঞ্চলিক বিরোধ উসকে দিয়েছে। চিলিতে ট্রাম্পের দূত ব্র্যান্ডন জাড—যিনি আগে মার্কিন সীমান্তরক্ষী বাহিনীতে কাজ করতেন—ম্যাগেলান প্রণালির ওপর চিলির সার্বভৌমত্ব নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলেন। যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার সঙ্গে চিলির সহযোগিতার শর্তও জুড়ে দেন তিনি। অন্যদিকে ভেনেজুয়েলার সম্পদ ভাগাভাগি নিয়ে হোয়াইট হাউসে প্রকাশ্য দুর্নীতি ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব চলছে। লুলার সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ রয়েছে। কারণ, ব্রাজিলকে অর্থনৈতিক সমস্যা মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তবে আমেরিকা মহাদেশকে নিজের নিয়ন্ত্রণে আনার বিষয়ে ট্রাম্পের বড় পরিকল্পনা যখন ভেঙে পড়েছে, তখন লুলার জন্য সেই কাজ কিছুটা সহজ হতে পারে।

ব্রাজিলের নির্বাচন বদলে দিল ট্রাম্পের হিসাব

মিশিগানে ভোটের লড়াইয়ে ওবামা ও ট্রাম্প

মিশিগান অঙ্গরাজ্যে টানা দুই দিনে প্রচারে অংশ নিলেন যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রেসিডেন্ট। গত শনিবার ডেট্রয়েটে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে প্রচার চালান সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। পরদিন রোববার পোর্ট হুরনে রিপাবলিকানদের হয়ে ভোট চান বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনের শেষ সময়ে দুই নেতার এই প্রচার থেকেই বোঝা যায়, অঙ্গরাজ্যটি দুই দলের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ।ওবামা প্রচারে অংশ নেন ডেমোক্র্যাট সিনেট প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদ ও গভর্নর প্রার্থী জোসলিন বেনসনের পক্ষে। অন্যদিকে, ট্রাম্প রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী মাইক রজার্সসহ দলের অন্য প্রার্থীদের জন্য ভোট চান। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, তা নির্ধারণে মিশিগানের ফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।ট্রাম্প ও ওবামার মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ দীর্ঘদিনের। এবারের প্রচারেও তাঁরা একে অপরকে আক্রমণ করেছেন। ট্রাম্প ওবামাকে ব্যর্থ ও অযোগ্য বলে সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আল-সাইয়েদকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরেন।অন্যদিকে, ওবামা বলেন, কারও নাম ও ধর্মকে ব্যবহার করে তাঁকে কম দেশপ্রেমিক বা কম আমেরিকান হিসেবে তুলে ধরার কৌশল নতুন নয়। তাঁর বক্তব্যে নির্বাচনী প্রচারে পরিচয় ও ধর্মকে কেন্দ্র করে বিভাজন তৈরির রাজনীতির সমালোচনা উঠে আসে। নিজের অভিজ্ঞতার দিকে ইঙ্গিত করে ওবামা বললেন, ‘এই সিনেমা আমরা আগেও দেখেছি। আমিও তাতে অভিনয় করেছি।’ তাঁর বক্তব্যের মর্মার্থ স্পষ্ট: একসময় তাঁর জন্মপরিচয় নিয়ে অপপ্রচার চালানো হয়েছিল; এখন আল-সাইয়েদের নাম ও মুসলিম পরিচয়কে একইভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। পোর্ট হুরনের সভায় ট্রাম্প সরাসরি আল-সাইয়েদের ধর্মীয় পরিচয়কে আক্রমণের লক্ষ্য করেন। কোনো প্রমাণ ছাড়াই তাঁকে জিহাদি ও মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য হিসেবে অভিহিত করেন। আল-সাইয়েদ এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। মিশিগানেই জন্ম নেওয়া এই প্রার্থীর তাঁর দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলারও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ট্রাম্পের বক্তব্যে ভয়ের আরেকটি উপাদান ছিল ক্রিসমাস। তিনি দাবি করেন, আল-সাইয়েদ ও ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রে জিহাদিদের ঢল নামবে এবং সহিংসতা ও সন্ত্রাসের ফলে পরিস্থিতি এমন হবে যে মানুষ ক্রিসমাসও উদ্‌যাপন করতে পারবে না। তাঁর কথায় ধর্মীয় পরিচয়কে নির্বাচনী আতঙ্কে পরিণত করার চেষ্টা কোনো রাখঢাক ছাড়াই প্রকাশ পেয়েছে। অন্যদিকে ডেট্রয়েটে ওবামা সামনে আনলেন ভিন্ন এক ছবি। মিশিগানের বর্তমান সিনেটর এলিসা স্লটকিন ইহুদি। তাঁর পাশে আল-সাইয়েদের মতো একজন মুসলিম সিনেটর থাকলে অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধিত্বে একটি শক্তিশালী জুটি তৈরি হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একজন মুসলিম পুরুষ ও একজন ইহুদি নারী একই অঙ্গরাজ্যের মানুষের স্বার্থে কাজ করবেন—বিভক্তির রাজনীতির বিপরীতে এই সম্ভাবনাই তুলে ধরলেন ওবামা। অর্থনীতি নিয়েও দুই নেতার বক্তব্য বিপরীতমুখী। ট্রাম্প তাঁর শুল্কনীতি ও প্রশাসনের সাফল্যের পক্ষে সাফাই গাইলেন। ওবামা সামনে আনলেন কীভাবে জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়, জ্বালানির দাম এবং আমদানি শুল্কের কারণে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাম্পের শাসনকালকে তিনি বর্ণনা করেন বিশৃঙ্খলা, নিষ্ঠুরতা ও দুর্নীতির সময় হিসেবে। তাঁর আহ্বান, এই নির্বাচনে ভোট দিয়ে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তনের দাবি জানাতে হবে। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে হলে ডেমোক্র্যাটদের মিশিগানের আসনটি ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্স পুনর্নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। ফলে তাঁর উত্তরসূরি নির্বাচনের এই প্রতিযোগিতায় দুই দলই সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে। তবে ওবামার সমর্থন পেলেই আল-সাইয়েদের জয় নিশ্চিত হয়ে যায় না। ম্যারিস্টের ১৫-১৮ অক্টোবরের জরিপে সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে তাঁর সমর্থন ৫০ শতাংশ, রজার্সের ৪৮ শতাংশ। ২ শতাংশ পয়েন্টের এই ব্যবধান জরিপের ত্রুটিসীমার বা মার্জিন অব এররসের মধ্যে। অর্থাৎ লড়াই এখনো অনিশ্চিত; শেষ পর্যন্ত কার সমর্থকেরা বেশি সংখ্যায় ভোট দিতে আসেন, সেটিই বড় প্রশ্ন। এই লড়াইয়ের আরেকটি বড় উপাদান অর্থ। আল-সাইয়েদের বিরুদ্ধে রিপাবলিকানপন্থী বাইরের সংগঠনগুলো বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। ইসরায়েলপন্থী লবিং সংগঠন আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি বা আইপ্যাকও আল-সাইয়েদের বিপক্ষে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয়ের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে। এর আগে বাছাই পর্বে তাঁকে ঠেকাতে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৭ কোটি ডলার। তবে এই অর্থের লড়াইকে শুধু ‘ইহুদি লবি’র তৎপরতা বলা যথাযথ হবে না। ট্রাম্পের ‘মাগা’ আন্দোলনের অনেক বড় খেলোয়াড়ই কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে হাত খুলে অর্থ খরচ করছেন। এক ইলন মাস্কের পকেট থেকেই প্রায় ৪০ কোটি ডলার আসছে বলে নানা সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, যার একটা বড় অংশ ব্যয় হবে মিশিগান ও টেক্সাসে। আল-সাইয়েদের পাশে আর্থিক সহায়তা নিয়ে দাঁড়িয়েছেন প্রগতিশীল নেতারাও। কংগ্রেস সদস্য আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেস তাঁর সমর্থনে একটি যৌথ তহবিলে ১০ লাখ ডলার দিয়েছেন। সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সও নিজের নির্বাচনী তহবিল থেকে তাঁর সমর্থনে ১০ লাখ ডলার সহায়তা দিয়েছেন। এটি সভায় হাতে তুলে দেওয়া নগদ উপহার নয়; নির্বাচনী লড়াইয়ে সহায়তার জন্য তহবিলের অর্থ। আল-সাইয়েদ নিজেও তাঁর সমর্থকদের মাত্র এক ডলার করে চাঁদা দেওয়ার অনুরোধ করেছেন। মিশিগানে ওবামার উপস্থিতির সবচেয়ে বড় সম্ভাব্য সুফল অবশ্য অর্থ নয়, ভোটারদের উৎসাহ। দলের পরিচিত মুখ হিসেবে তিনি অনাগ্রহী সমর্থকদের, বিশেষত আফ্রিকান-আমেরিকানদের ভোটকেন্দ্রে টানতে এবং দলের ভেতরের দূরত্ব কমাতে সাহায্য করতে পারেন। কিন্তু জনসভার উচ্ছ্বাস আর ব্যালট বাক্সের ভোট এক নয়। ওবামা মঞ্চে আলো ফেলেছেন; সেই আলো কত মানুষকে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে দেয়, উত্তর মিলবে ৩ নভেম্বর।

মিশিগানে ভোটের লড়াইয়ে ওবামা ও ট্রাম্প

ট্রাম্পের প্রচারে নিল ইয়ংয়ের গান, গড়াল আদালত পর্যন্ত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক অ্যাকশন কমিটি ‘ট্রাম্প ৪৭ কমিটি ইনকরপোরেটেড’-এর বিরুদ্ধে ১ কোটি ডলারের মামলা করেছেন সংগীতশিল্পী নিল ইয়ং। সোমবার (২৬ অক্টোবর) করা মামলায় তাঁর অভিযোগ, মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচার সমাবেশে ট্রাম্পের মঞ্চে প্রবেশের সময় অনুমতি ছাড়াই বারবার তাঁর ‘রকিন’ ইন দ্য ফ্রি ওয়ার্ল্ড’ (Rockin’ in the Free World) গানটি বাজানো হয়েছে। এতে কপিরাইট আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।অনুমতি ছাড়া ট্রাম্পের প্রচারে নিজের গান ব্যবহারের অভিযোগে এটি নিল ইয়ংয়ের দ্বিতীয় মামলা। এর আগে ২০২০ সালেও একই ধরনের অভিযোগে মামলা করেছিলেন তিনি। পরে সেই মামলার নিষ্পত্তি হয়। তবে নতুন মামলায় ইয়ংয়ের দাবি, আগের সমঝোতার শর্ত ভেঙে আবারও তাঁর গান ব্যবহার করা হচ্ছে।নিল ইয়ংয়ের মতে, গানটির বক্তব্য ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ১৯৮৯ সালে প্রকাশিত এই গানটি মূলত একটি প্রতিবাদী সংগীত। এতে মার্কিন রাজনীতির প্রতিশ্রুতির সঙ্গে দরিদ্র, গৃহহীন ও সমাজের অবহেলিত মানুষের বাস্তব জীবনের পার্থক্য তুলে ধরা হয়েছে। মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, গানটির কথায় রাস্তায় বেঁচে থাকা মানুষের জীবনের করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে। মামলায় আরও বলা হয়েছে, ‘সংক্ষেপে, গানটি ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প যা কিছুর প্রতিনিধিত্ব করেন, তার সম্পূর্ণ বিপরীত।’ ভ্যারাইটি জানিয়েছে, সোমবার ভার্জিনিয়ার ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের মার্কিন জেলা আদালতে ট্রাম্প ৪৭ কমিটির বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন ইয়ং। মামলায় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১২ অক্টোবর ওহাইওর ইয়ংস্টাউনে ট্রাম্পের নির্বাচনী সমাবেশে গানটি বাজানো হয়েছিল। পাশাপাশি অভিযোগ করা হয়েছে, আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পক্ষে ভোট উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে আয়োজিত অন্যান্য সমাবেশেও গানটির রেকর্ডিং ‘অসংখ্যবার’ বাজানো হয়েছে। ইয়ংয়ের আইনজীবীরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জনসমক্ষে গানটির আরও ব্যবহার বন্ধে আদালতের নিষেধাজ্ঞা চেয়েছেন। পাশাপাশি ইতিমধ্যে গানটি ব্যবহারের জন্য ১ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণও দাবি করেছেন তাঁরা। মামলায় বলা হয়েছে, ‘ট্রাম্প এখন এবং চলতি বছরের সব সমাবেশের সময় ব্যক্তিগতভাবে জানতেন যে সমাবেশে গানটি বাজানোর জন্য লাইসেন্স প্রয়োজন। তিনি এটাও জানতেন যে ইয়ং সেই প্রয়োজনীয় লাইসেন্স দেননি এবং দিতেও রাজি হবেন না।’ সূত্র: ভ্যারাইটি

ট্রাম্পের প্রচারে নিল ইয়ংয়ের গান, গড়াল আদালত পর্যন্ত

ট্রাম্পের সবুজ সংকেত পেলে ৯৬ ঘণ্টার মধ্যেই ইরানে হামলা, প্রস্তুত মার্কিন বাহিনী

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশ পেলেই ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালাতে প্রস্তুত দেশটির মধ্যপ্রাচ্যে থাকা বাহিনী। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন দেশটির সামরিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য হামলার জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক শক্তি ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।এবার হামলা হলে ইরানের রাডার, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকেন্দ্র ও সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানা হতে পারে। এর বাইরে দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক কেন্দ্রও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, ‘এটি বড় ধরনের অভিযান হবে।’ সংশ্লিষ্ট বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তার ধারণা, ট্রাম্প সামরিক অভিযানের অনুমোদন দেবেন কি না, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—কবে তিনি সেই নির্দেশ দেবেন। তাদের ধারণা, চলতি বছরের শেষ হওয়ার আগেই অভিযান শুরুর নির্দেশ আসতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর এ সম্ভাবনা বেশি। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, ইরানের সামরিক বাহিনী এখন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধকৌশল সম্পর্কে আগের চেয়ে বেশি জানে। ফলে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুগুলো পুরোপুরি ধ্বংস করা মার্কিন বাহিনীর জন্য কঠিন হতে পারে। তা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড ও পেন্টাগন বিস্তৃত লক্ষ্যবস্তুর তালিকা তৈরি করছে। ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। তবে তিনি বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের দিকে ঝুঁকছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। যদিও অতীতেও তাকে কোনো পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়ে পরে শেষ মুহূর্তে সরে আসতে দেখা গেছে। এদিকে সাম্প্রতিক মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়ন বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল নতুন করে হামলা চালালে ইরান এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা পাল্টা আঘাত হানতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা ও স্থাপনা ছাড়াও অন্য অঞ্চলে হামলার আশঙ্কা রয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরান মার্কিন কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করার প্রচেষ্টা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যসহ কয়েকটি দেশে হামলার পরিকল্পনা উন্নত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলেও জানানো হয়েছে। সম্ভাব্য উত্তেজনা মোকাবিলায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন দূতাবাস থেকে কর্মী সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতিও চলছে। সৌদি আরবের রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসের কর্মীদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্য দূতাবাসগুলোতেও একই ধরনের নির্দেশ আসতে পারে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে পাঠানোর কথা ছিল, এমন কিছু অপ্রয়োজনীয় মার্কিন সামরিক কর্মীর মোতায়েনও স্থগিত করা হয়েছে।

ট্রাম্পের সবুজ সংকেত পেলে ৯৬ ঘণ্টার মধ্যেই ইরানে হামলা, প্রস্তুত মার্কিন বাহিনী

মার্কিন নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ৪৪ কোটি ডলার দিলেন ইলন মাস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ও দলটির সমর্থিত রাজনৈতিক সংগঠনগুলোকে প্রায় ৪৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৫ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচন সামনে রেখে মাস্কের বিপুল অর্থ সহায়তা মার্কিন রাজনীতিতে ধনকুবেরদের প্রভাব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফোর্বসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অক্টোবরের প্রথম দুই সপ্তাহে মাস্ক তার সমর্থিত রাজনৈতিক সংগঠন ‘আমেরিকা পিএসসি’কে ৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার দিয়েছেন। এর মধ্যে ৬ থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত সরাসরি অনুদান ছিল ৭ কোটি ৪৮ লাখ ডলার। এ ছাড়া তার মালিকানাধীন ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা ইনকরপোরেশনের মাধ্যমে আরও প্রায় ১৯ লাখ ৮০ হাজার ডলার এসেছে। সব মিলিয়ে চলতি মধ্যবর্তী নির্বাচনে মাস্কের রাজনৈতিক অনুদানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৪ কোটি ৩০ লাখ ডলারে।নির্বাচনী অর্থায়নসংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পক্ষে সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত অর্থদাতা ইলন মাস্ক। তার এই বিপুল অর্থ ব্যয়ের প্রধান উদ্দেশ্য হলো কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে সহায়তা করা। তবে নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর পেছনে অতি ধনীদের বিপুল অর্থ ব্যয় মার্কিন রাজনীতিতে অর্থের প্রভাব ও ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন প্রেসিডেন্টের চার বছরের মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে অনুষ্ঠিত হয়। এবারের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের সব আসন এবং সিনেটের এক-তৃতীয়াংশ আসনে ভোট হবে। নির্বাচনের ফলাফল কী হয়, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের নীতিমালা বাস্তবায়ন ও কংগ্রেসে তার রাজনৈতিক অবস্থানে এর বড় প্রভাব পড়তে পারে। মাস্কের অর্থায়নের অন্যতম লক্ষ্য টেক্সাসের সিনেট নির্বাচন। ফোর্বসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেক্সাসে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকোর বিরুদ্ধে প্রচারে আমেরিকা পিএসি প্রায় ২ কোটি ৭৯ লাখ ডলার ব্যয় করেছে। একই সঙ্গে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনকে সমর্থনে ব্যয় করেছে আরও ৪৮ লাখ ডলার। এ ছাড়া ওহাইও, মিশিগান, আইওয়া ও মেইনের নির্বাচনেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের বিরুদ্ধে প্রচারে অর্থ ব্যয় করেছে সংগঠনটি। ইলন মাস্কের এই অর্থায়ন কেবল বিজ্ঞাপন প্রচারে সীমাবদ্ধ নয়। ভোটারদের কাছে প্রচারসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ ও এমনকি ভোট দিতে উৎসাহিত করার কার্যক্রমেও অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। ফলে নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে রিপাবলিকানদের মাঠপর্যায়ের প্রচার জোরদার করতে তার অর্থ বড় ভূমিকা রাখতে পারে। মাস্কের অর্থায়ন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও বাড়ছে। টেক্সাসের ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকো অভিযোগ করেছেন, ইলন মাস্ক এই রাজ্যের সিনেট আসন নিজের নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন। তার বক্তব্য, এমন অতি ধনী ব্যক্তির বিপুল অর্থ ব্যয়ের কারণে রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সাধারণ ভোটারদের প্রভাব খর্ব হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বাস্তবতা হলো, এবার মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইলন মাস্ক যে ব্যয় করছেন, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও অতটা করেননি। ফোর্বসের হিসাবে, ২০২৪ সালের নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও অন্যান্য রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনে মাস্ক প্রায় ২৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার ব্যয় করেছিলেন। এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তার অনুদান ইতিমধ্যে সেই অঙ্কের চেয়ে অনেক বেশি। ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে–পরে ট্রাম্পের সঙ্গে মাস্কের দারুণ ঘনিষ্ঠতা ছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে মাস্ক প্রশাসনে যুক্ত হওয়ার পর তাঁদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। একপর্যায়ে ইলন মাস্ক প্রশাসন থেকে সরে আসেন। তবে এখনো সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন চুক্তিতে কাজ করছে মাস্কের কোম্পানিগুলো। এ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও আছে। ডেমোক্র্যাটদের একাংশ মাস্কের সরকারি কার্যক্রম ও তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের সরকারি চুক্তি নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছে। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচন শুধু কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণের লড়াই নয়। মার্কিন রাজনীতিতে অতি ধনীদের প্রভাব কতটা বিস্তৃত হতে পারে, সেটাও এই নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।

মার্কিন নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ৪৪ কোটি ডলার দিলেন ইলন মাস্ক

ইরানে হামলা নিয়ে নেতানিয়াহু-ট্রাম্পের মতভেদ

চলতি মাসের শুরুতে ইরানে সামরিক হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু করতে রাজি হননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের (এফটি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।প্রতিবেদনে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, গত ১০ অক্টোবরের সপ্তাহান্তে ইরানে হামলা চালানোর জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় ছিল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, শাসকগোষ্ঠীর গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর, জ্বালানি কেন্দ্র এবং বেসামরিক অবকাঠামো।তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সূত্রগুলো জানায়, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ বা সংঘাত এড়াতে চেয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ কারণে ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর বিষয়ে তিনি সম্মতি দেননি। সূত্রগুলো আরও দাবি করেছে, এই পরিকল্পিত হামলাগুলো যদি বাস্তবায়িত হতো, তবে তা গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর পরিচালিত যৌথ হামলার চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী ও তীব্র হতো। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরায়েলের এই সম্ভাব্য হামলায় যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যোগ দিত কি না- তা স্পষ্ট নয়। তবে এক সূত্র পত্রিকাটিকে জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহগুলোতে পুনরায় এই হামলা শুরু হওয়ার বিষয়টি একেবারেই ‘অযৌক্তিক কোনও দৃশ্যপট বা অনুমান নয়’। এক সূত্রের তথ্যমতে, অতীতে যেসব বেসামরিক অবকাঠামো স্পর্শ করা হয়নি, সেগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করে ইসরায়েল এবার তাদের হামলার লক্ষ্যের নতুন তালিকা প্রস্তুত করেছে। অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, চলতি মাসের শুরুতে আইডিএফ-এর পরিকল্পিত হামলার এই উদ্যোগ আলোচনার একটি কৌশল বা কৌশলগত চালও হতে পারে। তবে যুদ্ধ বা লড়াই পুনরায় শুরু করার যেকোনও সিদ্ধান্ত মূলত ট্রাম্পের ওপরই নির্ভর করছে। বিষয়টি নিয়ে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে কোনও মন্তব্য করা হয়নি বলে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সম্প্রতি গোপনে ইসরায়েল সফর করেন এবং ‘অঞ্চলের হুমকি’ নিয়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন। তার ওই গোপন সফরের ঠিক দুদিনের মাথায় এই চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট প্রকাশ পেলো। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নেতানিয়াহুর হামলা চালানোর জন্য চাপ দেওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে গত ৯ অক্টোবর ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ওয়াশিংটন ইরানে কোনও হামলা চালাবে না। ট্রাম্পের এই বক্তব্যের কয়েকদিন আগেই খবর বেরিয়েছিল, আইডিএফ প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির তার মার্কিন সমকক্ষদের জানিয়েছেন— এ ধরনের হামলার কারণে আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচন পিছিয়ে যেতে পারে। জেরুজালেমের অনুমান, মার্কিন হামলা হলে ইরান ইসরায়েলে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণের মাধ্যমে এর জবাব দিতে পারে। ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ গত সপ্তাহে জানিয়েছিল, নেতানিয়াহু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে আহ্বান জানিয়েছিলেন যাতে আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলের নির্বাচন এবং ৩ নভেম্বর মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ জোরদার করা হয়।  সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

ইরানে হামলা নিয়ে নেতানিয়াহু-ট্রাম্পের মতভেদ

নেতানিয়াহুর পুনর্নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন ভ্যান্স

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পুনর্নির্বাচনে সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে সরাসরি কিছু বলতে চাননি। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নেতানিয়াহুর প্রতি নিজের পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছিলেন।মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বিমান এয়ার ফোর্স টুতে সাংবাদিক মার্ক হ্যালপারিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, তিনি শুধু যুক্তরাষ্ট্রের প্রার্থীদেরই সমর্থন করেন। বর্তমানে তার মূল মনোযোগ দেশটির মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে। ইসরায়েলের নির্বাচনে তিনি কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করতে চান না। তবে ভ্যান্স এর আগে ট্রাম্পের সমর্থনপুষ্ট ভিক্টর অরবানকে নির্বাচন উপলক্ষ্যে সমর্থন জানাতে হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে গিয়েছিলেন, যদিও ওই নির্বাচনে দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী অরবান হেরে যান। নেতানিয়াহুকে সমর্থন করা বা না করার প্রশ্নে ভ্যান্স বলেন, তিনি এর কোনো পক্ষেই নেই। তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমি তাঁর বিরুদ্ধে সমর্থন দিচ্ছি না, আবার তাঁর পক্ষেও সমর্থন দিচ্ছি না। আমি শুধু ইসরায়েলের নির্বাচন থেকে নিজেকে দূরে রাখছি।’ এর আগে ট্রাম্প নিজেও নেতানিয়াহুকে সমর্থন দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন। চলতি মাসের শুরুর দিকে মার্কিন সাময়িকী টাইমকে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আমি আর ইসরায়েলের রাজনীতির মধ্যে নেই।’ কিন্তু গত শনিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বার্তায় ট্রাম্পের অবস্থান বদলে যায়। তিনি নেতানিয়াহুকে ‘একজন মহান যোদ্ধা প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে বর্ণনা করে তার পক্ষে পূর্ণ সমর্থনের ঘোষণা দেন। ইসরায়েল নির্বাচনের ঠিক কয়েক দিন আগে নেতানিয়াহুকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের অবস্থান থেকে ভ্যান্সের এই সরে আসা বা ভিন্নমত সামনে এল। একই সময়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এক পূর্বঘোষণা ছাড়াই ইসরায়েল সফর করেন বলে দুজন নির্ভরযোগ্য সূত্র ও একজন মার্কিন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি ইসরায়েলি সূত্র এবং অন্যান্য সূত্র থেকে জানা গেছে, হেগসেথ সোমবার সন্ধ্যায় নেতানিয়াহু এবং দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

নেতানিয়াহুর পুনর্নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন ভ্যান্স

ফ্রান্সের বিক্ষোভের পেছনে অভিবাসনকে দুষলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্রান্সজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সহিংস বিক্ষোভের জন্য অভিবাসনকে দায়ী করেছেন। যদিও অভিবাসন ইস্যুর সরাসরি কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি বিক্ষোভকারীদের মূল দাবির সঙ্গে। রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে দেখা যায় আগের রাতের সহিংসতার চিহ্ন। কোথাও পুড়ে যাওয়া ব্যারিকেড, কোথাও লুট হওয়া দোকান, আবার কোথাও আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত সরকারি স্থাপনা। এমন পরিস্থিতিতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ফ্রান্সকে নিয়ে কড়া মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি লেখেন, ‘ফ্রান্স জ্বলছে! সম্পূর্ণ ভিন্ন এক বিশ্বের মানুষ, যাদের হৃদয়ে ঘৃণা রয়েছে, তাদের অভিবাসন একসময়ের মহান দেশটিকে ধ্বংস করে দিয়েছে। অনেক দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই সীমান্ত বন্ধ করুন এবং পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নিন।’ ফ্রান্সে অস্থিরতার সূত্রপাত শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে। স্কুলে আরও শিক্ষক নিয়োগ এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করার দাবিতে তারা বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে এর সঙ্গে যুক্ত হন বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের সদস্য এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও জনসেবার মান নিয়ে উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ। মূলত উচ্চ মূল্যস্ফীতি, নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং সরকারি সেবার সংকটের প্রতিবাদে দেশজুড়ে এই বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, বিক্ষোভে অংশ নেন প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ। তবে শ্রমিক সংগঠন সিজিটি দাবি করেছে, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৮ লাখ। শুরুতে শান্তিপূর্ণভাবে চলা মিছিলের একপর্যায়ে বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট এবং সরকারি ভবনে হামলার ঘটনা ঘটে। তবে এসব সহিংসতা মূলত দেশজুড়ে চলা বিক্ষোভের ফাঁকে ফাঁকে সংঘটিত হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবিগুলো ছিল দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও জনসেবা নিশ্চিত করা—অভিবাসন বন্ধ করা নয়। সহিংসতায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর রোববারও পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যস্ত ছিল ফরাসি প্রশাসন। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, প্রায় ১ হাজার ৮০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।  এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি। রাজধানী প্যারিসে গ্রেফতারের সংখ্যা রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। শহরটিতে ৮৫৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।  ফ্রান্সের অস্থিরতা নিয়ে এর আগেও ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প। এর আগে এক নির্বাচনী সমাবেশে  তিনি ফ্রান্সের বিপ্লব ও দাঙ্গার ইতিহাস টেনে দেশটিতে যাওয়ার কথা রসিকতার ছলে বলেন। ট্রাম্প বলেন, ‘চলুন ফ্রান্সে যাই! জায়গাটা চমৎকার। সেখানে কোনো দাঙ্গা নেই, কোনো বিপ্লব নেই। অথচ বিপ্লবের জন্য ফ্রান্স যেন ভীষণ উপযুক্ত জায়গা। অবিশ্বাস্য! চলুন, ফ্রান্সে গিয়ে বিপ্লবে যোগ দিই।’ যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ফ্রান্সের সহিংসতার জন্য অভিবাসননীতিকে দায়ী করে মন্তব্য করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, ‘পশ্চিমা উদারপন্থিরা বৈচিত্র্য ও সহমর্মিতার নামে ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশে তৃতীয় বিশ্বের মানুষদের নিয়ে এসেছে। কিন্তু তারা এসব মানুষের সমাজে মিশে যাওয়া এবং সংস্কৃতিগত সামঞ্জস্যের মতো মৌলিক প্রশ্নগুলো উপেক্ষা করেছে।’ ভ্যান্স আরও বলেন, ‘তাদের আগেই সতর্ক করা হয়েছিল যে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, কিন্তু তারা শোনেনি। ফ্রান্স একটি সুন্দর দেশ, সেখানকার মানুষও অসাধারণ। আরও কোনো ঐতিহাসিক স্থাপনা পুড়ে যাওয়ার আগে দেশটি এই উন্মাদনা থামাতে পারবে বলে আমি প্রার্থনা করি।’

ফ্রান্সের বিক্ষোভের পেছনে অভিবাসনকে দুষলেন ট্রাম্প

মুসলিম বিশ্বে ‘মোহাম্মদ’ নামের প্রচলন নিয়ে ট্রাম্পের ব্যঙ্গ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মুসলিম বিশ্বে ‘মোহাম্মদ’ নামের ব্যাপক প্রচলন নিয়ে ব্যঙ্গ করে করেছেন। জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে এক নির্বাচনি সমাবেশে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ইরানের প্রেসিডেন্ট পদ নিয়ে কথা বলার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন। তবেউপস্থিত জনতার কাছ থেকে  ট্রাম্পের কৌতুক খুব একটা সাড়া পায়নি। শুক্রবার জর্জিয়ার ডালটন শহরে আয়োজিত এক নির্বাচনি সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের কারও নাম নিয়ে সন্দেহ হলে শুধু ‘মোহাম্মদ’ বলে ডাকুন। আপনার প্রায় ৬৫ শতাংশ সম্ভাবনা থাকবে ঠিক হওয়ার। বলুন, ‘হ্যালো, মোহাম্মদ’। আমি বছরের পর বছর ধরে এমনটা করে আসছি। কখনো ভুল হয়নি।’ মুসলিম বিশ্বে পুরুষদের অন্যতম প্রচলিত নাম মোহাম্মদ। ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নামের অনুসরণে বহু মুসলিম পরিবার তাদের ছেলেসন্তানের নাম এ নামে রাখেন।’ জর্জিয়ার ডালটন মিউনিসিপ্যাল বিমানবন্দরের একটি বিমানের হ্যাঙ্গারে আয়োজিত সমাবেশে ইরান প্রসঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার চালাতে সেখানে গিয়েছিলেন তিনি। ইরানের প্রেসিডেন্ট পদ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানই একমাত্র দেশ, যেখানে কেউ প্রেসিডেন্ট হতে চায় না।’ এরপর তিনি কয়েকজন ‘মোহাম্মদ’ নামের ব্যক্তিকে কাল্পনিকভাবে প্রশ্ন করার ভঙ্গি করেন—তারা ইরানের প্রেসিডেন্ট হতে চান কি না। ইরানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ২০২৪ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে ট্রাম্পের এই ঠাট্টায় সমাবেশে উপস্থিত জনতার প্রতিক্রিয়া ছিল অনেকটাই ম্লান। ট্রাম্পের বক্তব্য নিয়ে অতীতেও সমালোচনা করেছেন মানবাধিকারকর্মী ও মুসলিম অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন। তাদের অভিযোগ, ট্রাম্পের বক্তব্যে মুসলিম, অভিবাসী ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয় এবং তাদের নিয়ে বিদ্রূপ করা হয়। মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচার চলাকালে ট্রাম্প এ ধরনের বক্তব্য আরও জোরালো করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে সোমালি বংশোদ্ভূত ও মুসলিম মার্কিন নাগরিকদের নিয়ে তার মন্তব্য সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এ তালিকায় রয়েছেন মুসলিম ডেমোক্র্যাট সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ এবং মিনেসোটার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ইলহান ওমর। সোমালিয়ার শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসা ইলহান ওমর দেশটির কংগ্রেসের একজন সদস্য। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর) চলতি বছরের শুরুর দিকে প্রকাশিত এক বার্ষিক প্রতিবেদনে দেশটিতে ইসলামবিদ্বেষ বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরে। প্রতিবেদনটিতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসনবিরোধী কঠোর পদক্ষেপ এবং ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভ দমনের উদ্যোগকে যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামবিদ্বেষ বৃদ্ধির পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

মুসলিম বিশ্বে ‘মোহাম্মদ’ নামের প্রচলন নিয়ে ট্রাম্পের ব্যঙ্গ

রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে মাস্কের কোটি কোটি ডলার ব্যয়

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার প্রচেষ্টায় জুলাইয়ের পর থেকে ২৭৬ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। এতে চলতি নির্বাচনী চক্রে তার মোট রাজনৈতিক অনুদানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৬৬ মিলিয়ন ডলারে। তবে বিপুল অর্থ ব্যয় সত্ত্বেও প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে ডেমোক্র্যাটদের।নির্বাচনী অর্থায়নের নথি থেকে মাস্কের এই ব্যয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। এর আগে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল নিউইয়র্ক টাইমস। চলতি নির্বাচনী চক্রে এখন পর্যন্ত একক ব্যক্তি হিসেবে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয়কারী রাজনৈতিক দাতা হিসেবে উঠে এসেছে তার নাম।এদিকে, স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী হিসেবে মাস্কের পাওয়া সরকারি চুক্তি এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে সরকারি দক্ষতা বিভাগ (ডিওজিই) পরিচালনার ভূমিকা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা। এতে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ব্যবসায়িক স্বার্থ নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মাস্কের সুপার প্যাক আমেরিকা প্যাকের একজন মুখপাত্র তাঁর রাজনৈতিক ব্যয়ের হিসাব নিশ্চিত করেছেন। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি শুরু হওয়া নির্বাচনী চক্রে জুলাইয়ের পর থেকে দেওয়া ২৭৬ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে ১৫৮ মিলিয়ন ডলার পেয়েছে সিনেট লিডারশিপ ফান্ড। সিনেটে রিপাবলিকানদের নির্বাচনী জয়ে সহায়তার লক্ষ্যে গঠিত এই সুপার প্যাকটি সাউথ ডাকোটার রিপাবলিকান সিনেটর ও সিনেট মেজরিটি লিডার জন থুনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকানদের সহায়তায় গঠিত কংগ্রেশনাল লিডারশিপ ফান্ড পেয়েছে ২০ মিলিয়ন ডলার। এটি লুইজিয়ানার রিপাবলিকান ও প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এ ছাড়া মাস্কের নিজস্ব আমেরিকা প্যাক পেয়েছে ৭৬ মিলিয়ন ডলার। টেক্সাসে রিপাবলিকান অঙ্গরাজ্য অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনের মার্কিন সিনেট নির্বাচনের প্রচেষ্টাকে সমর্থনকারী লোন স্টার লিবার্টি প্যাক পেয়েছে ১০ মিলিয়ন ডলার। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকোর সঙ্গে প্যাক্সটনের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া রিপাবলিকান গভর্নরস অ্যাসোসিয়েশনকে ১০ মিলিয়ন এবং রিপাবলিকান অ্যাটর্নি জেনারেলস অ্যাসোসিয়েশনকে ২ মিলিয়ন ডলার দিয়েছেন মাস্ক। আমেরিকা প্যাক সাতটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী অঙ্গরাজ্য এবং প্রতিনিধি পরিষদের প্রায় তিন ডজন আসনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সহায়তা করছে। বৃহস্পতিবার অনেক সুপার প্যাকের তৃতীয় প্রান্তিকের ব্যয়ের হিসাব প্রকাশের বাধ্যবাধকতা থাকায় মাস্কের নতুন অনুদানের তথ্যও জনসমক্ষে আসবে। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দাতাদের পরিচয় প্রকাশ করে না—এমন বিভিন্ন গোষ্ঠীর মাধ্যমেও অর্থ দিয়েছেন মাস্ক। আমেরিকা প্যাকের মুখপাত্রের ভাষ্য, চলতি নির্বাচনী চক্রে ব্যয় করা প্রায় ৯০ মিলিয়ন ডলারের একটি অংশ আগের নির্বাচনের কার্যক্রম বা অন্যান্য উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে উইসকনসিন সুপ্রিম কোর্টের এক ব্যর্থ প্রার্থীর জন্য সহায়তা এবং বিতর্কিত একটি কর্মসূচি রয়েছে। ওই কর্মসূচিতে বাক্‌স্বাধীনতা ও বন্দুক রাখার অধিকারের সমর্থনে পিটিশনে স্বাক্ষরকারী নিবন্ধিত ভোটারদের ১ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। এর আগের নির্বাচনী চক্রে, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়ের সময় মাস্ক প্রায় ২৯০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছিলেন। ওই নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস।

রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে মাস্কের কোটি কোটি ডলার ব্যয়

হুতিদের কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, বন্ধ রিয়াদ বিমানবন্দর

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবে একের পর এক হামলার ঘটনায় ইয়েমেনের ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, হুতিরা খুবই খারাপ আচরণ করছে। এদিকে হামলার কারণে সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম আগামী শনিবার পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হুতিদের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে— এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আসলে হুতিরা খুবই খারাপ আচরণ করছে। এটা মোটেও ভালো না।’ সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ ও দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশটির বেশ কয়েকটি বিমানবন্দরে ধারাবাহিক হামলার খবর পাওয়া গেছে। এসব হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। এর আগে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র যোগ দেবে কি না, তা বিবেচনার কথা জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি তিনি। রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত শনিবারের হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন। এরপর বিমানবন্দরটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরদিন রোববার সেখানে আরেক দফা হামলায় একজন নিহত ও ১১ জন আহত হন। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী শনিবার পর্যন্ত বিমানবন্দরটির কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। বিমানবন্দরের পাশাপাশি দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোতেও ধারাবাহিক হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে হুতিদের বিরুদ্ধে। হামলার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবগামী ফ্লাইট বাতিল করেছে একাধিক এয়ারলাইনস। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইতিহাদ এয়ারওয়েজ জানিয়েছে, আবুধাবি থেকে রিয়াদ, জেদ্দা ও দাম্মামগামী কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এয়ারলাইনটির ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, আবুধাবি থেকে রিয়াদগামী ফ্লাইট আগামী সোমবার (১৯ অক্টোবর) পর্যন্ত পরিচালিত হবে না। দাম্মামগামী মঙ্গলবার ও বুধবারের সব ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে। আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে রিয়াদ ও দাম্মামগামী ফ্লাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে কাতার এয়ারওয়েজ। গতকাল হালনাগাদ করা এক ভ্রমণ নির্দেশনায় এয়ারলাইনটি জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে সৌদি আরবের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যাত্রীদের ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করতে বলা হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে যেসব যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, তাঁদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা হবে বলেও জানিয়েছে এয়ারলাইনটি। এদিকে ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর তাইজে হুতিদের গোলাবর্ষণে পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম সাবা। আহতদের মধ্যে তিন শিশু রয়েছে। স্থানীয় চিকিৎসা সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, আহতদের চারজন একই পরিবারের সদস্য। তাঁদের মধ্যে ৪ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুও রয়েছে। আল-ধাহরা আবাসিক এলাকায় হামলায় তারা আহত হয়। এ ছাড়া বীর বাশা এলাকার কাছে গোলাবর্ষণের পৃথক ঘটনায় ৩০ বছর বয়সী এক নারী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সাবা।

হুতিদের কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, বন্ধ রিয়াদ বিমানবন্দর

ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা, বিস্তারিত জানেন না জেলেনস্কি

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রোববার (১১ অক্টোবর) দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, চুক্তির বিস্তারিত এখনো যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে জানতে পারেননি তিনি। এ বিষয়ে মস্কোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।  রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলা বন্ধে ট্রাম্পের কয়েক দিন ধরে চাপ প্রয়োগের পর এ ঘোষণা এলো। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম বাড়ার জন্য ইউক্রেনের এসব হামলাকে দায়ী করছেন ট্রাম্প। এছাড়া আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি তার রিপাবলিকান দলের জন্য রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে। রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ‘রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার যুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে একটি জ্বালানি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হচ্ছে। উভয়পক্ষ এতে সম্মত হয়েছে। এটি ভঙ্গ করবেন না!’ এর আগে শনিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ করার বিষয়ে কঠোর ভাষায় সতর্ক করেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইউক্রেনে নতুন করে নির্বাচন আয়োজন এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সমঝোতায় রাজি এমন নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ট্রাম্পের অভিযোগ, মস্কোর সঙ্গে সমঝোতার কয়েকটি সুযোগ হাতছাড়া করেছেন জেলেনস্কি। রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধে ইউক্রেনের ওপর যুক্তরাষ্ট্র চাপ বাড়িয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। সূত্রটির দাবি, হামলা বন্ধ না করলে ইউক্রেনের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় বন্ধ এবং অগ্রাধিকারভিত্তিক ইউক্রেনীয় চাহিদা তালিকা (পিইউআরএল) ব্যবস্থার আওতায় অস্ত্র সংগ্রহে সহায়তা বন্ধের হুমকি দিয়েছে ওয়াশিংটন। এর আগে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সূত্রটি আরও জানিয়েছে, ট্রাম্পের সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলছেন জেলেনস্কি। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা, বিস্তারিত জানেন না জেলেনস্কি

শিগগিরই শেষ হবে ইরান যুদ্ধ, কমবে তেলের দাম: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হবে বলে দাবি করেছেন। সেইসঙ্গে তিনি যুদ্ধ শেষ হলে বিশ্ববাজারে তেলের দামও দ্রুত কমে আসবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন। একই সঙ্গে ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র এরইমধ্যে ইরানের পরমাণু শক্তি ধ্বংস করে দিয়েছে। স্থানীয় সময় বুধবার (৭ অক্টোবর) ওয়াশিংটন থেকে টেক্সাসের সান আন্তোনিওতে রিপাবলিকানদের নি র্বাচনী সমাবেশে যোগ দিতে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমাদের যা করতে হবে, সেই দিক থেকে এটি একটি যুদ্ধ। ইরানকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করতে হবে আমাদের। আমরা তাদের পরমাণু শক্তি কেড়ে নিয়েছি। তাদের হাতে পরমাণু শক্তি থাকলে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো, যা আগে কখনও দেখেননি।’ ট্রাম্প আরও বলেন, ‘এই মুহূর্তে তাদের গোটা দেশ কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। যুদ্ধ খুব দ্রুত শেষ হবে। আর তা শেষ হলেই তেলের দাম হুড়মুড়িয়ে কমে যাবে।’ তবে যুদ্ধের অবসান নিয়ে ট্রাম্পের এই আশাবাদী মন্তব্যের মধ্যেই ইরানের পক্ষ থেকে পালটা বক্তব্য এসেছে। পাশাপাশি, ইরানের জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবিও প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরানের জ্বালানিমন্ত্রী মার্কিন যুদ্ধের চাপের কারণে পদত্যাগ করেছেন—ট্রাম্পের এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমে মোহাজেরানি। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে নিজের ব্যর্থতা আড়াল করার একটি নিষ্ফল প্রচেষ্টা বলে অভিহিত করেছেন তিনি। মোহাজেরানি বলেন, জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ দুর্বলতার লক্ষণ নয়। বরং এটি একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যে নমনীয়তার উদাহরণ। এর আগে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের জ্বালানিমন্ত্রী সদ্য পদত্যাগ করেছেন। তার দাবি অনুযায়ী, ওই মন্ত্রী তাকে বলেছিলেন, ‘আমাদের কোনও অর্থনীতি নেই, আমাদের কোনও তেল নেই, আমাদের কিছুই নেই।’ তবে ইরান সরকারের মুখপাত্র ট্রাম্পের এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত হননি। জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগকে যুদ্ধের চাপে ইরানের দুর্বল হয়ে পড়ার প্রমাণ হিসেবে দেখানোর প্রচেষ্টাও নাকচ করে দিয়েছেন তিনি। তথ্যসূত্র: দ্য ইকোনমিক টাইমস

শিগগিরই শেষ হবে ইরান যুদ্ধ, কমবে তেলের দাম: ট্রাম্প
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream