বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে মাস্কের কোটি কোটি ডলার ব্যয়

রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে মাস্কের কোটি কোটি ডলার ব্যয়

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার প্রচেষ্টায় জুলাইয়ের পর থেকে ২৭৬ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। এতে চলতি নির্বাচনী চক্রে তার মোট রাজনৈতিক অনুদানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৬৬ মিলিয়ন ডলারে। তবে বিপুল অর্থ ব্যয় সত্ত্বেও প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে ডেমোক্র্যাটদের।নির্বাচনী অর্থায়নের নথি থেকে মাস্কের এই ব্যয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। এর আগে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল নিউইয়র্ক টাইমস। চলতি নির্বাচনী চক্রে এখন পর্যন্ত একক ব্যক্তি হিসেবে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয়কারী রাজনৈতিক দাতা হিসেবে উঠে এসেছে তার নাম।এদিকে, স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী হিসেবে মাস্কের পাওয়া সরকারি চুক্তি এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে সরকারি দক্ষতা বিভাগ (ডিওজিই) পরিচালনার ভূমিকা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা। এতে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ব্যবসায়িক স্বার্থ নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মাস্কের সুপার প্যাক আমেরিকা প্যাকের একজন মুখপাত্র তাঁর রাজনৈতিক ব্যয়ের হিসাব নিশ্চিত করেছেন। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি শুরু হওয়া নির্বাচনী চক্রে জুলাইয়ের পর থেকে দেওয়া ২৭৬ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে ১৫৮ মিলিয়ন ডলার পেয়েছে সিনেট লিডারশিপ ফান্ড। সিনেটে রিপাবলিকানদের নির্বাচনী জয়ে সহায়তার লক্ষ্যে গঠিত এই সুপার প্যাকটি সাউথ ডাকোটার রিপাবলিকান সিনেটর ও সিনেট মেজরিটি লিডার জন থুনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকানদের সহায়তায় গঠিত কংগ্রেশনাল লিডারশিপ ফান্ড পেয়েছে ২০ মিলিয়ন ডলার। এটি লুইজিয়ানার রিপাবলিকান ও প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এ ছাড়া মাস্কের নিজস্ব আমেরিকা প্যাক পেয়েছে ৭৬ মিলিয়ন ডলার। টেক্সাসে রিপাবলিকান অঙ্গরাজ্য অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনের মার্কিন সিনেট নির্বাচনের প্রচেষ্টাকে সমর্থনকারী লোন স্টার লিবার্টি প্যাক পেয়েছে ১০ মিলিয়ন ডলার। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকোর সঙ্গে প্যাক্সটনের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া রিপাবলিকান গভর্নরস অ্যাসোসিয়েশনকে ১০ মিলিয়ন এবং রিপাবলিকান অ্যাটর্নি জেনারেলস অ্যাসোসিয়েশনকে ২ মিলিয়ন ডলার দিয়েছেন মাস্ক। আমেরিকা প্যাক সাতটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী অঙ্গরাজ্য এবং প্রতিনিধি পরিষদের প্রায় তিন ডজন আসনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সহায়তা করছে। বৃহস্পতিবার অনেক সুপার প্যাকের তৃতীয় প্রান্তিকের ব্যয়ের হিসাব প্রকাশের বাধ্যবাধকতা থাকায় মাস্কের নতুন অনুদানের তথ্যও জনসমক্ষে আসবে। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দাতাদের পরিচয় প্রকাশ করে না—এমন বিভিন্ন গোষ্ঠীর মাধ্যমেও অর্থ দিয়েছেন মাস্ক। আমেরিকা প্যাকের মুখপাত্রের ভাষ্য, চলতি নির্বাচনী চক্রে ব্যয় করা প্রায় ৯০ মিলিয়ন ডলারের একটি অংশ আগের নির্বাচনের কার্যক্রম বা অন্যান্য উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে উইসকনসিন সুপ্রিম কোর্টের এক ব্যর্থ প্রার্থীর জন্য সহায়তা এবং বিতর্কিত একটি কর্মসূচি রয়েছে। ওই কর্মসূচিতে বাক্‌স্বাধীনতা ও বন্দুক রাখার অধিকারের সমর্থনে পিটিশনে স্বাক্ষরকারী নিবন্ধিত ভোটারদের ১ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। এর আগের নির্বাচনী চক্রে, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়ের সময় মাস্ক প্রায় ২৯০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছিলেন। ওই নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস।

হুতিদের কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, বন্ধ রিয়াদ বিমানবন্দর

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবে একের পর এক হামলার ঘটনায় ইয়েমেনের ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, হুতিরা খুবই খারাপ আচরণ করছে। এদিকে হামলার কারণে সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম আগামী শনিবার পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হুতিদের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে— এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আসলে হুতিরা খুবই খারাপ আচরণ করছে। এটা মোটেও ভালো না।’ সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ ও দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশটির বেশ কয়েকটি বিমানবন্দরে ধারাবাহিক হামলার খবর পাওয়া গেছে। এসব হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। এর আগে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র যোগ দেবে কি না, তা বিবেচনার কথা জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি তিনি। রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত শনিবারের হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন। এরপর বিমানবন্দরটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরদিন রোববার সেখানে আরেক দফা হামলায় একজন নিহত ও ১১ জন আহত হন। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী শনিবার পর্যন্ত বিমানবন্দরটির কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। বিমানবন্দরের পাশাপাশি দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোতেও ধারাবাহিক হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে হুতিদের বিরুদ্ধে। হামলার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবগামী ফ্লাইট বাতিল করেছে একাধিক এয়ারলাইনস। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইতিহাদ এয়ারওয়েজ জানিয়েছে, আবুধাবি থেকে রিয়াদ, জেদ্দা ও দাম্মামগামী কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এয়ারলাইনটির ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, আবুধাবি থেকে রিয়াদগামী ফ্লাইট আগামী সোমবার (১৯ অক্টোবর) পর্যন্ত পরিচালিত হবে না। দাম্মামগামী মঙ্গলবার ও বুধবারের সব ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে। আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে রিয়াদ ও দাম্মামগামী ফ্লাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে কাতার এয়ারওয়েজ। গতকাল হালনাগাদ করা এক ভ্রমণ নির্দেশনায় এয়ারলাইনটি জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে সৌদি আরবের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যাত্রীদের ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করতে বলা হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে যেসব যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, তাঁদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা হবে বলেও জানিয়েছে এয়ারলাইনটি। এদিকে ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর তাইজে হুতিদের গোলাবর্ষণে পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম সাবা। আহতদের মধ্যে তিন শিশু রয়েছে। স্থানীয় চিকিৎসা সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, আহতদের চারজন একই পরিবারের সদস্য। তাঁদের মধ্যে ৪ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুও রয়েছে। আল-ধাহরা আবাসিক এলাকায় হামলায় তারা আহত হয়। এ ছাড়া বীর বাশা এলাকার কাছে গোলাবর্ষণের পৃথক ঘটনায় ৩০ বছর বয়সী এক নারী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সাবা।

হুতিদের কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, বন্ধ রিয়াদ বিমানবন্দর

ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা, বিস্তারিত জানেন না জেলেনস্কি

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রোববার (১১ অক্টোবর) দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, চুক্তির বিস্তারিত এখনো যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে জানতে পারেননি তিনি। এ বিষয়ে মস্কোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।  রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলা বন্ধে ট্রাম্পের কয়েক দিন ধরে চাপ প্রয়োগের পর এ ঘোষণা এলো। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম বাড়ার জন্য ইউক্রেনের এসব হামলাকে দায়ী করছেন ট্রাম্প। এছাড়া আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি তার রিপাবলিকান দলের জন্য রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে। রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ‘রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার যুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে একটি জ্বালানি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হচ্ছে। উভয়পক্ষ এতে সম্মত হয়েছে। এটি ভঙ্গ করবেন না!’ এর আগে শনিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ করার বিষয়ে কঠোর ভাষায় সতর্ক করেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইউক্রেনে নতুন করে নির্বাচন আয়োজন এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সমঝোতায় রাজি এমন নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ট্রাম্পের অভিযোগ, মস্কোর সঙ্গে সমঝোতার কয়েকটি সুযোগ হাতছাড়া করেছেন জেলেনস্কি। রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধে ইউক্রেনের ওপর যুক্তরাষ্ট্র চাপ বাড়িয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। সূত্রটির দাবি, হামলা বন্ধ না করলে ইউক্রেনের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় বন্ধ এবং অগ্রাধিকারভিত্তিক ইউক্রেনীয় চাহিদা তালিকা (পিইউআরএল) ব্যবস্থার আওতায় অস্ত্র সংগ্রহে সহায়তা বন্ধের হুমকি দিয়েছে ওয়াশিংটন। এর আগে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সূত্রটি আরও জানিয়েছে, ট্রাম্পের সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলছেন জেলেনস্কি। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা, বিস্তারিত জানেন না জেলেনস্কি

শিগগিরই শেষ হবে ইরান যুদ্ধ, কমবে তেলের দাম: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হবে বলে দাবি করেছেন। সেইসঙ্গে তিনি যুদ্ধ শেষ হলে বিশ্ববাজারে তেলের দামও দ্রুত কমে আসবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন। একই সঙ্গে ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র এরইমধ্যে ইরানের পরমাণু শক্তি ধ্বংস করে দিয়েছে। স্থানীয় সময় বুধবার (৭ অক্টোবর) ওয়াশিংটন থেকে টেক্সাসের সান আন্তোনিওতে রিপাবলিকানদের নি র্বাচনী সমাবেশে যোগ দিতে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমাদের যা করতে হবে, সেই দিক থেকে এটি একটি যুদ্ধ। ইরানকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করতে হবে আমাদের। আমরা তাদের পরমাণু শক্তি কেড়ে নিয়েছি। তাদের হাতে পরমাণু শক্তি থাকলে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো, যা আগে কখনও দেখেননি।’ ট্রাম্প আরও বলেন, ‘এই মুহূর্তে তাদের গোটা দেশ কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। যুদ্ধ খুব দ্রুত শেষ হবে। আর তা শেষ হলেই তেলের দাম হুড়মুড়িয়ে কমে যাবে।’ তবে যুদ্ধের অবসান নিয়ে ট্রাম্পের এই আশাবাদী মন্তব্যের মধ্যেই ইরানের পক্ষ থেকে পালটা বক্তব্য এসেছে। পাশাপাশি, ইরানের জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবিও প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরানের জ্বালানিমন্ত্রী মার্কিন যুদ্ধের চাপের কারণে পদত্যাগ করেছেন—ট্রাম্পের এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমে মোহাজেরানি। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে নিজের ব্যর্থতা আড়াল করার একটি নিষ্ফল প্রচেষ্টা বলে অভিহিত করেছেন তিনি। মোহাজেরানি বলেন, জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ দুর্বলতার লক্ষণ নয়। বরং এটি একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যে নমনীয়তার উদাহরণ। এর আগে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের জ্বালানিমন্ত্রী সদ্য পদত্যাগ করেছেন। তার দাবি অনুযায়ী, ওই মন্ত্রী তাকে বলেছিলেন, ‘আমাদের কোনও অর্থনীতি নেই, আমাদের কোনও তেল নেই, আমাদের কিছুই নেই।’ তবে ইরান সরকারের মুখপাত্র ট্রাম্পের এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত হননি। জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগকে যুদ্ধের চাপে ইরানের দুর্বল হয়ে পড়ার প্রমাণ হিসেবে দেখানোর প্রচেষ্টাও নাকচ করে দিয়েছেন তিনি। তথ্যসূত্র: দ্য ইকোনমিক টাইমস

শিগগিরই শেষ হবে ইরান যুদ্ধ, কমবে তেলের দাম: ট্রাম্প

জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, রুশ ডিজেল কেনা নিয়ে ট্রাম্পকে ঘিরে বিতর্ক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির ডেমোক্র্যাটরা জ্বালানির ক্রমবর্ধমান দাম এবং রুশ ডিজেল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন। এ খবর কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে। কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যদের এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি গ্রেগরি মিকস পেট্রল ও ডিজেলের দাম বাড়ার জন্য ইরান যুদ্ধকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, তার বিপর্যয়কর ইরান যুদ্ধ গ্যাস ও ডিজেলের দাম আকাশচুম্বী করেছে এবং আমেরিকানরা এর মূল্য দিচ্ছেন। শুক্রবার ট্রাম্পের রুশ জ্বালানি কেনার ঘোষণারও সমালোচনা করেন মিকস। তার ভাষ্য, রুশ জ্বালানির ক্রেতাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আইনে প্রেসিডেন্ট সই করার কয়েক সপ্তাহের মাথায় এ ঘোষণা এল। মিকস বলেন, আমি এই নীতি উল্টে ফেলার নিন্দা জানাই। ইউক্রেনে আগ্রাসনের জন্য পুতিনের ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির বদলে ট্রাম্প তাকে তোষণ করেই যাচ্ছেন। এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, রাশিয়া অবিলম্বে ৩ লাখ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে। নভেম্বর ও তার পরে আরও চালান পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, রুশ ডিজেল কেনা নিয়ে ট্রাম্পকে ঘিরে বিতর্ক

‘২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার আমারই পাওয়া উচিত’: ট্রাম্প

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার তারই পাওয়া উচিত। এমনটাই বলেছেন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানো এবং ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে এখনও ব্যর্থ হওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে তিনি নিজেই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। ওভাল অফিসে বুধবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘তারা কী সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে, আমি জানি না’। আগামী শুক্রবার ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি ঘোষণা করবে। ট্রাম্প বলেন, নোবেল কমিটির ‘আমার মতো মানুষকে’ পুরস্কার না দেওয়ার ব্যাপারে তাদের একটি পরিচিতি বা সুনাম রয়েছে। গত বছর দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকেই বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার তার প্রাপ্য বলে বারবার দাবি করে আসছেন ট্রাম্প। ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখন সেই সময় এসেছে’। তবে গতবার প্রাপক নিজেই এটিকে পরোক্ষভাবে আমাকে দেওয়ায় আমি অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করেছিলাম, যিনি বলেছিলেন যে ইতিহাসে অন্য কেউ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চেয়ে এর বেশি যোগ্য নয়। ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া করিনা মাচাদো ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদকটি জানুয়ারিতে ট্রাম্পকে দেন। ভেনেজুয়েলায় নিজের প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, গত জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর আটটি সংঘাতে হস্তক্ষেপ করার কারণে নোবেল শান্তি পুরস্কার তার পাওয়া উচিত। কম্বোডিয়া, ইসরায়েল ও পাকিস্তানের নেতারা ট্রাম্পকে পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তবে এসব মনোনয়নের বিষয়টি যাচাই করার কোনও উপায় নেই। ট্রাম্প যেসব সংঘাত সমাধানের দাবি করেছেন, সেগুলোর কয়েকটির পক্ষ তার কূটনৈতিক ভূমিকা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। এর মধ্যে কিছু অঞ্চলে আবারও সংঘাত শুরু হয়েছে। ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো এবং কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড সীমান্তের পরিস্থিতিও এর মধ্যে রয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানও ঘটাতে পারেননি ট্রাম্প। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই যুদ্ধটি শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। এদিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর সাত মাস ধরে চলা সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে এবং গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। প্রসঙ্গত এ বছর নোবেল শান্তি পুরস্কারের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন পোপ লিও, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক।

‘২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার আমারই পাওয়া উচিত’: ট্রাম্প

এআই সামলাতে ট্রাম্পের ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স’

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে কাজ করার জন্য এক নতুন টাস্কফোর্স গঠন করেছেন বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন। বাহিনীর নাম হবে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স।’ এর নেতৃত্ব দেবেন ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক জে ক্লেটন। স্থানীয় সময় গতকাল রোববার ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজ মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এই ঘোষণা দেন। পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স’–এর কাজ হবে এই প্রযুক্তির উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্র যাতে নেতৃত্ব ধরে রাখতে পারে তা নিশ্চিত করা এবং এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে জনসাধারণের সম্পৃক্ততা সমন্বয় করা। এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে এআই-এর নাম পরিবর্তন করে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ করার নির্দেশ দেন। এর আগে তিনি বলেছিলেন, ‘artificial’ বা ‘কৃত্রিম’ শব্দটি প্রযুক্তিটিকে ‘নকল’ বলে মনে করায়। ট্রাম্প গত সপ্তাহে আরও বলেছিলেন, এআই-এর নিরাপত্তা তদারকির জন্য তিনি একটি বোর্ড গঠন করবেন। শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানির কর্মকর্তারা তাঁর ভাষায় ‘নৈতিকভাবে বাধ্যতামূলক’ চুক্তিতে স্বাক্ষর করার পর তিনি এই ঘোষণা দেন। ট্রাম্প লিখেছেন, ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স (মার্কিন) ফেডারেল সরকারের পক্ষ থেকে ভোক্তা, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী, ধর্মীয় সংগঠন, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সরবরাহকারী এবং সুপার ইন্টেলিজেন্স কোম্পানিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা সমন্বয় করবে।’ টাস্কফোর্সে আরও থাকবেন—ফেডারেল ট্রেড কমিশনের চেয়ারম্যান অ্যান্ড্রু ফার্গুসন, গবেষণা ও প্রকৌশলবিষয়ক প্রতিরক্ষা উপসচিব এমিল মাইকেল এবং অফিস অব পার্সোনেল ম্যানেজমেন্টের পরিচালক স্কট কুপার। টাস্কফোর্সটি সরাসরি প্রেসিডেন্ট এবং হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলসের কাছে প্রতিবেদন দেবে। প্রযুক্তিটির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করার জন্য শিল্পখাতের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের, যার মধ্যে ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের কর্মকর্তারাও রয়েছেন, ক্রমবর্ধমান চাপের পর এই ঘোষণা এল। গত ৪ অক্টোবর প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান বলেন, এআই-এর সুবিধাগুলো এর কিছু ঝুঁকি মেনে নেওয়ার যৌক্তিকতা তৈরি করে। তিনি যুক্তি দেন, প্রযুক্তিটি সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকা উচিত। অল্টম্যান মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর প্রযুক্তিবিষয়ক নিউজলেটার ‘ডিকোডেড’কে বলেন, ‘এই প্রযুক্তির সুবিধা এবং মানুষের নিজেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতার জন্য পৃথিবীর কিছু খারাপ ঘটনা ঘটার বিষয় মেনে নেওয়া উচিত।’ আরও কঠোর নজরদারির আহ্বান ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং মূলত এআই কোম্পানিগুলোকেই নিজেদের নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব দিয়ে রেখেছেন। ২৯ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষরিত ওই চুক্তিতে ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিক, স্পেসএক্স ও গুগলের মতো শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের স্বাক্ষর রয়েছে। একই দিনে প্রেসিডেন্ট একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। এতে মার্কিন সরকারের বিভিন্ন বিভাগ ও সংস্থাকে ‘এসআই’ এবং ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শব্দ ব্যবহার শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ শব্দটি আর ব্যবহার করা যাবে না বলে নির্দেশ দেওয়া হয়। আদেশে বলা হয়, সরকারি চিঠিপত্র, ওয়েবসাইট, প্রতিবেদন এবং অন্যান্য যোগাযোগের ক্ষেত্রে এআই-এর পরিবর্তে এসআই ব্যবহার করা হবে। তবে কিছু বিশেষজ্ঞ এই নাম পরিবর্তনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের যুক্তি, ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শব্দটি আরও উন্নত ধরনের ব্যবস্থাকে বোঝায়, ফলে এই নাম ব্যবহার করলে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। শীর্ষ প্রযুক্তি নেতাদের কয়েকজন ইতোমধ্যে নতুন নাম ব্যবহার শুরু করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বহু বিলিয়ন ডলারের সম্পদের মালিক ইলন মাস্ক। তিনি রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তাঁর প্রতিষ্ঠানের এআই প্ল্যাটফর্ম স্পেসএক্সএআই-এর নাম পরিবর্তন করে স্পেসএক্সএসআই করা হবে।

এআই সামলাতে ট্রাম্পের ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স’

ক্যাম্প ডেভিডে গোপন বৈঠক, ইরানে বড় অভিযানের ভাবনা ট্রাম্পের

ইরান যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা থমকে যাওয়ার পর দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করার কথা বিবেচনা করছেন। এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণে প্রেসিডেন্টের অবকাশ যাপনকেন্দ্র ক্যাম্প ডেভিডে গত শুক্রবার কয়েক ঘণ্টা ধরে গোপন বৈঠক করেছেন তাঁর শীর্ষ মন্ত্রিসভার সদস্যরা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে তিন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বৈঠকে ইরান যুদ্ধের পাশাপাশি ইয়েমেনে সৌদি আরব ও হুতিদের সংঘাত নিয়েও আলোচনা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, হোয়াইট হাউসের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এবং অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট উপস্থিত ছিলেন। ট্রাম্প প্রশাসন বৈঠকটির কথা প্রকাশ্যে ঘোষণা করেনি। ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার কয়েক দিন আগে একই ধরনের একটি বৈঠক হয়েছিল। বৈঠকে অংশ নেওয়া এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নিয়ে ‘কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, অথবা অন্তত গভীরভাবে আলোচনা করা হয়েছে।’ হোয়াইট হাউস বৈঠক নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ইরানকে চুক্তিতে রাজি হওয়ার জন্য চাপ দিয়ে বলেন, ‘এখন আমাকে একটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে: হয় ইরান চুক্তিতে সই করবে, নয়তো আর অস্তিত্ব থাকবে না।’ পরে শুক্রবার বিকেলে ক্যাম্প ডেভিডে তাঁর উপদেষ্টাদের বৈঠকের সময় সাংবাদিকেরা ট্রাম্পকে ইরান নিয়ে তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি যদি আপনাদের বলে দিই, তাহলে আপনাদের বড় একটি খবর হয়ে যাবে। তবে আপনারা দেখতে পাবেন। বিষয়টি খুব ভালোভাবে এগোচ্ছে। ইরানের অবস্থা ভালো নয়।’ ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকে ইরান হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ করে রেখেছে। এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বন্দরগুলোর বিরুদ্ধে পাল্টা অবরোধ বজায় রেখেছে। এদিকে ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের পরিকল্পিত সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রকে যুক্ত করার জন্য ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ছে। সৌদি আরব হুতিদের বিরুদ্ধে মার্কিন বিমান হামলার আহ্বান জানিয়েছে। ট্রাম্প এখন পর্যন্ত এ ধরনের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার দিকেই ঝুঁকেছেন। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তিনি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারেন।

ক্যাম্প ডেভিডে গোপন বৈঠক, ইরানে বড় অভিযানের ভাবনা ট্রাম্পের

হরমুজ নিয়ে ‘খেলা’ চললে ট্রাম্পের হাতে সব বিকল্প: হেগসেথ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইরান হরমুজ প্রণালি নিয়ে ‘খেলা’ চালিয়ে গেলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে প্রয়োজনীয় সব বিকল্পই রয়েছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ‘অটুট’ রয়েছে।  হেগসেথ শনিবার সাংবাদিকদের বলেন, ইরান হরমুজ প্রণালির মতো বিষয় নিয়ে গেম খেলতে চায়। এটি তাদের নিয়ন্ত্রণে নেই, আমাদের নিয়ন্ত্রণে।’ তিনি আরও বলেন, তারা আক্ষরিক অর্থেই কিছুই পার করতে পারেনি। আমাদের অবরোধ অটুট রয়েছে এবং প্রতিরাতেই যুদ্ধের আগের সময়ের কাছাকাছি মাত্রায় এর মধ্য দিয়ে পণ্য পরিবহন হচ্ছে। হেগসেথ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে তারা ‘খুব শক্তিশালী অবস্থানে’ রয়েছে। ইরানকে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তা না হলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতে প্রয়োজনীয় সব বিকল্পই থাকবে। তিনি বলেন, তবে তিনি এসব বিষয় অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘায়িত হতে দেবেন না। তিনি জানেন মিশন কী এবং প্রয়োজন হলে আমরা তা সম্পন্ন করতে পারি। এদিকে ইরান যাতে কখনও পারমাণবিক অস্ত্র না পায়, সে বিষয়ে ট্রাম্প ‘দৃঢ়প্রতিজ্ঞ’ বলেও জানিয়েছেন হেগসেথ। তিনি বলেন, বার্তাটি খুবই সহজ: ইরান কখনোই কোনও পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যে তাদের কাছে এটি নেই; থাকবেও না।

হরমুজ নিয়ে ‘খেলা’ চললে ট্রাম্পের হাতে সব বিকল্প: হেগসেথ

জাতিসংঘের ভাষণে এআইকে নতুন নামে পরিচয় করালেন ট্রাম্প

জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বা এআইকে নতুন নামে অভিহিত করার চেষ্টা করেছেন। তিনি ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ নামে এআইকে উল্লেখ করেন।ভাষণে ট্রাম্প বলেন, এআইকে নকল কিছু মনে হয় ‘আর্টিফিশিয়াল’ শব্দটি ব্যবহার করলে। তার ভাষায়, এটি নকল নয়, বরং অসাধারণ। তবে এ প্রযুক্তি ব্যবহারে সতর্ক থাকার কথাও বলেন তিনি।এরপর ট্রাম্প বলেন, “সুপার ইন্টেলিজেন্সের নতুন জগতে স্বাগতম।”এর আগে ট্রাম্প একাধিকবার বলেছেন, এআই উন্নয়নের প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রকে শীর্ষ অবস্থানে থাকতে হবে। গত সপ্তাহেও তিনি বলেন, “এআইয়ের নিয়ন্ত্রণ যার হাতে, সে-ই জিতবে।”এআই খাতে সরকারি নিয়ন্ত্রণ বা নতুন বিধিনিষেধ আরোপের ঘোর বিরোধী ট্রাম্প। এ কারণে জাতিসংঘে জড়ো হওয়া অনেকের অবস্থানের সঙ্গে এ বিষয়ে তার মতপার্থক্য রয়েছে।

জাতিসংঘের ভাষণে এআইকে নতুন নামে পরিচয় করালেন ট্রাম্প

ট্রাম্পের নতুন নিষেধাজ্ঞায় ১০০% শুল্কের মুখে ভারত-চীন

রাশিয়ার বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন নিষেধাজ্ঞা আইনে স্বাক্ষর করেছেন। এর ফলে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত রাশিয়ার তেল ও গ্যাস আমদানি অব্যাহত রাখা দেশগুলোর পণ্যে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পেয়েছে মার্কিন প্রশাসন। এর ফলে ভারত ও চীনের মতো দেশের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের পথ তৈরি হয়েছে।  ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট ২০২৬’ নামের আইনটি রাশিয়ার সরকারি কর্মকর্তা, ব্যাংক, জ্বালানি খাত এবং মস্কোর সঙ্গে ব্যবসা করা বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে তৈরি। রুশ পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ এবং রুশ জ্বালানি কেনা দেশগুলোর পণ্যে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের বিধান রয়েছে। তবে ভারতের ওপর এখনই ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়নি। আইনটি ট্রাম্পকে এমন শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দিয়েছে; তিনি তা প্রয়োগ করলে তবেই ভারতীয় পণ্যে নতুন শুল্ক কার্যকর হবে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত বৈচিত্র্যময় উৎস থেকে তেল আমদানি অব্যাহত রাখবে। একই সঙ্গে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। এর আগে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনাকে কেন্দ্র করে ভারতীয় পণ্যে অতিরিক্ত মার্কিন শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল। তবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেই অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার করা হয় এবং পারস্পরিক শুল্ক ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। মার্কিন কংগ্রেসে আইনটি পাস হলেও কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা নতুন শুল্ক আরোপের ক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, অতিরিক্ত শুল্ক শেষ পর্যন্ত মার্কিন ভোক্তাদের জন্য পণ্যের দাম বাড়াতে পারে। সূত্র: এনডিটিভি

ট্রাম্পের নতুন নিষেধাজ্ঞায় ১০০% শুল্কের মুখে ভারত-চীন

ইরান যুদ্ধে মার্কিন সেনা মৃত্যু নিয়ে নতুন দাবি

ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে চলমান ইরান যুদ্ধে পেন্টাগনের প্রকাশ্যে স্বীকার করা তথ্যের তুলনায় বাস্তবে অনেক বেশি মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ছয় কর্মকর্তার পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ তথ্যের বরাতে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) এই খবর জানানো হয়েছে। ওই কর্মকর্তাদের মধ্যে পাঁচজন জানান, যুদ্ধে অন্তত ২২ জন সেনা সদস্য মারা গেছেন, যা পেন্টাগনের প্রাতিষ্ঠানিক ডাটাবেজ ‘ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালিসিস সিস্টেম’ বা ডিসিএএস-এ প্রদর্শিত সংখ্যার চেয়ে চারটি বেশি। অন্য এক কর্মকর্তা জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প প্রশাসন ও ইসরায়েল যৌথভাবে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ২৩ জন মার্কিন সেনা এবং মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত তিনজন মার্কিন ঠিকাদার প্রাণ হারিয়েছেন। পেন্টাগনের প্রকাশ্য ডাটাবেজে ১৮ জন মার্কিন সেনার মৃত্যুর কথা বলা হলেও চারজনের তথ্য বাদ দেওয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মৃতের সংখ্যা আড়াল করার ফলে নিহত সেনাদের স্বজনরা সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। পেন্টাগন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। রয়টার্স-ইপসোস জরিপ অনুযায়ী ট্রাম্পের ইরাননীতির প্রতি মার্কিন জনগণের অনিচ্ছা ও অসন্তোষ বাড়ছে। এর মধ্যেই রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতা যুদ্ধ বন্ধে ও তথ্য বিকৃতি রুখতে নানা আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছেন। এমনকি যুদ্ধ পরিচালনা নিয়ে আইনি জটিলতার অভিযোগে প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের অভিশংসন দাবি করেছেন একজন রিপাবলিকান প্রতিনিধি। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের এক নথি অনুযায়ী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই যুদ্ধে আমেরিকার খরচ হয়েছে প্রায় ৪৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে ইরানি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং আটশরও বেশি মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন, যাদের অনেকেই মস্তিষ্কে মারাত্মক আঘাত পেয়েছেন। সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট

ইরান যুদ্ধে মার্কিন সেনা মৃত্যু নিয়ে নতুন দাবি

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ থামাতে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ভোট, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ৭ রিপাবলিকান

আবারও ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে ভোট দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ। তৃতীয়বারের মতো ২২০-২০৪ ভোটে পাস হওয়া এই প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলো। সব ডেমোক্র্যাটের সঙ্গে সাতজন রিপাবলিকান সদস্যও এর পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। এর মধ্যে তিনজন প্রথমবারের মতো এমন প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন। প্রস্তাব পাস হওয়ার ফলে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা সীমিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। আইওয়ার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান জ্যাক নান বলেছেন, আলোচনার সুযোগ এখন আর নেই। দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান চালাতে কংগ্রেসের অনুমোদন দরকার। আমি আরেকটি অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধকে সমর্থন করব না। তবে এ ধরনের প্রস্তাব আগেও পাস হয়েছে, কিন্তু সেগুলো কখনোই প্রেসিডেন্টের কাছে পৌঁছায়নি। এবারও ট্রাম্পের কাছে গেলে তিনি ভেটো দেবেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে। ফ্লোরিডার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান ও পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ব্রায়ান মাস্ট প্রশ্ন তুলেছেন, ইরানকে এখনো হুমকি হিসেবে দেখা হলে ডেমোক্র্যাটরা অঞ্চল থেকে কোন সামরিক সম্পদ সরাতে চান? তিনি বলেন, ট্রাম্প চিরস্থায়ী যুদ্ধের বিরোধী এবং ইরানের সঙ্গে কয়েক দশকের সংঘাতের অবসান ঘটাচ্ছেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এটিই হয়তো শেষ ভোট। নির্বাচনের প্রচারে এই যুদ্ধ ইস্যুটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর প্রায় সাত মাস ধরে সংঘাত চলছে। পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পুরো অঞ্চলে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। কংগ্রেসম্যানরা সপ্তাহের শেষে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে নির্বাচনি প্রচারে সময় দেবেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর ৫০ দিনেরও কম সময় বাকি। নির্দলীয় কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের (সিবিও) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই যুদ্ধ মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ বাড়াচ্ছে এবং অস্ত্র-গোলাবারুদের মজুতেও টান পড়ছে। ছয় মাসে প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। যুদ্ধ চলতে থাকলে প্রতি মাসে আরও প্রায় তিন বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে। ২০২৭ সালের প্রথম তিন মাসে মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়তে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে জুন ও জুলাইয়ে প্রতিনিধি পরিষদ দুটি যুদ্ধক্ষমতা প্রস্তাব অনুমোদন করেছিল। সিনেটও একবার পাস করলেও পরদিন ট্রাম্পের সমালোচনার পর রিপাবলিকান সিনেটররা অবস্থান বদলে ফেলেন। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। তবে প্রেসিডেন্ট সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে কিছু পদক্ষেপ নিতে পারেন। ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর প্রণীত যুদ্ধক্ষমতা আইনে প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতার ওপর সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সাধারণত ৬০ দিনের পর দীর্ঘমেয়াদি অভিযান চালাতে কংগ্রেসের অনুমোদন লাগে। সূত্র: আলজাজিরা

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ থামাতে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ভোট, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ৭ রিপাবলিকান

নিজের নাম না জুড়লে কেনেডি সেন্টার বন্ধ করবেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটনের বিখ্যাত শিল্পকলা প্রতিষ্ঠান কেনেডি সেন্টারের ভবনে নিজের নাম যুক্ত করা না হলে প্রতিষ্ঠানটি স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখার হুমকি দিয়েছেন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ফেডারেল বিচারক ক্রিস্টোফার কুপার কেনেডি সেন্টারের ভবনে ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার উদ্যোগ আটকে দেওয়ার পর এ অবস্থান জানান তিনি। একই দিনে কেন্দ্রটির পরিচালনা পর্ষদ জরুরি সংস্কারের জন্য মূল ভবনটি তাৎক্ষণিক বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়।  ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে বলেন, তার মনোনীত পরিচালনা পর্ষদ প্রায় সর্বসম্মতভাবে সংস্কারের জন্য কেন্দ্রটি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে নাম যুক্ত করার বিষয়ে আদালতের রায় বহাল থাকলে কেনেডি সেন্টারের পুনর্গঠন ও সংস্কারকাজ শুরু হবে না বলে জানান তিনি।  অন্যদিকে, কেনেডি সেন্টার এক বিবৃতিতে জানায়, বোর্ডের সিদ্ধান্ত নিরাপত্তাকে সবার আগে রাখার বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরে এবং এটি একটি যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত।  এর আগে কেনেডি সেন্টারের ভবন থেকে ট্রাম্পের নাম সরানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারক কুপার। মঙ্গলবারের নতুন রায়ে তিনি বলেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া কেনেডি সেন্টারের পরিচালনা পর্ষদ ট্রাম্প বা অন্য কারও নামে কোনো স্মারক স্থাপন করতে পারবে না।  বিচারকের এই রায় এসেছে পরিচালনা পর্ষদ ভবনের বাইরে ট্রাম্পের নাম যুক্ত করে তার সংস্কারকাজের স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার পর। আদালত ওই উদ্যোগকে আগের আদেশ ও কংগ্রেসের প্রণীত আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে উল্লেখ করেছে।  ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজেকে কেনেডি সেন্টারের বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেন। প্রতিষ্ঠানটি প্রয়াত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডির নামে প্রতিষ্ঠিত। ১৯৬৩ সালে আততায়ীর গুলিতে নিহত হওয়ার আগে কেনেডি নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। 

নিজের নাম না জুড়লে কেনেডি সেন্টার বন্ধ করবেন ট্রাম্প

ভিসা ও গ্রিন কার্ড নীতিতে চাপে ট্রাম্প প্রশাসন

অভিবাসন নীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বড় দুটি ধাক্কার মুখে পড়েছে। একদিকে ফেডারেল এক বিচারক বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের জন্য প্রস্তাবিত ভিসার সময়সীমা আটকে দিয়েছেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বাধীন কয়েক ডজন অঙ্গরাজ্য অভিবাসীদের বৈধভাবে সরকারি সুবিধা নেওয়ার কারণে গ্রিন কার্ড আটকে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা নতুন বিধির বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের এক ফেডারেল বিচারক প্রশাসনের এমন প্রস্তাব কার্যকর করা বন্ধ করে দেন, যার মাধ্যমে বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন না করে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সময় নির্দিষ্ট করে দেওয়া হতো। একই সময়ে ২২টি অঙ্গরাজ্য ও ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া মিলে আলাদা একটি মামলা করেছে। তাদের লক্ষ্য, এমন একটি ফেডারেল বিধি কার্যকর হওয়া ঠেকানো, যার আওতায় অভিবাসন কর্তৃপক্ষ বৈধভাবে সরকারি সুবিধা নেওয়া অভিবাসীদের গ্রিন কার্ড দিতে অস্বীকৃতি জানাতে পারবে। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএইচএসের প্রস্তাবিত বিধিটি মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই সোমবার বোস্টনের ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জজ এফ ডেনিস সেলার চতুর্থ ট্রেড ইউনিয়ন ও উচ্চশিক্ষা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের জোটের করা আবেদনের ভিত্তিতে বিধিটির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাব অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবহৃত এফ ভিসা এবং যুক্তরাষ্ট্রে সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার জন্য দেওয়া জে ভিসার মেয়াদ সর্বোচ্চ চার বছর করা হতো। অন্যদিকে সাংবাদিকদের জন্য ব্যবহৃত আই ভিসা, যা বর্তমানে কয়েক বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকতে পারে, সেটির মেয়াদ ২৪০ দিনে সীমাবদ্ধ করার প্রস্তাব করা হয়েছিল। বিচারক সেলার রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের নিয়োগপ্রাপ্ত হলেও তিনি ভিসা ব্যবস্থায় জালিয়াতি ঠেকানো এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে ডিএইচএস যে যুক্তি দিয়েছে, সেটিকে ‘অত্যন্ত দুর্বল’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, বিদ্যমান ভিসা ব্যবস্থা কয়েক কোটি গবেষক ও শিক্ষাবিদকে যুক্তরাষ্ট্রে অবদান রাখার সুযোগ দিয়েছে। এর ফলে যুগান্তকারী গবেষণা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ হয়েছে। এই ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হলে উচ্চশিক্ষা এবং বৃহত্তর মার্কিন অর্থনীতির ক্ষতি ‘বিপর্যয়কর’ হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি। প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থা প্রায় ১৬ লাখ এফ ভিসাধারী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এবং প্রায় ৫ লাখ জে ভিসাধারী বিনিময় কর্মসূচির অংশগ্রহণকারীকে প্রভাবিত করত। এদিকে সোমবার ম্যানহাটনের একটি ফেডারেল আদালতে দুটি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলার লক্ষ্য, ডিএইচএসের আরেকটি বিধি কার্যকর হওয়া ঠেকানো। বিধিটি শুক্রবার থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন এই বিধিতে অভিবাসন কর্মকর্তারা কোন আবেদনকারীকে ‘পাবলিক চার্জ’ হিসেবে বিবেচনা করবেন, সেই মানদণ্ড আরও বিস্তৃত করা হবে। ‘পাবলিক চার্জ’ একটি আইনি মানদণ্ড। ঐতিহাসিকভাবে এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি প্রয়োগ করা হয়েছে, যারা নিজেদের জীবনধারণের জন্য মূলত সরকারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন বলে মনে করা হয়। নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া ও ইলিনয় ২২টি অঙ্গরাজ্য এবং ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ার একটি জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছে। তারা নতুন নীতিটি আটকে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। একই বিষয়ে ছয়টি শহর ও কাউন্টিও আলাদা একটি মামলা করেছে। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীদের মূল্যায়নে অভিবাসন কর্মকর্তারা নগদ সরকারি সহায়তা বিবেচনা করতে পারতেন। তবে খাদ্য সহায়তা এবং মেডিকেইডের মতো নগদ নয় এমন সরকারি সুবিধা নেওয়ার কারণে কোনো আবেদনকারীকে শাস্তি দেওয়ার সুযোগ ছিল না। এখন ট্রাম্প প্রশাসন তার প্রথম মেয়াদের নীতিগুলো আবার চালু করতে চাইছে। সেই নীতিতে খাদ্য সহায়তা ও মেডিকেইডের মতো নগদ নয় এমন সরকারি সুবিধা নেওয়াকেও গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্যতার কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নতুন প্রস্তাবে শুধু আবেদনকারী নিজে কী ধরনের সুবিধা নিয়েছেন তা নয়, তার পরিবারের সদস্যরা কী ধরনের সরকারি সুবিধা পেয়েছেন, সেটিও যাচাইয়ের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। ডিএইচএসের এক মুখপাত্র নতুন বিধির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি মামলাকারীদের ‘বামপন্থী নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করে অভিযোগ করেন, তারা আশঙ্কা করছেন যে ফেডারেল সরকারের অর্থায়ন হারাবেন। কারণ, লাখ লাখ ‘অবৈধ অভিবাসী ও অ-নাগরিক’ হয়তো যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কল্যাণমূলক কর্মসূচি থেকে নিজেদের সরিয়ে নেবেন। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি এক বিবৃতিতে বলেন, নতুন এই বিধির লক্ষ্য হলো অভিবাসী পরিবারগুলোকে সেই কর্মসূচিগুলো থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া, যেগুলো কয়েক দশক ধরে মানুষকে খাবার ও স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ দিয়ে আসছে। মামলাকারীরা বলছেন, কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন তার আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে। তাদের যুক্তি, স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার যোগ্যতার মানদণ্ড নির্ধারণের একমাত্র ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। তাদের আরও দাবি, খাদ্য সহায়তা ও মেডিকেইডের মতো নগদ নয় এমন সরকারি সুবিধা বৈধভাবে ব্যবহার করা আবেদনকারীদের শাস্তি দেওয়ার মাধ্যমে প্রশাসন একটি বেআইনি বিধিনিষেধ তৈরি করেছে। মামলাকারীদের মতে, এই বিধিনিষেধ ফেডারেল আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

ভিসা ও গ্রিন কার্ড নীতিতে চাপে ট্রাম্প প্রশাসন

এআই নিয়ে সতর্ককারীদের ‘নেগেটিভ ফোর্স’ বললেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে যারা সতর্কবার্তা ছড়াচ্ছে তাদের সমালোচনা করেছেন। ‘নেগেটিভ ফোর্স’ বলে তিনি উল্লেখ করেন প্রযুক্তিটির উন্নয়ন ধীর করা নিয়ে যারা কথা বলছেন। আয়ারল্যান্ড সফরের সময় রোববার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি, অনেক নেগেটিভ ফোর্স আছে। তারা এমন বিষয় সামনে আনছে, যেগুলো সামনে আনা উচিত নয়। তারা এমন বিষয়ও তুলে ধরছে, যা বাস্তবে ঘটবে না।’ অ্যানথ্রোপিকের সদ্য সাবেক কর্মী জ্যাকব কক্সনের একটি দাবির পর ট্রাম্প এই মন্তব্য করলেন। কক্সন বলেছিলেন, ওপেনএআই ও অ্যানথ্রোপিক এমন মডেল তৈরির প্রতিযোগিতায় নেমেছে, যা মানুষের জীবনকে বিপন্ন করতে পারে।   কক্সনের ওই দাবির পর ‘সুপারইন্টেলিজেন্ট’ কম্পিউটার সিস্টেমের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। এর পরিপ্রেক্ষিতে এআই উন্নয়নের গতি কমিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন অ্যানথ্রোপিকের সিইও দারিও আমোদেই।  ওপেনএআইয়ের স্যাম অল্টম্যান ও এক্সএআইয়ের ইলন মাস্কও এতে সহমত জানিয়েছেন।

এআই নিয়ে সতর্ককারীদের ‘নেগেটিভ ফোর্স’ বললেন ট্রাম্প
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream