শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
আবারও ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারে উঠল তেলের দাম

আবারও ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারে উঠল তেলের দাম

আবার ১১০ ডলার হলো আন্তর্জাতিক বাজারের জ্বালানি তেলের দাম। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আজ মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারে ওঠে। এই অপরিশোধিত তেলের দাম তিন–চার দিন ধরেই বাড়তি আছে। গত সপ্তাহেও তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়েছিল। পরে অবশ্য ১০৬-১০৭ ডলারে নেমে আসে। মে মাসের পর ব্রেন্টের দাম এই পর্যায়ে ওঠেনি। গত ১৯ মে ব্রেন্টের দাম ছিল ১১১ দশমিক ২৮ ডলার। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম আজ ব্যারেলপ্রতি ৯৮ দশমিক ৮১ ডলার হয়েছে। বাজার এখনো চলমান। অয়েলপ্রাইসডটকম থেকে এই তথ্য জানা গেছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা চলছে। যুদ্ধের প্রথম দিকে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়। পরে যুদ্ধবিরতির খবরে দাম কমলেও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সংবাদে দেখা যায়, চলতি বছরের মে মাসে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১১ ডলারের ওপরে থাকলেও জুনের শেষে তা কমে ৭৩ ডলারে নেমে আসে। এপ্রিলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়। তখন বাজারে প্রত্যাশা তৈরি হয়, সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে আসবে। তবে জুলাই থেকে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। সেই সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়। দাম আবার বাড়তে থাকে। তেলের বাজারে প্রকৃত সরবরাহের পাশাপাশি ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির বড় প্রভাব রয়েছে। হরমুজ প্রণালি ও সৌদি আরবের অবকাঠামোতে হামলার ঝুঁকিতে থাকলে তেলের দাম আরও বাড়তে থাকবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সাড়ে পাঁচ বছরের মধ্যে ডলারের বিপরীতে সর্বোচ্চ শক্তিশালী অবস্থানে বাংলাদেশি টাকা

দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ বছরের ধারাবাহিক পতনের ধারার পর অবশেষে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশি টাকা। রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লম্ফন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি এবং তারল্য পরিস্থিতির সামগ্রিক উন্নতির ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে এক স্বস্তিদায়ক ও স্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩০ আগস্ট থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টাকার মান আরও ০.৭৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সময়ে ডলারের বিনিময় হার ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সা থেকে কমে ১২৩ টাকায় নেমে এসেছে। এর আগে ২০২১ সালে প্রতি ডলারের বিনিময় হার ৮৫ টাকা ৮০ পয়সা ছিল, যা পরবর্তীতে ধাপে ধাপে বেড়ে ১২৩ টাকার ওপরে উঠেছিল।আমদানি ব্যয় হ্রাস: টাকা শক্তিশালী হওয়ায় জ্বালানি, খাদ্য, শিল্পের কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি আমদানিতে ব্যবসায়ীদের স্থানীয় মুদ্রায় খরচ কমবে, যা মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে সাহায্য করবে। গত ৮ সেপ্টেম্বর দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬.৪৪ বিলিয়ন ডলারে, যা দুই বছর আগের তুলনায় প্রায় ৪৬.৬ শতাংশ বেশি। বিপিএম৬ পদ্ধতিতে এই রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১.৫৩ বিলিয়ন ডলারে।রেমিট্যান্সের শক্তিশালী প্রবাহ: চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ৭.৭০২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩.৮ শতাংশ বেশি।এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও আর্থিক খাতের বিশ্লেষক মো. আলী হোসেন প্রধানিয়া বলেন, "টাকা শক্তিশালী হওয়ায় আমদানিকারকদের এলসি খোলা সহজ হবে এবং দেশের বৈদেশিক খাতে স্থিতিশীলতা বাড়বে।"বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিবিড় মনিটরিং, অর্থপাচার রোধ এবং আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে প্রবাসীদের আয় বৃদ্ধির ফলে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে এই ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।অর্থনীতিবিদদের মতে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ার পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক সামষ্টিক অর্থনীতি আরও সুদৃঢ় হবে।

সাড়ে পাঁচ বছরের মধ্যে ডলারের বিপরীতে সর্বোচ্চ শক্তিশালী অবস্থানে বাংলাদেশি টাকা

নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই মার্কিন ব্যাংকে ইরানের ৯০০ কোটি ডলার

২০২৪ সালে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৯০০ কোটি ডলার মার্কিন ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা সত্ত্বেও লেনদেন হয়েছে বলে এক তদন্তে উঠে এসেছে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরোক্ষভাবে বিদেশি ব্যাংকের মধ্যস্থতায় এই বিপুল অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকিং নেটওয়ার্কে প্রবেশ করেছে। প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৪ সালে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে স্থানান্তর হওয়া প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলারের ইরানি তহবিল শনাক্ত করেছে। এই অর্থ বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠান, শেল কোম্পানি ও মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্রের মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়। এমন সময়ে এই তথ্য সামনে এলো, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করেছে। ওয়াশিংটন সতর্ক করে দিয়েছে, তেহরানের সঙ্গে ব্যবসা করলে সংশ্লিষ্ট দেশ বা প্রতিষ্ঠানকে মার্কিন ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে রাখা হতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থপ্রবাহ সচল রাখতে ইরান বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করছে। দেশটির অর্থনীতির প্রধান আয়ের উৎস এখনও তেল খাত। যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণে তেল রপ্তানি সীমিত হলেও ইরানের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এখনও ট্যাংকারে মজুত রয়েছে। এর বড় অংশ এশিয়ার জলসীমায়, বিশেষ করে মালয়েশিয়ার আশপাশে সংরক্ষিত আছে। চীন বর্তমানে ইরানের সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা। দেশটি ইরানের মোট তেল রপ্তানির ৮০ শতাংশেরও বেশি গ্রহণ করে। জ্বালানি বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ক্লেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে চীন প্রতিদিন পাঁচ লাখ ব্যারেলের বেশি ইরানি তেল আমদানি করেছে। ইরান তেলের উৎস গোপন করতেও নানা পদ্ধতি ব্যবহার করছে। সমুদ্রে এক জাহাজ থেকে আরেক জাহাজে তেল স্থানান্তরের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ট্যাংকারের তেল অন্য উৎসের বলে দেখানো হয়। পরে চীনে পৌঁছালে সেই তেল ভিন্ন দেশের তেল হিসেবে নথিভুক্ত হতে পারে। জ্বালানি বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ভরটেক্সার হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে এশিয়ার জলসীমায় ভাসমান সংরক্ষণাগারে প্রায় ৮ কোটি ব্যারেল ইরানি অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে। যার বাজারমূল্য কয়েক বিলিয়ন ডলার হতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চীনের সঙ্গে বাণিজ্যে ইরান ধীরে ধীরে মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমিয়েছে। চীনা ক্রেতাদের সঙ্গে তেল বাণিজ্যের লেনদেন এখন অনেক ক্ষেত্রে চীনা মুদ্রা ইউয়ানে সম্পন্ন হচ্ছে। এই ইউয়ান ব্যবহার করে ইরান চীনা পণ্য ও সেবা কিনছে। কিছু ক্ষেত্রে অবকাঠামো প্রকল্পের বিনিময়েও তেল দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ক্রিপ্টোকারেন্সিও ব্যবহার করছে তেহরান। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, বাণিজ্য পরিচালনা এবং অস্ত্রসহ বিভিন্ন পণ্য সংগ্রহে ইরান বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করেছে। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) চীনা ক্রেতাদের কাছ থেকে তেলের মূল্য গ্রহণের ক্ষেত্রেও ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ ব্যবহার করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আমদানি ব্যয়, সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় এবং আঞ্চলিক মিত্রদের সহায়তার জন্য ইরানের এখনও মার্কিন ডলার ও অন্যান্য প্রধান মুদ্রার প্রয়োজন রয়েছে। এ কারণে হংকং ও দুবাইয়ের মতো আন্তর্জাতিক আর্থিক কেন্দ্রে শেল কোম্পানি ও মানি এক্সচেঞ্জ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে তেহরান। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তেল রপ্তানি ও অন্যান্য বাণিজ্যিক আয়কে ডলার, ইউরো ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহামে রূপান্তর করা হয়। একই সঙ্গে অর্থের সঙ্গে ইরানের সংশ্লিষ্টতাও আড়াল করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক নানা নিষেধাজ্ঞা বসিয়ে এই অর্থপ্রবাহ লাগাম টানার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচ্ছিন্নভাবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যাংক বা কোম্পানির ওপর ব্যবস্থা নিয়ে পুরো আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক অচল করা সম্ভব হচ্ছে না।

নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই মার্কিন ব্যাংকে ইরানের ৯০০ কোটি ডলার
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream