দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ বছরের ধারাবাহিক পতনের ধারার পর অবশেষে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশি টাকা। রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লম্ফন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি এবং তারল্য পরিস্থিতির সামগ্রিক উন্নতির ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে এক স্বস্তিদায়ক ও স্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩০ আগস্ট থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টাকার মান আরও ০.৭৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সময়ে ডলারের বিনিময় হার ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সা থেকে কমে ১২৩ টাকায় নেমে এসেছে। এর আগে ২০২১ সালে প্রতি ডলারের বিনিময় হার ৮৫ টাকা ৮০ পয়সা ছিল, যা পরবর্তীতে ধাপে ধাপে বেড়ে ১২৩ টাকার ওপরে উঠেছিল।
আমদানি ব্যয় হ্রাস: টাকা শক্তিশালী হওয়ায় জ্বালানি, খাদ্য, শিল্পের কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি আমদানিতে ব্যবসায়ীদের স্থানীয় মুদ্রায় খরচ কমবে, যা মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে সাহায্য করবে।
গত ৮ সেপ্টেম্বর দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬.৪৪ বিলিয়ন ডলারে, যা দুই বছর আগের তুলনায় প্রায় ৪৬.৬ শতাংশ বেশি। বিপিএম৬ পদ্ধতিতে এই রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১.৫৩ বিলিয়ন ডলারে।
রেমিট্যান্সের শক্তিশালী প্রবাহ: চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ৭.৭০২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩.৮ শতাংশ বেশি।
এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও আর্থিক খাতের বিশ্লেষক মো. আলী হোসেন প্রধানিয়া বলেন, "টাকা শক্তিশালী হওয়ায় আমদানিকারকদের এলসি খোলা সহজ হবে এবং দেশের বৈদেশিক খাতে স্থিতিশীলতা বাড়বে।"
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিবিড় মনিটরিং, অর্থপাচার রোধ এবং আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে প্রবাসীদের আয় বৃদ্ধির ফলে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে এই ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ার পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক সামষ্টিক অর্থনীতি আরও সুদৃঢ় হবে।
মতামত