বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

কাঠালিয়ায় কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জমি দখল ও হয়রানিমূলক মামলার অভিযোগ



কাঠালিয়ায় কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জমি দখল ও হয়রানিমূলক মামলার অভিযোগ

মো. আবদুল আউয়াল, স্টাফ রিপোর্টার :

‎ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলায় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম বশিরের বিরুদ্ধে পৈতৃক ও ক্রয়সূত্রে মালিকানাধীন জমি দখল, হামলা, সরকারি চাকরির প্রভাব খাটানো এবং হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী মো. মাসুদ আকন ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।

‎অভিযোগকারীদের দাবি, ২০২৪ সালের ২০ জানুয়ারি গভীর রাতে তাঁদের অনুপস্থিতিতে ভাড়াটে লোকজনের সহায়তায় জমির একাংশে বাঁশ ও টিনের বেড়া নির্মাণ করেন কৃষি কর্মকর্তা বশির। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে জমি পরিমাপ ও বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হলেও মীমাংসাপত্র বাস্তবায়নে বশির গড়িমসি করেন বলে অভিযোগ তাঁদের।

‎অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২০ সেপ্টেম্বর অতিবৃষ্টির কারণে জমির বেড়া ভেঙে গেলে বশির পুনরায় বিতর্কিত স্থানে বেড়া স্থাপনের উদ্যোগ নেন। এ সময় মাসুদের ছোট ভাই আল আমিন আকন বাধা দিয়ে ভেঙে পড়া বেড়ার অংশগুলো যথাসম্ভব গুছিয়ে রাখেন। পরে এ বিষয়ে বশির থানায় অভিযোগ করলে ২২ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টার দিকে কাঠালিয়া থানার এসআই সোহেল ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার পরামর্শ দেন বলে দাবি করেন তাঁরা।

‎মাসুদ আকন জানান, খবর পেয়ে তিনি ২২ সেপ্টেম্বর কেরানীগঞ্জ থেকে বাস যোগে বরিশাল হয়ে বিআরটিসি গাড়ীতে বাড়িতে পৌঁছান। পরদিন ২৩ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক ৪টার দিকে পুলিশের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বশির ও সাকিরের নেতৃত্বে কয়েকজন লোক পিলার দিয়ে বেড়া নির্মাণের চেষ্টা করেন। এতে তিনি ও তাঁর ভাই আল আমিন বাধা দিলে তাঁদের ওপর রামদা ও চল দিয়ে হামলা করা হয়। এতে দুই ভাই আহত হন। পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশের সহযোগিতায় তাঁরা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন বলে জানান মাসুদ।

‎তাঁদের আরও দাবি, ঘটনার দিন দুপুর ১২টার দিকে এসআই সোহেলের নেতৃত্বে উভয় পক্ষকে থানায় ডেকে সালিশের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির পরামর্শ দেওয়া হয়। উভয় পক্ষের সম্মতিতে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও বশিরের কারনে তা কার্যকর হয়নি।

‎এদিকে গত ৪ অক্টোবর ঝালকাঠির দ্রুত বিচার আদালতে মাসুদ আকনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বশির। মামলায় ২০ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার দিকে বেড়া ভাঙচুর এবং দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানান অভিযোগকারীরা। তবে তাঁদের দাবি, ওই সময় মামলার দুই আসামি মাসুদ আকন ও নজরুল আকন ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। নজরুল আকন জানান, তিনি গত তিন মাস ধরে ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত এবং এ সময় এলাকায় যাননি।

‎মামলার কয়েকজন সাক্ষীর সঙ্গে সাংবাদিকের মুঠোফোনে কথা হলে তাঁরা ঘটনার সময় কিছু দেখেননি বলে জানান। চাঁদা দাবির অভিযোগকেও তাঁরা মিথ্যা বলে দাবি করেন।

‎অভিযোগকারীরা আরও জানান, পূর্বের সালিশি রোয়েদাদ বাতিলের জন্য সালিশকারীদের বিরুদ্ধে আইনজীবীর মাধ্যমে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তাঁদের দাবি, গত ১১ অক্টোবর নিজেদের জমিতে দা ও গাছিয়া দিয়ে বেড়া দিতে গেলে সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে তাঁদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

‎এ বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম বশির বলেন, “আমি তাঁদের ওয়ারিশদের কাছ থেকে জমি কিনেছি। তাই সেখানে বেড়া নির্মাণ করেছিলাম।”

‎অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি চাকরির প্রভাব খাটিয়ে তাঁদের হয়রানি করা হচ্ছে। তাঁরা জমির মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত বিরোধের সুষ্ঠু তদন্ত, হামলার ঘটনার নিরপেক্ষ অনুসন্ধান এবং আদালতে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবী জানান।

‎

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬


কাঠালিয়ায় কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জমি দখল ও হয়রানিমূলক মামলার অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

মো. আবদুল আউয়াল, স্টাফ রিপোর্টার :

‎ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলায় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম বশিরের বিরুদ্ধে পৈতৃক ও ক্রয়সূত্রে মালিকানাধীন জমি দখল, হামলা, সরকারি চাকরির প্রভাব খাটানো এবং হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী মো. মাসুদ আকন ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।

‎অভিযোগকারীদের দাবি, ২০২৪ সালের ২০ জানুয়ারি গভীর রাতে তাঁদের অনুপস্থিতিতে ভাড়াটে লোকজনের সহায়তায় জমির একাংশে বাঁশ ও টিনের বেড়া নির্মাণ করেন কৃষি কর্মকর্তা বশির। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে জমি পরিমাপ ও বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হলেও মীমাংসাপত্র বাস্তবায়নে বশির গড়িমসি করেন বলে অভিযোগ তাঁদের।

‎অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২০ সেপ্টেম্বর অতিবৃষ্টির কারণে জমির বেড়া ভেঙে গেলে বশির পুনরায় বিতর্কিত স্থানে বেড়া স্থাপনের উদ্যোগ নেন। এ সময় মাসুদের ছোট ভাই আল আমিন আকন বাধা দিয়ে ভেঙে পড়া বেড়ার অংশগুলো যথাসম্ভব গুছিয়ে রাখেন। পরে এ বিষয়ে বশির থানায় অভিযোগ করলে ২২ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টার দিকে কাঠালিয়া থানার এসআই সোহেল ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার পরামর্শ দেন বলে দাবি করেন তাঁরা।

‎মাসুদ আকন জানান, খবর পেয়ে তিনি ২২ সেপ্টেম্বর কেরানীগঞ্জ থেকে বাস যোগে বরিশাল হয়ে বিআরটিসি গাড়ীতে বাড়িতে পৌঁছান। পরদিন ২৩ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক ৪টার দিকে পুলিশের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বশির ও সাকিরের নেতৃত্বে কয়েকজন লোক পিলার দিয়ে বেড়া নির্মাণের চেষ্টা করেন। এতে তিনি ও তাঁর ভাই আল আমিন বাধা দিলে তাঁদের ওপর রামদা ও চল দিয়ে হামলা করা হয়। এতে দুই ভাই আহত হন। পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশের সহযোগিতায় তাঁরা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন বলে জানান মাসুদ।

‎তাঁদের আরও দাবি, ঘটনার দিন দুপুর ১২টার দিকে এসআই সোহেলের নেতৃত্বে উভয় পক্ষকে থানায় ডেকে সালিশের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির পরামর্শ দেওয়া হয়। উভয় পক্ষের সম্মতিতে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও বশিরের কারনে তা কার্যকর হয়নি।

‎এদিকে গত ৪ অক্টোবর ঝালকাঠির দ্রুত বিচার আদালতে মাসুদ আকনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বশির। মামলায় ২০ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার দিকে বেড়া ভাঙচুর এবং দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানান অভিযোগকারীরা। তবে তাঁদের দাবি, ওই সময় মামলার দুই আসামি মাসুদ আকন ও নজরুল আকন ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। নজরুল আকন জানান, তিনি গত তিন মাস ধরে ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত এবং এ সময় এলাকায় যাননি।

‎মামলার কয়েকজন সাক্ষীর সঙ্গে সাংবাদিকের মুঠোফোনে কথা হলে তাঁরা ঘটনার সময় কিছু দেখেননি বলে জানান। চাঁদা দাবির অভিযোগকেও তাঁরা মিথ্যা বলে দাবি করেন।

‎অভিযোগকারীরা আরও জানান, পূর্বের সালিশি রোয়েদাদ বাতিলের জন্য সালিশকারীদের বিরুদ্ধে আইনজীবীর মাধ্যমে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তাঁদের দাবি, গত ১১ অক্টোবর নিজেদের জমিতে দা ও গাছিয়া দিয়ে বেড়া দিতে গেলে সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে তাঁদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

‎এ বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম বশির বলেন, “আমি তাঁদের ওয়ারিশদের কাছ থেকে জমি কিনেছি। তাই সেখানে বেড়া নির্মাণ করেছিলাম।”

‎অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি চাকরির প্রভাব খাটিয়ে তাঁদের হয়রানি করা হচ্ছে। তাঁরা জমির মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত বিরোধের সুষ্ঠু তদন্ত, হামলার ঘটনার নিরপেক্ষ অনুসন্ধান এবং আদালতে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবী জানান।

‎


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream