ভারতের উত্তর প্রদেশের কৌশাম্বী জেলায় একটি বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ৫ জন মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন এবং ১১ জন নিহত। সোমবার (৩১ আগস্ট) হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিস্ফোরণের প্রচণ্ডতায় পাশের দিল্লি-হাওড়া রেলপথের ট্রেন চলাচল প্রায় এক ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয়।
অমিত পাল কৌশাম্বীর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জানান, এই বিস্ফোরণ পিপরী থানা এলাকার মনোড়ী গ্রামের একটি বাজি কারখানায় ঘটে। প্রয়াগরাজের এসআরএন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ জন মারা যান এবং একই হাসপাতালে অন্য গুরুতর আহত পাঁচজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
কর্মকর্তারা জানান, নিহতেরা সকলেই কারখানার নিকটবর্তী এলাকার বাসিন্দা। মৃতদের মধ্যে রয়েছে প্রিয়াঞ্জলী (৫), প্রবীণ সিং (১৩), জাহ্নবী (১২), আদিত্য (১২), আদিত্য (৮), রবি (৮), অঞ্জু (৩২), জ্ঞান সিং (৪০), বিক্রম সরোজ (৩৫), অংশ (৬) এবং নানা (৪)। এই ঘটনায় ১৮ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মনোড়ী পাওয়ার হাউসের কাছে ঘটে যাওয়া এই বিস্ফোরণে কারখানার পাশাপাশি আশপাশের ৫-৬টি বাড়ি ধসে পড়ে। তীব্রতার কারণে আজমের-শিয়ালদহ এক্সপ্রেসকে মনোড়ী স্টেশনে ফেরত পাঠানো হয় এবং বন্দে ভারত এক্সপ্রেসকে সাইয়াদ সারওয়ান স্টেশনে থামিয়ে দেওয়া হয়।
ঘটনাস্থলে এনডিআরএফ, এসডিআরএফ, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং বিমান বাহিনীর অর্ধশতাধিক সদস্য উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছেন। ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ সরাতে ১০টি বুলডোজার ও খনন যন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। বিস্ফোরণে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তা মেরামতের কাজ চলছে।
উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি নিহতদের পরিবারকে ২ লাখ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
মতামত