সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল মিনহাদ বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন সেনা ও সামরিক হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে কয়েক ডজন বিস্ফোরক ড্রোন দিয়ে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। মূলত রোববার ইরানের কৌশলগত লারাক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবেই এই শক্তিশালী সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে তেহরানের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
এর আগে লারাক দ্বীপে ইরানের দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে আঘাত হেনেছিল মার্কিন সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে সমুদ্রের নিচে মাইন পাতার লক্ষ্যে সেখানে সরঞ্জাম প্রস্তুত করা হচ্ছিল। জুলাইয়ের পর ইরানি ভূখণ্ডে এটিই প্রথম মার্কিন হামলা, যাতে রেভল্যুশনারি গার্ডের সদস্যসহ বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক হতাহত হন।
এই ঘটনার পরপরই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কড়া জবাবে আল মিনহাদ বিমানঘাঁটিতে ড্রোন আক্রমণের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি দামি ‘এমকিউ-৯ রিপার’ ড্রোন ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড। ইরানি বার্তা সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ড্রোনটি সরাসরি পারস্য উপসাগরের পানিতে আছড়ে পড়ে।
সমগ্র অঞ্চলে এই নতুন সামরিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে মুখ খুলেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) সম্মেলনে যোগ দিতে যাওয়ার আগে তিনি স্পষ্ট জানান, ইরান কোনো অবস্থাতেই যুদ্ধ কিংবা অস্থিতিশীলতা চায় না, কারণ তা অঞ্চলের কোনো দেশের জন্যই ভালো ফল আনবে না। তবে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে এটিও ব্যক্ত করেন যে, নিজেদের ওপর কোনো ধরনের আগ্রাসন হলে তেহরান নীরব থাকবে না এবং পরবর্তীতে আরও হামলা চালানো হলে তার অত্যন্ত শক্ত ও প্রত্যক্ষ জবাব দেওয়া হবে।
মতামত