রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

নেপালের বন্যায় ৫ বন্ধুর অবিশ্বাস্য বেঁচে ফেরার গল্প


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
| ফটো কার্ড

নেপালের বন্যায় ৫ বন্ধুর অবিশ্বাস্য বেঁচে ফেরার গল্প
ছবি: সংগৃহীত

একটি সামান্য চা-বিরতি। আর সেই ১০-১৫ মিনিটের বিরতিই যে হয়ে উঠবে জীবন আর মৃত্যুর মাঝের একমাত্র দেয়াল—তা ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেননি ভারতে ছত্তিশগড়ের পাঁচ বন্ধু। নেপালের সাম্প্রতিক প্রলয়ঙ্করি বন্যায় যখন চোখের সামনে ভেসে গেছে গ্রাম, পথঘাট ও অসংখ্য মানুষ, ঠিক তখন চায়ের দোকানে থামার সেই সিদ্ধান্তেই নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন তাঁরা। 

বুধবার (২৬ আগস্ট) নেপালের ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদীর অববাহিকায় পাহাড়ি ধস ও ধ্বংসাত্মক আকস্মিক বন্যা আঘাত হানে। ভারতের ছত্তিশগড়ের রায়পুরের মানা ক্যাম্প এলাকার বাসিন্দা—নারায়ণ সেন (৫৩), দীনেশ ওঝা, প্রেম সিং জগত, যতীন্দ্র প্রকাশ ও দীনেশ সিং ঠাকুর (বয়স ৫০ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে) তখন ওই পথেই ভ্রমণে ছিলেন।

জীবনের সেই অলৌকিক মুহূর্তের কথা বর্ণনা করতে গিয়ে রায়পুরের সেলুন ব্যবসায়ী নারায়ণ সেন বলেন, “২৬ আগস্ট আমরা পথিমধ্যে চায়ের দোকানে একটু জিরিয়ে নেওয়ার জন্য থেমেছিলাম। ঠিক সেই মুহূর্তেই আকস্মিক বন্যাটি আঘাত হানে। আমরা যদি চা না খেয়ে ১০–১৫ মিনিট আগে রওনা দিতাম, তবে আমরা সোজা সেই পাহাড়ি ঢলে ভেসে যেতাম। ওখানে না থামলে আজ আমাদের কী হতো, আমরা নিজেরাও জানি না।”

প্রাথমিক সেই বিপর্যয় থেকে বেঁচে গেলেও পরবর্তী দুই দিন তাঁদের কাটাতে হয়েছে এক চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে। নদীর প্রবল প্লাবন থেকে বাঁচতে তাঁরা তড়িঘড়ি পার্শ্ববর্তী একটি উঁচু পাহাড়ি স্থানে আশ্রয় নেন। সেখান থেকেই দুই দিন ধরে দেখেছেন রূপ নেওয়া ত্রিশূলী নদীর প্রলয়ঙ্করি ও ধ্বংসাত্মক রূপ।

অবশেষে দুই দিন উঁচু আশ্রয়ে কাটে আশঙ্কার প্রহর। উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয়দের সহায়তায় পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে শনিবার (২৯ আগস্ট) অক্ষত ও নিরাপদে নিজেদের ভিটেমাটিতে ফিরে আসেন অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া এই পাঁচ বন্ধু।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬


নেপালের বন্যায় ৫ বন্ধুর অবিশ্বাস্য বেঁচে ফেরার গল্প

প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

একটি সামান্য চা-বিরতি। আর সেই ১০-১৫ মিনিটের বিরতিই যে হয়ে উঠবে জীবন আর মৃত্যুর মাঝের একমাত্র দেয়াল—তা ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেননি ভারতে ছত্তিশগড়ের পাঁচ বন্ধু। নেপালের সাম্প্রতিক প্রলয়ঙ্করি বন্যায় যখন চোখের সামনে ভেসে গেছে গ্রাম, পথঘাট ও অসংখ্য মানুষ, ঠিক তখন চায়ের দোকানে থামার সেই সিদ্ধান্তেই নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন তাঁরা। 

বুধবার (২৬ আগস্ট) নেপালের ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদীর অববাহিকায় পাহাড়ি ধস ও ধ্বংসাত্মক আকস্মিক বন্যা আঘাত হানে। ভারতের ছত্তিশগড়ের রায়পুরের মানা ক্যাম্প এলাকার বাসিন্দা—নারায়ণ সেন (৫৩), দীনেশ ওঝা, প্রেম সিং জগত, যতীন্দ্র প্রকাশ ও দীনেশ সিং ঠাকুর (বয়স ৫০ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে) তখন ওই পথেই ভ্রমণে ছিলেন।

জীবনের সেই অলৌকিক মুহূর্তের কথা বর্ণনা করতে গিয়ে রায়পুরের সেলুন ব্যবসায়ী নারায়ণ সেন বলেন, “২৬ আগস্ট আমরা পথিমধ্যে চায়ের দোকানে একটু জিরিয়ে নেওয়ার জন্য থেমেছিলাম। ঠিক সেই মুহূর্তেই আকস্মিক বন্যাটি আঘাত হানে। আমরা যদি চা না খেয়ে ১০–১৫ মিনিট আগে রওনা দিতাম, তবে আমরা সোজা সেই পাহাড়ি ঢলে ভেসে যেতাম। ওখানে না থামলে আজ আমাদের কী হতো, আমরা নিজেরাও জানি না।”

প্রাথমিক সেই বিপর্যয় থেকে বেঁচে গেলেও পরবর্তী দুই দিন তাঁদের কাটাতে হয়েছে এক চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে। নদীর প্রবল প্লাবন থেকে বাঁচতে তাঁরা তড়িঘড়ি পার্শ্ববর্তী একটি উঁচু পাহাড়ি স্থানে আশ্রয় নেন। সেখান থেকেই দুই দিন ধরে দেখেছেন রূপ নেওয়া ত্রিশূলী নদীর প্রলয়ঙ্করি ও ধ্বংসাত্মক রূপ।

অবশেষে দুই দিন উঁচু আশ্রয়ে কাটে আশঙ্কার প্রহর। উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয়দের সহায়তায় পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে শনিবার (২৯ আগস্ট) অক্ষত ও নিরাপদে নিজেদের ভিটেমাটিতে ফিরে আসেন অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া এই পাঁচ বন্ধু।



Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream