রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

ফরিদপুরে নিম্নমানের কনটেন্টে অতিষ্ঠ মানুষ



ফরিদপুরে নিম্নমানের কনটেন্টে অতিষ্ঠ মানুষ
সদরপুরে নিম্নমানের কনটেন্টে অতিষ্ঠ মানুষ, মানসম্মত কনটেন্টের দাবি

ফরিদপুরের সদরপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিম্নমানের ও অপ্রাসঙ্গিক কনটেন্ট তৈরির প্রবণতা নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জনপ্রিয়তা, ভিউ ও অনুসারী বাড়ানোর আশায় কিছু তরুণ-তরুণী নিয়মিত নানা ধরনের হাস্যরসাত্মক, অপ্রাসঙ্গিক ও সস্তা বিনোদননির্ভর ভিডিও তৈরি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব ভিডিওতে অনেক সময় শিক্ষণীয় কিংবা ইতিবাচক কোনো বার্তা না থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যেও সমালোচনা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে মানুষ যেমন সংবাদ ও তথ্য পেয়ে থাকেন, তেমনি শিক্ষা, বিনোদন ও জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন কনটেন্টও দেখেন। কিন্তু কিছু কনটেন্ট নির্মাতা এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মানসম্মত কিছু উপস্থাপনের পরিবর্তে শুধু দ্রুত ভাইরাল হওয়ার উদ্দেশ্যে অপ্রাসঙ্গিক ভিডিও তৈরি করছেন।

কখনো রাস্তা, বাজার, নদীর পাড়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা জনসমাগমস্থলে বিভিন্ন ধরনের অভিনয়, ঘোরাঘুরি, অযাচিত হাস্যরস, একে অপরকে নিয়ে ঠাট্টা-মশকরা কিংবা কোনো বিষয়কে অতিরঞ্জিত করে ভিডিও বানানো হচ্ছে। এসব ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকে যেমন হাস্যরস হিসেবে গ্রহণ করছেন, তেমনি অনেকেই এগুলোকে বিরক্তিকর ও সময়ের অপচয় হিসেবে দেখছেন।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, কনটেন্ট তৈরি করা বর্তমান সময়ে একটি সম্ভাবনাময় সৃজনশীল ক্ষেত্র। একজন তরুণ তার মেধা, দক্ষতা ও সৃজনশীলতা কাজে লাগিয়ে ভালো কনটেন্ট তৈরি করে নিজের পরিচিতি তৈরি করতে পারেন। জনজীবনের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে সমাজের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

তাদের ভাষ্য, ভিউ বা অনুসারী পাওয়ার প্রতিযোগিতায় কনটেন্টের মানের বিষয়টি উপেক্ষা করা ঠিক নয়। কারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিও অল্প সময়ের মধ্যে হাজার হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারে। ফলে কনটেন্ট নির্মাতাদের নিজেদের দায়িত্বশীলতার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট তৈরি করুক, এতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। বরং ভালো কনটেন্ট তৈরি করলে আমরা উৎসাহ দেব। কিন্তু শুধু মানুষকে হাসানোর নামে অপ্রাসঙ্গিক কর্মকাণ্ড দেখানো কিংবা এমন কিছু করা উচিত নয়, যা সাধারণ মানুষকে বিরক্ত বা বিব্রত করে।”

আরেকজন বলেন, “সদরপুরে অনেক প্রতিভাবান তরুণ-তরুণী রয়েছেন। তারা চাইলে নিজেদের মেধা দিয়ে অনেক ভালো কাজ করতে পারেন। এখানকার নদী, প্রকৃতি, ঐতিহ্য, বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান, কৃষি ও মানুষের জীবনযাপন নিয়ে ভিডিও করলে সেগুলো একদিকে যেমন আকর্ষণীয় হবে, অন্যদিকে সদরপুরের পরিচিতিও বাড়বে।”

সচেতন মহলের মতে, কনটেন্ট নির্মাণের ক্ষেত্রে স্বাধীনতার পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতাও থাকা প্রয়োজন। একটি ভিডিও তৈরি করার আগে সেটি সমাজে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, কারও সম্মান বা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ক্ষুণ্ন হচ্ছে কি না এবং ভিডিওটির কোনো ইতিবাচক বার্তা রয়েছে কি না—এসব বিষয় বিবেচনা করা উচিত।

তারা মনে করছেন, স্থানীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটররা চাইলে সদরপুরের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনাকে তুলে ধরতে পারেন। নদীভাঙন, রাস্তাঘাটের সমস্যা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, কৃষকদের সমস্যা, স্থানীয় বাজার, ঐতিহাসিক স্থাপনা, নদী ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, গ্রামীণ সংস্কৃতি, খেলাধুলা এবং তরুণদের বিভিন্ন সাফল্যের গল্প নিয়ে মানসম্মত কনটেন্ট তৈরি করা সম্ভব।

এতে একদিকে যেমন স্থানীয় সমস্যাগুলো মানুষের নজরে আসবে, অন্যদিকে সদরপুরের ইতিবাচক দিকগুলোও দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কাছে তুলে ধরা যাবে। একই সঙ্গে তরুণ কনটেন্ট নির্মাতারাও দীর্ঘমেয়াদে নিজেদের একটি ইতিবাচক পরিচিতি গড়ে তুলতে পারবেন।

সচেতন নাগরিকরা বলেন, ভিউ ও ফলোয়ার সাময়িক জনপ্রিয়তা এনে দিতে পারে; কিন্তু মানসম্মত ও ইতিবাচক কনটেন্টই একজন কনটেন্ট নির্মাতাকে দীর্ঘদিন দর্শকের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে পারে। তাই সস্তা জনপ্রিয়তার পেছনে না ছুটে সৃজনশীলতা, রুচিশীলতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে কনটেন্ট তৈরির প্রতি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

সদরপুরের সচেতন মহল আশা করছে, স্থানীয় তরুণ কনটেন্ট ক্রিয়েটররা সমালোচনা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের প্রতিভাকে আরও ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাবেন। শিক্ষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য, পর্যটন ও জনসচেতনতামূলক কনটেন্টের মাধ্যমে সদরপুরকে তুলে ধরবেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে গঠনমূলক কাজে ব্যবহারের দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬


ফরিদপুরে নিম্নমানের কনটেন্টে অতিষ্ঠ মানুষ

প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ফরিদপুরের সদরপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিম্নমানের ও অপ্রাসঙ্গিক কনটেন্ট তৈরির প্রবণতা নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জনপ্রিয়তা, ভিউ ও অনুসারী বাড়ানোর আশায় কিছু তরুণ-তরুণী নিয়মিত নানা ধরনের হাস্যরসাত্মক, অপ্রাসঙ্গিক ও সস্তা বিনোদননির্ভর ভিডিও তৈরি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব ভিডিওতে অনেক সময় শিক্ষণীয় কিংবা ইতিবাচক কোনো বার্তা না থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যেও সমালোচনা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে মানুষ যেমন সংবাদ ও তথ্য পেয়ে থাকেন, তেমনি শিক্ষা, বিনোদন ও জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন কনটেন্টও দেখেন। কিন্তু কিছু কনটেন্ট নির্মাতা এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মানসম্মত কিছু উপস্থাপনের পরিবর্তে শুধু দ্রুত ভাইরাল হওয়ার উদ্দেশ্যে অপ্রাসঙ্গিক ভিডিও তৈরি করছেন।

কখনো রাস্তা, বাজার, নদীর পাড়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা জনসমাগমস্থলে বিভিন্ন ধরনের অভিনয়, ঘোরাঘুরি, অযাচিত হাস্যরস, একে অপরকে নিয়ে ঠাট্টা-মশকরা কিংবা কোনো বিষয়কে অতিরঞ্জিত করে ভিডিও বানানো হচ্ছে। এসব ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকে যেমন হাস্যরস হিসেবে গ্রহণ করছেন, তেমনি অনেকেই এগুলোকে বিরক্তিকর ও সময়ের অপচয় হিসেবে দেখছেন।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, কনটেন্ট তৈরি করা বর্তমান সময়ে একটি সম্ভাবনাময় সৃজনশীল ক্ষেত্র। একজন তরুণ তার মেধা, দক্ষতা ও সৃজনশীলতা কাজে লাগিয়ে ভালো কনটেন্ট তৈরি করে নিজের পরিচিতি তৈরি করতে পারেন। জনজীবনের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে সমাজের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

তাদের ভাষ্য, ভিউ বা অনুসারী পাওয়ার প্রতিযোগিতায় কনটেন্টের মানের বিষয়টি উপেক্ষা করা ঠিক নয়। কারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিও অল্প সময়ের মধ্যে হাজার হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারে। ফলে কনটেন্ট নির্মাতাদের নিজেদের দায়িত্বশীলতার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট তৈরি করুক, এতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। বরং ভালো কনটেন্ট তৈরি করলে আমরা উৎসাহ দেব। কিন্তু শুধু মানুষকে হাসানোর নামে অপ্রাসঙ্গিক কর্মকাণ্ড দেখানো কিংবা এমন কিছু করা উচিত নয়, যা সাধারণ মানুষকে বিরক্ত বা বিব্রত করে।”

আরেকজন বলেন, “সদরপুরে অনেক প্রতিভাবান তরুণ-তরুণী রয়েছেন। তারা চাইলে নিজেদের মেধা দিয়ে অনেক ভালো কাজ করতে পারেন। এখানকার নদী, প্রকৃতি, ঐতিহ্য, বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান, কৃষি ও মানুষের জীবনযাপন নিয়ে ভিডিও করলে সেগুলো একদিকে যেমন আকর্ষণীয় হবে, অন্যদিকে সদরপুরের পরিচিতিও বাড়বে।”

সচেতন মহলের মতে, কনটেন্ট নির্মাণের ক্ষেত্রে স্বাধীনতার পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতাও থাকা প্রয়োজন। একটি ভিডিও তৈরি করার আগে সেটি সমাজে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, কারও সম্মান বা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ক্ষুণ্ন হচ্ছে কি না এবং ভিডিওটির কোনো ইতিবাচক বার্তা রয়েছে কি না—এসব বিষয় বিবেচনা করা উচিত।

তারা মনে করছেন, স্থানীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটররা চাইলে সদরপুরের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনাকে তুলে ধরতে পারেন। নদীভাঙন, রাস্তাঘাটের সমস্যা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, কৃষকদের সমস্যা, স্থানীয় বাজার, ঐতিহাসিক স্থাপনা, নদী ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, গ্রামীণ সংস্কৃতি, খেলাধুলা এবং তরুণদের বিভিন্ন সাফল্যের গল্প নিয়ে মানসম্মত কনটেন্ট তৈরি করা সম্ভব।

এতে একদিকে যেমন স্থানীয় সমস্যাগুলো মানুষের নজরে আসবে, অন্যদিকে সদরপুরের ইতিবাচক দিকগুলোও দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কাছে তুলে ধরা যাবে। একই সঙ্গে তরুণ কনটেন্ট নির্মাতারাও দীর্ঘমেয়াদে নিজেদের একটি ইতিবাচক পরিচিতি গড়ে তুলতে পারবেন।

সচেতন নাগরিকরা বলেন, ভিউ ও ফলোয়ার সাময়িক জনপ্রিয়তা এনে দিতে পারে; কিন্তু মানসম্মত ও ইতিবাচক কনটেন্টই একজন কনটেন্ট নির্মাতাকে দীর্ঘদিন দর্শকের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে পারে। তাই সস্তা জনপ্রিয়তার পেছনে না ছুটে সৃজনশীলতা, রুচিশীলতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে কনটেন্ট তৈরির প্রতি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

সদরপুরের সচেতন মহল আশা করছে, স্থানীয় তরুণ কনটেন্ট ক্রিয়েটররা সমালোচনা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের প্রতিভাকে আরও ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাবেন। শিক্ষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য, পর্যটন ও জনসচেতনতামূলক কনটেন্টের মাধ্যমে সদরপুরকে তুলে ধরবেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে গঠনমূলক কাজে ব্যবহারের দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream