জামালপুর শহর ও আশপাশের উপজেলায় গত এক সপ্তাহে পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। নিহতদের মধ্যে এক কলেজছাত্রী, দুই জন গৃহবধূ, এক জন কিশোরী ও এক জন ব্যবসায়ী রয়েছে ।
পুলিশ জানায়, ২৩ আগস্ট জামালপুর শহরের শেখের ভিটা রেলক্রসিং এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে ইশরাত জাহান মিমি (৩০) নামের এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার হয়। এ ঘটনায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নিহতের স্বামীকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করে।
২৭ আগস্ট মাদারগঞ্জ উপজেলার জাঙ্গালিয়া পূর্বপাড়া এলাকায় নিজের দোকান থেকে সামিউল ইসলাম ফকির আলী (৪৫) নামের এক ভাঙারি ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার হয়। তিনি ওই দোকানেই রাতযাপন করতেন। সারাদিন দোকান বন্ধ থাকায় সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যরা তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তার নিথর দেহ দেখতে পান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
২৮ আগস্ট মাদারগঞ্জ উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের একটি কৃষিজমির পাশের সেচপাম্পের ঘর থেকে রূপসী আক্তার (১৬) নামের এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। আগের রাত থেকেই সে নিখোঁজ ছিল।
একই দিন রাতে জামালপুর শহরের দক্ষিণ কাচারীপাড়ার একটি ভাড়া বাসা থেকে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান রিমার (২৫) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ । বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ।
২৯ আগস্ট নান্দিনা রেলস্টেশনসংলগ্ন একটি ভাড়া বাসা থেকে শারমিন আক্তার (২৬) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হয় ।
এব্যাপারে জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইয়াহিয়া আল মামুন জানান, প্রতিটি ঘটনাই পুলিশ তদন্ত করছে। বিশেষজ্ঞদের মতামতসহ প্রয়োজনীয় তথ্য আদালতে উপস্থাপন করা হচ্ছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সামাজিক অবক্ষয় রোধ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় বিট পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বিভিন্ন মসজিদে জঙ্গিবাদ, বাল্যবিবাহ, মাদকাসক্তি, হত্যা ও আত্মহত্যার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে সচেতনতামূলক বার্তাও প্রচার করা হচ্ছে।
জামালপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. আজিজুল হক বলেন, মাদকাসক্তি ও আত্মহত্যা প্রতিরোধে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সচেতন করা হচ্ছে। তরুণ প্রজন্মকে মানসিক অবসাদ থেকে দূরে রাখতে এবং যেকোনো ধরনের মানসিক সমস্যায় স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত এসব ঘটনা কমাতে সামাজিক, পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে আরও ব্যাপক সচেতনতা প্রয়োজন।
মতামত