পটুয়াখালীর বাউফলে রমিজ মৃধা (৩৮) নামে এক যুবদল নেতাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চরকচুয়া গ্রামের বেল্লাল মল্লিকের দোকানের পাশে এ ঘটনা ঘটে। আহত রমিজ মৃধা ওই ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তিনি স্থানীয় মৃত পঞ্চম আলী মৃধার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রমিজ মৃধা বেল্লাল মল্লিকের দোকানের পাশে দাঁড়িয়ে মুঠোফোনে কথা বলছিলেন। এ সময় জিসান মৃধা (২০), কামাল, সাইদ হাওলাদার ও ভুট্টু হাওলাদারসহ ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল তাঁর ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
একপর্যায়ে হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে রমিজ মৃধাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে বলে অভিযোগ করা হয়। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে এবং হাতে গুরুতর জখম হয়। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর গুরুতর আঘাতের কারণে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় এক সপ্তাহ আগে জিসানকে মাদক সেবনের অভিযোগে বকাঝকা করেছিলেন রমিজ মৃধা। পরে গত মঙ্গলবার ৫০ হাজার টাকা চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে জিসানকে মারধর করেন রমিজ এমন দাবি স্থানীয়দের। ওই ঘটনার জের ধরে গতকাল শনিবারের হামলা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন তাঁরা। তবে হামলার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মামুনুর রশিদ বলেন, ‘রমিজ মৃধার হাতে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মতামত