হিমবাহধসের পর নেপাল ও তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় নতুন করে বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত বুধবারের ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের পর ওই অঞ্চলে দুটি নতুন হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে একটি হ্রদের পানি উপচে পড়তে শুরু করায় ভাটির জনপদে আবারও ধ্বংসাত্মক ঢল নামার আশঙ্কায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এখন পর্যন্ত এই দুর্যোগে ৬২৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ২ হাজার ৪০০ জনের বেশি। নতুন বিপদের আশঙ্কায় একপর্যায়ে রাসুয়া জেলায় উদ্ধার অভিযানও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছিল।
বিজ্ঞানীদের মতে, হিমবাহধসের পর বরফ, পাথর, কাদা ও ধ্বংসাবশেষ নদীর গতিপথে জমে প্রাকৃতিক বাঁধের সৃষ্টি করে। এর পেছনে পানি আটকে তৈরি হয় নতুন হ্রদ। একটি হ্রদ উঁচু এলাকায় হিমবাহের গলা পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে। অন্যটি তুলনামূলক বড় এবং বেশি ঝুঁকিপূর্ণ—লেন্দে নদীর প্রবাহপথ ভূমিধসে বন্ধ হয়ে এটি তৈরি হয়েছে।
সবচেয়ে বড় শঙ্কা প্রাকৃতিক বাঁধটি নিয়ে। আলগাভাবে জমে থাকা পাথর, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের এই বাঁধ হঠাৎ ভেঙে গেলে বিপুল পানি কাদা-পাথরসহ দ্রুতগতিতে ভাটির দিকে ধেয়ে যেতে পারে। এতে জনপদ, জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, টানেলে আটকে থাকা মানুষ এবং উদ্ধারকর্মীরা নতুন করে মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বেন।
চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, হ্রদটিতে ইতোমধ্যে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ ঘনমিটার পানি জমেছে। আগামী কয়েক দিনে আরও প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি সেখানে প্রবেশ করতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
দুর্গম ও খাড়া পাহাড়ি অবস্থানের কারণে হ্রদটিতে পৌঁছে নিয়ন্ত্রিতভাবে পানি বের করে দেওয়া অত্যন্ত কঠিন। তাই প্রকৌশলীরা স্যাটেলাইট ও আকাশপথে জরিপের মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হিমবাহধস ও প্রাকৃতিক বাঁধের সৃষ্টি হয়তো ঠেকানো সম্ভব ছিল না। তবে উন্নত স্যাটেলাইট নজরদারি, নদীর প্রবাহ দ্রুত পর্যবেক্ষণ এবং কার্যকর আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা থাকলে ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব হতো। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—প্রাকৃতিক বাঁধটি টিকে থাকবে, নাকি ভেঙে আবারও নেমে আসবে প্রাণঘাতী পাহাড়ি ঢল।
মতামত