চুয়াডাঙ্গায় আবহাওয়া জনিত কারণে নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে৷ প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৫৫ শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হচ্ছে সদর হাসপাতালে। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে শয্যার তুলনায় বেড়েছে কয়েকগুণ রোগীর চাপ।
গত সাত দিনে নিউমোনিয়া আক্রান্তে চিকিৎসা নিয়েছে ৩৫০ শিশু। অতিরিক্ত রোগীর চাপে শয্যা সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে অনেক শিশুকে মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
সরেজমিনে সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, শিশু ওয়ার্ডে ২২টি শয্যার বিপরীতে রোগি ভর্তি আছে সোমবার(৩১ আগস্ট) রাত ৯টা পর্যন্ত ৪৫ জন। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যাই অতিরিক্ত বেশি হওয়ার কারণে শয্যা সংকট তীব্র আকার ধারণ করায় অনেক শিশুকে মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
এতে রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি যেমন বাড়ছে, তেমনি সীমিত জনবল দিয়ে অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও নার্সদের। অতিরিক্ত রোগী ও স্বজনের উপস্থিতিতে ওয়ার্ডজুড়ে তৈরি হয়েছে ভিড় ও অস্বস্তিকর পরিবেশ। শিশুদের চিকিৎসার পাশাপাশি তাদের সঙ্গে থাকা অভিভাবকদেরও দীর্ঘ সময় ওয়ার্ডে অবস্থান করতে হচ্ছে।
নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশু জুবায়ের হোসেনের মা সোনিয়া খাতুন বলেন, 'আবহাওয়া জনিত কারণে নিউমোনিয়া ছড়াচ্ছে বেশি। গরম বেশি পড়ছে দিনের বেলাতে। এ জন্য নিউমোনিয়ার প্রকোপ বাড়ছে। হাসপাতালে তিন দিন ধরে আছি। আগের থেকে একটু ভালো আছে বাচ্চা। তবে রোগীর চাপে বেড পাইনি।'
আরেক রোগীর বাবা হাসানুজ্জামান বলেন, 'ছেলের এক সপ্তাহ ধরে ঠান্ডা ও জ্বর ছিল। প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেওয়া হয়েছিল। সেখানে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। ভালো চিকিৎসার কারণে এখন মোটামুটি ভালো আছে। তবে অনেক রোগীর চাপ।'
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাঃ ফারহানা ওয়াহিদ তানি বলেন, 'অতিরিক্ত গরমের কারণে শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া, ঠান্ডাসহ বিভিন্ন রোগের প্রকোপ দেখা যাচ্ছে। শিশুরা বেশি ঘামছে এবং আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে নানা ধরনের অসুস্থতায় আক্রান্ত হচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরে এ কারণে শিশু ওয়ার্ডে রোগীর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। রোগীর চাপ সামলাতে চিকিৎসক ও নার্সদেরও অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হচ্ছে। '
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মাহবুবুর রহমান মিলন বলেন, 'মাঝেমধ্যে বৃষ্টি আবার গরম। এই আবহাওয়া পরিবর্তনের শিশুরা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। এতে আতঙ্ক হওয়ার কিছু নেই। দরকার সচেতন। তাই শিশুদের প্রতি অভিভাবকদের বাড়তি যত্নশীল হতে হবে। '
তিনি আরও বলেন, 'নবজাতক ও ছোট শিশুকে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো অব্যাহত রাখতে হবে। ছয় মাস বয়সের পর বয়স উপযোগী পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত তরল দিতে হবে। শিশুর অসুস্থতার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক বা অন্য কোনো ওষুধ ব্যবহার না করার বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।'
মতামত