দীর্ঘ ১৭ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকার পর আবারও রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবার উদযাপিত হচ্ছে ক্ষমতাসীন দল হিসেবে। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন সেনাপ্রধান ও পরে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন।
জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর বিভিন্ন সময়ে দলটি রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক নানা সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। বিশেষ করে ১৯৮০-এর দশকে সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনের সময় একাধিকবার ভাঙনের পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে দলটির নেতাদের মতে, সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে কঠিন সময় পার করতে হয়েছে ২০০৭ সালের পরের ১৭ বছরে।
এই সময়ে একদিকে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাবন্দি ছিলেন, অন্যদিকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ছিলেন দেশের বাইরে। পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, মামলা ও সাংগঠনিক চাপের মধ্যেও বিএনপির ভেতরে বড় ধরনের ভাঙন দেখা যায়নি।
দলটির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ সময়ের শাসনামলে বিএনপি নানা বাধার মুখে পড়লেও সাংগঠনিকভাবে নিজেদের ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। তাদের মতে, তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সক্রিয়তা এবং দলের প্রতি সমর্থকদের দীর্ঘস্থায়ী আস্থা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর আশির দশকে দলটি যে ধরনের বিভক্তি ও নেতৃত্ব সংকটের মুখে পড়েছিল, ২০০৭ সালের পরের পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। এত দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থেকেও দলটি বড় ধরনের ভাঙনের শিকার হয়নি।
কীভাবে এত প্রতিকূলতার মধ্যেও বিএনপি টিকে থাকল—এ প্রশ্নে দলটির জ্যেষ্ঠ নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ব্যাখ্যা, প্রয়াত খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপির রাজনৈতিক নীতি ও আদর্শ সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। তাঁর মতে, এ কারণেই কঠিন পরিস্থিতিতেও দলটির প্রতি জনসমর্থন দৃশ্যমান ছিল এবং সেই সমর্থনই বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকতে সহায়তা করেছে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রতিকূলতা পেরিয়ে এবার ক্ষমতায় থেকে ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে দলটি। ফলে এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বিএনপির জন্য একই সঙ্গে অতীতের সংগ্রাম এবং নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
মতামত