সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ ১১ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অনুমোদিত হয়েছে ‘জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬’। সোমবার (৩১ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন এই পে স্কেলের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম সরকারি সব গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য মোবাইল ভাতা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বর্তমান যুগে ইন্টারনেট ও ডিজিটাল যোগাযোগের অপরিহার্যতা বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতদিন কেবল পঞ্চম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা মোবাইল ভাতা পেলেও নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে ১ম থেকে ২০তম—সব গ্রেডের কর্মীরাই এই সুবিধার আওতায় আসবেন।
নতুন পে স্কেলে ১ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা এবং ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য সর্বনিম্ন মূল বেতন ধরা হয়েছে ২০ হাজার টাকা।
কম পেনশনভোগীদের জন্য বিশেষ স্বস্তি: তুলনামূলক কম পেনশন পান এমন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের পেনশন বেশি হারে বাড়ানো হচ্ছে। এর ফলে সর্বনিম্ন পেনশনপ্রাপ্তদের নিট পেনশন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।
দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বিদ্যমান মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং কর্মচারীদের জীবনমানের ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার এই পে স্কেল অনুমোদন করেছে।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর পরবর্তী ৫৫ বছরে দেশে মোট ৮টি জাতীয় পে স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল, যার সর্বশেষটি বাস্তবায়িত হয় ২০১৫ সালে। দীর্ঘ ১১ বছর ধরে নির্দিষ্ট ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট চালু থাকলেও পূর্ণাঙ্গ নতুন পে স্কেল না থাকায় মূল্যস্ফীতির সাথে সঙ্গতি রাখা কঠিন হয়ে পড়েছিল। সরকারের এই সিদ্ধান্ত সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক সুরক্ষার পাশাপাশি সার্বিক জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মতামত