টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জহিরুল আলমের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী।
সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারেক আজিজ, মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল মামুন, মির্জাপুর পৌর বিএনপির সভাপতি হযরত আলী মিয়া, মির্জাপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল মহসীন শিপনসহ আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী বলেন, “দুর্নীতি একটি দেশের উন্নয়নের প্রথম অন্তরায়। আমি নিজে দুর্নীতি করব না, আমার মির্জাপুরে কাউকে দুর্নীতি করতে দেব না।”
তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করলে সমাজ থেকে দুর্নীতি দূর করা সম্ভব। মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যেখানে মাদকের খবর পাওয়া যাবে, সেখানেই অভিযান পরিচালনা করতে হবে। মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত একটি সুন্দর, স্বচ্ছ মির্জাপুর গঠনে প্রশাসনের সঙ্গে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও জহিরুল আলম বলেন, বর্তমানে মাদকবিরোধী আইন অত্যন্ত স্বচ্ছ ও পরিমার্জিত। মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে আসামিরা দ্রুত জামিন পেয়ে যাওয়ায় মাদক নিয়ন্ত্রণে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এ বিষয়ে বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের মধ্যে আরও সমন্বয় প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সভায় মির্জাপুরে অটোরিকশার দৌরাত্ম্য নিয়েও গুরুত্ব সহকারে আলোচনা হয়। অতিরিক্ত অটোরিকশা চলাচলের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও যানজটের বিষয়টি তুলে ধরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ সময় মির্জাপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল মহসীন শিপন সাংবাদিকতার পেশাগত মর্যাদা রক্ষার বিষয়ে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, সাংবাদিকতা একটি মহৎ পেশা। তবে কিছু নামধারী সাংবাদিকের কর্মকাণ্ডের কারণে এ পেশার সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে গিয়ে মানুষকে হয়রানি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে—এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
সভায় উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদক ও সন্ত্রাস দমন, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
মতামত