সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

দেশ ছাড়ার নির্দেশের বিরুদ্ধে বম্বে হাইকোর্টে ইমরান খান



দেশ ছাড়ার নির্দেশের বিরুদ্ধে বম্বে হাইকোর্টে ইমরান খান
দেশ ছাড়ার নির্দেশের বিরুদ্ধে বম্বে হাইকোর্টে ইমরান খান

ভারত সরকারের কাছ থেকে অভিনেতা ইমরান খান দেশত্যাগের নির্দেশ পেয়ে বম্বে হাইকোর্টের শরণাপন্ন হলেন। হাইকোর্টে আবেদন জানিয়ে তাঁর আইনজীবীরা গতকাল শনিবার বলেছেন, এই নির্দেশ একতরফা, অকারণ এবং ভুল ধারণাপ্রসূত। তা ছাড়া ‘ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া’ বা ‘ওসিআই’ কার্ড প্রাপকদের এমন শর্তও দেওয়া নেই যে তাঁরা কোনো বিক্ষোভ দেখাতে পারবেন না।

বম্বে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি মহেশচন্দ্র ত্রিপাঠির এজলাসে আগামীকাল সোমবার এই আবেদনের শুনানি হতে পারে। ইমরানের আরজি, দ্রুত এই আবেদনের নিষ্পত্তি করা হোক।

ইমরানকে ২৮ অক্টোবরের মধ্যে দেশত্যাগের নির্দেশ দিয়েছিল ‘ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস’ (এফআরআরও)। ইমরানের আইনজীবীরা ওই নির্দেশকে ‘অসাংবিধানিক’ বলেছেন।

ইমরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিদেশি নাগরিক হয়েও তিনি ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিবাদ মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন। সে কারণেই তড়িঘড়ি দেশত্যাগের নির্দেশ। তাঁকে জানানো হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক তিনি। ওসিআই কার্ডধারীও। যদিও সেই কার্ড প্রাপকেরা দেশে কোনো সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নিতে পারেন না।

ইমরান ওই নির্দেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে গিয়েছেন। তাঁর আরজি, প্রথমত, এমন কোনো শর্ত ওসিআই কার্ডধারীদের জন্য নেই। দ্বিতীয়ত, তিনি কোনো দলের সদস্য নন। কোনো বিক্ষোভের মধ্যে গিয়ে পড়া এবং বিনা বাধায় চলাচলের অধিকার থাকার বিষয়ে মন্তব্য করা অপরাধ হতে পারে না। তৃতীয়ত, বক্তব্য না শুনেই তাঁকে দেশত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গোটা বিষয়ই অসাংবিধানিক, একতরফা ও ভুল ধারণাপ্রসূত। আবেদনে বলা হয়েছে, এটা ‘সরকারি ঔদ্ধত্য ও ক্ষমতার অপব্যবহারের চরমতম নিদর্শন’।

ইমরানের আরজি, তাঁর আবেদনের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনো দমনমূলক ব্যবস্থা যেন না নেওয়া হয়। তাঁকে যেন জবরদস্তি বিদেশে পাঠানো না হয়। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ‘লুক আউট’ নেটিশও যেন জারি করা না হয়।

লক্ষণীয়, ইমরান যেদিন বম্বে হাইকোর্টে আবেদন জানাচ্ছেন, সেদিনই এফআরআরও তাঁকে আরও এক নোটিশ পাঠায়। সেই নোটিশ আদতে একটা শোকজ বা কারণ দর্শানোর চিঠি। তাতে বলা হয়েছে, কেন তাঁর ওসিআই কার্ড বাতিল করা হবে না।

ইমরানের আইনজীবীদের কাছে এটা একটা বড় হাতিয়ার। প্রশ্ন উঠছে, তড়িঘড়ি দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ার পর তাঁকে শোকজ করা হলো কেন। তা হলে কি ধরে নিতে হবে, ইমরানের বক্তব্য না শুনেই তাঁকে দেশত্যাগের নির্দেশ দেওয়াটা ভুল হয়েছিল। সেই স্বীকারোক্তিরই নিদর্শন ওই দ্বিতীয় নোটিশ। ওই নোটিশের মধ্য দিয়ে এটাও বোঝা যাচ্ছে, এফআরআরও প্রথামাফিক ব্যবস্থা নেয়নি। তাই ত্রুটি সংশোধনের চেষ্টা করছে।

ইমরানের আইনজীবী জুলফিকার মেমন দ্বিতীয় নোটিশ সম্পর্কে গণমাধ্যমে বলেন, ‘নতুন নোটিশটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আদালতে শুনানির সময় এই দ্বিতীয় নোটিশের বিষয়টি স্পষ্ট হবে। আমরা জানতে চাইব, কোন নোটিশ প্রণিধানযোগ্য। প্রথমটি, না দ্বিতীয়টি। দ্বিতীয় নোটিশটি গুরুত্বপূর্ণ হলে প্রথমটি অকার্যকর হয়ে যায়।

ইমরান তাঁর আবেদনে বলেছেন, তাঁকে বলির পাঁঠা করা হচ্ছে। মনে হচ্ছে, এর মধ্যে অন্য কোনো কারণ আছে। বলা হয়েছে, সংবিধানের ১৪ অনুচ্ছেদ ওসিআই কার্ডধারীদের সমতার অধিকার দিয়েছে, ২১ অনুচ্ছেদ দিয়েছে জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার সুরক্ষার অধিকার। ওই নোটিশ স্থগিত রাখার আবেদন জানিয়ে বলা হয়েছে, তা না হলে এটা হবে ন্যায়বিচারের নীতির পরিপন্থী। তা হবে ভারতীয় সংবিধানকে উপহাসের শামিল। বোঝাই যাচ্ছে, ওই নোটিশ, যেখানে তাঁকে দেশত্যাগ করে চলে যেতে বলা হয়েছে, তা জারি করার আগে একেবারও ভাবনাচিন্তা করা হয়নি। খেয়ালের বশে সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে।

দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে বিপজ্জনক মনে করা হলে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ওসিআই কার্ড বাতিল করে দিতে পারে। নাগরিকত্ব আইনের ৭ডি (ই) ধারায় সেই অধিকার দেওয়া হয়েছে।

৪৪ বছর বয়সী অভিনেতা ইমরান খান ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যে তাঁর জন্ম। তিনি জনপ্রিয় অভিনেতা আমির খানের ভাগনে।

বিষয় : ভারত হাইকোর্ট সরকার এশিয়া

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬


দেশ ছাড়ার নির্দেশের বিরুদ্ধে বম্বে হাইকোর্টে ইমরান খান

প্রকাশের তারিখ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ভারত সরকারের কাছ থেকে অভিনেতা ইমরান খান দেশত্যাগের নির্দেশ পেয়ে বম্বে হাইকোর্টের শরণাপন্ন হলেন। হাইকোর্টে আবেদন জানিয়ে তাঁর আইনজীবীরা গতকাল শনিবার বলেছেন, এই নির্দেশ একতরফা, অকারণ এবং ভুল ধারণাপ্রসূত। তা ছাড়া ‘ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া’ বা ‘ওসিআই’ কার্ড প্রাপকদের এমন শর্তও দেওয়া নেই যে তাঁরা কোনো বিক্ষোভ দেখাতে পারবেন না।

বম্বে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি মহেশচন্দ্র ত্রিপাঠির এজলাসে আগামীকাল সোমবার এই আবেদনের শুনানি হতে পারে। ইমরানের আরজি, দ্রুত এই আবেদনের নিষ্পত্তি করা হোক।

ইমরানকে ২৮ অক্টোবরের মধ্যে দেশত্যাগের নির্দেশ দিয়েছিল ‘ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস’ (এফআরআরও)। ইমরানের আইনজীবীরা ওই নির্দেশকে ‘অসাংবিধানিক’ বলেছেন।

ইমরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিদেশি নাগরিক হয়েও তিনি ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিবাদ মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন। সে কারণেই তড়িঘড়ি দেশত্যাগের নির্দেশ। তাঁকে জানানো হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক তিনি। ওসিআই কার্ডধারীও। যদিও সেই কার্ড প্রাপকেরা দেশে কোনো সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নিতে পারেন না।

ইমরান ওই নির্দেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে গিয়েছেন। তাঁর আরজি, প্রথমত, এমন কোনো শর্ত ওসিআই কার্ডধারীদের জন্য নেই। দ্বিতীয়ত, তিনি কোনো দলের সদস্য নন। কোনো বিক্ষোভের মধ্যে গিয়ে পড়া এবং বিনা বাধায় চলাচলের অধিকার থাকার বিষয়ে মন্তব্য করা অপরাধ হতে পারে না। তৃতীয়ত, বক্তব্য না শুনেই তাঁকে দেশত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গোটা বিষয়ই অসাংবিধানিক, একতরফা ও ভুল ধারণাপ্রসূত। আবেদনে বলা হয়েছে, এটা ‘সরকারি ঔদ্ধত্য ও ক্ষমতার অপব্যবহারের চরমতম নিদর্শন’।

ইমরানের আরজি, তাঁর আবেদনের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনো দমনমূলক ব্যবস্থা যেন না নেওয়া হয়। তাঁকে যেন জবরদস্তি বিদেশে পাঠানো না হয়। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ‘লুক আউট’ নেটিশও যেন জারি করা না হয়।

লক্ষণীয়, ইমরান যেদিন বম্বে হাইকোর্টে আবেদন জানাচ্ছেন, সেদিনই এফআরআরও তাঁকে আরও এক নোটিশ পাঠায়। সেই নোটিশ আদতে একটা শোকজ বা কারণ দর্শানোর চিঠি। তাতে বলা হয়েছে, কেন তাঁর ওসিআই কার্ড বাতিল করা হবে না।

ইমরানের আইনজীবীদের কাছে এটা একটা বড় হাতিয়ার। প্রশ্ন উঠছে, তড়িঘড়ি দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ার পর তাঁকে শোকজ করা হলো কেন। তা হলে কি ধরে নিতে হবে, ইমরানের বক্তব্য না শুনেই তাঁকে দেশত্যাগের নির্দেশ দেওয়াটা ভুল হয়েছিল। সেই স্বীকারোক্তিরই নিদর্শন ওই দ্বিতীয় নোটিশ। ওই নোটিশের মধ্য দিয়ে এটাও বোঝা যাচ্ছে, এফআরআরও প্রথামাফিক ব্যবস্থা নেয়নি। তাই ত্রুটি সংশোধনের চেষ্টা করছে।

ইমরানের আইনজীবী জুলফিকার মেমন দ্বিতীয় নোটিশ সম্পর্কে গণমাধ্যমে বলেন, ‘নতুন নোটিশটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আদালতে শুনানির সময় এই দ্বিতীয় নোটিশের বিষয়টি স্পষ্ট হবে। আমরা জানতে চাইব, কোন নোটিশ প্রণিধানযোগ্য। প্রথমটি, না দ্বিতীয়টি। দ্বিতীয় নোটিশটি গুরুত্বপূর্ণ হলে প্রথমটি অকার্যকর হয়ে যায়।

ইমরান তাঁর আবেদনে বলেছেন, তাঁকে বলির পাঁঠা করা হচ্ছে। মনে হচ্ছে, এর মধ্যে অন্য কোনো কারণ আছে। বলা হয়েছে, সংবিধানের ১৪ অনুচ্ছেদ ওসিআই কার্ডধারীদের সমতার অধিকার দিয়েছে, ২১ অনুচ্ছেদ দিয়েছে জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার সুরক্ষার অধিকার। ওই নোটিশ স্থগিত রাখার আবেদন জানিয়ে বলা হয়েছে, তা না হলে এটা হবে ন্যায়বিচারের নীতির পরিপন্থী। তা হবে ভারতীয় সংবিধানকে উপহাসের শামিল। বোঝাই যাচ্ছে, ওই নোটিশ, যেখানে তাঁকে দেশত্যাগ করে চলে যেতে বলা হয়েছে, তা জারি করার আগে একেবারও ভাবনাচিন্তা করা হয়নি। খেয়ালের বশে সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে।

দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে বিপজ্জনক মনে করা হলে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ওসিআই কার্ড বাতিল করে দিতে পারে। নাগরিকত্ব আইনের ৭ডি (ই) ধারায় সেই অধিকার দেওয়া হয়েছে।

৪৪ বছর বয়সী অভিনেতা ইমরান খান ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যে তাঁর জন্ম। তিনি জনপ্রিয় অভিনেতা আমির খানের ভাগনে।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream