ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের নাগরিক সেবা পেতে এখন থেকে ঘরে বসেই অনলাইনে আবেদন করা যাবে। সামরিক ভূমি ও ক্যান্টনমেন্ট অধিদপ্তরের উদ্যোগে দেশের সব ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের নাগরিক সেবা সরকারি ‘মাইগভ’ প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা হয়েছে। এর আওতায় ১৯টি মৌলিক সেবার বিপরীতে তৈরি করা হয়েছে ১৮৫টি অনলাইন আবেদন ফর্ম।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের আওতাধীন অ্যাসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রোগ্রামের সহযোগিতায় এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
আগে ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের নাগরিক সেবা পেতে আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে সশরীরে গিয়ে আবেদন জমা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল, ফি পরিশোধ ও সনদ সংগ্রহ করতে হতো। একটি সেবা পেতেও একাধিকবার যাতায়াতের প্রয়োজন হতো। এতে নাগরিকদের সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়তে হতো।
এই ভোগান্তি কমাতে প্রথমে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের দুটি নাগরিক সেবা মাইগভ প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়। পাইলট কার্যক্রম সফল হওয়ার পর বাকি ১৪টি ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের সেবা ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এ লক্ষ্যে ২০২৬ সালের মার্চে তিনটি সেবা বিশ্লেষণ কর্মশালা আয়োজন করা হয়। সংশ্লিষ্ট ১৪টি ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এতে অংশ নেন। কর্মশালায় ৬৩ ধরনের নাগরিক সেবা পর্যালোচনা করে ডিজিটালাইজেশনের জন্য ১৯টি মৌলিক সেবা চিহ্নিত করা হয়। এসব সেবার জন্য বিভিন্ন ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডে ব্যবহারের উপযোগী ১৮৫টি অনলাইন আবেদন ফর্ম তৈরি করা হয়।
পরে ২০২৬ সালের জুন ও জুলাই মাসে সাতটি অঞ্চলভিত্তিক যাচাই কর্মশালার মাধ্যমে আবেদন ফর্ম, সেবা ফি, সেবা প্রদানের কার্যপ্রবাহ ও টেমপ্লেট যাচাই করে চূড়ান্ত করা হয়। আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে সব ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের ক্যান্টনমেন্ট এক্সিকিউটিভ অফিসারসহ ১৪০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
মাইগভ প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়া সেবাগুলোর মাধ্যমে নাগরিকরা অনলাইনে আবেদন, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ফি পরিশোধ এবং কিউআর কোডযুক্ত সনদ বা সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। পাশাপাশি আবেদনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ ও সেবা সম্পর্কে মতামত দেওয়ার সুযোগও থাকবে।
অন্যদিকে, ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডগুলো একই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ, যাচাই, তদন্ত, প্রক্রিয়াকরণ ও নিষ্পত্তি করতে পারবে। এতে দাপ্তরিক কাজে গতি বাড়ার পাশাপাশি কাগজের ব্যবহার কমানো এবং সেবা ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
সরকারি সেবা সহজীকরণ ও ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মতামত