বরিশালে সরকারি বরিশাল কলেজের পুকুর ভরাটের অভিযোগ উঠেছে কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। পুকুর ভরাট করে সেখানে ছাত্রাবাস নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে ভরাটের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে বরিশাল সিটি করপোরেশন। অন্যদিকে, পরিবেশ অধিদপ্তর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুকুর ভরাটের সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছে। এ বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষকে নোটিশ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি বরিশাল কলেজের পুকুরটির আয়তন একসময় প্রায় ৩০ শতাংশ ছিল। গত শনিবার (১৭ অক্টোবর ২০২৬) সন্ধ্যার পর থেকে ট্রাকে করে বালু এনে পুকুরে ফেলা শুরু হয়। রাতের মধ্যে পুকুরটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকায় বালু ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুকুরটির দক্ষিণ পাশের কিছু অংশ আগেই ভরাট করা হয়েছিল বলেও সরেজমিনে দেখা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম টিপুর সহায়তায় পুকুর ভরাটের কাজ শুরু হয়। তবে টিপু সাংবাদিকদের বলেন, এটি একটি ডোবা এবং সেখানে অশ্বিনী কুমার দত্তের নামে ছাত্রাবাস নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষই সেখানে বালু ফেলছে বলে জানান তিনি। তাঁর দাবি, জায়গাটি কলেজের; সিটি করপোরেশনের নয়।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) বরিশাল বিভাগীয় সমন্বয়ক লিংকন বায়েন বলেন, কলেজের পুকুরটি বাউন্ডারির বাইরে অবস্থিত। এটি ভরাটের চেষ্টা দীর্ঘদিন ধরে চলছে এবং এ নিয়ে পরিবেশবাদীরা আন্দোলনও করেছেন। তাঁর মতে, পুকুরটি স্থানীয় বাসিন্দাদের পানির চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখত। সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জলাশয় ভরাট করা পরিবেশ আইনের লঙ্ঘন।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদ শাখার প্রধান মো. লকিতুল্লাহ শিকদার জানান, প্রশাসকের নির্দেশে রোববার (১৮ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে তাঁরা ঘটনাস্থলে যান। এ সময় কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলে পুকুর ভরাট বন্ধ রাখার আইনি বাধ্যবাধকতা জানানো হয়। অধ্যক্ষ কাজ বন্ধ রাখার আশ্বাস দিয়েছেন। অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
কর্মকর্তারা জানান, প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন, ২০০০ অনুযায়ী মহানগর এলাকায় পুকুরসহ নির্ধারিত জলাধারের শ্রেণি পরিবর্তন ও ভরাটের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শাস্তির বিধানও রয়েছে।
এ বিষয়ে সরকারি বরিশাল কলেজের অধ্যক্ষ ড. মহিউদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, কলেজের গঠিত তিন সদস্যের একটি কমিটি ভরাটের কাজের দায়িত্বে ছিল। ছাত্রদলের সভাপতি টিপু স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় সেখানে নিয়মিত থাকেন।
পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে রোববার সকালে ঘটনাস্থলে লোক পাঠানো হয়। তাঁরা পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে পুকুর ভরাটের সত্যতা পেয়েছেন। এ বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষকে নোটিশ দেওয়া হচ্ছে।
পুকুর ভরাটের বৈধতা, জমির শ্রেণি এবং ছাত্রাবাস নির্মাণের অনুমোদন নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও নথিপত্র পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
মতামত