বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

যুক্তরাষ্ট্রের চাপে আত্মসমর্পণ করবে না কিউবা: দিয়াজ-ক্যানেল


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
| ফটো কার্ড

যুক্তরাষ্ট্রের চাপে আত্মসমর্পণ করবে না কিউবা: দিয়াজ-ক্যানেল
যুক্তরাষ্ট্রের চাপে আত্মসমর্পণ করবে না কিউবা: দিয়াজ-ক্যানেল

যুক্তরাষ্ট্র যত চাপই প্রয়োগ করুক, প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-ক্যানেল জানিয়েছেন কিউবা আত্মসমর্পণ করবে না। তিনি একই সঙ্গে কিউবা অর্থনৈতিক পতনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে এমন দাবিও প্রত্যাখ্যান করেছেন। ব্রাজিলের সংবাদপত্র ফোলহা দে এস.পাওলোর বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আনাদোলু।

দিয়াজ-ক্যানেল বলেন, কিউবার আগ্রহ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপে বসার বিষয়ে। এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি হয়নি দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা হলেও এবং কোনো আলোচ্যসূচিও নির্ধারিত হয়নি।

তিনি বলেন, হাভানা আগ্রহী ওয়াশিংটনের সঙ্গে সংলাপের পথ তৈরি করতে। তবে দমন-পীড়নের পরিবেশে কোনো আলোচনা সম্ভব নয়। কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই সংলাপের পথ খুঁজে বের করতে হবে।

কিউবার বিপ্লবের পতন ঘটাতে দেশটির অর্থনীতিকে দুর্বল করে সামাজিক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে অভিযুক্ত করেন দিয়াজ-ক্যানেল। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওয়াশিংটন কিউবার সামনে থাকা সব ধরনের বিকল্প পথ বন্ধ করে দিতে চাইছে।

জ্বালানি, বিদ্যুৎ, খাদ্য ও ওষুধের সংকটের মধ্যেও কিউবা অর্থনৈতিক পতনের কাছাকাছি রয়েছে এমন দাবি নাকচ করে তিনি বলেন, দেশটি একটি জটিল সময় পার করছে। তবে এই পরিস্থিতির মধ্যেও কিউবার জনগণের সৃজনশীলতা ও ঐতিহাসিক সহনশীলতা রয়েছে।

দেশটির সরকারি আমলাতন্ত্র এবং সংস্কার বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে বলেও স্বীকার করেন কিউবার প্রেসিডেন্ট। তবে অর্থনৈতিক সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধকেই দায়ী করেন।

ফোলহা দে এস.পাওলোর তথ্য অনুযায়ী, দিয়াজ-ক্যানেল প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে কিউবার অর্থনীতি প্রায় ১৫ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। সংকটের পাশাপাশি দেশটি দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও জ্বালানি সংকটেরও মুখোমুখি হচ্ছে।

গত জুনে কিউবার পার্লামেন্ট অনুমোদিত ১৭৬টি অর্থনৈতিক পদক্ষেপের পক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন দিয়াজ-কানেল। তার দাবি, এসব সংস্কারের লক্ষ্য সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করা।

নতুন পদক্ষেপগুলোর আওতায় বেসরকারি ব্যবসা ও বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। তবে এর ফলে কিউবা পুঁজিবাদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি। ট্রাম্প প্রশাসন কিউবার ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর মধ্যেই দিয়াজ-ক্যানেলের এ সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে। তবে কিউবার প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করে বলেছেন, দেশটি তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অটল থাকবে। একই সঙ্গে কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপের পথও খোলা রাখতে চায় হাভানা।

বিষয় : যুক্তরাষ্ট্র

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬


যুক্তরাষ্ট্রের চাপে আত্মসমর্পণ করবে না কিউবা: দিয়াজ-ক্যানেল

প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্র যত চাপই প্রয়োগ করুক, প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-ক্যানেল জানিয়েছেন কিউবা আত্মসমর্পণ করবে না। তিনি একই সঙ্গে কিউবা অর্থনৈতিক পতনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে এমন দাবিও প্রত্যাখ্যান করেছেন। ব্রাজিলের সংবাদপত্র ফোলহা দে এস.পাওলোর বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আনাদোলু।

দিয়াজ-ক্যানেল বলেন, কিউবার আগ্রহ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপে বসার বিষয়ে। এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি হয়নি দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা হলেও এবং কোনো আলোচ্যসূচিও নির্ধারিত হয়নি।

তিনি বলেন, হাভানা আগ্রহী ওয়াশিংটনের সঙ্গে সংলাপের পথ তৈরি করতে। তবে দমন-পীড়নের পরিবেশে কোনো আলোচনা সম্ভব নয়। কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই সংলাপের পথ খুঁজে বের করতে হবে।

কিউবার বিপ্লবের পতন ঘটাতে দেশটির অর্থনীতিকে দুর্বল করে সামাজিক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে অভিযুক্ত করেন দিয়াজ-ক্যানেল। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওয়াশিংটন কিউবার সামনে থাকা সব ধরনের বিকল্প পথ বন্ধ করে দিতে চাইছে।

জ্বালানি, বিদ্যুৎ, খাদ্য ও ওষুধের সংকটের মধ্যেও কিউবা অর্থনৈতিক পতনের কাছাকাছি রয়েছে এমন দাবি নাকচ করে তিনি বলেন, দেশটি একটি জটিল সময় পার করছে। তবে এই পরিস্থিতির মধ্যেও কিউবার জনগণের সৃজনশীলতা ও ঐতিহাসিক সহনশীলতা রয়েছে।

দেশটির সরকারি আমলাতন্ত্র এবং সংস্কার বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে বলেও স্বীকার করেন কিউবার প্রেসিডেন্ট। তবে অর্থনৈতিক সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধকেই দায়ী করেন।

ফোলহা দে এস.পাওলোর তথ্য অনুযায়ী, দিয়াজ-ক্যানেল প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে কিউবার অর্থনীতি প্রায় ১৫ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। সংকটের পাশাপাশি দেশটি দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও জ্বালানি সংকটেরও মুখোমুখি হচ্ছে।

গত জুনে কিউবার পার্লামেন্ট অনুমোদিত ১৭৬টি অর্থনৈতিক পদক্ষেপের পক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন দিয়াজ-কানেল। তার দাবি, এসব সংস্কারের লক্ষ্য সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করা।

নতুন পদক্ষেপগুলোর আওতায় বেসরকারি ব্যবসা ও বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। তবে এর ফলে কিউবা পুঁজিবাদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি। ট্রাম্প প্রশাসন কিউবার ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর মধ্যেই দিয়াজ-ক্যানেলের এ সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে। তবে কিউবার প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করে বলেছেন, দেশটি তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অটল থাকবে। একই সঙ্গে কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপের পথও খোলা রাখতে চায় হাভানা।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream