ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা ও সামরিক কর্মকর্তারা। তবে শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দেওয়া যুদ্ধের পরিকল্পনা ও আশাবাদী মূল্যায়ন ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলেছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনগুলো বলছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে নেতানিয়াহু ইরানের নেতৃত্বকে দুর্বল করা, দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস এবং সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। নেতানিয়াহুর মূল্যায়নের কিছু অংশ নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে তখনই সংশয় তৈরি হয়েছিল।
সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ নেতানিয়াহুর সরকার পরিবর্তনের পরিকল্পনাকে অত্যন্ত অবাস্তব বলে মূল্যায়ন করেছিলেন বলে নিউইয়র্ক টাইমসের বরাতে একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারাও ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানের সম্ভাব্য খরচ ও অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর চাপ নিয়ে সতর্ক করেছিলেন। তবে ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত সামরিক অভিযানের অনুমোদন দেন। পরবর্তী সময়ে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার বদলে দীর্ঘায়িত হওয়ায় ইরানের পাল্টা হামলা, হরমুজ প্রণালি ঘিরে সংকট এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পদের ওপর চাপ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে যুদ্ধের কয়েক মাস পর ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সম্পর্কেও টানাপোড়েনের খবর প্রকাশিত হয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইসরায়েলের কিছু মূল্যায়ন নিয়ে কম আস্থা প্রকাশ করেছে এবং ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরে নেতানিয়াহুর প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ফলে যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্তে গোয়েন্দা সতর্কতা কতটা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল এবং নেতানিয়াহুর মূল্যায়ন কতটা প্রভাব ফেলেছিল—এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
মতামত