মোঃ মারুফ হোসেন, শার্শা উপজেলা প্রতিনিধি:
উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ধান চাষ ও পরিচর্যা করতে গিয়ে আর্থিক সংকট ও দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে যশোরের শার্শার কৃষকদের। তাদের দাবি, লিটারে ডিজেলের দাম ১৫ টাকা বেড়ে যাওয়ায় এবার পাওয়ার টিলার ও সেচ মালিকরা গত মৌসুমের চেয়ে খরচ বেশি নিচ্ছে প্রতি বিঘায়। এ ছাড়া সার, বীজ, কীটনাশক ও কৃষি শ্রমিকের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদের বিঘাপ্রতি উৎপাদন খরচ বেড়েছে তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা। অথচ বাজারে ধানের দাম কম। এ অবস্থায় সরকারের কাছে ধানের যৌক্তিক দাম নির্ধারণ করার দাবি তাদের।
গত বছরের চেয়ে বিঘা প্রতি হাল চাষে খরচ বেড়েছে ৩৫০ টাকা, চারা রোপন করতে কৃষি শ্রমিকরা বেশি নিচ্ছে ৫০০ টাকা, সংকটের অজুহাতে খুচরা বাজারে সারের দাম বস্তা প্রতি বেড়েছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা, কীটনাশকের দামতো বেড়েছে। আবার বীজ ও মাড়াই সহ অন্যান্য খরচতো আছেই। সবমিলিয়ে এবার এক বিঘা জমিতে আমন ধান উৎপাদনে খরচ গতবারের তুলনায় অনেক বেশি।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে হয়তো এবার বিঘা প্রতি ২০ থেকে সর্বোচ্চ ২২ মণ ধান উৎপাদন হতে পারে। কিন্তু খরচ অনুপাতে ধানের নায্য দাম যদি না পাওয়া যায়, তাহলে গত ইরি মৌসুমের মতই আমনেও লোকসান গুনতে হবে।উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর শার্শায় ২০ হাজার ৪শত ৪৮হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষ করা হয়েছে।
উপজেলার সাড়াতলা গ্রামের কৃষক বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘ফসল চাষ করে লাভ হচ্ছে না। ঋণ করে ইরি চাষ করেছিলাম, কিন্তু বাজারে ধান বিক্রি করতে গিয়ে দাম পাইনি। বিঘাপ্রতি ৪/৫ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে। সব জিনিষের দাম বাড়লেও ধানের দাম নাই।
নিশ্চিন্তপুর গ্রামের কৃষক মনিরুল ইসলাম বলেন, ফসল উৎপাদন করে দাম না পেয়ে দিন দিন আমরা ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়ছি। আমন ধানেও যদি কাঙ্খিত দাম না পাওয়া যায়, তাহলে আমরা চলবো কীভাবে’। একই চিত্র উপজেলার অন্যান্য কৃষকদের মধ্যেও।
উপজেলা কৃষি অফিসার দিপক কুমার সাহা বলেন, ‘কৃষকরা যেন লাভবান হতে পারেন সেজন্য ফলন বাড়াতে সার্বক্ষণিক তাদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে আশা করছি এবার আমন ধান চাষ করে কৃষকরা লাভবান হবেন’।
মতামত