শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

বরিশালে ধান সংগ্রহে অনিয়মের অভিযোগ



বরিশালে ধান সংগ্রহে অনিয়মের অভিযোগ
বরিশালে ধান সংগ্রহে অনিয়মের অভিযোগ

বরিশালে সরকারি খাদ্যগুদামে ধান সংগ্রহে প্রকৃত কৃষকের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার সরকারি নিয়ম থাকলেও জেলার কয়েকটি খাদ্যগুদামে দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে ধান সংগ্রহের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কৃষকের নামে ব্যাংক হিসাব খুলে সরকারি অর্থ উত্তোলন এবং কম দামে ধান কিনে সরকারি গুদামে সরবরাহের অভিযোগও উঠেছে।

সরকার চলতি মৌসুমে প্রতি কেজি ধানের সরকারি ক্রয়মূল্য ৩৬ টাকা নির্ধারণ করেছে। তবে বরিশালের কয়েকজন কৃষক জানিয়েছেন, তাঁরা সরকারি গুদামে ধান দিতে পারেননি। বাধ্য হয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী বা মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে ৩০ টাকা কেজি দরে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে তাঁদের।

উজিরপুর উপজেলার বড়াকোঠা গ্রামের কৃষক রহিম মাঝি বলেন, তাঁর কৃষি কার্ড ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও সরকারি খাদ্যগুদামে ধান বিক্রির সুযোগ পাননি। তাঁর ভাষ্য, গুদামে ধান কেনার জন্য কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা হয়নি। স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে ধান কেনা হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন।

রহিম মাঝি বলেন, সরকারি গুদামে ধান দিতে না পেরে তিনি ৩০ টাকা কেজি দরে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। এতে প্রতি কেজিতে ৬ টাকা কম পাচ্ছেন তিনি।

বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুধল ইউনিয়নের চাঁদরা গ্রামের কৃষক মারন হাওলাদারের অভিযোগ, কয়েক মাস আগে হলতা খাদ্যগুদামের কর্মকর্তা আলাউদ্দিন এবং স্থানীয় রাজা নামের এক ব্যক্তি ব্যাংক হিসাব খোলার কথা বলে তাঁর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেন। এ সময় একটি চেক বইয়েও তাঁর স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

মারন হাওলাদার বলেন, তাঁর কাছ থেকে ধান নেওয়া হলেও প্রতি কেজির দাম দেওয়া হয়েছে ৩০ টাকা। পরে তিনি জানতে পারেন, তাঁর নামে ব্যাংক হিসাব খুলে সরকারি ধান বিক্রির টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে রাজা নামের ওই ব্যক্তি কৃষকদের নামে একাধিক ব্যাংক হিসাব খুলেছেন। সরকারি ধান সংগ্রহের টাকা ওই সব হিসাবে জমা হওয়ার পর তা উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, বাকেরগঞ্জের দাঁড়িয়াল ইউনিয়নের কামারখালি সোনালী ব্যাংকে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে হিসাব খোলা হয়। কোনো কোনো হিসাব থেকে ১ লাখ ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত উত্তোলন করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র দাবি করেছে।

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে ব্যাংক হিসাবের নথি বা লেনদেনের কাগজপত্র প্রতিবেদকের হাতে আসেনি। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে ব্যাংক হিসাব ও খাদ্য বিভাগের নথি পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

স্থানীয় কৃষক ও সূত্রগুলোর অভিযোগ, বাকেরগঞ্জের হলতা খাদ্যগুদামে রাজা নামের ওই ব্যক্তির প্রভাব রয়েছে। তিনি খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা বা কর্মচারী না হলেও ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে কম দামে ধান কিনে তা সরকারি খাদ্যগুদামে সরবরাহ করা হয়েছে। এ কাজে গুদামের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আলাউদ্দিন সহযোগিতা করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হলতা খাদ্যগুদামের কর্মকর্তা আলাউদ্দিন অভিযোগের বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য দেননি। তিনি প্রতিবেদককে চায়ের দাওয়াত দেন।

অভিযুক্ত রাজা খাদ্যগুদামের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করলেও কৃষকদের নামে ব্যাংক হিসাব খুলে সরকারি অর্থ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে বরিশাল জেলা খাদ্য কর্মকর্তা এস এম তাহানুল হকের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন ধরেননি।

কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি মূল্যে ধান বিক্রির সুযোগ না পাওয়ায় তাঁরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অন্যদিকে সরকারি ধান সংগ্রহের তালিকায় প্রকৃত কৃষকের নাম ব্যবহার করে অন্য কেউ অর্থ তুলে থাকলে তা সরকারি অর্থের অপব্যবহার।

খাদ্য বিভাগের নথি অনুযায়ী কোন কৃষকের কাছ থেকে কত ধান কেনা হয়েছে, সেই কৃষকের নামে খোলা ব্যাংক হিসাবে কত টাকা দেওয়া হয়েছে এবং কে সেই অর্থ উত্তোলন করেছেন—এসব তথ্য যাচাই করা হলে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব। কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনা নিশ্চিত করতে কার্যকর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কৃষকেরা।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬


বরিশালে ধান সংগ্রহে অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বরিশালে সরকারি খাদ্যগুদামে ধান সংগ্রহে প্রকৃত কৃষকের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার সরকারি নিয়ম থাকলেও জেলার কয়েকটি খাদ্যগুদামে দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে ধান সংগ্রহের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কৃষকের নামে ব্যাংক হিসাব খুলে সরকারি অর্থ উত্তোলন এবং কম দামে ধান কিনে সরকারি গুদামে সরবরাহের অভিযোগও উঠেছে।

সরকার চলতি মৌসুমে প্রতি কেজি ধানের সরকারি ক্রয়মূল্য ৩৬ টাকা নির্ধারণ করেছে। তবে বরিশালের কয়েকজন কৃষক জানিয়েছেন, তাঁরা সরকারি গুদামে ধান দিতে পারেননি। বাধ্য হয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী বা মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে ৩০ টাকা কেজি দরে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে তাঁদের।

উজিরপুর উপজেলার বড়াকোঠা গ্রামের কৃষক রহিম মাঝি বলেন, তাঁর কৃষি কার্ড ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও সরকারি খাদ্যগুদামে ধান বিক্রির সুযোগ পাননি। তাঁর ভাষ্য, গুদামে ধান কেনার জন্য কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা হয়নি। স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে ধান কেনা হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন।

রহিম মাঝি বলেন, সরকারি গুদামে ধান দিতে না পেরে তিনি ৩০ টাকা কেজি দরে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। এতে প্রতি কেজিতে ৬ টাকা কম পাচ্ছেন তিনি।

বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুধল ইউনিয়নের চাঁদরা গ্রামের কৃষক মারন হাওলাদারের অভিযোগ, কয়েক মাস আগে হলতা খাদ্যগুদামের কর্মকর্তা আলাউদ্দিন এবং স্থানীয় রাজা নামের এক ব্যক্তি ব্যাংক হিসাব খোলার কথা বলে তাঁর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেন। এ সময় একটি চেক বইয়েও তাঁর স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

মারন হাওলাদার বলেন, তাঁর কাছ থেকে ধান নেওয়া হলেও প্রতি কেজির দাম দেওয়া হয়েছে ৩০ টাকা। পরে তিনি জানতে পারেন, তাঁর নামে ব্যাংক হিসাব খুলে সরকারি ধান বিক্রির টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে রাজা নামের ওই ব্যক্তি কৃষকদের নামে একাধিক ব্যাংক হিসাব খুলেছেন। সরকারি ধান সংগ্রহের টাকা ওই সব হিসাবে জমা হওয়ার পর তা উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, বাকেরগঞ্জের দাঁড়িয়াল ইউনিয়নের কামারখালি সোনালী ব্যাংকে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে হিসাব খোলা হয়। কোনো কোনো হিসাব থেকে ১ লাখ ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত উত্তোলন করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র দাবি করেছে।

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে ব্যাংক হিসাবের নথি বা লেনদেনের কাগজপত্র প্রতিবেদকের হাতে আসেনি। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে ব্যাংক হিসাব ও খাদ্য বিভাগের নথি পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

স্থানীয় কৃষক ও সূত্রগুলোর অভিযোগ, বাকেরগঞ্জের হলতা খাদ্যগুদামে রাজা নামের ওই ব্যক্তির প্রভাব রয়েছে। তিনি খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা বা কর্মচারী না হলেও ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে কম দামে ধান কিনে তা সরকারি খাদ্যগুদামে সরবরাহ করা হয়েছে। এ কাজে গুদামের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আলাউদ্দিন সহযোগিতা করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হলতা খাদ্যগুদামের কর্মকর্তা আলাউদ্দিন অভিযোগের বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য দেননি। তিনি প্রতিবেদককে চায়ের দাওয়াত দেন।

অভিযুক্ত রাজা খাদ্যগুদামের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করলেও কৃষকদের নামে ব্যাংক হিসাব খুলে সরকারি অর্থ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে বরিশাল জেলা খাদ্য কর্মকর্তা এস এম তাহানুল হকের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন ধরেননি।

কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি মূল্যে ধান বিক্রির সুযোগ না পাওয়ায় তাঁরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অন্যদিকে সরকারি ধান সংগ্রহের তালিকায় প্রকৃত কৃষকের নাম ব্যবহার করে অন্য কেউ অর্থ তুলে থাকলে তা সরকারি অর্থের অপব্যবহার।

খাদ্য বিভাগের নথি অনুযায়ী কোন কৃষকের কাছ থেকে কত ধান কেনা হয়েছে, সেই কৃষকের নামে খোলা ব্যাংক হিসাবে কত টাকা দেওয়া হয়েছে এবং কে সেই অর্থ উত্তোলন করেছেন—এসব তথ্য যাচাই করা হলে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব। কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনা নিশ্চিত করতে কার্যকর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কৃষকেরা।



Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream