বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের ছয় মাসের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন করে চারজন মন্ত্রী ও দুজন প্রতিমন্ত্রী যুক্ত হয়েছেন। একই সঙ্গে একজন প্রতিমন্ত্রীকে মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং একজন মন্ত্রীর দপ্তর পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে রদবদলের পর মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫২ জনে। প্রধানমন্ত্রী ছাড়া বর্তমানে রয়েছেন ২৭ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। এ ছাড়া মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর কয়েকজন উপদেষ্টাও বিভিন্ন দপ্তরের দায়িত্ব পালন করছেন।
নতুন দায়িত্ব বণ্টনের পর গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর দায়িত্বে যারা রয়েছেন—
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রতিরক্ষা ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম।
অর্থ ও পরিকল্পনা: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেও রয়েছেন তিনি। পরিকল্পনায় উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিও দায়িত্ব পালন করছেন।
স্বরাষ্ট্র: মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়: মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ: মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
পররাষ্ট্র: মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। এ মন্ত্রণালয়ে দুই প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদ ইসলাম।
জনপ্রশাসন: উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।
ধর্মবিষয়ক: মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ ও প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক: মন্ত্রী আহমেদ আযম খান এবং প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
সংস্কৃতিবিষয়ক: মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম ও উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
ভূমি: মন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু এবং প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।
খাদ্য: মন্ত্রী আফরোজা খানম ও প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন: মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্য: এই তিন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বস্ত্র ও পাটে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আছেন মো. শরীফুল আলম। শিল্প মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মো. রুহুল কবির রিজভী।
শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ: মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক এবং উপদেষ্টা মাহদী আমিনও দায়িত্বে রয়েছেন।
তথ্য ও সম্প্রচার: মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি: দুই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। কৃষি মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টা হিসেবে আছেন নজরুল ইসলাম খান। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
পানিসম্পদ: মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ: মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এবং প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন।
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক: মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত: মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের এবং প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর।
শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষা: দুই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষায় প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং দুই দপ্তরেই উপদেষ্টা হিসেবে আছেন মাহদী আমিন।
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ: মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত এবং বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: দুই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন রেহান আসিফ আসাদ।
যুব ও ক্রীড়া: প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন: তিন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এবং সেতু ও নৌপরিবহন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বে রয়েছেন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন: মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ।
মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ: মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ফারজানা শারমীন।
পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক: মন্ত্রী সাচিং প্রু এবং প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।
নতুন এই দায়িত্ব বণ্টনের মাধ্যমে মন্ত্রিসভায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে সমন্বয় ও কাজের গতি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মতামত