মোঃ রেজাউল হক শাকিল, ব্রাহ্মণপাড়া কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে কৌশল অবলম্বন করে এক নারীর গলা থেকে স্বর্ণের চেইন চুরির ঘটনায় এক সংঘবদ্ধ মহিলা চোরচক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় চোরচক্রের মূল অভিযুক্তের কাছ থেকে চুরি হওয়া আনুমানিক ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্বর্ণের চেইন উদ্ধার করা হয়।
সোমবার (২৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার দীর্ঘভূমি এলাকায় ব্রাহ্মণপাড়া-দুলালপুর পাকা রাস্তার ওপর এই চুরির ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মোসাঃ সেলিনা বেগম (৫০) রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় চোরচক্রের সদস্য শামসুন্নাহার (৪০) চতুরতার সাথে তার গলায় থাকা ২২ ক্যারেটের ৮ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন খুলে নিয়ে চম্পট দেয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে মোঃ তাজুল ইসলাম (৫৫) ব্রাহ্মণপাড়া থানায় এসে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পেনাল কোডের ৩৭৯/৪১১ ধারায় মামলা (মামলা নং-২২) রুজু করা হয়।
মামলা দায়েরের পরপরই তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোঃ রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে ব্রাহ্মণপাড়া থানার একাধিক স্থানে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ঘটনার সাথে জড়িত নারী চোরচক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত আসামিরা সকলেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর থানার ধরমন্ডল গ্রামের বাসিন্দা।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন শামসুন্নাহার (৪০), স্বামী- মারুফ,মোছাঃ মর্জিনা বেগম (৩০), স্বামী- মোঃ মোশাররফ হোসেন,ফুল চাঁন বিবি (৩৩), স্বামী- মোবারক মিয়া,সাজারা বেগম (২২), স্বামী- মোঃ মানিক মিয়া,মোসাঃ অজুফা বেগম (২৫), স্বামী- মোঃ শরিফ, গ্রেফতারের পর নারী কনস্টেবল দিয়ে তল্লাশি চালানো হলে আসামি শামসুন্নাহারের পরনের সেলোয়ারের ডান পাশ থেকে চুরি হওয়া স্বর্ণের চেইনটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত নারীদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক চুরির মামলা রয়েছে। এর মধ্যে শামসুন্নাহারের বিরুদ্ধে ঢাকার সাভার থানায়, মর্জিনা বেগমের বিরুদ্ধে ঢাকার আশুলিয়া, গাজীপুরের বাসন ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানায়, ফুল চাঁন বিবির বিরুদ্ধে সিলেটের গোলাপগঞ্জ থানায়, সাজারা বেগমের বিরুদ্ধে কুমিল্লার বাঙ্গরা বাজার থানায় এবং অজুফা বেগমের বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া থানায় চুরির মামলা ঝুলছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ব্রাহ্মণপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ ফারুক হোসেন জানান, "আসামিরা একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্রের সক্রিয় সদস্য। বিভিন্ন এলাকায় তারা ছদ্মবেশে কৌশল অবলম্বন করে স্বর্ণালঙ্কার চুরি ও ছিনতাই করে আসছিল। গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।"
মতামত