জেলা প্রতিনিধি, শরীয়তপুর
শরীয়তপুরের নড়িয়ায় এক প্রবাসীর বসতঘরে ঢুকে তাকে মারধর, চোখ ও হাত বেঁধে তুলে নিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। এ সময় তাকে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে ঘরে ভাঙচুর চালানো হয়। চাঁদার টাকা না দিয়ে আইনি ব্যবস্থা নিলে তার সন্তানসহ পুরো পরিবারকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই আমেরিকান প্রবাসী শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ভুক্তভোগী সানি। তিনি নড়িয়া উপজেলার মোক্তারের চর ইউনিয়নের পোড়াগাছা গ্রামের আ. খালেক মাদবরের ছেলে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (২৩ আগস্ট) সকালে নড়িয়া পৌরসভার বৈশাখী পাড়া এলাকার বাসা থেকে সানির স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে বাপের বাড়ি বেড়াতে যান। রাতে ঘরে একাই ছিলেন প্রবাসী সানি। রাত সাড়ে ১১টার দিকে ১০-১২ জনের একদল দুর্বৃত্ত লোহার শাবল দিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে দেশীয় অস্ত্রসহ ঘরে প্রবেশ করে। ঘরে ঢুকেই তারা সানিকে আওয়ামী লীগের দোসর ও ফ্যাসিস্ট আখ্যা দিয়ে মারধর শুরু করে এবং দেয়ালে থাকা শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুর করে মোবাইল ফোন নিয়ে যায়।
এরপর সানির চোখে লাল কাপড় এবং পেছনে হাত বেঁধে মাইক্রোবাসে করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে ফের মারধর করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে দুর্বৃত্তরা। এক মাসের মধ্যে চাঁদা না দিলে এবং বিষয়টি থানা-পুলিশ বা কাউকে জানালে পরিবারসহ সবাইকে মেরে ফেলার হুমকি দেয় তারা। পরে ভোরের দিকে তাকে একটি রাস্তার পাশে ফেলে রেখে চলে যায় হামলাকারীরা।
পারভেজ শিকদার নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ফজরের নামাজের পর হাঁটতে বের হয়ে রাস্তার পাশে খালের কিনারে হাত বাঁধা অবস্থায় সানির গোঙানির শব্দ শুনতে পান। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ বিষয়ে নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মতামত